কলেজের ক্রাশ যখন আমার প্রেমে অন্তিম পর্ব 8 | Emotional Story

College Er Crush Jokhon Amar Preme

Amrin Talokder { Part 8 } Last Part


আমরিন: দাও আমার হাতে আমি খেতে পারবো।

জান্নাত: বেশি পাকনামি করবে না আমার সাথে বুঝলে।চুপচাপ বসে থাকো আমি খাওয়াইয়ে দিচ্ছি চুপটি মেরে খেয়ে নিবে।

তার পর আমরিন আর কিইবা করবে চুপ চাপ খেয়ে নেয়।খাওয়ার পর হাবিবা জান্নাত তার ওরনা দিয়ে আমরিনের মুখ মুছে দিয়।আমরিনের পাশে বসে।

আমরিন: আচ্ছা তুমি খেয়েছো?
জান্নাত: হহহুম
আমরিন: মিথ্যে বলো কেন?তুমিও খেয়ে নেও না?
জান্নাত: আমার খিদে নেই।

আমাকে তো ঠিকই চুপ চাপ খেয়ে নিতে বললো কিন্তু নিজের বেলায় খুদা নিয়েও বসে থাকে (মনে মনে ভাবছে)
আর অন্য দিকে ঘুরে বসে আছে মন খারাপ করে।

যতই হোক না কেন তারই তো ক্রাশ ছিল,আর এখনও আছে।আজ তাকে কত যত্ন করছে কিন্তু নিজের বেলায় কিচ্ছু করছে না। তাই আমরিনের রাগ হয়।

 

আর জান্নাত জানে আমরিনের রাগ কি করে ভাঙ্গাতে হয়।
জান্নাত: এই যে দেখো আমার খাওয়া শেষের দিকে এবার খুশিতো

আমরিন পিছন দিকে তাকিয়ে দেখে সত্যি সত্যি জান্নাতের খাওয়া শেষের দিকে।
আমরিন: হুমম অনেক

বলেই জান্নাতকে হালকা করে জরিয়ে ধরে।যার জন্য জান্নাত মটেও প্রস্তুত ছিল না।তাই নার্ভাস ফিল করে।যদিও পরে বুঝতে পেরে জান্নাত ও আমরিনকে জরিয়ে ধরে।
আস্তে আস্তে জান্নাত আর আমরিন ভালোবাসার গভীরে চলে যাচ্ছে। হয়তো নিয়তি এটাই ছিল।

কিন্তু কে সেই ব্যক্তি আমিনের কে দেখতে না পেরে তাকে মেরে ফেলার চেষ্টা করেছিলো তো চলুন কে সেই ব্যক্তি জেনে আসি

অফিসে থাকাকালীন জান্নাত হায়রে জান্নাত কোন জান্নাত??
২ টা জান্নাত আমি নিজে নিজেই ভুলে যায় মাঝে মাঝে যে কোন জান্নাতের কথা বলবো কখন?
তো যাই হোক গল্পে ফিরি।


আমরিনকে অনেকদিন যাবৎ কেও একজন প্রতিনিয়ত ভালোবাসার কথা বলে যাচ্ছে।
কিন্তু আমরিন তো তাকে ভালো বাস তাই তাতে সেও প্রতিনিয়ত রিজেক্ট করে যাচ্ছে।তাতে সেই মেয়েটি আর কেও নয় তাসফি জান্নাত। যে কিনা রেগে যায় আমরিনের উপর।

তাররপর তো আপনারা সব কিছুই জানেনই।আর হাবিবা জান্নাতও সেটা অনেক চেষ্টার পর জানতে পারে যে আমরিনকে মারার পিছনে কে রয়েছে।আর জান্নাত জানার পরই তাসফি জান্নাতকে সাথে সাথে উচিত শিক্ষা দিয়ে দেয়।যা আপনারা নাই বা জানলেন।

তার পর আমরিন কিছু দিনের মধ্যে সুস্থ হয়ে উঠে।আর এখন জান্নাত ও আমরিনের মাঝে যা চলছে তা তাদের দুজনের দাম্পত্য জীবনের দিকে ধাবিত করছে।

জান্নাত : আমরিন,আমরিন....?
আমরিন: হুমমম বলো গো বাবু
জান্নাত : ওই আমি কিসের বাবু তোমার?
আমরিন: যদি তোমায় বিয়ে করি তো তোমাকে আদর করে ডাকবো সেটা আগে থেকে ট্রাই করছি।
জান্নাত : তোমাকে বিয়ে আবার আমি বয়েই গেছে।

জান্নাতের কথার আগা গোড়া কিচ্ছু বুঝি না।আচ্ছা আপনারাই বলেন তো জান্নাত কি আমাকে ভালোবাসে নাকি শুধুই বন্ধুত্বের খাতিরে এত্তদিন পাশে ছিল?

