Bangla Premer Golpo Valobashi Dujone Part 14

Valobashi Dujone Golpo

Imtihan Imran [ Part – 14 ]

ফারিন তো বারবার সিজানের কোলের উপর এসে পড়ছিল। সিজান বিরক্ত হয়ে শেষে ফারিনকে শক্ত করে এক হাত দিয়ে ঝাপটে ধরে,যাতে করে ফারিন আর নিজের উপর এসে না পড়ে।

আর আয়ান গিয়ে নীলার কোলের উপর এসে পড়ে। আয়ান যতোবার, নীলার কোলের উপর এসে পড়ে, নীলা ততোবার ঠাস ঠুস করে কয়েক ঘা বসিয়ে দেয় আয়ানেত পিঠের উপর।

” শালা আমি মেয়ে হয়ে তোর কোলের উপর এসে পড়িনা। আর তুই ছেলে হয়ে আমার কোলের উপর এসে পড়ছিস।

” তার জন্য তো ঠাস ঠুস করে মেরেই দিলি।

” মারব না, আর পড়লে লাথি মেরে গাড়ি থেকে ফেলে দিবো।

আয়ান, নীলার কান্ড দেখে সিজান হেসে দেয়।

প্রায় ১০ঃ৩০ নাগাদ জিপ এসে গোয়ানঘাট এসে পৌছায়। এখান থেকে বিছানাকান্দি যাওয়ার সময় বোট ভাড়া করতে হবে। প্রতি বোটে ১০ জন করে যাওয়া যাবে। সিজান, ফারিন, আয়ন নীলা সবাই এক বোটে উঠে পড়ে।

Bangla Premer Golpo Valobashi Dujone

বিছানাকান্দি যাওয়ার সময় প্রকৃত আনন্দ টা পাবেন বোটে করে যাওয়ার সময়। এসময় যে প্রাকৃতিক পরিবেশ দেখবেন, তা আপনাকে মুগ্ধ করবেই। আপনার এক্সপেকটেশন যদি খুব বেশি নাও থাকে, তাহলে বিছানাকান্দির মূল পয়েন্ট অর্থাৎ পানির ধারায় গিয়েও বেশ মজা পাবেন।

ফারিন আগের বার মিস করলেও এবার সিজানের দিকে পানি ছুঁড়তে মিস করেনি। সিজানও হেসে তার পালটা রিপ্লাই দেয়। সেও ফারিনের দিকে পানি ছুঁড়ে মারে।

” সিলেট এতো সুন্দর কেনো?

” গোটা বাংলাদেশ টাই সুন্দর, তাই সিলেটও সুন্দর।

” ইশ! গোটা বাংলাদেশ টা যদি ঘুরতে পারতাম, কতো সুন্দর সুন্দর যায়গা না দেখতে পারতাম।

” টেনশন নিস না ফারিন, তুই এখন না যেতে পারলে, বিয়ের পর জামাইরে নিয়া যাইস।

নীলার কথা শুনে ফারিন হেসে দেয়। সে বলে,

” জামাই তো পাশে আছেই, জিজ্ঞেস করে আমারে ঘুরতে নিয়ে যাবে তো সব জায়গায়? 

” তোর জামাই রে তুই জিজ্ঞেস কর। আমি পারব না।

” আমি আবার কখন তোকে বিয়ে করলাম?

” বিয়ে হয়নি, হবে।

” হলে তখন জামাই বলিস, এখন না।

” এখন বললে সমস্যা কী? আমি একশ বার বলবো।

জামাই জামাই।

” তোকে ভালো করতে পারলাম না।

ঝগড়া করতে করতে তারা বিছানাকান্দির মূল পয়েন্টে এসে নামল।

বোট থেকে নেমে বিছানাকান্দি নামলে দেখবেন মানুষ পানির স্রোতে গা ভেজাচ্ছে। যতই গভীরে যেতে থাকবেন, পানির স্রোত ততই বাড়তে থাকবে। একসময় দাঁড়িয়ে থাকতে পারবেন না। এখানের পানি খুব স্বচ্ছ।

ভালোবাসার গল্প 

আয়ান ব্যাগ পত্র নীলার কাছে দিয়েই পানিতে ঝাঁপ দিলো। সিজানও সেইম কাজ টা করল, ব্যাগ পত্র ফারিনের কাছে দিয়ে সেও আয়ানের পিছন পিছন ছুটলো। 

