Golperjogot

Golperjogot

Sad Love Story Bangla Love Never Ended Part 1

লাভ নেভার এন্ডেড পর্ব ১ । ইলোরা জাহান উর্মি

Love Never Ended

ইলোরা জাহান ঊর্মি { Part 01 }

বেলকনির রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে লক্ষ্যভ্রষ্টার মতো বাইরে তাকিয়ে আছে রাইফ ইয়াসার। তাকে দেখেই বুঝা যাচ্ছে সে খুব মনোযোগ দিয়ে কিছু একটা শুনছে আর আপন মনে কিছু একটা ভাবছে। কখন যে তার বড়বোন রুহি এসে তার পেছনে দাঁড়িয়েছে টেরই পায়নি। হঠাৎ রুহির ডাকে ধ্যান ভাঙলো রাইফের।

রুহি: ভাই,এখানে এভাবে দাঁড়িয়ে আছিস কেন?(কাঁধে হাত রেখে)
রাইফ: এমনি। ভালো লাগছে তাই।(হালকা ঘাড় ঘুরিয়ে মুচকি হাসলো রাইফ)
রুহি: বাইরে অনেক ঠান্ডা পড়ছে। এভাবে বেলকনিতে দাঁড়িয়ে থাকলে আরো শরীর খারাপ করবে। ভেতরে চল।(চিন্তিত কন্ঠে)
রাইফ: কিছু হবেনা বুবু,অযথা এতো চিন্তা করিস না তো।
রুহি: অযথা কোথায়? জ্বর বাঁধিয়ে বসে আছিস। নিজের যত্নের দিকে খেয়াল রাখিস তুই?
রাইফ: তার জন্য তো তুই আছিস।(হেসে বলল রাইফ)
রুহি: হ্যাঁ আমি তো আছিই। এই ঠান্ডার মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকলে জ্বরটা যেটুকু কমেছে সেটুকুও আবার বেড়ে যাবে।

Sad Love Story Bangla

রাইফ: আরে কিছু হবে না বুবু । দেখছিস না ভারি জ্যাকেট পড়ে আছি? ঠান্ডা আমায় নাগাল পাবে না।(পরনের জ্যাকেটটা দেখি য়ে হাসিমুখে বলল রাইফ)
রুহি: গান শুনছিস?(বাড়ির সামনের স্কুলের দিকে তাকিয়ে আনমনে বলল রুহি)
রাইফ: হুম। স্কুলের প্রোগ্রামগুলোতে স্টুডেন্টরা কতো সুন্দর গান করে তাইনা? শুনতে ভালোই লাগে।(হালকা হেসে বলল রাইফ)

রুহি আহত চোখে ভাইয়ের হাসি দেখছে। এই হাসিটা যে কৃত্রিম তা রুহি ঠিকই বুঝতে পারছে। ছেলেটা কতো বছর ধরে মন ভরে হাসে না। সব কষ্ট চেপে রেখে সবার সামনে দিব্যি ঘুরে বেড়ায়। ভাইয়ের কথা ভাবতে গেলেই রুহির চোখের পাতাগুলো ভিজে যায়। গোপনে একটা দীর্ঘশ্বাস চেপে নিলো রুহি।

রুহি: ভালো লাগে তাই শুনছিস? নাকি আগেরদিন গুলো মিস করছিস?(রাইফের দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে)

রুহির কথায় রাইফ এক পলক ওর দিকে তাকিয়ে আবার দৃষ্টি ফিরিয়ে নিলো। প্রসঙ্গ পাল্টানোর জন্য বলে উঠলো,

রাইফ: একটু কফি করে খাওয়াবি বুবু?(রুহির দিকে না তাকিয়েই)
রুহি: কথা এড়িয়ে যাচ্ছিস যা,কিন্তু এবার অন্তত নিজেকে একটু পাল্টা,প্লিজ। এভাবে উদাসীন হয়ে জীবন কাটানোর মাঝে কোনো আনন্দ নেই।(একইভাবে তাকিয়ে বলল রুহি)
রাইফ:.............................।

একধ্যানে বাইরে তাকিয়ে আছে রাইফ। তার বোনের মুখে এই কথাগুলো সে প্রতিদিন শোনে। তাই এখন আর উত্তর দেয়ার প্রয়োজন বোধ করে না। রুহি বুঝলো রাইফ তার কথার উত্তর দেবে না। তাই আবার বলল,

রুহি: এখানে আর দাঁড়িয়ে থাকিস না, ভেতরে যা। আমি কফি করে আনছি।
হালকা দীর্ঘশ্বাস চেপে প্রস্থান করলো রুহি। রাইফ সেভাবেই রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে আছে। একটু পরেই রুহি এক মগ কফি নিয়ে রুমে এলো। এসে দেখলো রাইফ এখনো বেলকনিতেই দাঁড়িয়ে আছে।

