দুষ্টু মিষ্টি প্রেম – অনুগল্প | Bangla Romantic Love Story

দুষ্টু মিষ্টি প্রেম

Ifrat Jahan Mariyam - অনুগল্প

কলেজ গেটের সামনে ভিজে ছিপছিপে হয়ে দাড়িয়ে আছে আরিয়া। কলেজ এসেই এরকম একটা কান্ড। কে এই কাজটা করলো? আরিয়ার ইচ্ছে করছে তার মাথা ফাটিয়ে ফেলতে।

অনির্বাণ: কি মিসেস আরিয়া কেমন লাগছে? খুব তো ডেয়ার দিয়েছিলে এখন কি হলো?

"আরিয়া দাঁত কটমট করে অনির্বাণ এর দিকে তাকায়।

আরিয়া: তার মানে আপনি? আপনাকে আমাকে ভিজাতেই হলো, খাচ্চোর কোথাকার।
অনির্বাণ: কিহ আমি খাচ্চোর। তুমিই তো বললে কলেজ গেটে যে মেয়ে ফ্রাস্ট ঢুকবে তার গায়ে পামি ঢালতে ঢেলে দিলাম। আসছে অনির্বাণ চৌধুরীকে ডেয়ার দিতে। ডেয়ার দেওয়ার শখ মিটে গেছে ত নাকি?
নাদিয়া: এই আরু চল এখান থেকে। তুই পুরো ভিজে আছিস। জামা লেপ্টে আছে শরীরের সাথে। এই ছেলের সাথে পেঁচাল পেড়ে লাভ নাই চল তো।

নাদিয়া আরিয়া হাত ধরে টেনে নিয়ে যেতে চায়।
আরিয়া অনির্বাণ এর দিকে অগ্নিশর্মা চোখে তাকিয়ে বলে,
আরিয়া: আমি আপনাকে দেখে নেবো।
অনির্বাণ: দেখা যাবে নে।

অনির্বাণ: দেখলি কি মেয়ে আসে আমার সাথে টক্কর নিতে।
সজিব: তোকে দেখে নিবে বলেছে। হা হা।
অনির্বাণ: আসছে আমাকে দেখে নিতে চল তো।

আরিয়া ঘরে ঢুকে সিড়ি বেয়ে উপরে উঠতেই তার মা ডাক দেয়।

আয়েশা (আরিয়ার মা) : কিরে মা এভাবে ভিজে আছিস যে।
আরিয়া পিছনের দিকে তাকিয়ে বলে,
আরিয়া: কিছুনা এমনি।
আরিয়া তার রুমে ঢুকে ফ্রেশ হয়ে নেয়। তার মাথায় এখন একটাই চিন্তা সে অনির্বাণ কে কীভাবে শায়েস্তা করবে।

পরেরদিন সকালে.....

নাদিয়া: আসসালামু আলাইকুম। আন্টি আরিয়া কই।
আয়েশা: কিরে মা ভালো আছিস? সে তো এখনো ঘুমোয়।
নাদিয়া: এইতো ভালে আছি। এখনো ওই মুটকি ঘুমোয়। আমি যাই উঠাই।
আয়েশা: আচ্ছা যাও।

নাদিয়া আরিয়ার কানের কাছে গিয়ে জোরে চিৎকার দিয়ে আরিয়ারে উঠায়। আরিয়া ধড়পড়িয়ে উঠে।

আরিয়া: ওরে টাকলুর বউরে তুই তো আমার কানের পর্দা ফাটিয়ে ফেললি।
নাদিয়া: তো কি করবো বল। তোর যে ঘুম। আর তুই আমারে টাকলুর বউ বানাইয়া দিলি।
আরিয়া: তা নয়তো কি।

আরিয়া আর নাদিয়া দুজনে মিলে কলেজে চলে আসে। কিছুক্ষণ পর আরিয়া দেখে অনির্বাণ তার বন্ধুদের সাথে কলেজে ঢুকছে। আরিয়ার মাথায় একটা দুষ্টু বুদ্ধি ঠেকলো। সে অনির্বাণ এর কাছে যেতে লাগলো। নাদিয়া পিছন থেকে ডাক দিলো।