” এদের কান্ড দেখে মনে হচ্ছে আমরা এখানে এদের বডিগার্ড গিরি করতে এসেছি।

” কিছুই করার নেই। চল আমরা পানিতে নেমে পা ভেজাই।

” চল।

ফারিন, নীলা ব্যাগ পত্র কাঁধে তুলে নিয়ে পানিতে নামে। তারা গভীরে যাচ্ছে না,যতদূর পর্যন্ত পা ভেজানো সম্ভব,ঠিক ততটুকুই তারা হাটছে।

” ওই ফারিন আস্তে আস্তে, সাবধানে হাটিস। পা পিছলে আবার পড়ে যাস নে।

সিজান চিৎকার করে ডেকে ফারিনকে সাবধান করে দেয়। ফারিন মাথা নেড়ে সায় জানায়।

ফারিন ক্যামেরা দিয়ে সিজান, আর আয়ানের ফটো ক্যামেরাবন্দী করে নেয়। ফারিন, নীলা নিজেরাও একে অন্যকে দিয়ে নিজেদের ফটো তুলে। 

সিজান, আয়ান অনেকক্ষন পানিতে লাফালাফি, ঝাঁপাঝাপি করে পানি থেকে উঠে আসে।

এবাবের গন্তব্য মালনীছড়া চা বাগান। সিনহা অনেক এক্সাইটেড চা বাগান দেখবে।

প্রায় ১ঃ৩০ এর দিকে তারা গোয়াইনঘাট এ ফিরে আসে। সবাই যার যার জিপে উঠে পড়ে,উদ্দেশ্য প্রাচীন মালনীছড়া চা বাগান।

সিলেট শহরের খুব কাছেই এই চা বাগানটি সবুজ ঘেরা অনিন্দ্যসুন্দর। প্রায় আড়াই হাজার একর ভূমিসত্ব সীমানায় উঁচু নীচু টিলার পর টিলায় ভরা এই চা বাগানটি। রয়েছে এক হাজার দুইশ একর জমি, রাবার আবাদের জন্য সাতশ একর জমি এবং কারখানা আবাসন, বৃক্ষ, বনজঙ্গল ঘিরে বাকী জমিটুকু। দুটি পাতা একটি কুড়ির দেশে এসে যারা খুন অল্প সময়ে খুব সুন্দর সবুজের গালিচায় হারিয়ে যেতে চান,তাদের জন্য অনন্য মালনীছড়া চা বাগান।

উপরে বড় বড় ছায়া বৃক্ষ, নিচে আধো আলো আধো ছায়ার সবুজ চাদর। যেনো শৈল্পিক কারুকাজ। সিলেটের চা বাগানের এই পাকৃতিক সৌন্দয্য পর্যটকের মন ছুঁয়ে যায়।

মালনীছড়া চা বাগানে এসে জিপ থামলে, দুইজন টিচার গিয়ে কতৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে আসে। ফারিন তো জিপ থেকে নেমেই হা হয়ে চা বাগানটি দেখছে, এতো সুন্দর! 

” কিরে এভাবে হা করে কী দেখছিস?

” মনোমুগ্ধকর সৌন্দয্য।

” ভিতরে চল, আরো দেখবি।(হেসে)

কতৃপক্ষের অনুমতি পেতেই সব স্টুডেন্টস রা চা বাগানের ভিতর প্রবেশ করে। সবাই ঘুরে ঘুরে চা বাগানের এপাশ থেকে অপর পাশ যাচ্ছে।

প্রেমের গল্প 

চা বাগানের বুক ভেদ করে চলে গেছে দৃষ্টিনন্দন সড়ক। যারা আকাশ পথে সিলেটে আসেন, তাদের প্রথমেই স্বাগত জানায় এই চা বাগানটি। বাগানটির অদ্ভুত সৌন্দয্যের মায়ায় পড়েছে অনেক দেশি-বিদেশি। গাড়ি থামিয়ে তারা দাঁড়িয়েছেন বাগানের পাশে। বাগানে হাটলেই চোখে পড়বে কমলা, কাঁঠাল ও সুপারি বাগান। এছাড়াও ট্যাং ফল,আগর ও রাবার চন্দন সহ অনেক শোভাবর্ধক বৃক্ষ রয়েছে বাগানটিতে।

সিজান ফারিনকে ডাক দেয়, ফারিনের কয়েকটা ফটো তোলার জন্য।

” ফারিন কমলা গুলো হাতে ধরো, আমি তোমার এভাবেই কয়েকটা পিক তুলি।

” আচ্ছা।

ফারিন গাছের নিকটে দাঁড়িয়ে হাতে কমলা নিয়ে হাসিমুখ নিয়ে সিজানের দিকে তাকায়। সিজান ঝটপট কয়েকটা পিক তুলে নেয়।

” এবার কাপল পিক তুলবো, তুমি আয়ানকে ডাক দেও।

” ওই আয়ান।

” কী?

