Bangla Koster Valobashar Golpo Shishir Bindu Part 7 END

Shishir Bindu Koster Golpo 

Sadia Islam ( P. 07 ) END

বিন্দু এখন পাক্কা গিন্নী হয়ে উঠেছে। খুব সুন্দর করে তার সংসারটাকে সাজিয়েছে সে। রান্নাও শিখেছে বেশ ভালো। সংসারের কাজের ফাকে সে তার পড়াশুনাও চালিয়ে গিয়েছে।  বাবার আশা পূরণের জন্য সে আজ ডাক্তার হয়েছে। কিন্তু তার বাবা আজও তার সাথে কথা বলে নি। তাদের মেনে নেয় নি। শিশিরও খুব ভালো একটা চাকরি করে। খুব ভালো ভাবেই তাদের সংসার চলছে।

২ বছর হয়ে গেছে। আজও বিন্দু আর শিশিরের মাঝে ভালোবাসা একটুও কমে নি। আজও তারা একজন আরেকজনের জন্য পাগল।

শিশির অফিস থেকে এলো। বিন্দু শিশিরের গলা জড়িয়ে ধরে বলল…

একটা ভালো খবর আছে।

 

শিশিরঃ কি খবর গো?

বিন্দুঃ তুমি বাবা হতে চলেছো আর আমি মা।

শিশিরঃকিহ…সত্যি বলছ? (খুব আনন্দের সাথে) 

বিন্দুঃ জ্বি শিশির সাহেব।

শিশিরঃ তুমি আমাকে কি শুনালে তা তুমি নিজেও জানো না। আমি খুব খুব খুব খুশি বিন্দু।

বিন্দুঃ ছেলে হলে খুশি হবে নাকি মেয়ে হলে? 

শিশিরঃ তোমার মতো ফুটফুটে একটা মেয়ে হবে আমার।

বিন্দুঃ না। তোমার মতো ছেলে হবে। 

শিশিরঃ আচ্ছা বাবা যা ই হোক আমি খুব খুশি। 

বিন্দুঃ মেয়ে হলে নাম রাখব পরি। আর ছেলে হলে রাখব লাভ। আচ্ছা??

শিশিরঃ আচ্ছা ঠিক আছে। মাকে খুশির খবরটি জানিয়েছ??

বিন্দুঃ না এখনো কাউকে বলি নি। তোমাকে আগে জানাব তাই কাউকে এখনো বলি নি। 

শিশিরঃ আচ্ছা চলো সবাইকে বলি খুশির খবরটা। 

বিন্দু আর শিশির সবাইকে বলল। শিশিরের মা খুব খুশি হলো। শিশিরকে মিষ্টি নিয়ে আসতে বলল। শিশির মিষ্টি নিয়ে এল। সবাইকে মিষ্টি খাওয়ানো হলো। বাড়ির সবাই খুব খুশি হল। 

 Heart Touching Love Story Bangla Shishir Bindu

শিশিরের মা বিন্দুকে আর কোনো কাজ করতে দেয় না। শিশিরের মা বিন্দুকে খুব ভালোবাসে। নিজের মেয়ের মতো দেখে। 

বিন্দু তার মা কে কল করে তার খবরটা বলল। বিন্দুর মা খুব খুশি হল। বিন্দু তার মাকে বলল বাবাকে খবরটা দিতে। বিন্দুর মা বিন্দুর বাবাকে বলল। বিন্দুর বাবা মনে মনে খুব খুশি হলো কিন্তু তাও বিন্দুর সাথে কথা বলল না।

বিন্দুর সন্তান হওয়া নিয়ে বাড়ির সবাই খুব মেতে আছে। ছোট ছোট জামা কাপড়, খেলনা সব কিছুই কিনা হলো। সবাই খুব খুশি।

পড়ুন  Love Never Ended Part 7 | Come Back Sad Love Story

৯ মাস হয়ে গেল। আস্তে আস্তে সন্তানের বেরে হওয়া উপভোগ করতে থাকল বিন্দু। গর্ভের সন্তানকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন তার।

একদিন বিন্দুর মা বিন্দুকে কল করে বলল তোর বাবা তোর সাথে কথা বলবে। বিন্দু খুশিতে আত্মহারা হয়ে গেল। এতো বছর পর বিন্দুর সাথে বিন্দুর বাবা কথা বলবে।

Sad Emotional Love Story

বিন্দুঃ হ্যালো বাবা। কেমন আছো তুমি? 

