Golperjogot

Golperjogot

বেপরোয়া ভালোবাসা – পর্ব ২২ রোমান্টিক গল্প | মোনা হোসাইন

বেপরোয়া ভালোবাসা – পর্ব ২২ রোমান্টিক গল্প | মোনা হোসাইন

Beporoya Valobasha

Mona Hossain { Part 22 }


নাহ আদির এই বেপরোয়া আচারন আর মেনে নেওয়া যাচ্ছে না। নিজেকে কি ভাবে সে? যখন যা ইচ্ছা করবে? আদিবা কি তার হাতের পুতুল নাকি যে যখন তখন অ*ত্যা*চা*র করবে? এসব আর মেনে নেওয়া যাচ্ছে না এবার ওকে শিক্ষা দেওয়া উচিত। বসে বসে এসবেই ভাবছিল আদিবা।

এদিকে আদিবাকে ওয়াশরুমে আটকে দিয়ে আদি এসে বিছানায় গা ছুঁয়াল। আর ভাবতে লাগল এত বছরেও আদিবার এতটুকুও পরিবর্তন ঘটেনি? তার এই অহেতুক জেদের জন্য আদিত্যকে জীবন থেকে ছয়টা বছর বিসর্জন দিতে হয়েছে তবুও এই মেয়ের জেদ কমেনি? কোন সাহসে গ্রামে যাওয়ার কথা ভাবতে পারল। আজ যতই আকুতি মিনতি করোক ওর নিস্তার নেই। কিছুতেই দরজা খুলবে না আদি।থাকুক সারারাত ওয়াশরুমে।আদি আদিবার উপড় রাগ ঝাড়ছিল হটাৎ ভাইয়া বলে চেঁচিয়ে উঠল আদিবা।

আকস্মিক চিৎকারে আদি চমকে উঠল। মনের মাঝে প্রশ্ন জাগল হটাৎ আদিবা এভাবে ডাকল কেন? কোন অঘটন ঘটায় নি তো। ওয়াশরুমে কিছু একটা পড়ার শব্দ হল মনে হচ্ছে।আদি দুবার গলা ছেড়ে প্রশ্ন করল

-"কি রে আদিবা এভাবে চেঁচালি কেন?

আদিবার পক্ষ থেকে উত্তর আসছে না দেখে আদি তাড়াতাড়ি উঠে বসল কারন আর যাইহোক আদিবা চুপ থাকার মেয়ে না ভাল উত্তর দিতে না পারলেও খারাপ উত্তর ঠিকি দিত আদি গিয়ে দরজা খুলে কিন্তু সাথে সাথে চোখ কপালে উঠে গেল। আদিবা মেঝেতে পড়ে আছে। আদি চিৎকার করে উঠল।

-"আদিবা কী হয়েছে তোর চোখ খোল। কথা বলছিস না কেন? আদিবা এই আদিবা কথা বল আদিবাকে ঝাঁকাতে কথা গুলো বলল আদি কিন্তু আদিবা নির্বিকার পড়ে আছে কোন সাড়াশব্দ নেই। আদির চিৎকার শুনে বাসার অন্যরা ছুটে আসল। সবার মুখে একই প্রশ্ন আদিবার কি হয়েছে।

আদি কাউকে কোন উত্তর না দিয়ে মগ ভর্তি পানি নিয়ে আদিবার চোখে মুখে পানির ঝাঁপটা দিল।
নাহ তবুও জ্ঞান ফিরছে না। আদি এবার তাড়াতাড়ি আদিবাকে কোলে তুলে নিয়ে বিছানায় শুয়িয়ে দিল আদি মুহূর্তেই অস্থির হয়ে উঠেছে। কি থেকে কি করবে তার মাথায় ঢুকছে না। কি এমন ঘটেছে যে আদিবা সেন্সলেস হয়ে গেল। খুব বেশি ভয় পেয়েছে? আদি একহাতে আদিবার পালস চেক করছে অন্যহাতে ফোন নিয়ে কারো নাম্বার ডায়েল করছে।