আমিই যদি না জানি তো আপনারাই কি করে জানবেন।ধর্য্য ধরে পাশে থাকুন আস্তে আস্তে সব জানতে পারবেন।

 

বি: দ্র: তাসফি জান্নাতকে এমন শিক্ষা হাবিবা জান্নাত দিয়েছে যে সে এখন মৃত্যু শয্যায়।আমি লেখক আমরিনতে আপনারা পাঠক পাঠিকারা ক্ষমা করে দিয়েন কারণ আমি একজন মানুষকে গল্পের মাঝে মেরে দিলাম

হ্যাঁ জান্নাতকে এত্ত মার মেরেছে যে এখন সে হসপিটালের লাশ ঘরে আবদ্ধ হয়ে গেছে।

(আর একটা কথা এই গল্পটা একটা রহস্যের জালে ঘেরা।তাই একটু মনযোগ দিয়ে পরবেন নয়তো কিচ্ছু বুঝতে পারবেন না।কারণ নামের ভিতর উল্টা পাল্টা বেজে যাবে আর সকল দোষ পরবে আমার।তখন ইচ্ছে মতো হয়তো বকবেন তাই বলে দিচ্ছি একটু মনোযোগ দিয়ে পইরেন।)

আম্মু ফোন দিয়েছে....

আমি: হ্যালো আম্মু কেমন আছো তুমি?
আম্মু: জ্বি আলহামদুলিল্লাহ ভালো। তুই কেমন আছিস?
আমিঃ আমিও ভালো,তা কি করছো গো আম্মু?

আম্মু: যে জন্য ফোন দিছি সেটা শুন আগামী কাল তোর বিয়ে, তাই আজ বিকেলেই তুই বাড়িতে চলে আয়।আর যদি না আশিস তো আমার থেকে খারাপ আর কেও হবে না।

আমি: আম্মু.....

কথাটা না বলতেই ফোন টুটটুট করে কেটে গেলো।কি এক বিপদে পরলাম।আমি যে হাবিবা জান্নাতকে ভালোবাসি, আর ওকে ছারা যে কাওকে বিয়ে করতে পারবো না,কি করে বুঝাবো আম্মুকে।কি আর করার অনিচ্ছা থাকা স্বত্তেও যেতেই হলো আমার সেই চিরচেনা শহরটিতে।

 

আসুন একটু পরিচিত হয়ে নেই আমার শহরের সাথে।

আমার দেখের বাড়ি হচ্ছে বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্য শহর টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার ঝাওয়াইল ইউনিয়নে।যেখানে আছে ২০১ গম্বুজ মসজিদ। যা বিশ্ব বিখ্যাত, আর আমাদের টাঙ্গাইল পোড়াবাড়ি চমচমের জন্য ও তাঁতের শাড়ির জন্য বিখ্যাত। আরো আছে বাড়ির পাশে এক রাজার বাড়ি।সব মিলিয়ে একক অনন্য রকম আমাদের গ্রাম।

যাই হোক অনেক বলছি টাঙ্গাইল নিয়ে বলতে শুরু করলে বলা শেষ হবে না।

আপনাদের সাথে টাঙ্গাইল পরিচয় দিতে গিয়ে আমি আমার বাড়িতে পৌছে গেছি।

আমি: আম্মু, আমি একজনকে ভালোবাসি, আমি এই বিয়ে করতে পারবো না।
আম্মু:................
আমি: এটা কোন ধরণের ব্লাকমেইল আম্মু,
আম্মু: আমি আর কিচ্ছু বলতে রাজী নই।যা মন চায় তুই করতে পারিস।

আসলে আম্মু আমাকে ইমোশনাল ব্লাকমেইল করেছে যার কাছে আমি হেরে গেছি তাই বাধ্য হয়ে বিয়েটা করতে হচ্ছে।জানি না আমার ভবিষ্যৎ বউ কে।ছবিও দেখতে ইচ্ছে করে নি।

 

তার পর দিন বিয়ের সকল কাজ সম্পন্ন করে বাসর ঘরে যাওয়ার জন্য রেডি হচ্ছি, কিন্তু কোথা থেকে বন্ধু গুলো যেন উড়ে আসলো।

বন্ধুরা: আমাদের গিফট কই?

