Emotional Bangla Love Story Shishir Bindu Part 6

Shishir Bindu Valobashar Golpo 

Sadia Islam ( P. 06 )

বিন্দু শিশিরকে সব খুলে বলল। শিশিরের পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। শিশির চুপ করে আছে। 

 

বিন্দুঃ এই শিশির চুপ করে কেনো আছো? কি করব আমি এখন সেটা বলো।

শিশিরঃ কি বলব বুঝতে পারছি  না।

বিন্দুঃ তুমি আমার বাবার সামনে গিয়ে দারাও। আমার বাবাকে বলো তুমি আমাকে বিয়ে কর‍তে চাও।

শিশিরঃ আমি তো এখনো কোনো চাকরি করি না। তোমার বাবা নিশ্চয়ই ডাক্তার ছেলে রেখে একজন বেকার ছেলের সাথে তোমাকে বিয়ে দিবেনা না।

বিন্দুঃ আচ্ছা আমি বাবাকে বলে দেখি কি হয়।

 

ফোনটা রেখে ভয়ে ভয়ে বিন্দু তার বাবার কাছে গেল। বাবার কাছে গিয়ে শিশির এর কথা বলল। তার বাবা কিছুতেই শিশিরকে মেনে নিল না। বরং বিন্দুর কাছ থেকে তার ফোনটা নিয়ে নিল। বিন্দুর বাসার বাইরে যাওয়া বন্ধ করে দিল।

Emotional Sad Love Story Shishir Bindu

 

এদিকে শিশির বিন্দুর চিন্তায় ব্যকুল হয়ে উঠল। বিন্দুর সাথে কোনো ভাবেই যোগাযোগ  করতে না পেরে সোজা বিন্দুদের বাসায় চলে গেল বিন্দুর বাবার সাথে কথা বলার জন্য। বিন্দুর বাবা কিছুতেই তাদের সম্পর্ক মেনে নিলেন না। বিন্দুর বাবা ছিলেন পুলিশ। শিশির বার বার বলছে বিন্দুকে ছেড়ে সে থাকতে পারবে না। 

 

শিশিরের গলা শুনে বিন্দু তাড়াতাড়ি করে রুম থেকে বেরিয়ে এসে দেখল সে তার বাবার কাছে বিন্দুকে ভিক্ষে চাচ্ছে। শিশিরের এই অবস্থা দেখে বিন্দু কিছুতেই নিজেকে ঠিক রাখতে পারল না। সেও  কান্নায় ভেঙে পড়ল। বিন্দুর বাবা দাড়োয়ানের দ্বারা শিশিরকে বের করে দিল।

 

আজ বিন্দুর বিয়ে। খুব সুন্দর করে সাজানো হয়েছে বিন্দুকে। খুব সুন্দর লাগছে তাকে। বিন্দু তার রুমে বসে আছে। 

 

বর এসে গেছে। সবাই বরকে দেখতে বাহিরে গেল। 

Bangla Valobasar Golpo

 

শিশির ক্যাম্পাসে বসে বসে বিন্দুর ছবি দেখছে আর ভাবছে বিন্দুকে সে চিরকালের মতো হারিয়ে ফেলল । হঠাৎ করে পিছনে তাকিয়ে দেখে বিন্দু এসেছে কনের সাজ সেজে । শিশির নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছে না। 

 

বিন্দু সোজা এসে শিশিরকে জড়িয়ে ধরল। শিশিরও বিন্দুকে জড়িয়ে ধরল।

 

শিশিরঃ তুমি এখানে কিভাবে কি? তোমার তো আজ বিয়ে। 

বিন্দুঃ আমি বাসা থেকে পালিয়ে এসেছি শিশির। যখন বর এসেছিল তখন সবাই বাহিরে বর দেখতে গিয়েছিল। সেই সুযোগে আমি পালিয়ে এসেছি।

শিশিরঃ আচ্ছা চলো তাহলে আমাদের গ্রামের বাড়িতে। 

 

 

এদিকে বিন্দুদের বাসায় বিন্দুকে সবাই খুজাখুজি করছে। কারোর আর বুঝতে বাকি নেই যে বিন্দু পালিয়েছে। বিন্দুর বাবা লজ্জায় রুম থেকে বের হচ্ছে না।

 

