কলেজের ক্রাশ যখন আমার প্রেমে পর্ব 2 | Emotional Love Story

College Er Crush Jokhon Amar Preme

Amrin Talokder { Part 2 }


ওহহ বলে রাখা ভালো আমরিন রেডিওলোজীর স্টুডেন্ট আর জান্নাত ল্যাবরেটরি বা প্যাথলজীর স্টুডেন্ট।

তাই দুইজনের ডিপার্টমেন্ট আলাদা আলাদা।কিন্তু ক্লাস শেষে চাইলে দেখা যায় বের হলে।

কিন্তু আমরিনের ক্লাস শেষ হলে কখনই বের হতো না,পরবর্তী স্যার বা ম্যাম ক্লাসে না আসা পর্যন্ত।

এভাবেই কাটছে দিন,আর এইদিকে জান্নাত ভাবছে কি ভাবে আমরিনের সাথে কথা বলা যায়।

কিন্তু কোন ভাবেই জান্নাত আমরিনের সাথে কথা বলতে পারে না।

দিন শেষে জান্নাতের এক রাশ হতাশা ছারা আর কিছুই থাকে না।

আর যেহেতু জাহিদ জান্নাতের ডিপার্টমেন্টে।তাই জান্নাত একদিন ঠিক করে জাহিদকে ও দেখে নিবে।

যেহেতু জান্নাত বগুড়ার মেয়ে তার পর আবার ঢাকায় থাকে অনেক দিন ধরে।তাই ঢাকার কিছু স্থানীয় ছেলের সাথে জান্নাতের পরিচয় ছিল।

জান্নাত এক দিন মার্কেটে যায় কিছু কেনা কাটা করতে।তো সে এক রেস্টুরেন্টেের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় দেখে জাহিদ রেস্টুরেন্টে বসে একটা মেয়ের সাথে মিট করছে।

তো জান্নাতের রাগ উঠে যায় জাহিদকে দেখে।তাই তার পরিচিত স্থানীয় কিছু ছেলে পেলে নিয়ে জাহিদকে ইচ্ছে মতো মারে।

জাহিদকে মারার পর জান্নাতই আবার তাকে হসপিটালে ভর্তি করিয়ে তার গালফ্রেন্ডকে বসিয়ে চলে আসে।

আসার সময় বলে আসে....

জান্নাত: এর পর কারো নামে মজা করতে একবার ভাব্বি তার পর মজা করবি।

জাহিদ বুঝতে পারলো জান্নাত আমরিনকে ভালবাসে।কিন্তু জান্নাত জানে না জাহিদ আর আমরিন দুইজন এক মায়ের পেটের ভাইয়ের মতো।কারণ তারা দুইজনই টাঙ্গাইল থেকে সেখানে ভর্তি হয়েছে।

তাই একজনের বিপদে আর একজন সব সময় এগিয়ে আসে।

জাহিদ আমরিনকে ফোন দেয়।

আমরিন: হুমমম বল বন্ধু কি খবর?

জাহিদ: আমার অবস্থা শেষ বন্ধু আমি হসপিটালে আছি

আমরিন: কেন???তোর কি হয়েছে? তুই হসপিটালে কেন?

জাহিদ: আরে ভাই একটু তো আমাকে কিছু বলতে দিবি,তেমন কিছু হয়নি তবে তোকে একজন ভালোবাসে,সেই কেলিয়েছে।

আমরিন: তুই যে ফাজলামো করছিস বুঝতে পারছি ফোন রাখ,তোর হসপিটালের গুষ্টি কিলাই।

তার পর আমরিন ফোন কেটে দিয়ে পরতে বসে।তার স্বপ্ন যেটা সেটায় তাকে পৌছাতেই হবে।কারণ তাকে তার সাফাল্যই না পৌছালে তার আম্মুর স্বপ্ন,তার আম্মুর কষ্ট গুলো যে তাকে অনেক যন্ত্রনা দিবে।

তবে হ্যাঁ আমরিনও কাওকে ভালোবাসতো।ভালবাসতো বললে ভুল হবে কারণ তাকে বারিতে থাকা কালে তাকে দেখে ক্রাশ খেয়েছিল। আর ওই জাহিদের জন্য তারই সাথে ঝগড়া করে সব কিছু শেষ করে দিয়েছে। তাই আর কোন রিলেশনশিপের প্রতি তার কোন প্যারা নেই।

