খালাতো বোন যখন বউ – অনুগল্প | ইমোশনাল লাভস্টোরি

Khalato Bon Jokhon Bou

Amrin Talokder { Short Story }


আমি: আসসালামু আলাইকুম, আন্টি কেমন আছো।

আন্টি: হুমম ওয়ালাইকুম আসসালাম,ভালো আছি।তুই কেমন আছিস?

আমি: এইতো আলহামদুলিল্লাহ,

আন্টি: আয় ভিতরে আয়,বাহিরে কতক্ষণ দারিয়ে থাকবি?

তার পর আমি ও আন্টি দুজনেই বাসার ভিতরে চলে যাই।তো চলুন এবার পরিচয়টা দিয়ে নেই।আমি রাফসান ইসলাম । বাবা মা মারা যাওয়া এক এতিম ছেলে।যাই হোক গল্পে ফিরি।

আন্টি: মেঘা,এই মেঘা।

মেঘা: জ্বি আম্মু বলো।

আন্টি: নিচে এসে রাফসানকে তোর পাশের রুমটা দেখিয়ে দে।

মেঘা: আমি কেন? কাজের লোক আছে তাকে তো বলতে পারো।
আন্টি: মেঘঘঘা।তোকে যা কি বলছি শুনিস নি?

মেঘা: এই শুন,আমার রুমে কখনও ডুকার চেষ্টাও করবি না।

আমি: যা বাবা,মেঘা তো এমন ছিল না,আগে কত্ত সুন্দর ব্যবহার করতো।
{আমি মনে মনে ভাবছিলাম,আর ব্যাগটা টেবিলে রেখে বিছানায শরির এলিয়ে দিলাম}

আন্টি: রাফসান,এই রাফসান।

আমি: জ্বি আন্টি, বলুন।
আন্টি: নিচে আয়,খেতে হবে তো,অনেক রাস্তা জার্নি করে আসচ্ছিস, খুদা তো লাগছে নাকি?

আমি: আচ্ছা আসচ্ছি,(বলেই ফ্রেশ হয়ে নিচে নামি দুপুরে খাবার খেতে,খাবার খাওয়া শেষ হলে বিছানায় শুয়ে একটা ঘুম দেই।এক ঘুমেই রাত্রি ৯টায় উঠে ফ্রেশ হয়ে খাবার খেয়ে আবার ঘুম দেই,সকালে ঘুম থেকে উঠে...)

আন্টি: মেঘা,রাফসানকে তোর সাথে নিয়ে তোর কলেজেই এডমিশন করিয়ে দে,যেহেতু একই সাথে পরিস তো এক সাথে যেতে পারবি।

মেঘা: আম্মু আমি পারবো না, তুমি গিয়ে করিয়ে দাও।

আন্টি: আচ্ছা তোর করতে হবে না,আর আজ থেকে কলেজেও যেতে হবে না।

আমি: আন্টি থাকনা, আর আমি লেখাপড়া করবো কি করে।আমার কাছে তো টাকা পয়সা কিছুই নেই,তাই আমি ভাবছি একটা জব নিব।

আন্টি: রাফসান,তুই কি আমাকে আপন ভাবিস না?

আমি: না,আসল.....(আর বলতে পারলাম না)

আন্টি: মেঘা,তুই রাফসানকে নিয়ে যাবি এটাই আমার শেষ কথা।

মেঘা: আচ্ছা আম্মু।

ইচ্ছে না থাকা সত্ত্বেও এই রাফসানের বাচ্চাকে সাথে করে নিয়ে যেতে হচ্ছে।মন চাচ্ছে রাস্তার মধ্যে গাড়ির নিচে চাপা দিয়ে দেই।তার পর প্রিন্সিপালের রুমে গিয়ে ভর্তির কার্যক্রম শেষ করি।

আমি: মেঘা,আমার ক্লাস রুম কোনটা?

মেঘা: আমার সাথে আয়,আমি দেখিয়ে দিচ্ছি।

আমি: আচ্ছা, মেঘা,আমরা তো একই ডিপার্টমেন্টে তাই না??