এদিকে আদিবা বেহুশ থাকার নাটক টা বেশ ভালভাবেই চালিয়ে যাচ্ছে তার ইচ্ছে ছিল আদি তার চিৎকার শুনে দরজা খুলে দিবে আর সে এক দৌড়ে পালাবে কিন্তু তা হল কই আদি ঢুকেই তাকে আঁখড়ে ধরেছিল তাই সুযোগ পায় নি। এখনো পাচ্ছে না কারন বাসার সবাই তাকে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে।এ তো মহা ঝামেলা হল এখান থেকে পালানোর আগে আদি যদি কোন ভাবে বুঝে যায় আদিবা অভিনয় করছে তাহলে আর রক্ষা নেই। আদি ফোনে ডায়াল করতে ব্যাস্ত সেই ফাঁকে আদিবা অরিনকে ইশারা করে বুঝাল তাকে পালাতে হেল্প করার জন্য। অরিন আদিবার ইশারা বুঝতে পারার সাথে সাথে মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল। সে একবার আদির দিকে দেখছে আবার আদিবাকে দেখছে। সে বেশ ভয় পাচ্ছে ধরা পড়লে আদি দুজনকেই কঠিন শাস্তি দিবে কিন্তু আদিবা তাকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভাবে সাহার্য্য করেছে তাই এখন তার উচিত আদিবাকে হেল্প করা কিন্তু কিভাবে করবে?

পড়ুন  ভিলেন পর্ব 80 - প্রেমের গল্প | Romantic Premer Golpo

আদি কাকে যেন ফোন দিল পরক্ষনে বলল,
-"হ্যা দোস্ত,তুই কোথায় আছিস একবার তাড়াতাড়ি বাসায় আয় তো আদিবা হটাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছে।

আদিবা বুঝতে পারল কোন ডাক্তার কে ফোন করেছে বাসায় ডাক্তার আসলে সব জানাজানি হয়ে যাবে আর আদি অভিনয়ের ব্যাপারে জানতে পারলে কি যে কী শাস্তি দিবে ভেবে হাত পা ঠান্ডা হয়ে আসছে।সে মনযোগ দিয়ে আদির ফোনআলাপ শুনছে আদি আবার বলল,

-"আচ্ছা সেই ভাল তুই তাহলে ক্লিনিকে থাক আমি আদিবা নিয়ে আসছি।

বলে আদি ফোন কেটে আদিবার দিকে তাকাল হাসপাতালে যেতে হবে শুনে ভয়ে আদিবার অন্তর আত্মা কেঁপে উঠল সে মনে মনে দোয়া করছে।

-"খোদা অরিন আপুর মাথায় একটু বুদ্ধি দাও যেন এবারের মত আমাকে বাঁচিয়ে দিতে পারে।প্রতিজ্ঞা করছি আর কখনো এমন করব না।

খোদা বোধহয় আদিবার ডাক শুনেছে অরিনের মুখ খুলেছে,

-"ভাইয়া বলছি কী হাসপাতালে যাওয়ার কোন দরকার নেই কিছুক্ষন পর আদিবা এমনি ঠিক হয়ে যাবে...

আদি আদিবাকে ভাল করে একবার দেখে নিয়ে বলল
-"তোকে কে বলল ভাল হয়ে যাবে?

-"না মানে ভাইয়া...

সামনে থেকে সর বলে আদিবাকে কোলে নিয়ে আদি বেরিয়ে যেতে নিল। আদিত্যের বাবা আদিবার মাও বের হল আদি আদিবাকে আস্তে করে গিয়ে আদিবাকে গাড়িতে বসিয়ে সীট ব্লেট লাগিয়ে দিল আদিবা এবারো পালানোর সুযোগ পেল না। আদি এবার তার বাবাকে বলল,

-"বাসায় যাও বাবা তোমাদের কাউকে যেতে হবে না আমি একাই নিয়ে যেতে পারব।

আদিবার মা সাথে সাথে বললেন,
-"তা কি করে আমি যাব।

-"মেয়ের জন্যে দরদ উতলে পড়ছে নাকি কাকিয়া..?

-"মানে কি বলতে চাইছিস?

-" গত ছয় বছরের কথা নাহয় বাদি দিলাম কিন্তু আজ সকালের কথা অন্তত ভুলে যাও নি নিশ্চুই?

-"এসবের মানে কী আদি?