বিন্দুর বাবাঃ ভালো আছি। তুমি কেমন আছো?

বিন্দুঃ আমিও ভালো আছি। তোমার শরির কেমন বাবা?

বিন্দুর বাবাঃ ভালো। 

বিন্দুর বাবা বিন্দুর সাথে ভালো ভাবে কথা বলল। খুশিতে বিন্দুর চোখ দিয়ে পানি পড়তে থাকল। তাদের মধ্যে সব ঝামেলার অবসান হলো। বিন্দুর বাবা নানা হওয়ার আনন্দে  তাদের ওপর আর অভিমান করে থাকতে পারল না।

বিন্দু ও শিশিরকে আজ বিন্দুর বাবা তাদের বাসায় আসতে বলেছে। বিন্দু আর শিশির দুজনেই খুব খুশি। এতো বছর পর তার বাবা তাদের মেনে নিলেন। আবার সব ঠিক হয়ে যাবে। 

বিন্দু আর শিশির বিন্দুর বাপের বাড়ি যাওয়ার জন্য রওনা দিল। বাসের জানালার পাশে বসেছে বিন্দু তার পাশে শিশির বসেছে। 

হঠাৎ করে সামনে থেকে দ্রুতগতিতে আশা একটি বাস তাদের বাসটাকে খুব জড়ে একটা ধাক্কা দেয়। বাসটি নিয়ন্ত্রের বাহিরে চলে যায়। ড্রাইভার বাসটি থামাতে না পেরে একটি গাছের সাথে গিয়ে বাড়ি খায়। বাসটি দুমরে মুছরে যায়। খুব বড় সোড় একটি বাস দূর্ঘটনা হয়ে যায়। দূর্ঘটনায় অনেকেই গুরুতর আহত হয় এবং ৩ জন নিহত হয়। 

শিশির বাস থেকে বাহিরে ছিটকে পড়ে। মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পায়। কোনো রকম ভাবে  দাড়িয়ে বিন্দুকে খুজতে থাকে। অনেক খোজাখুজির পর দেখে বাসের সিটের নিচে বিন্দু পড়ে আছে। জানালার কাচের সাথে ধাক্কা খেয়ে নিচে পড়ে গেছে । বিন্দুর অবস্থা খুব খারাপ। অজ্ঞান হয়ে নিচে পড়ে আছে। মাথা থেকে আঝর ধারায় রক্ত পড়ছে।

Bangla Koster Premer Golpo

দূর্ঘটনার খবর পেয়ে সাংবাদিক, এম্বুলেন্স সব এসে গেছে।  রাস্তার লোকজনেরা ছুটে এসে সবাইকে সাহায্য করার জন্য। 

শিশির বিন্দুকে ওই অবস্থায় দেখতে পেয়ে ছুটে তার কাছে যায়। শিশির নিজেকে ঠিক রাখতে পারছে না। বিন্দু আর তার পেটের সন্তানের চিন্তায় অস্থির হয়ে উঠেছে। 

পড়ুন  ভিলেন পর্ব 74- প্রেমের গল্প | Romantic Premer Golpo

শিশির বিন্দুকে নিয়ে এম্বুলেন্সে উঠাল। তাড়াতাড়ি করে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করাল। খবর পেয়ে বিন্দুর বাবা,মা,বোন, শিশিরের মা সবাই ছুটে এল। 

বিন্দুর অবস্থা ভালো না। শিশিরেরও মাথা দিয়ে রক্ত পরছে। কিন্তু সেদিকে তার কোনো খেয়ালই নেই। শিশির খুব ভেঙে পরেছে। বিন্দুর চিন্তায় পাগলের মতো করছে। 

বিন্দুকে অপারেসন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হলো। 

কিছুক্ষণ পর ডাক্তার এলো। শিশির জিজ্ঞেস করল… 

বিন্দুর কি অবস্থা? ও ঠিক হয়ে যাবে তো? 

ডাক্তার চুপ করে আছে। 

শিশিরঃ চুপ করে আছেন কেন? আমার বিন্দু কেমন আছে? ঠিক আছে তো সব কিছু?

ডাক্তারঃ নিজেকে সামলান শিশির। সরি  আমরা বিন্দুকে বাচাতে পারি নি। 


Also Read These Related Sad Love Story


শিশির নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছে না। খুব জোড়ে চিৎকার করে কান্না করছে। 

বিন্দুর মা জিজ্ঞেস…. 