আমার কথার কোন উত্তর না দিয়ে নিজের মতো করে চলতে লাগলো মেঘা। তাই আর কিছু না বলে আমিও তার পিছন পিছন যাচ্ছি।নতুন শহর নতুন কলেজ,নতুন পরিবেশে আমি একদম নতুন।তাই মেঘার পিছন পিছন যাচ্ছি।

মেঘা: এই শুনো, কলেজে কখনও আমার সাথে কথা বলবে না,

আমি: আচ্ছা, তোমার যদি কোন সমস্যা হয় তো বলবো না।

এই বলেই মেঘা আমাকে আমার ক্লাস রডম দেখিয়ে বাহিরে চলে গেলো।আমি একা একা বসে আছি ক্লাস রুমে।হঠাৎ কারো শব্দে উপর দিকে তাকাই,দেখি দুইটা ছেলে ও তিনটা মেয়ে আসচ্ছি রুমে।তারা আমাতে ভিতরে দেখে আমার দিকে এগিয়ে আসে।

মায়া: হাই,তুমি কি নতুন নাকি?

আমি: জ্বি, আমি আজকেই এডমিশন নিয়েছি,আর আপনারা?

মায়া: হুমম,আমরা পুরাতন,তা তুমি একাই নাকি সাথে কেও আছে?

আমি: নাহ,আমি একাই আসচ্ছি।কিছু সমস্যা জন্য।

মায়া: ওহহ আচ্ছা, তো আমাদের সাথে ফ্রেন্ডস হবে?

আমি: হুমম হওয়ায় যায়।

তার পর তাদের সাাথে ফ্রেন্ড হই।তাররপর এভাবেই চলে যায় অনেক দিন,এখন মায়া,সিয়াম,জান্নাত,সাইয়েম,টিনার সাথে ভালো সম্পর্ক হয়ে গেছে।আর যতদুর বুঝতে পারি টিনা আমার প্রতি দুর্বল,কিন্তু আমার তার প্রতি কোন ইন্টারেস্টিং নেই।

আন্টি: মেঘা,আমি একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি।আমার বিশ্বাস আমার সিদ্ধান্ত মেনে নিবি.
মেঘা: হুমমম,আম্মু বলো,

আন্টি: আমি তোর ও রাফসানের বিয়ে দিতে চাই,আর সেটা আগামী কালকেই।তাই আজকে তোরা দুজন গিয়ে মার্কেট করে আসবি।

পড়ুন  বেপরোয়া ভালোবাসা – পর্ব ২৫ রোমান্টিক গল্প | মোনা হোসাইন

মেঘা: কিহহহ,বিয়ে তাও আবার রাফসাকে।এটা আম্মু সম্ভব নয়।

আন্টি: আমার কথা কি তুই রাখবি না???

মেঘা: আম্মু,তাই বলে এটা??

আন্টি: আমি কিচ্ছু জানতে চাই না,আমি যা বলছি তাই করবি।

মেঘা: আচ্ছা, যাচ্ছি।

বলেই রাফসানকে নিয়ে চলে যাই মার্কেটে মনটা আজ ভিষণ খারাপ।আমি যাকে না চাই সে যে কেন আমার সামনে আসে, আমি বুঝি না,কি হলো এতক্ষণ গল্পের সাথে থেকেও বুঝেন নি তো??
তাহলে শুনুন রাফসান ও আমার এক সময় রিলেশন ছিল,অনেক ভালোই চলছিল আমাদের রিলেশন, একদিন দেখতে পাই রাফসান একটা মেয়ের হাত ধরে একটা পার্কে বসে আছে।সেখান থেকে রাফসানকে ঘৃণা করতে থাকি।যার মনে আমার ভালোবাসার মধ্যে আর একজন আসতে পারে। তার মতো বেইমানের সাথে আর কিসের কথা।

সেই থেকে রাফসানকে দুরে ঠেলে দিতে দিতে আজকে এত্ত দুর, কিন্তু শেষ রক্ষা আর হলো কই।হারামির বাচ্চাকে তো কালকে ঠিকই বিয়ে করতে হচ্ছে।মনডা চাচ্ছে ওর মাথা ফাটিয়ে দেই।তার সেই গালফ্রেন্ড কই গেলো,এই সব ভাবছি হঠাৎ রাফসান বলে উঠলো।