তার মতো সে চলে কারো পরওয়া না করেই সে চলছে তার লেখা পড়া নিয়ে।

যদিও মাঝে মাঝে জান্নাতের সাথে দেখা হয় তবে সে না দেখার ভান করে চলে যায়।যদিও জান্নাত যদি কখনও দারাতে বলে,সে না শুনার ভান করেই চলে যায়।

আর আমরিন তার ডাকে সারা না দেওয়ায় তার তখন জনহিদকে চিবিয়ে খেতে মনে চায়।কিন্তু সেটাও না পেরে তার হোস্টেলে যেয়ে সে খুব করে কান্না করে।যে মাত্র তার কিছু বান্ধবী ছারা আর কেও দেখে না।

টিনা: কিরে জন্নাত কাতছিস কেন???

জান্নাত:........

টিনা: জান্নাত আমার না আমরিনকে অনেক ভালো লাগে, তবে আমরিন কে কিছু বলতেই পারি না।আর ওই তো অনেক পার্ট নিয়ে আমাদের প্যাথলজীর ডিপার্টমেন্টের কারো সাথে তেমন কথা বলে না শুধু জাহিদের সাথে ছারা।

জান্নাত: কি বললি তুই

টিনা: তুই এভাবে কেন রেগে যাচ্ছিস?

জান্নাত: তুই জানিস না আমরিন শুধু আমার, আমি আমরিনকে ভালোবেসে ফেলেছি সেই ফেসবুকে কথা বলার সময় থেকে, কিন্তু ওই জাহিদের বাচ্চার জন্য সব শেষ।(বলেই জান্নাত সেই কান্না)

আসলে জন্নাত যে আমরিনকে ভালোবাসে সেটা টিনা জানে না,আর টিনা যে আমরিনের প্রেমে পাগল হচ্ছে সেটা জান্নাতও জানতো না,তবে আজ তো দুইজনই যেনে গেল।

কিন্তু টিনাও হার মানতে প্রস্তুত নয়।কারণ টিনা আমরিনে অনেক ভালোবেসে ফেলেছে,তাই এই দুই বান্ধবীর মাঝে যে সুন্দর সম্পর্ক ছিল,সেটা অতি তারাতারি নষ্ট হয়ে যায়।

আর যে যার মতো আমরিনকে বলতে চায় যে তারা তাতে ভালোবাসে।

এখন কথা হলো টিনারও একটা সমস্যা আছে

সেটাও বলি তাহলে শুনুন।

টিনার সাথে আমরিনের ফেসবুকে ফ্রেন্ড হওয়ার পর তার সাথে ফ্রেন্ড হয়,কিন্তু আমরিন তাকে বেষ্টফ্রেন্ড হওয়ার জন্য হাত বারিয়ে দিলে টিনা বলে আমি ভেবে দেখবো।কিন্তু তার পর দিন দেখে টিনা তাকে আনফ্রেন্ড করে দিছে।

আর সেটা দেখে তো আমরিন অনেক রেগে গেছে।কারণ মাত্র সে বেষ্ট ফ্রেন্ড হতে চেয়েছিল,আর তাকে সে আনফ্রেন্ড করে দিল।

তাই আর সে ভেবে নেয় আমরিন আর প্যাথলজীর কোন স্টুডেন্টের আই মিন কোন মেয়ের সাথেই কথা বলবে না।

এখন তো প্রিয় পাঠক পাঠিকা বুঝতে পারলেন কাহিনিটা কি???