আত্মীয়স্বজনরা সবাই চলে গিয়েছে। বিন্দুর মা কান্না করছে। তখন বিন্দুর বাবা বলল ওই বিশ্বাসঘাতকের জন্য খবরদার কান্না করবে না। আজ থেকে বিন্দু আমাদের কাছে মৃত। ওর সাথে কেউ আর কখনো যোগাযোগ করবে না।

……………………

 

শিশির বিন্দুকে তার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে গেল। প্রথমে একটু ঝামেলা হলো কিন্তু পরে শিশিরের পরিবারের সবাই বিন্দুকে মেনে নিল। কারণ শিশিরের মা বিন্দুকে আগে থেকেই পছন্দ করত। শিশিরের সাথে বিন্দুর বিয়ে দিল। 

 

বিয়ের দিন বিন্দু তার মা কে কল করল। তার মা কল রিসিভ করল। কলের ওপর পাশ থেকে কান্নার শব্দ পাচ্ছে বিন্দুর মা। বিন্দুর মা বলল কে?? বিন্দু কান্না করেই যাচ্ছে। বিন্দুর মা বুঝতে পেল বিন্দু কল করেছে। বিন্দুর বাবা পিছন থেকে এসে ফোনাটা কেড়ে নিয়ে বলল….

 

বলেছি না,বিন্দু আমাদের কাছে মৃত। তারপর কেটে দিল। বিন্দু তার বাবার কথাটি শুনতে পেল। বিন্দুর চোখ দিয়ে অঝর ধারায় পানি পরছে। সেই সময় শিশির এলো। তার চোখের পানি মুছিয়ে দিয়ে বলল…

 

কেদো না বিন্দু। একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে। বিন্দু শিশিরকে জড়িয়ে ধরে কান্না করেই যাচ্ছে।

Bangla Love Story

 

বিন্দু কনে সেজে খাটের ওপর বসে আছে। মনে হচ্ছে পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঘরে এসে ঘরটি আলোকিত করে রেখেছে। শিশির রুমে এসে দরজাটা বন্ধ করে দিল। খাটের ওপর গিয়ে বসল। মাথা থেকে বিন্দুর ঘোমটা টা সরিয়ে দিল। বিন্দুর খুব লজ্জা লাগছে। 

 

শিশির বিন্দুর কপালে একটা চুমু খেয়ে ওকে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে বলল, তোমায় খুব ভালোবাসি বিন্দু। বিন্দু শিশিরের বুকের মধ্যে মুখ ডুবিয়ে বলল, আমিও তোমায় খুব ভালোবাসি। এরপর ওরা মধুর এক ভালোবাসার জগতে হারিয়ে গেল। হাজার বছর ওরা সেখানে থাকতে চায়। আজ বাসর রাতের ভালোবাসার মাধ্যমে সেই জগতের শুরু। এইভাবে তাদের একটা সুন্দর রোমান্টিক প্রেমের বাসর রাত  চলতে থাকল।

 

পরেরদিন সকালে শিশির বিছানায় ঘুমাচ্ছে। বিন্দু গোসল করে এসে দেখে শিশির এখানো উঠে নি। বিন্দু তার ভেজা চুলের পানি আস্তে আস্তে করে শিশিরের মুখে দিল আর মুচকি মুচকি হাসতে থাকল। শিশির চোখ খুলে দেখল বিন্দু তার পাশে বসে তার চুল দিয়ে তার চোখে পানি দিচ্ছে। 

 

বিন্দুঃ এই যে সাহেব ঘুম হয় নি এখানো? অনেক বেলা হয়েছে উঠেন এবার।  

শিশিরঃ হুমমম….

বিন্দুঃ কি হুম হুম করছো উঠো মা ডাকছেন।

 

বিন্দু চলে যেতে ধরলে শিশির বিন্দুর হাত ধরে টান দেয়। বিন্দু শিশিরের গায়ের ওপর পড়ে যায়।

 

বিন্দুঃ কি করছো। দরজা খোলা আছে। কেউ চলে আসবে। ছাড়ো।

শিশিরঃ আগে একটা দাও।

বিন্দুঃ উফ… ছাড়বে তুমি? ওই দেখো মা।

 

শিশির ওই দিকে দেখতেই বিন্দু পালিয়ে গেল।

 

 

বিন্দু রান্না বান্না তেমন একটা পাড়ে না। শিশিরের মা বিন্দুকে সব রান্না শিখিয়ে দিল। বিন্দু তার শ্বাশুরির কাজে সাহায্য করে। শ্বাশুরি বউমার সম্পর্কটি বেশ ভালোই হয়েছে।