 

আমি: আচ্ছা মেঘা,আমার থেকে তুমি দুরে দুরে কেন থাকো।

মেঘা: সেটা তোর না জানলেও চলবে,এত্ত কথা বলিস কেন?আর যা করতে আসচ্ছিস তাই কর।

তার পর আর কোন কথা না বলে দুজনে কেনা কাটা করে, গাড়ি ড্রাইভ করে চলে আমি বাসায়,বাসায় এসে বসে বসে সেই পুরোনো সৃতি গুলো ভাবছি,কতই না সুন্দর ছিল সেসব মুহুর্ত।

আস্তে আস্ত দেখতে দেখতে আমাদের বিয়ে হয়ে যায়,আমি বাসর ঘরে বসে আছি,অনেক সময় পর রাফসান বাসর ঘরে ডুকলো,বাসর ঘরে ডুকে একটা বিছানার জাদর ও বালিশ নিয়ে সোভায় ঘুমোতে চলে গেলো।মনটা চাচ্ছে হারামি বিয়ে করেও বউয়ের থেকে দুরে দুরে থাকা,তো বিয়ে কেন করলি।কিন্তু কেন যেন বলতে পারলাম না কিছুই।

রাফসান: মেঘা,আমি জানি না তুমি আমাকে কেন করছো অবহেলা, তবে তুমি জানো ভালোবাসি শুধুই আমি তোমায়।হয়তো কি নিয়ে বেড়ে গেছে দুজনের দুরত্ব,

মেঘা: তাহলে শুন কেন তোর সাথে এরকম করি।
তার পর একে একে সব বলি তো আমরাও চলুন শুনে আসি।

মেঘা: রাফসান,কই তুমি, আজ না আমার ইয়ে করতে ইচ্ছে হইছে,চলো না আজ বিয়ের আগেই করি,হিহিহি

রাফসান: কি বলো এই সব ইযে মানে?আর আমি তো একটা কাজ বাহিরে আছি।আজ তো মিট করতে পারবো না।

মেঘা: ওহহহ,তুমি কোথায় আছো?আর কি কাজ করছো হুমমম?

রাফসান: আরে তেমন কিছু না,এইতো এক ফ্রেন্ডের সাথে ঘুরতে আসচ্ছি।

মেঘা : ওহহক,থাকো তুমি তাহলে আমি পরে কথা বলবো।টাটা

তার পর আমি রেডি হয়ে আমার এক বান্ধবীর সাথে মিট করতে যাই একটা পার্কে,আর পার্কে গিয়ে দেখি রাফসান আর একটা মেয়ে হাতে হাত রেখে বসে আছে।আমি সেখানে আর এক মুহুর্ত না দারিয়ে চলে আসি,তখন থেকেই রাফসানের প্রতি আমার ঘৃণা জন্ম নিয়েছে।

সব তো শুনলেন এবার আসি বর্তমানে।

মেঘা: বল সে মেয়ে কে ছিল?কি দোষ করেছিলাম আমি?আমি কি তার থেকেও অসুন্দর ছিলাম?নাকি তার চেয়ে আমার৷ কিছু কম ছিল?তোকে তো আমি ফজিকেল রিলেশনের প্রস্তাব দিয়েছিলাম,তাও তুই কেন এমন করছিস?

রাফসান:ওহহহ,এই বেপার তাহলে,আমরা বাস্তবতায় যা দেখি,মাঝে মাঝে সেটাও ভুল জানো মেঘা,আর তুমি কোন কারণ ছারাই এটা করতে পারলে?আমাকে এত্ত অবহেলা,তুমি সত্যিটা না জেনে এরকম কি করে করলে?

মেঘা: দেখ আমার সত্যি আর জানা লাগবে না,আমি নিজের চোখকে তো অবিশ্বাস করতে পারি না,তাইনা?