পড়ুন  মুখোশ – রহস্যময়, রোমান্টিক প্রেমের গল্প পর্ব ৮ | মোনা হোসাইন

রুহি: তোকে না ভেতরে আসতে বললাম। চলে আয়,কফি এনেছি।(রুমের মধ্যে দাঁড়িয়ে বেলকনিতে উঁকি দিয়ে গলা উঁচু করে ডাক দিলো রুহি)
রাইফ: একটু কষ্ট করে দিয়ে যা না।(অনুরোধের সুরে)

রুহি বেলকনিতে গিয়ে রাইফের সামনে কফি মগটা এগিয়ে ধরলো। রাইফ বোনের হাত থেকে কফি মগটা নিয়ে মুচকি হেসে চুমুক দিল।

রুহি: কথা কানে যায়না তাইনা?ঠান্ডা লেগে যদি আরো জ্বর বাঁধাস তখন বুঝবি।(রাগ দেখিয়ে)
রাইফ: বুবু তোর এই অগ্রিম চিন্তাগুলো না একটু কমা। আমি কী ছোট বাচ্চা নাকি?
রুহি: চিন্তা থেকে তুই আমাকে কবে রেহাই দিয়েছিস যে কমাতে বলছিস?(ভ্রূকুটি করে তাকিয়ে)
রাইফ: তুই ছাড়া আর কে আমার জন্য চিন্তা করবে?
রুহি: হ্যাঁ সেই তো।
রাইফ: তোর জন্য কফি আনলি না?
রুহি: না। আমার কাজ আছে আমি গেলাম। তুই রুমে যা।
রাইফ:......................।(শুধু একটু মুচকি হাসলো)

Emotional Love Story

রাইফ কফি খেতে খেতে বেলকনির কোণে রাখা চেয়ারটায় বসলো। স্কুলের দিকে তাকিয়ে খেয়াল করলো একটা মেয়ে বাচ্চা কন্ঠে গাইছে,

"তুমি সুখ যদি নাহি পাও,যাও সুখের সন্ধানে যাও।
আমি তোমারে পেয়েছি হৃদয় মাঝে।
আর কিছু নাহি চাই গো।"

লাইনগুলো শুনে রাইফ যেন কোথাও হারিয়ে গেল। দূরে অনেক দূরে কোনো এক অজানায়,যেখানে এই গানের প্রাণটা হারিয়ে গেছে। রাইফের হৃদয় পটে হঠাৎ ভেসে উঠলো আজ থেকে চার বছর আগের কিছু দৃশ্য।

অতীত,


কয়েকদিন পরেই রাইফের এসএসসি পরীক্ষা। স্কুল কর্তৃপক্ষ এসএসসি পরীক্ষার আগেই স্কুলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। স্কুলের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে রাইফ আর তার বন্ধুদের ওপর ভলান্টিয়ারের দায়িত্ব পড়লো। আজ সেই দিন। রাইফরা সবাই মিলে খুব আনন্দ করছে। কারণ এটাই তাদের স্কুল জীবনের শেষ অনুষ্ঠান। রাইফ আর তার বন্ধুরা খুব ভালোভাবে ভলান্টিয়ারের দায়িত্ব পালন করছে।

তখন গানের প্রোগ্রাম চলছিল। রাইফের বন্ধুরা সবাই ঠিক করলো সুযোগ বুঝে বাইরে গিয়ে কিছু খেয়ে আসবে।

শান্ত: এখন গান চলছে। তেমন কোনো ঝামেলা নেই। চল এই সুযোগে কিছু খেয়ে আসি।
রাইফ: গুড আইডিয়া! প্রচুর ক্ষুধা লাগছে ভাই তাড়াতাড়ি চল।
মিহাদ: স্যাররা যদি আমাদের খোঁজ করে?
আবির: আরে ধুর,সে পরে দেখা যাবে। আপাতত পেটের ক্ষুধা মেটানোই উত্তম।
রাইফ: আর এমনিতেও এইছরই এই স্কুলে এটা আমাদের শেষ প্রোগ্রাম। স্যাররা কিছুই বলবে না। সো নো টেনশন।
শান্ত: চল তাহলে।

সবাই ভীর ঠেলে বাইরে বেরোনোর চেষ্টা করছে। হঠাৎ রাইফের কানে ভেসে এলো কারো মধুর কন্ঠস্বর,

"আমার পরাণ যাহা চায়,
তুমি তাই তুমি তাই গো.........।"