আমি: আব্বে শালা বিয়ে মনে হয় তোরা করছিস,যে তোদের জন্য আমি গিফট নিয়ে রেডি থাকবো দিতে?তোরা আমাকে গিফট দিবি।বিনা গিফটে তো বিয়ে বাড়ির সব খাবার খেয়ে নিছিস।

বন্ধুরা: ওই সব বলে না,গিফট দিবি নাকি বল।
আমি: না দবি না কি করবি?
বন্ধুরা: কিচ্ছু করবো না,করে আসচ্ছি?
আমি: ওই তোরা কি করছিস আমার বউয়ের সাথে তো কিছু করিস নাই?

বন্ধুরা : না সেরকম কিছু না, তবে সিসি টিভি কেমেরা লাগিয়েছি।সেটাও আার সিক্রেট সিসিটিভি।এখন বল সিক্রেট সিসিটিভি খুঁজবি বাসর রাতে নাকি বউয়ের সাথে রোমাঞ্চ করবি?


আমি কি বলবো ভেবে পাচ্ছি না,আসলেই তো সত্যি কথা, কিন্তু না আমি তো বউকে মানি না,কারণ আমি অন্য একজনকে ভালোবাসি।কিন্তু বাসর ঘরে যাই করি না কেন তারা সব কিছুই দেখতে পারবে।এখন তো পরলাম বিপদে।

আমি: আচ্ছা তোদের কি লাগবে বল?

বন্ধুরাঃ বেশি কিছু না, আমাদের ৫ জনের ২৫ হাজার টাকা।অনেক কষ্টে সিসিটিভি লাগিয়রছি।আর বামর ঘরটাও সাজিয়েছি।তার মূল্য ২৫ হাজার টাকা।

আমি: কিহহ তাই বলে ২৫ হাজার টাকা??
বন্ধুরা: আমরা তো জোর করিনি দিতে।দিলে দে না দিলে যা বাসর কর।কালকে দিনের বেলা ভাইরাল।

শালার এরকম হারামি বন্ধু থাকলে শত্রুর অভাব হয় না,পকেটে হাত দিয়ে দেখি মাত্র ১০ হাজার টাকা।কোন কথা না বলে আমার ক্রেটিড কার্ড দিয়ে বললাম যা তোদের টাকা তুলে নিস,আমার কাছে নগদ মাত্র ১০ হাজারই আছে।

যেই ওদের হাতে ক্রেডিট কার্ড হাতে দিয়ে পিছন দিকে ঘুরছি।

বন্ধুরা: ওই দ্বারা,
আমি: আবার কি?

জীবন: তোর টাকা কালকে দিস।তোর ক্রিডিট কার্ড দিতে হবে না,আর হ্যাঁ কোন সিসিটিভি কেমেরা লাগানো হয়নি।নিশ্চিন্তে বাসর কর যা।

বন্ধু গুলো হারামি হলেও মনের দিক থেকে অনেক ভালো।তাই তো ওদের এত্ত ভালোবাসি।
যাই হোক বাসর ঘরে এসে দরজা দিয়ে নতুন বউয়ের ঘুমটা তুলে তো আমি শকড।

হায় হায় এই এখানে কেন?আমার বউ কই।

আমি: ওই আমার বউ কই? তুমি এখানে কেন?
জান্নাত: তোমার বউ তার যায়গায় বসে আছে।কি ভেবেছিলে, ভালোবাসি ভালোবেসে দুরত্বে চলে গেলেই হারিয়ে যাবে।ভালো যে বাসি তোমাকে আমি তুমি কি তা বুঝ না?

তার পর আর কি আমরিন তো কলেজের ক্রাশকেই অবশেষে বউ হিসেবে পেলো তাই এখন আমরিন ভাবছে বাসর করাটা শুরু করতে হবে।আরে ভাই এখনও আছে যান বারিতে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ুন।আমরিন আর জান্নাত আরে রেগে যাইয়েন না হাবিবা জান্নাতের জন্য দোয়া করবেন।তারা যেন দাম্পত্য জীবনে সুখী হয়।

আর সত্যি বলতে লেখক আমরিনের জন্য দোয়া করবেন সে যেন খুব তারাতারি এরকম একটা জান্নাত স্যরি স্যরি কোন জান্নাত যেন ওহহ মনে পরছে হাবিবা জান্নাতের মতো একটা বউ পায়

———————————————————————

আগামী নতুন গল্পের জন্য অপেক্ষা করুন
ধন্যবাদ

ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন আর আমার জন্য দোয়া করবেন।

আশা করি সবারই ভালো লাগবে। ভালো লাগলে আমার বাকি গল্পগুলো পড়বেন

সমাপ্ত

Writter :- Amrin Talokder


Also Read Our New Story

ভিলেন এ্যাকশন লাভস্টোরি
Writer- Monna Hossain


আকাশের এন্ট্রি দেখে যে কারোরেই ভয় পাওয়ার কথা আকাশ একা নয় সাথে আরো অনেকগুলি ছেলে আছে। সবার হাতে বন্দুক আছে।

আকাশকে আসতে দেখেই আরোহীর বাবা এগিয়ে গেলেন...