-"ধরে নাও আদিবা গ্রামের বাড়ি যাওয়ার পথে এক্সিডেন্ট করেছে আর তুমি এই বাসায় তাই ওর কাছে পৌঁছাতে পৌঁছাতে সকাল হবে। সকালে ক্লিনিকে যেও এখন আমি নিয়ে যায়।

আদির কথার মানে আদিবার মা বুঝতে পারলেন না।আদিবা বুঝতে পারছে না তার কি করা উচিত সব স্বীকার করা উচিত? আদিবা চেয়েছিল সবটা বলে দিতে কিন্তু সাহসের পরিপক্কতার অভাবে বলতে পারল আদি ড্রাইভ করছে বেশ কিছুক্ষন পর গিয়ে সে থামল আদিবার ইচ্ছে হল কি ঘটছে একবার চোখ মেলে দেখার জন্যে কিন্ত পারল না।

পড়ুন  ভিলেন – থ্রিলার প্রেমের গল্প পর্ব 19 | Villain Action Story

আদি হটাৎ সশব্দে বলে উঠল,
-ইশ জামাটা একেবারে ভিজে গিয়েছে। শরীরের সাথে কেমন লেপ্টে আছে কি বাজে দেখাচ্ছে। আমি আগে খেয়ালেই করি নি এভাবে হাসপাতালে নিয়ে যাব কী করে লোকে দেখলে কি ভাব্বে?জামাটা বদলে দিতে হবে।

কথাটা শুনে আদিবার গায়ে কাঁটা দিল
-"কী আবল তাবল বলছে এই ছেলে? সে তার জামা বদলে দিবে? কী সাংঘাতিক ব্যাপার।

আদিবার ভাবনা শেষ হওয়ার আগেই পেটে আদিএ স্পর্শ পেল আদি আলতো হাতে জামাটা টেনে উপড়ে তুলছে। এই অবস্থায় কারো পক্ষে চুপ থাকা সম্ভব না আদিবাও চুপ থাকতে পারল না ছট করে আদির হাত ধরে ফেলল,

আদিও সাথে সাথে শয়তানি হাসি দিল, হাসির কারন টা আদিবার বোধগম্য হল না সে বোকা মুখ করে তাকাল।

-"যাক অভিনয়ের পালা শেষ হল তবে...?

-"মানে...?

-"তোর পালস চেক করেই বুঝেছিলাম তোর কিছু হয় নি অভিনয় করছিস।

-"বুঝেছিলেন তাহলে হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন কেন?

-"হাসপাতাল..?এখানে হাসপাতাল পেলি কোথায়?তুই যেমন অভিনয় করেছিস তেমনি আমিও ডাক্তারের কথা বলে তোকে বাইরে নিয়ে এসেছি।

আদির কথা শুনে আদিবা চোখ তুলে সামনের দিকে তাকাল সাথে সাথে গাঁ শিওরে উঠল চারদিকে ঘোর অন্ধকার গাড়ির হেডলাইটের আলোতে যতটা দেখা যাচ্ছে পুরোটাই ঘন জংগল। আদিবা ভয় ভয়ে বলল,

-"ভ ভ ভাইয়া আমরা এখানে এসেছি কেন?

-"ওয়াশরুমে রাখতে চেয়েছিলাম তোর ভাল লাগে নি তাই এখন এখানে রেখে যাব এক রাত এখানে থাকলে দেখবি মাথা থেকে সব শয়তানি বুদ্ধিগুলি বিদায় নিয়েছে।

-"আ আ আপনি স স সত্যি আমাকে এখানে রেখে চলে যাবেন?

-"আমি কখনো মিথ্যা বলি? বা যা বলি তা না করে থাকি দেখেছিস।

-"আপনি যা বলেন তাই করেন জন্যই ভয় পাচ্ছি এতটা নির্দয় হবেন না প্লিজ।

-"ধর দয়া দেখালাম বিনিময়ে তুই আমায় কি দিবি..?

-"মানে..?

-"মানে তুই যদি যত্ন নিয়ে একটা লিপ কি*স করিস তাহলে তোকে ক্ষমা করে দিব।

-"আপনি কি মানুষ? এমন জঘন্য একটা প্রস্তাব দিতে মুখে আটকালো না?

-" আমি শর্ত দিয়েছি এবার তোর ইচ্ছে পূরন না করতে পারলে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার আগে গাড়ি থেকে নাম।

আদিবা রাগে গাড়ি থেকে নেমে দাঁড়াল আদি আবারো বাঁকা হেসে গাড়ি ঘুরিয়ে নিল।আর জানলা দিয়ে মুখ করে বলল,

-"নজর যখন পড়েছে আমি ঠিকি করব আফসোস তুই নিজে থেকে রাজি হলে শাস্তিটা পেত হত না।

আদির কথায় গা জ্বলে উঠল আদিবার ইচ্ছে হল জুতা খুলে মারতে কিন্তু সে সুযোগ পেল না কোন সংকেত ছাড়া আদি গাড়ি হেডলাইন বন্ধ করে দিল। চারদিক কালো হয়ে গেল কোথাও কোন আলোর রেখা নেই। আদিবা প্রচন্ড ভয় পেল নিজের অজান্তেই বলে উঠল আমি রাজি ভাইয়া। আমাকে রেখে যাবেন না প্লিজ।

পড়ুন  লাভার নাকি ভিলেন সিজন ২ – পর্ব ৩৬ এবং অন্তিম পর্ব থ্রিলার গল্প | মনা হোসাইন

আদি আলো জ্বালিয়ে হেসে বলল,
-"শরু করা যাক তাইলে..?