রাফসান: হুমম,তা পারো না,কিন্তু সেটা কে ছিল তুমি কি জানো??জানো না?ওইটা আমার চাচাতো বোন নিলা ছিল,আর ও খুব ডিপ্রেশনে ছিল,তার ডিপ্রেশন থেকে বের করতে তার সাথে ঘুরতে গিয়েছিলাম,তুমি হয়তো জানতে নীলার বয়ফ্রেন্ড সিয়াম ছিল,তাকে ধোঁকা দিয়ে চলে গিয়েছিল,তাই সে ডিপ্রেশনে ভুগছিল,তাই তাকে নিয়ে বের হইছিলাম,কিন্তু সঠিকটা না জেনে এরকম করলে।বাহহহ,এই ছিল তোমার তাহলে আমার জন্য ভালোবাসা।

পড়ুন  মুখোশ – রহস্যময়, রোমান্টিক প্রেমের গল্প পর্ব ১৮ | মোনা হোসাইন

মেঘা: জানি না,(বলেই আমি চলে আসি সেখান থেক,সত্যি কি রাফসান যা বলছে সব সত্যি? আমার তো সত্যি জানা উচিত ছিল মেয়েটা কে ছিল,সত্যি যদি নিলা আপু থাকে, না, না এটা আমি করলাম তাহলে।)

আমি দৌড়ে সেখান থেকে চলে আসি।এসেই রাফসাকে ডাকতে শুরু করি,

মেঘা: রাফসান,রাফসান,(বলেই রাফসানকে গিয়ে জরিয়ে ধরি)

রাফসান: কি হলো, আপনি এভাবে আমাক জরিয়ে ধরলেন কেন?

মেঘা: রাফসান,আমার ভুল হয়ে গেছে প্লিজ আমাকে ক্ষমা করে দেও।

রাফসান: স্যরি, বুঝলাম না,কিসের ভুল?

মেঘা: প্লিজ রাফসান,তুমি তো জানো,আমার ভুল হয়ে গেছে আমাকে তুমি ক্ষমা করে দিয়ে আপন করে নাও।

রাফসান: স্যরি আপু, পাগল প্রেমিক হতে পারি,কিন্তু অবহেলার পাত্র নই।

মেঘা: রাফসান,প্লিজ আর পারছিননা,দুইটা বছর তোমায় কষ্ট দিয়েছি, আর আমি নিজেও পেয়েছি,আর না, মব রাগ অভিমান ভুলে আবার চলো শুরু করি।(কেঁদে কেঁদে)

রাফসান: নিশ্চুপ.....
মেঘা : কি হলো কথা বলো,??

 

রাফসান: সব চাইলে আবার নতুন করে শুরু করা যায় না,কিছু কিছু জিনিস আছে, একবার শেষ হলে আর কোন দিনই জোড়া লাগে না।

মেঘা: প্লিজ আমাকে ক্ষমা করে দেও,আমি নিজের ভুল বুঝতে পারছি,আর এমনটা হবে না,না হলে যে আমি বাঁচবো না,প্লিজ রাফসান,

রাফসান: আপু স্যরি, আমার নতুন একটা গালফ্রেনবড রইছে,আমি তার সাথে বেইমানি করতে পারবো না।

মেঘা: কিহহহ,আমি মানি না,তোর কোন গালফ্রেন্ড নাই,তুই মিথ্যে বলছিস,প্লিজ রাফসান,এবার তো মেনে নাও।

রাফসান: প্লিজ বুঝতে চেষ্টা করো,আমি যে পারবো না,।

মেঘা: দেখ রাফসান,তুই যদি আমাকে না মেনে নিস,আমি এই জীবন শেষ করে দিব।

রাফসান: ইচ্ছে (বলেই সেখান থেকে চলে আসি,)

না,অনেক হইছে নাটক,আর না,আজ রাত্রিতেই এই শহর ছেরে চলে যাবো দুর অজানায়।যেখান দেখতে হবে না মেঘা নাম মানুষটি।যেখানে কেও জানবে না আমার পরিচয়। তাই রাত্রির আধারে ব্যাগ নিয়ে বের হতে নিলেই দরজার সামনে মেঘা দারিয়ে।

মেঘা: ভালোবাসিস আমাকে?

