Cute Love Story Valobashi Dujone Part 6 Bangla | Love Story

Valobashi Dujone

Imtihan Imran ( Part – 6 )

রিক্সা চলতে চলতে একটা নদীর পাশে গিয়ে থামে। সিজান-ফারিন রিক্সা থেকে নেমে যায়। দুজনে হাটতে হাটতে নদীর কিনারায় একটা বেঞ্চিতে গিয়ে বসে।

” যাও তো দশ টাকার বাদাম নিয়ে এসো। বাদাম খাবো আর প্রেম করবো অনেক মজা হবে। (হেসে)

” আচ্ছা।

সিজান আচ্ছা বলে বাদাম আনার জন্য চলে যায়। ফারিন একা বসে থাকে বেঞ্চিতে। তার সামনে পড়ে থাকা ইট,পাথরের টুকরো গুলোকে নদীতে ফেলে প্রতিধ্বনির সৃষ্টি করে।

সিজান,বাদাম নিয়ে এসে ফারিনের হাতে দেয়। শুধু বাদাম না সাথে হাওয়ায় মিঠাইও আনে।

” বাদামের সাথে হাওয়ায় মিঠাই গিফট। বাহ! দারুন তো।

” হাওয়াই মিঠাই আমার জন্য, তোর জন্য না।

” দুইটা হাওয়ায় মিঠাই তুমি খাবে।

” কেনো দুইটা কী খাওয়া যাবে না? 

” না যাবে। কিন্তু আমারও তো খেতে ইচ্ছে করবে। 

” আচ্ছা তাহলে একটা খাবি, আমি আবার কাউকে না দিয়ে কিছু খেতে পারি না।

” হু ঢঙ। হইছে এখন বাদাম ছিঁলো। আর হাওয়াই মিঠাই আমার হাতে দেও।

{ Valobashi Dujone Romantic Love Story Bangla } 

সিজান, ফারিনের হাতে হাওয়ায় মিঠাই দিয়ে, নিজে বাদাম ছিঁলার দায়িত্ব নেয়।

” এই নেও।

” আমার দুই হাতে দুইটা হাওয়ায় মিঠাই দেখতে পারছো না। খাইয়ে দেও।

” আমার হাতে খেতে চাও, সরাসরি বললেই তো হয়। সবসময় তো সরাসরিই সব বলে দেও।

” এখন তো বুঝছো।

” বুঝছি।

সিজান, ফারিনকে বাদাম ছিঁলে খাইয়ে দেয়। বাদাম খাওয়া শেষে দুজনে নদীর ধারে দিয়া হাটা শুরু করে।

” এই নেও তোমার হাওয়াই মিঠাই।

ফারিন, সিজানকে একটা হাওয়াই মিঠাই ধরিয়ে দিয়ে, নিজের এক হাত দিয়ে সিজানের এক হাত ধরে।

হঠাৎ ফারিন কিছু একটার সাথে উষ্টা খেয়ে নিচে পড়ে যায়।

” আহ!

সিজান হকচকিয়ে যায়। সে দেখে ফারিনের বৃদ্ধাঙুলি থেকে রক্ত ঝরছে। পাথরে উষ্টা খাওয়ার কারনেই এমনটা হয়েছে।

” ইস! দেখেও হাটতে পারো না নাকী? দেখো কেমন রক্ত পড়ছে।

সিজান তড়িঘড়ি করে তার পকেট থেকে রুমালটা বের করে ফারিনের আঙুলে বেধে দেয়।

” চলো, ফার্মিসিতে গিয়ে ওয়াশ করতে হবে।

পড়ুন  Valobashi Dujone Romantic Love Story Part 10 | Love Story

{ Romantic Love Story Bangla }

ফারিন নিজে নিজে উঠে হাটতে চেষ্টা করে। কিন্তু তখনই আবার নিচে বসে পড়ে।

” আহ! ব্যাথা করছে। হাটতে পারছি না।

” হাত ধরে হেটেই যদি এমন অবস্থা হয়। না জানি হাত না ধরলে কী অবস্থা হতো?

” বেশি কথা বলো না তো এখন।

” চলো উঠো, আমাকে ধরে হাটতে চেষ্টা করো।

” পারবো না আমি।

” পারবে না মানে? তাহলে কী সারাক্ষন এখানেই বসে থাকবে।

” জানি না আমি।

” উফ!