Also Read These Emotional Love Story


সব মিলিয়ে বেশ ভালোই আছে বিন্দু। কিন্তু মনের মাঝে একটি কষ্ট থেকেই থাকে তার বাবা মার জন্য। বিন্দুর তার বাবা মার সাথে কথা বলতে খুব ইচ্ছে করে। অনেকবার চেষ্টাও করেছে। কিন্তু বিন্দুর বাবা বলতে দেয় নি।

 

বিন্দুর মারও  বিন্দুর জন্য কষ্ট হয়। একদিন বিন্দুর মা বিন্দুকে কল করল। মার কল পেয়ে বিন্দু খুব খুশি হলো।

 

এখন মাঝে মাঝেই বিন্দুর মার সাথে বিন্দুর কথা হয়। বিন্দুর বাবাকে লুকিয়ে বিন্দুর মা বিন্দুর সাথে যোগাযোগ করে। বিন্দুর বাবা বুঝতে পারে কিন্তু কিছু বলে না। 

 

আজ বিন্দুর জন্মদিন। সকালেই তার মা তাকে কল করে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছে।

 

সকালে বিন্দু শিশিরকে বলল, বলো তো আজ কি? 

 

শিশিরঃ মনে পরছে না তো। কি আজ?

বিন্দুঃ কিছু না যাও। (রাগ হয়ে)

Bangla Premer Golpo

শিশির অফিসে চলে গেল। বিন্দুর আজ জন্মদিন কিন্তু এই বিষয়ে কারোরই কোনো ভ্রুক্ষেপই নেই এমনকি শিশিরও তার জন্মদিনের কথা ভুলে গিয়েছে। তাই সকাল থেকেই বিন্দুর মনটা আজ খারাপ। আজ সারাদিনে একবারও শিশিরের সাথে কথা বলে নি বিন্দু। শিশির কল করেছিল 

কিন্তু বিন্দু রিসিভ করে নি। 

 

শিশির রাতে অফিস থেকে ফিরে এসে দেখে বিন্দু চুপ চাপ মন খারাপ করে শুয়ে আছে।

 

শিশিরঃ কথা বলবে না আমার সাথে?

বিন্দুঃ না……

 

শিশির এক গুচ্ছ গোলাপ ফুল এনে বিন্দুর সামনে দাড়াল। আর বলল….হ্যাপি বার্থ ডে মহারানি। এবারও কি কথা বলবেন না?

 

বিন্দু খুশি হয়ে বলল তোমার মনে আছে? 

 

শিশিরঃ কি যে বলো তোমার জন্মদিন আর আমার মনে থাকবে না?  

 

বিন্দু শিশিরকে জড়িয়ে ধরে বলল তাহলে সকালে কেনো বললে তোমার কিছু মনে নেই আজ কি? 

 

শিশিরঃ আরে পাগলি তোমাকে সারপ্রাইজ দেওয়ার জন্য বলেছি। 

 

গোলাপের সাথে এক বক্স কাচের চুরি বিন্দুর হাতে পড়িয়ে দিল। বিন্দুর কাচের চুরি খুব ভালো লাগে। তাই শিশির বিন্দুর জন্য কাচের চুরি নিয়ে এসেছে।


Also Read These Another Love Story


রুম থেকে বেরিয়ে এসে দেখে কেক নিয়ে সবাই বিন্দুর জন্য দারিয়ে আছে। বিন্দুকে সবাই জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাল। সবাইকে নিয়ে কেক কাটল। খুশিতে বিন্দুর চোখে পানি চলে এলো। আর বলল আমি খুব ভাগ্য করে এমন একজন স্বামি আর শ্বশুর বাড়ি পেয়েছি।

 

কিন্তু সব কিছুর মধ্যেও বিন্দুর তার বাবা মায়ের কথা খুব মনে পড়ে। তার বাবাও তার জন্মদিনের দিন কেক নিয়ে আসতো।

Click Here For Next Part-    চলবে

Writer- সাদিয়া ইসলাম

Join Our { FB PAGE } and { FB GROUP } For Every Single Minutes Update Of  { Golper Jogot- Largest Story Platform }. Also Please Share Our Story On Your Social Media Platform and with Your Friends. 


Leave a Comment