রাফসানঃ না,ভালোবাসি না,হয়তো কখনও ভাসতাম কিন্তু এখন না।

মেঘা: সত্যি তো?
রাফসান: হুমমম,সত্যি।

মেঘা: তো এই নাও ছুরি আমাকে মেরে ফেলে আমার উপর দিয়ে যাও।যদি না ভালোবাসো তো আমাকে মেরে চলে যাও।না হয় আমি নিজেই নিজেকে শেষ করে দিব।
(বলেই ছুরিটা দিয়ে হাতের ক্ববজির মধ্যে কাটতে যাবো)

রাফসান: মেঘা,(বলতে বলতেই মেঘা তার তাহের শিরা কেটে ফেলে।হাত দিয়ে অনবরত রক্ত পরছে।আমি কিছু না ভেবে মেঘাকে কোলে করে নিয়ে দৌড়াতে থাকি।রাতের অন্ধকারে কোন গাড়ি না পেয়ে দৈড়াতে থাকি।ভাগ্য যখন অসহায়,তখন কাওকে পাশে পাওয়া যায় না,আজকে সেটা হারেহারে বুঝতে পারছি)

মেঘা: রররাফসাননন,আমাকে ছেরে দাও।আমার শেষ সময় চলে এসেছে।আমি বুঝতে পারিনি,তোমাকে না বুঝে তোমাকে অনেক কষ্ট দিয়েছি।

রাফসান: চুপপপ একটা কথা বলবে না,তুমি যদি চলে যাও আমার কি হবে?কি নিয়ে বাঁচবো আমি?আমি ভালোবাসি পাগলিটাকে।

মেঘা: রাফসান,একটা কথা বলবো রাখবে।একটু জরিয়ে ধরবা,শেষ বারের মতো।

রাফসান: এই পাগলি,তোমার কিছুই হবে না,আমি আছি তো.(বলেই মেঘাকে শক্ত করে জরিয়ে ধরে হসপিটালে নিয়ে এডমিট করি)

৪ ঘন্টা পর ডাক্তার বের হয়ে রক্তের কথা বলতেই আমার হাত পা অবশ হয়ে যায়,কারণ মেঘার রক্ত ক্ষরণ হওয়াতে প্রচুর রক্ত লাগবে,কিন্তু এখন এই রাত্রিতে কোথায় কি করবো বুঝতে পারছি না,

তখনই আমার এক বন্ধুর কথা মনে হয়।সাথে সাথে ফোন দেই বন্ধুকে আসতে বলি।বন্ধু আসলেই রক্ত দিতে রাজি হয়ে যায়,রক্ত দেওয়ার শেষে আবার অপারেশন শুরু করে।
দীর্ঘ ৮ ঘন্টা পর মেঘার জ্ঞান ফিরলে মেঘাকে বেডে শিফট করা হয়।

 

রাফসান: মেঘা,এটা কি করতেছিলা হুমম?

মেঘা: কেন ভাল কাজই তো করতে ছিলাম,আমার পাপের পায়শ্চিত হতো।

পড়ুন  ভিলেন - থ্রিলার প্রেমের গল্প পর্ব 37 | Romantic Love Story

রাফসান: এক থাপ্পড়ে দাঁত ফেলে দিব।পাপা যে আরো বারতো সেটা কি জানো?

মেঘা: রাফসান,ভালোবাসি অনেক বেশি তোমাকে।

রাফসান: নিশ্চুপ

মেঘা: কথা বলো রাফসান.?

রাফসান: কি কথা বলবো,আগে তুমি সুস্থ হয়ে নাও তার পর দেখছি।

মেঘা: রাফসান,প্লিজ না করবে না,আমি যে পারবো না তাহলে

রাফসান: আরে তুমি আগে তো সুস্থ হয়ে নাও, আর এই নাও ফোন তোমার আম্মু আব্বুর সাথে কথা বলো।

তার পর মেঘার আব্বু আম্মুকে ফোন দেই, মেঘা তার আম্মুকে জানানো মাত্র কিছু সময়ের মধ্যে মেঘার আম্মু আব্বু সবাই চলে আসে।এসেই তারা কান্নায় ভেঙ্গে পরে।আর বলে কি হয়েছিল,কি জন্য এরকম।তার পর মেঘা একে একে সব বলতে থাকে।আর মেঘার কথা শুনে মেঘার আম্মু চোখ বড় বড় করে আমার দিকে তাকায়।

আন্টি: রাফসান,তোমার দারা এটা আশা করিনি আমি।আর তোমার জন্য আমার মেয়েটা এরকম এর প্রতিধান তোমাকে দিতে হবে।

রাফসান: আন্টি,স্যরি,আর.....