সিজান বিরক্তি নিয়ে ফারিনকে নিচ থেকে উঠিয়ে দাড় করাই। তারপর ফারিনের কোমড় ধরে ফারিনকে হাওয়ায় ভাসাই, মানে নিজের কোলে তুলে নেয়।

ফারিন তো মনে মনে হেব্বি খুশি। সে তো এটাই চেয়েছিল। কিন্তু খুশি টা বাইরে প্রকাশ করল না।

” আমি কিন্তু তোমাকে কোলে নিতে বলিনি। তাহলে কোলে নিলে কেনো?

” রাস্তা পর্যন্ত নিবো, এর বেশি না। এখানে রিক্সা পেলে কোলে নিতাম না, হ্যাঁ।

” ও তার মানে ঠেকায় পড়ে কোলে নিছো?

” হুম তাহলে কী? তুই কী মনে করলি, উলালে কোলে নিলাম?

” আমি মনে করছি ভালো বেসে কোলে নিলি। এই ছিল তোর মনে? থাক লাগবে তোর আমাকে কোলে নেওয়ার, আমাকে নামিয়ে দে, কষ্ট হলেও আমি হাটতে পারব।

” ঢঙ করিস না। তখন তো দেখলাম হাটতে পারলি না।

” এখন পারবো।

” ও তার মানে তখন ঢঙ করলি।

” মোটেও না।

” হ্যাঁ এটাই। আচ্ছা তোকে নামিয়ে দিচ্ছি।

সিজান, ফারিনকে নামিয়ে দেওয়ার ভান করলে ফারিন চিল্লিয়ে সিজানের গলা শক্ত করে দুই হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরে।

” না একদম নামাবি না। একদম মেরে ফেলবো। শয়তান একটা। রাগ করে নামিয়ে দিতে বললাম, উনি ধেই ধেই করে রাজি হয়ে গেলো। একটুও ভালোবাসে না আমাকে।

” যাক বাবা! সব তো তুইই বললি। এটা করলেও দোষ, ওটা করলেও দোষ। বুঝি না তোর মতিগতি। 

” হু বুঝতে হবে না তোকে।

সিজান, ফারিনকে কোলে নিয়ে রাস্তায় চলে এসে, একটা রিক্সা নিয়ে ফারিনকে বসিয়ে নিজে পাশে বসে।

” ফার্মিসিতে যেতে হবে না, বাসায় যাব।

পড়ুন  ভিলেন - থ্রিলার প্রেমের গল্প পর্ব 40 | Romantic Love Story

” ঘোরাঘুরি কী শেষ? 

” আমি কী এভাবে তোর কোলে করে ঘুরবো নাকী?

” প্রয়োজন হলে ঘুরবি।

” লাগবে না ঘোরা, লাগবে না তোর কোলে উঠা।

” চুপ একদম চুপ। এখনো তো খাওয়াও হয়নি।

সিজান, ফারিনকে ধমক দিয়ে চুপ করিয়ে দেয়। সিজান একটা ফার্মিসিতে এসে ফারিনের আঙুলিতে ব্যান্ডেজ করে নেয়।

{ Bangla Valobashar Golpo }

ব্যান্ডেজ করা শেষ হলে ফারিনকে নিয়ে একটা রেস্টুরেন্টে আসে।

” কী খাবি বল?

” তুই অর্ডার দে।

” তখন থেকে দেখছি তুই তুই করছিস? সমস্যা কী?

” কেনো তোকে কী তুই করে বলতে পারব না নাকী?

” না সেটা না। আগে তো তুমি করে বলতি। সেই জন্য বললাম।

” আমার ইচ্ছা, যখন ইচ্ছা তুই করে বলব, যখন ইচ্ছা তুমি করে বলব।

” আচ্ছা এজ ইউর উইশ। এখন খাবার অর্ডার দিই।

” হু।

সিজান নিজের ও ফারিনের পছন্দ মতো খাবার অর্ডার দেয়। এতো বছরে ফারিনের পছন্দ খাবার সম্পর্কে জানা, অজানা কিছু নয়।

দুজনে খাবার শেষ করে রেস্টুরেন্টের বাইরে এসে একটা রিক্সা ডেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।

বাড়িতে এসে যে যার যার বাসায় চলে যায়। সন্ধ্যায় সিজান বাইরে যায়।বাইরে বের হতে না হতেই তার নাম্বারে ফারিনের কল।

” হুম বল।

” বাইরে বের হলে কেনো?