পড়ুন  Sad Love Story Bangla School Jiboner Prem Part 6 | Sad Story

নাদিয়া: আরিয়া তুই কই যাস।
আরিয়া : একটু দাড়া। এক্ষুণি আসছি।

আরিয়া অনির্বাণ এর কাছাকাছি যেতেই আরিয়া তার বাহু দিয়ে অনির্বাণ কে সজোরে ধাক্কা দেয়। কিন্তু অনির্বাণ পড়ে যেতে নিলে সে আরিয়ার হাত ধরে আরিয়াকে সহ পড়ে। আরিয়া তো ভ্যাবাচেকা খেয়ে যায়। অনির্বাণ নিচে আরিয়া অনির্বাণ এর উপরে। নাদিয়া আরো কিছু ছেলেমেয়ে ওখানে যায়।

কিন্তু অনির্বাণ এর বন্ধুরা তাদেরকে চলে যেতে বলে শুধু নাদিয়া থাকে। আরিয়া উঠতে নিলে অনির্বাণ আরিয়াকে জড়িয়ে ধরে শক্ত করে।

আরিয়া: ছাড়ুন বলছি আমাকে।
অনির্বাণ: নিজের ফাদে নিজেই পড়লে। আমার সাথে আসো টক্কর দিতে। সাহস আছে বলতে হয় বাচ্চা মেয়ের।
আরিয়া: এই যে মিস্টার আমি মোটেও বাচ্ছা নই। আমাকে দেখে কীভাবে আপনার বাচ্চা মনে হয়।
অনির্বাণ : বাচ্চাই তুমি। তো তোমার কেমন ফিলিংস হচ্ছে হু আমার সাথে এভাবে।
আরিয়া: বজ্জাত ছেলে কোথাকার। ছাড় আমাকে লুইচ্চা।

আরিয়া কথাগুলে জোরে জোরে বললো শুনে তো সবাই অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে আরিয়া অনির্বাণ কে এগুলো বললো? নাদিয়া আরিয়াকে উঠিয়ে নিয়ে চলে যায়। আরিয়া মনে মনে ইচ্ছামতো গালি দিতে থাকে অনির্বান কে।

রিফাত: তোকে ফাসাতে এসে নিজেই ফেসে গেলোরে, হা হা।
সুজন: তা কি মনে হয় অনি তোকে ভালোবাসবে কি মেয়েটা?
অনির্বাণ: ভালো না বেসে যাবে কই এখনো তো বলি নাই। আর যদি নাও বাসে তো জোড় করিয়ে ছাড়বো হু।

আরিয়া: সালার লুইচ্চা, উগান্দা,শাকচুন্নির জামাই তোরে আমি, দেখে নিস তুই।
নাদিয়া: আরে থাম, নিজের ফাঁদে তো আজকে নিজেই পড়লি।
আরিয়া: তোর কারণে শুভ কাজে যেতে নিলে পিছন থেকে ডাকিস তুই।
নাদিয়া: হ এখন তো বলবিই। তোর সাথে পাগলে কথা বলে।
আরিয়া: হে তুই পাগল যা এখান থেকে।

আরো কিছুদিন কেটে যায় একদিন আরিয়া ক্লাসে যাচ্ছিল অনির্বাণ পিছন থেকে এসে আরিয়ার হাত ধরে।

আরিয়া: কেরে আমার হাত ধরলো রে।

আরিয়া পিছনে তাকিয়ে দেখে অনির্বাণ।

আরিয়া: ওহ আপনি। হাত ধরলেন কেনো।
অনির্বাণ: ভালোবাসি তোমায়।
আরিয়া: প্রতিদিন এক ডং এর কথা।