” এইদিকে আয়। 

আয়ান, সিজানের কাছে এসে সিজানের হাত থেকে ক্যামেরা টা নেয়।

সিজান ফারিনের কাছে এসে দাঁড়ায়। ফারিন সিজানের হাত জড়িয়ে ধরে। সিজান, ফারিনের হাতের দিকে তাকায়। 

” কী সমস্যা? 

সিজান না বোধক মাথা নাড়ায়। ফারিন হেসে ক্যামেরার দিকে তাকায়। সিজানকেও তাকাতে বলে। সিজানও ক্যামেরার দিকে তাকায়। 

” বাহ! দারুন লাগছে নতুন জুটিকে। এক্কেবারে ঝাক্কাস।


Also Read Those Related Love Story

  1. Valobashi Dujone Part – 1

  2. Valobashi Dujone Part – 2

  3. Valobashi dujone Part 4

  4. Valobashi dujone Part 8

  5. Love Never Ended Part 10

  6. Valobashi Dujone Part 12

  7. Valobashi dujone Part 13


আয়ান ওদের কাপল পিক তুলছে আর মুখে উপরের কথা গুলো বলছে। আয়ানের কথা শুনে ফারিন হেসে দিলেও সিজান হাসে না।

” এবার আমরা চারজনে একসাথে পিক তুলবো।

” আচ্ছা নীলারে ডাক দে।

” ওই নীলা বইন এইদিকে কাম।

নীলা এসেই আয়ানের দিকে তেড়ে যায়।

” কী হয়েছে আয়ান, এইভাবে ষাড়ের মতো চিৎকার করস কেনো?

” ষাড়ের মতো চিৎকার করি নাই, মানুষের মতো করছি গাধী।

” কেনো ডাকছস ওইটা বল?

” আমরা চারজন একসাথে পিক তুলবো। এইজন্য ডাকলাম।।

” ওকে।

ওরা চারজন একসাথে দাঁড়ায়। তাদের ক্লাসমেট তাদের পিক তুলে দেয়। ওরা বিভিন্ন স্টাইলে কয়েক ধরনের পিক তুলে নেয়।

প্রায় সন্ধ্যা হয়ে এলো এলো অবস্থায় তারা হোটেলে ফিরে আসে। ফ্রেশ হয়ে হালকা নাস্তা করে তারা মাজারে যাবে।


Also Read These Another Love Story


সিলেট শহরের কাছেই হযরত শাহাজালাল (রঃ) এর মাজার। হযরত শাহজালাল (রঃ) ছিলেন উপমহাদেশের একজন বিখ্যাত দরবেশ ও পীর। সিলেট অঞ্চলে তার মাধ্যমেই ইসলাম ধর্মের প্রসার ঘটে। ১৩০৩ সালে তিনি ইয়ামিন থেকে সিলেটে আসেন।

সকল স্টুডেন্টস ফ্রেশ হয়ে হালকা নাস্তা করে মাজার দেখার উদ্দেশ্যে বের হয়।

শহরের মাঝে ছোট্ট একটা টিলার উপরেই হযরত শাহজালাল (রঃ) এর মাজারটি। মাজারের কাছেই একটা পুকুরে রয়েছে বড় বড় গজার মাছ। মাজারের প্রান্তে রয়েছে অনেক কবুতর, যা কেউ বধ করে না।

কবুতর গুলো জালালি কবুতর নামে পরিচিত। 

ফারিন কবুতর ধরার জন্য ছুটে যায়। কিছুক্ষণ ব্যর্থ হয়,অবশেষে সে সাদা দুইটা কবুতর ধরে। কবুতর ধরে ফারিনের হাসি যেনো আর ধরে না। সে কবুতর হাতে নিয়ে মহাখুশি। 

Click Here For Next Part-    চলবে…

Writer- ইমতিহান ইমরান

Join Our { FB PAGE } and { FB GROUP } For Every Single Minutes Update Of  { Golper Jogot- Largest Story Platform }. Also Please Share Our Story On Your Social Media Platform and with Your Friends. 


Leave a Comment