” দরকার আছে একটু। কিছু বলবি?

” আমার জন্যে আসার সময় আইস্ক্রিম ও চকোলেট আনিও।

” এই তুই কী বাচ্চা, হ্যাঁ? কি বাচ্চাদের মতো আইস্ক্রিম ও চকোলেট এর কথা বলিস?

” যেটা বলছি সেটাই আনবি। এতো কথা বলবি না। বাই।

ফারিন ফোন রেখে দেয়। সিজান ফোনটা পকেটে রেখে দেয়। এই মেয়ের জন্য আবার যাওয়ার সময় আইস্ক্রিম চকোলেট নিতে হবে তার।

Also Read Those Related Love Story

  1. Valobashi Dujone Part – 1

  2. Valobashi Dujone Part – 2

  3. Valobashi Dujone Part – 3

  4. Valobashi Dujone Part – 4

  5. Valobashi Dujone Part – 5

  6. Valobashi Dujone Part – 6

সিজান বাসায় ফিরে আসার সময় আইস্ক্রিম ও চকোলেট আনার কথা ভুলে না। সে আইস্ক্রিম ও চকোলেট নিয়েই বাসায় ফিরল।

নিজের রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে সে ফারিনের বাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে নিচে নামে।

পড়ুন  ভিলেন পর্ব 72 - প্রেমের গল্প | Romantic Premer Golpo

ফারিনের বাসার সামনে গিয়ে কলিংবেল চাপ দেয়।

দুই বার বাজাতেই ফারিনের আম্মা এসে দরজা খুলে দেয়। তিনি সিজানকে দেখে মুখে হাসি আনে।

” আসসালামু আলাইকুম আন্টি।

” ওয়ালাইকুম আসসালাম বাবা। কেমন আছো?

” জি ভালো আছি। আপনি ভালো আছেন?

” আমিও আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। আসো বাবা ভিতরে আসো।

” না আন্টি ভিতরে যাবো না। এগুলা ফারিনের জন্য। ওকে দিয়ে দিয়েন।

” আগে ভিতরে আসো তো। ফারিন বলেছে তুমি রাতে আসবে। সেই জন্য তোমার জন্য সে রাতের খাবারের ব্যবস্থা করেছে।

ফারিনের আম্মু এক প্রকার জোর করেই সিজানকে ঘরে নিয়ে আসলো। তিনি সিজানকে সোফায় বসতে দিয়ে, ফারিনকে ডাকার জন্য গেলেন।

Also, Read These Another Love Story

সিজান সোফায় বসে ছিল। হঠাৎ করে কেউ একজন পিছন থেকে হাত দিয়ে তার চোখ চেপে ধরল। সিজান নিজের হাত দিয়ে, চোখ ধরে রাখা হাত গুলোকে ধরে নিশ্চিত হয় এটা অন্য কারো না, এটা ফারিনের হাত।

” ফারিন.।

ফারিন হেসে সিজানের হাত ছেড়ে দিয়ে সিজানের পাশে এসে বসে।

” এই নেও তোমার আইস্ক্রিম, চকোলেট। 

ফারিন,সিজানের হাত থেকে আইস্ক্রিম, চকোলেটের প্যাকেট টা নিয়ে সিজানকে হেসে বলে,

” ধন্যবাদ জামাই।

” হু। তুই আন্টিকে কেনো বলেছিস আমি রাতে আসবো?। শুধু শুধু কষ্ট করল।

” একমাত্র মেয়ের হবু জামাইয়ের জন্য কষ্ট করবে না তো কার জন্য কষ্ট করবে.?

Click Here For Next Part-    চলবে

Writer- ইমতিহান ইমরান


Valobashi Dujne Romantic Love Story Part 6
Valobashi Dujne Romantic Love Story Part 6

Leave a Comment

Home
Stories
Status
Account
Search