আদিবা আর কিছু না বলে গাড়িতে উঠে বসল।
-"আমি আপনাকে কিস করব কিন্তু আমার একটা শর্ত আছে।

-"কি শর্ত?

-"আমি যতক্ষন না আপনাকে ছাড়ছি আপনিও কিস করা ছাড়তে পারবেন না।

-"আরে এত মেঘ না চাইতে বৃষ্টি। অনন্ত কাল কিস করলেও ছাড়তে বলল না।

-"বেশ তাহলে কাছে আসুন।

আদি এগিয়ে আসল।

-"চোখ বন্ধ করুন

-"কিন্তু কেন?

-"তো কি তাকিয়ে তাকিয়ে চুমু খাবেন।

আদি কথা বাড়াল না চোখ বন্ধ করে নিল আদিবাও এগিয়ে এসে আলতো ঠোঁটে ঠোঁট ছুঁয়াল। মুহুর্তেই আদি আদিবার মাঝে ডুব দিয়ে দিক হারাল। দিশেহারা আদিত্য আদিবার মাঝে নিজের আশ্রয় খোঁজার প্রচেষ্টা চালাল। শক্ত হাত আলগা হয়ে গেল সারা শরীর অবশ হয়ে আসছে বুকের বাঁপাশ বেসামাল উঠা নামা করছে। নিঃশ্বাস ঘন হয়ে উঠেছে। আদিবা কখনো নিজের ইচ্ছায় এমন করতে রাজি হবে আদি কল্পনাও করতে পারে নি।

আদি যখন নিজেকে পুরোপুরি আদিবার কাছে সমর্পন করে দিয়েছে তখন হটাৎ বুঝতে পারল তার নরম ঠোঁট ভেদ করে তীক্ষ্ণ দাঁত চেপে বসছে। হ্যা আদিবা ইচ্ছে করেই আদির ঠোঁটে দাঁত বসিয়ে দিয়েছে। তবে তাতে আদির কোন ভাবান্তর হল না সে এখনো শান্ত হয়ে আদিবার মাঝে ডুবে আছে কারন সে কথা দিয়েছে আদিবা যতক্ষন না তাকে ছাড়ছে সে আদিবাকে ছাড়াবে না।আদি একটু নড়ল না পর্যন্ত আদিবার মনে প্রশ্ন জাগল আদির ঠোঁট কি লোহা দিয়ে তৈরি। ব্যাথা পাচ্ছে না কেন?নাকি তার দাঁতে জোর কম। আদিবা আরও জোর প্রয়োগ করল। আদির গোলাপি ঠোঁট কেটে ফিনকি দিয়ে র*ক্ত বের হতে শুরু করল। তবে আদি এখনো চোখ খুলে নি। আদিবা অবাক হয়ে চোখ মেলে তাকাল আছে আদির দিকে। কী মায়াবী মুখখানী!

 বাতাসের টেউয়ে সিল্কি চুল গুলো নড়ে উঠছে। তির্যক দ্বি-ধারী তলোয়ারের মত ভ্রু দুটো আদিত্যের জোরাল ব্যাক্তিত্বের প্রতিনিধিত্ব করছে। নরম ঠোঁট দুটি আদিবার নিষ্টুরতায় লালচে হয়ে তার ব্যাথার পরিমান প্রকাশ করছে। ঠোঁটের এককোণ বেয়ে র*ক্ত গড়িয়ে পড়ছে। শান্ত আদিত্যকে আদিবার কাছে ঘুমন্ত রাজকুমারের মত মনে হল। নিজের কর্মে নিজেকে অপরাধী মনে হলে। ভিতর আত্মা কেঁদে উঠল আদিবা দুহাত বাড়িয়ে আদিকে শক্ত করে জড়িয়ে নিয়ে নিজের অজান্তেই বলে বসল।

"আমি আপনাকে বড্ড ভালবাসি" ভালবাসবেন আমায়?

পরবর্তী পর্বের জন্য ক্লিক করুন :>> চলবে

Writer :- মোনা হোসাইন

About The Author

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Home
Stories
Status
Account
Search
Scroll to Top