আকাশঃ সামনে থেকে সরুন আংকেল বুঝতেই পারছেন আজ আমি কারোর কোন কথাই শুনব না আরোহীকে আমি নিতে এসেছি পৃথিবীর কোন শক্তিই আজ ওকে আমার কাছে থেকে সরাতে পারবে না তাই অযথা ঝামেলা বাড়িয়ে কি লাভ? সরুন প্লিজ।

কয়েকটা ছেলে আরোহীর বাবাকে সরিয়ে দিল।আকাশ এবার আরোহীর কাছে গেল।

আজ আরোহীর বিয়ে বাড়ি ভর্তি আত্মীয় স্বজন পাত্র পক্ষও চলে এসেছে কিন্তু বিয়ে পড়ানোর আগ মুহুর্তে আকাশ নামের এই মসীবত এসে হাজির হয়েছে। 

আকাশ এবার আরোহীর সামনে গিয়ে দাঁড়াল। 

তারপর আরোহীর থুতনিতে হাত দিয়ে বলল……

বাহ কি সুন্দর সেজেছিস রে আরোহী...দেখি দেখি বাপরে লিপষ্টিক পরেছেও তাও লাল রং এর।

আকাশ এবার আরোহীর হাত টেনে বলল মেহেদীও পড়েছিস নাকি দেখি বাহ সাহস তো ভালই হয়েছে দেখতে পাচ্ছি...

তবে এটা বুঝলাম না সেজেগুঁজে ঢং করার অধিকার তোকে কে দিল..??একবারো বুক কাঁপলো না?

আকাশের কথা বলার ধরন দেখেই আরোহীর পরাণ পাখি উড়ে গেল কারন আকাশ সাধারনত এভাবে কথা বলে না...আর মেয়েদের গায়ে হাত তো একেবারেই দেয় না। তাও এত লোকের সামনে....

আরোহী ভয়ে ভয়ে বলল ভ ভ ভ ভাইয়া বস না...

আকাশঃ হ্যা বসতে তো পারতামেই কিন্তু হাতে যে একদম সময় নেই বোন অনেক কাজ বাকি। চল তোকে এখন আমার সাথে যেতে হবে।

আরোহীঃ আ আ আমার তো আজ বিয়ে ভাইয়া আমি কি করে যাব..... 

কথা শেষ হওয়ার আগেই আকাশ স্বজোরে আরোহীর গালে থাপ্পড় বসিয়ে দিল। আরোহী ছিটকে গিয়ে নিচে পড়ল। আকাশ গিয়ে আরোহীর চুলের মুটি ধরে টেনে তুলল..

আকাশঃ আজ তোর কি যানি আবার বল..? শুনতে পাই নি। আকাশ দাঁতে দাঁত চেপে বলল আমাকে না জানিয়ে তুই বিয়ের পীড়িতে বসিস এত সাহস কই পেলি? আচ্ছা চল তোর বিয়ে করার শখ আমি মিটিয়ে দিচ্ছি।বলেই আরোহীকে টানতে লাগল আকাশ।

আরোহীঃ তুই আমার কাজিন হয়ে এমন ভিলেনের মত আচারন কি করে করছিস ভাইয়া?

আকাশঃ মুখ দিয়ে আর একটা শব্দ বের হলে এখানেই মেরে পুঁতে রেখে দিব বলে বরপক্ষের সামনেই আরোহী কে নিয়ে আকাশ বেরিয়ে গেল।

আকাশের সাথের ছেলেদের প্রত্যেকের হাতে গান ছিল তাই কেউ কিছু বলার সাহস পেল না।

আকাশ আরোহীকে গাড়ীতে করে নিয়ে যাচ্ছে...

চলুন এবার দেখে আসি এই আরোহী আর আকাশ কে...........................

পুরো গল্প পড়ুন

Leave a Comment

Home
Stories
Status
Search
Account