আন্টি: আর কোন কথাই শুনতে চাই না আমি।আর আজকেই মেঘা আর তোমার বিয়ের ব্যবস্থা করছি।

রাফসান: কিন্তু আন্টি????

আন্টি: আমি কোন কিন্তু শুনতে চাই না,আর তোর আর মেঘার বিয়ে অনেক আগে থেকেই ঠিক করাই আছে।

তার পর মেঘাকে বাসায় নিযে যাওয়া হয়।বাসায় গিয়ে বিয়ের আয়োজন করা হয়।সব শেষে বিয়েটা করেই ফেললাম,আপনাদের দাওয়াত দিতে পারিনি স্যরি।
বাসর ঘরে বসে আছে মেঘা,মনের ভিতর অনেক ভয় নিয়ে রুমে ডুকলাম।বাসর ঘরে ডুকতেই মেঘা আমাকে সালাম করতে নেয়।কিন্তু তাকে জরিয়ে ধরে বুকে আগলে নেই।কারণ পাগলিটার স্থান পায়ে নয়,আমার এই বুকের মধ্যে খানে।

 

মেঘা: রাফসান,ওই শুনো না।

রাফসান: উমমম,কি বলো,কি বলবে,ঘুমাতে হবে তোমার জন্য এই কয়েকদিন ঘুমাতে পারিনি।

মেঘা: আজ রাতে কোন ঘুম হচ্ছে না,আর লুডু লেখবো সারা রাত্রি।

রাফসান: আমি পারবো না,তুমি খেলো একা একা।

মেঘা: আরে এই লুডু সেই লুডু তো না,এটা অন্য রকম লুডু, তোমায় ছারা খেলতেই পারবো না।হিহিহহহি

রাফসান: কি বলো,কিসের লুডু??

মেঘা: আসো তোমাকে শিখাই কিসের লুডু।

এই যে ভাইয়ারা, আপনারা কি লুডু খেলাদেও অংশ নিতে চান,নিতে পারবেন,কিন্তু এটা যেহেতু বউ বলছে অন্য রকম লুডু তাই।আমি আগে দেখে আসি কেমন লুডু,যদি আপনাদের নেওয়া যায় তো অবশ্যই নিব।

তার পর আর কি লুডু লেখাতে নেমে পরলাম,সকালে শুয়ে আছি,পাগলির চুলের পানিতে ঘুমটা ভেঙ্গে যায়।

মেঘা: ওই উঠবে না,কয়টা বাজে দেখছো??

রাফসান: কয়টা বাজে??আর আজকে কোন উঠা উঠি নেই।রাতের লুডু তুমি খেলছো,এবার আমি খেলবো।

মেঘা: যা,দুষ্টু,এখন না,পরে কথা হবে আমি নিচে চললাম,
বলেই আমি নিচে যেতে নিলে রাফসান আমার হাত ধরে টান দেয়।তাতে আমি টান সামলাতে না পেরে রাফসানের
উপর পরে যাই।তাতে রাফসান আমার ঠোঁট জোরা তার ঠোঁট দিয়ে মুখের মাঝে পুরে নেয়।

আজ দুই বছর পর...

হিয়া: পাপ্পা পাপ্পা আমাত জন্য চকটেল আসবা তেমন।

রাফসা: হুমমম,আম্মু আনবো
এভাবেই কেটে যায় কেটে যায় তাদের দাম্পত্য জীবন

ধন্যবাদ এত্তক্ষণ ধরে গল্পটি পরার জন্য

সমাপ্ত

Writer :- আমরিন তালুকদার

Leave a Comment

Home
Stories
Status
Account
Search