অনির্বাণ এর রাগ উঠে যায়।

অনির্বাণ: আমার ভালোবাসাকে তোমার ডং এর মনে হয়?( আরিয়ার গালে হাত দিয়ে ধরে)
আরিয়া: এমা রেগে যান কেনো? আচ্ছা বলুন তো আপনি আমাকে কতটুকু ভালোবাসেন?
অনির্বাণ: বলে বোঝাতে পারবো নাহ তোমায় কতটুকু ভালোবাসি।পুরো পৃথিবীর থেকেও বেশি ভালোবাসি।
আরিয়া: আচ্ছা কতদিন ভালোবাসবেন আমায়?
অনির্বাণ: এই জনমে আমার প্রাণ যতদিন আছে ততদিন ভালোবাসবো। এমনকি পরের জনমে ও তোমাকে চাইবো।

পড়ুন  তোমাতে আমি – ইমোশনাল লাভস্টোরি অন্তিম পর্ব 3 | Tomate Ami

আরিয়া: হইছে হইছে ফিল্মি ডায়লগ বন্ধ করেন।(ভংচি কেটে)
অনির্বাণ: তেমারে নিয়া পারতাম নাহ। তুমি অনেক ফাজিল।

আরিয়াকে টান দিয়ে নিজের কাছে নিয়ে আসে অনির্বাণ। আরুর কপালে থাকা চুলগুলো কানে গুজে দেয়। অনির্বাণ এর মুখ আরুর কাছে চলে আসে।

আরিয়া: কি হচ্ছে......
অনির্বাণ: হুসসসস..
অনির্বাণ টুপ করে আরুর কপালে চুমু একে দেয়।

অনির্বাণ: আমি জানি তুমি আমাকে ভালোবাসো। কিন্তু বুঝতে দিচ্ছো না।
আরিয়া: এহহ আমার বয়েই গেছে আপনাকে ভালেবাসতে। আর যদি জানেনই তো এরকম করেন কেনো?
অনির্বাণ: কারণ আমি চাই তুমি আমাকে বলো যে তুমি আমাকে ভালোবাসো।

আরিয়া দেখে অনির্বাণ অন্যমনস্ক হয়ে তাকিয়ে আছে। আরিয়া এই সুযোগে অনির্বাণ কে একটা ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। আর চিৎকার করে বলে দৌড়াতে থাকে,

আরিয়া: বলবো নাহ ভালোবাসি।

অনির্বাণ গালে হাত দিয়ে বসে হাসে।
অনির্বাণ: এই মেয়েটা কোনদিন ভালো হবে নাহ।(মনে মনে)
সুজন: কিরে তুই তো দেখি একটা মেয়ের ধাক্কাই সামলাতে পারিস নাহ। আর মেয়েটারে সামলাবি কেমনে, হা হা।
অনির্বাণ : তুই হাসি থামাবিইইই।
সুজন : চুপ।

দুইদিন পরে আরিয়ার বাড়িতে.....

আরিয়া: ওমা শুনছো।
আয়েশা: হে বলেন মহারানী।
আরিয়া: আরেব্বাস আমি দেখি রানী হয়ে গেলাম। শোনো আমার জন্য কোষাগার থেকে কিছু অর্থ নিয়ে আসো। তোমাদের মহারানী আজ শপিং এ যাবে।

এই সময় নাদিয়া আসে ওদের বাড়ি...
নাদিয়া: তা মগারানী আপনি কি প্রস্তুত যাওয়ার জন্য?
আরিয়া: এই তোমার সাহস তো কম নাহ আমাকে মগারানী বলো। তোমার এখনই গর্দান যাবে।
নাদিয়া: মাফ করবেন রানী।

আয়েশা বেগম আরিয়ার মাথায় হাত দিয়ে বলে, একদম দুষ্টু তুই।

আরিয়া: আমার লক্ষী মা দিবে তো টাকা।
নাদিয়া: আন্টি একদম দিবেন নাহ কিন্তু।
আরিয়া: তবেরে দাড়া।

"আরিয়া, নাদিয়ার পিছনে দৌড়াতে থাকে।
আয়েশা: এই থাম তোরা। আমি টাকা দিচ্ছি। ফাজিল কোথাকার। (হেসে)