আর ওর সন্তান?? 

ডাক্তারঃ মেয়ে হয়েছে। ওকে আমরা বাচাতে পেরেছি। ভিতরে গিয়ে দেখে আসেন।

সবাই ভিতরে গেল। বিন্দুর বাবা মেয়ের লাশের পাশে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ল। বিন্দুর মা বলল….

বিন্দু খুব খুশি ছিল। অনেক দিন পর তার বাবাকে দেখতে পাবে সে। সব কিছু ঠিক হয়ে গেছে ভেবে খুব আনন্দে ছিল। কিন্তু তার বাবাকে সে আর দেখতেই পেল না। এসব বলে কান্নায় ভেঙে পড়ল বিন্দুর মা। 

Bangla Valobasar Golpo

বিন্দুকে হারানোর শোকে সবাই ভেঙে পরেছে। কেউ কখনো ভাবতে পারে নি বিন্দু তাদের মাঝে থেকে এভাবে চলে যাবে। 

শিশিরের দিকে তাকানো যাচ্ছে না। অত্যন্ত শোকে পাথরের  মতো হয়ে গেছে। বিন্দুকে হারানোর কষ্ট সহ্য কর‍তে পারছে না সে। 

বিন্দুর বোন বিন্দুর মেয়েকে নিয়ে এলো। ছোট্ট ফুটফুটে শিশুটি জন্মের পর তার মাকে দেখতে পেল না। বৃষ্টি বাচ্চাটাকে শিশিরের কোলে দিল। শিশির বাচ্চাটার দিকে তাকিয়ে আছে। অবিকল তার মায়ের মতো দেখতে হয়েছে। 

শিশিরের মা বলল…..

বিন্দু আমাদের ছেড়ে চলে যাই নি। নতুন রূপে আমাদের কাছে আবার ফিরে এসেছে। 

শিশির তার মেয়েকে কলে নিয়ে আদর করল। মেয়েকে বুকে নিয়ে বিন্দুর লাশের দিকে তাকিয়ে অঝর ধারায় চোখের পানি ফেলছে।   

পড়ুন  শেষ ঠিকানা তুমি – থ্রিলার প্রেমের গল্প পর্ব 7 | Love Story


Also Read These Another Love Story


শিশির বিন্দুর কথা মতো নিজের মেয়ের নাম রাখল পরি। পরিকে শিশির নিজের কাছে রেখে তাকে বড় করতে থাকল। পরিকে নিয়ে সে আবার নতুন করে তার সংসার সাজাল। 

বিন্দু মারা যাওয়ার ৭ বছর হয়ে গেছে। শিশির আর কোনো বিয়ে করে নি। আজও সে বিন্দুকেই ভালোবাসে। পরিকে সে খুব আদর যত্নে মানুষ করছে। 

মায়ের ভালোবাসা ছাড়াই পরি বড় হয়েছে কিন্তু তার বাবা তাকে কখনোই মায়ের অনুপস্থিতি বুঝতে দেয় নি। শিশিরই পরির বাবা শিশিরই পরির মা। 

পরিকে সবাই খুব ভালোবাসে। পরি তার বাবার কাছে মায়ের কথা জিজ্ঞেস করলে শিশির বিন্দুর ছবি দেখিয়ে বলে তোমার মা একদম তোমার মতো দেখতে ছিল। সে  আমাকে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ উপহারটি দিয়ে চলে গিয়েছে। তোমার মা খুব ভালো ছিল। আমাকে খুব ভালোবাসত। 

পরির তার মায়ের জন্য খুব মন খারাপ করে। যখন তার মায়ের জন্য মন খারাপ হয় তখন শিশির বলে তোমার মা আমাদের সাথে সব সময় আছে। পরি তখন পলকহীন ভাবে তার মায়ের ছবির দিকে তাকিয়ে থাকে।

গল্পে থাকা সমস্ত ভুলগুলো খোমার দৃষ্টিতে দেখবেন। আর যদি আমাদের গল্প ভালো লাগে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করে আপনার মতামত জানিয়ে দিবেন।

সমাপ্ত

Writer- সাদিয়া ইসলাম

Join Our { FB PAGE } and { FB GROUP } For Every Single Minutes Update Of  { Golper Jogot- Largest Story Platform }. Also Please Share Our Story On Your Social Media Platform and with Your Friends. 


Leave a Comment

Home
Stories
Status
Account
Search