এখন কথা হলো কে হবে এই হল্পের নায়িকা???কে হবে আমরিনের জীবন সঙ্গী, প্রিয় পাঠক পাঠিকা আপনাদের কাছে প্রশ্ন রয়ে গেলো।যদি না বলতে পারেন তো গল্পের সাথেই থাকুন জানতে পারবেন।

এভাবেই কেটে যায় একটি বছর আর এই দিকে দুই হরিণী আমারিনকে ভালোবেসে পাওয়ার জন্য ছটফট করছে না পারছে কেও আমরিনকে বলতে পার পারছে আমরিনের সাথে একটু কথা বলতে।

তাসফি জান্নাত হ্যাঁ নাম ঠিকই শুনেছেন তাসফি জান্নাত। যে কিনা রেডিওলজীর স্টুডেন্ট আমরিনের সাথেই একই ডিপার্টমেন্টে।

একদিন তাসফি জান্নাতের সাথে ক্লাস শেষে খুব ঘনিষ্ট হয়ে আর হাসাহাসি করে বের হচ্ছে।

আর জান্নাত এটা দেখে নিজেকে ঠিক রাখতে পারছে না,সে তার নখ কামরাচ্ছে, তারই ভালোবাসা অন্য একটা মেয়ের সাথে হাসাহাসি করছে, যেটা জান্নাত একটুও সহ্য করতে পারছে না,কিন্তু এটা কলেজ বিধায় কিছু করতে পারছে না,যদি এটা অন্য কোন যায়গা হতো তো জান্নাত তার আসল রূপ দেখিয়ে দিত।

আমরিন এতটাই বিভোর ছিল যে তাসফি জান্নাতের সাথে কথা বলতে বলতে সিড়িঁ দিয়ে নামার সময় টিনার সাথে ধাক্কা খায়।

এদিকে টিনা তো আমরিনকে এই অবস্থায় দেখে সেও সেই পরিমাণ রেগে যায়।তবে এক দিক থেকে কিছুটা খুশি হয়,তার প্রিয় মানুষটির সাথে সে ধাক্কা খেয়েছে।

কিন্তু আমরিন যখন ধাক্কা খেলো তখন কি যেন পরে যাওয়ার একটা শব্দ পেলো,

যখন দেখলো তার সামনে টিনা সিড়িঁতে বসে আছে তাকে একটা স্যরি বলে সে তার মতো চলে গেলো।

আর তাসফি জান্নাতও তার ক্লাসে চলে গেলো।

এই দিকে টিনা তাদের কাজ কর্মে দেখে তো অবাক হয়ে সিড়িঁতেই বসে আছে।আর সে যে সিড়িঁতে বসে আছে তার সেটা খেয়ালি নেই।

আজিজ মামা: টিনা মা,এখানে এভাবে সিড়িঁতে বসে আছো কেন???

আসুন পরিচয় করিয়ে দেই আজিজ মামা হলো হোস্টেল সুপার, অনেক ভালো একটা মানুষ সে।

টিনা আজিজ মামার কথা শুনে নেচের দিকে তাকিয়ে দেখে সে সিড়িঁতে পরে আছে।তা দেখে তারাতারি উঠে বলল....

টিনা: না মামা,আসলে পা স্লিপ করে পরে গিয়েছিলাম তো তাই আর কি।

আজিজ মামা: আচ্ছা এর পর থেকে সাবধানে হাটবে মামুণী কেমন।

টিনা: জ্বি মামা আচ্ছা আমি যায়।

বলেই টিনা সেখান থেক চলে যায়।কিন্তু মনের ভিতর একটা খটকা বাজিয়ে চলেছে।আমরিনের সাথে তাসফি কেন??

আর মে না হয় একই ডিপার্টমেন্টে তাই বলে এভাবে ঘনিষ্ট আর হাসাহাসির কি হলো।

না না আমি আজই আমরিনকে আমার ভালোবাসার কথা বলে দিব।আমি আমরিনকে হারাতে চাই না।আমি ডে কোন মূয আমরিনকে আমার চাই চাই।না হলে আমি আমার জীবন শেষ করে দিব।

আর অন্য দিকে জান্নাত তো রিতী মতো বোবা হয়ে হেছে আজকে আমরিনকে দেখে।
আজ কি সত্যি সে এগুলো বাস্তবে দেখছে নাকি স্বপ্ন। তার মনে হচ্ছে সে স্বপ্ন দেখছে।কিছু সময় পর তার ঘুম ভেঙ্গে গেলে সব ঠিক হয়ে যাবে এমন মনে হচ্ছে।

আগামী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন
ধন্যবাদ

ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন আর আমার জন্য দোয়া করবেন।

Click Here For Next :চলবে

Writer :- Amrin Talokder

Leave a Comment

Home
Stories
Status
Search
Account