আরিয়া মায়ের হাত থেকে টাকা নিয়ে নাদিয়াকে নিয়ে শপিং চলে যায়। শপিং এ গিয়ে তারা শপিং করতে থাকে হঠাৎ কোথা থেকে অনির্বাণ এসে আরুয়ার হাত ধরে টান মেরে আরিয়াকে নিজের কাছে নিয়ে যায়। আরু ভয় পেয়ে যায়।

আরিয়া: আল্লাহ রে গেলামমমমম..
অনির্বাণ: এই চুপ একদম চুপ।
আরিয়া: আপনিইইই।
অনির্বাণ: হে আমি
নাদিয়া: জিজু আপনারা ছুটিয়ে প্রেম করেন আমি যাইগা।
অনির্বাণ: ওকে।( চোখ টিপ মেরে)
আরু: এই শাকচুন্নি এই খাম্বা তোর কোন আমলের জিজু হয়রে?
নাদিয়া: এই আমলের।
নাদিয়া চলে যেতে থাকে।

পড়ুন  বেপরোয়া ভালোবাসা – পর্ব ১৭ রোমান্টিক গল্প | মোনা হোসাইন

আরু: তোরে দেইখা নিমু শাকচুন্নি। তোর বর টাকলা হবে দেখিস। আমারে এই খাম্বার হাতে তুলে দিয়া গেছোস নাহ।
অনির্বাণ: পকপক বন্ধ হইলে চলোওওও।
আরিয়া: যাবো নাহ নাহ নাহ

অনির্বাণ আরিয়াকে কোলে তুলে নিয়ে হাটা ধরে। আরিয়া লজ্জা পেয়ে যায়। অনির্বাণ এর বুকে মুখ লুকিয়ে বলে,
আরু: এই আপনি করছেন টা কি সবাই দেখছে তো।
অনির্বাণ: দেখুক আমার কি। আমি কি অন্য মেয়েকে কোলে নিছি নাকি।হু।

অনির্বাণ আরুকে গাড়িতে বসিয়ে আরুর কাছে চলে যায়। আরুর হার্টবিট বেড়ে যায়। অনির্বাণ আরুর মুখের কাছে ওর মুখ নিয়ে আসে। আরু আজকে কিছু বলতেও পারছে নাহ। পরক্ষণে অনির্বাণ আরুর কপালে চুমু দিয়ে বলে।

" আরু,
"হু,
"তুমি ভালোবাসো এই কথা বলবে নাহ আমি জানি, তাই আমি পরশু আমেরিকা চলে যাচ্ছি আর আসবো নাহ।

আরু স্তব্ধ হয়ে যায়।
"কি বলছেন আপনি?
"ঠিকই বলছি আরু। চলো তোমাকে বাড়ি দিয়ে আসি,
আরু হঠাৎ করে ঝাপটে অনির্বাণ কে জড়িয়ে ধরে,

"আমি আপনাকে ভালোবাসি বাসি ভালোবাসি ভালোবাসি। অনেক ভালোবাসি। প্লিজ যাবেন নাহ। আপনি চলে গেলে আমি থাকতে পারবো নাহ।

'অনির্বাণ মুচকি হাসে,
"এখন আর সময় নেই আরু,
"কেনো সময় নেই। ওকে থাকতে হবে নাহ আপনার মতো খাম্বা কে আমার দরকার নেই।(অন্যদিকে ফিরে)

অনির্বাণ আরিয়াকে নিজের দিকে ফিরিয়ে বলে,
"আরে পাগলী আমি কখনো তোকে ছেড়ে যাবো নাহ। বড্ড ভালোবাসিযে তোকে। আমি তো মজা করছিলাম।
"কিইইই।
"হু(মুখ বাকা করে)

আরিয়া অনির্বাণ এর বুকে কিল মারতে থাকে
আর অনির্বাণ হাসতে হাসতে আরিয়াকে বুকে জড়িয়ে নেয়।

সমাপ্ত

Leave a Comment

Home
Stories
Status
Account
Search