রাইফ ক্ষণিক বিলম্ব না করে পেছন ফিরে তাকালো। তার চোখ আটকে গেল স্টেজে লং স্কার্ট পড়ে হাস্যোজ্জ্বল মুখে দাঁড়িয়ে থাকা অপরূপ সুন্দর একটা মেয়ের উপর। ঠোঁটের কোণে মৃদু হাসির সহিত হালকা দুলে দুলে সে গান গাইছে। বয়স হয়তো ১৫-১৬ হবে। যেমনি তার রূপের গড়ন তেমনি তার গানের গলা। সব মিলিয়ে মেয়েটা অসাধারণ।

পড়ুন  বেপরোয়া ভালোবাসা – পর্ব ৩৯ রোমান্টিক গল্প | মোনা হোসাইন

Bangla Valobashar Golpo

রাইফ যেন ঐ সুরের মাঝে হারিয়ে গেল। পা দুটি তার সেখানেই স্থির হয়ে গেল। রাইফকে এভাবে দাঁড়িয়ে পড়তে দেখায় বন্ধুরা সবাই ওর দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো।

শান্ত: কিরে ভাই। কী হলো? তুই দাঁড়িয়ে পড়লি কেন? আর স্টেজের দিকে টাস্কি খেয়ে তাকিয়ে আছিস কেন? (সন্দেহের দৃষ্টিতে তাকিয়ে)

মিহাদ: আরে ভাই এটাও বুঝতে পারছিস না ওর দৃষ্টি দেখে? লাভ এট ফার্স্ট সাইট!(চোখ মেরে)
আবির: ওহ হোওওও। এখন কী পেটের ক্ষুধা ভুলে গান গিলবি নাকি ভাই?(টিটকারি করে)
রাইফ: তোরা গিয়ে খেয়ে আয় যা।(স্টেজে দৃষ্টি আবদ্ধ রেখে)
শান্ত: সিরিয়াসলি? তুই তো বললি তোর ক্ষুধা পেয়েছে।
রাইফ: আমি পরে খেয়ে নেবো। যা তোরা।
মিহাদ: থাক ওকে আর বিরক্ত করিস না। বেচারা এখন অন্য জগতে আছে।
আবির: চলতো। ক্ষুধায় পেট চোঁ চোঁ করছে।

বন্ধুরা সবাই চলে গেলে রাইফ আরো একটু সামনে এগিয়ে গেল।

গান শেষ করে মেয়েটা ধীর পায়ে স্টেজ থেকে নেমে একজায়গায় কিছু মেয়ে দলবেঁধে দাঁড়িয়ে আছে সেদিকে চলে গেল।

রাইফ ঐ দলের একটা মেয়েকে ইশারায় ডাকলো।মেয়েটা এগিয়ে এসে রাইফের দিকে প্রশ্নভরা দৃষ্টিতে তাকালো।

রাইফ: রিনি তোমাকে একটা প্রশ্ন করার ছিল।
রিনি: জ্বী ভাইয়া বলুন। কী প্রশ্ন?
রাইফ: এইমাত্র যে স্টেজে গান গাইলো ঐ মেয়েটা কে?আই মিন এর আগেতো কখনো আমাদের স্কুলে দেখিনি।
রিনি: আভার কথা বলছেন? ও তো এখানে নতুন ভর্তি হয়েছে,দেখবেন কীভাবে?
রাইফ: ও আচ্ছা। কোন ক্লাসে ভর্তি হয়েছে?
রিনি: আমার সেম ইয়ার। নাইনে ভর্তি হয়েছে।

রাইফ: কতোদিন ধরে ভর্তি হয়েছে?
রিনি: গত সপ্তাহেই ভর্তি হয়েছে। ওর বাবা একজন পুলিশ কর্মকর্তা তো। বদলি হয়ে এখানে এসেছে।
রাইফ: ওহ। ঠিক আছে তুমি যেতে পারো।
রিনি: কিন্তু ভাইয়া, আপনি হঠাৎ মিনহার কথা জিজ্ঞেস করলেন যে?(সন্দিহান কন্ঠে)
রাইফ: এমনি। খুব সুন্দর গান করে। অপরিচিত লাগছিল তাই তোমার কাছে জিজ্ঞেস করলাম।
রিনি: ও।(রিনির মুখ দেখেই বুঝা গেল রাইফের কথা সে বিশ্বাস করতে পারেনি)

রিনি গিয়ে পূর্বের স্থানে দাঁড়ালো। প্রায় সাথে সাথেই ওর বান্ধবীরা সবাই জেরা করতে শুরু করলো।সবার একই প্রশ্ন,রাইফ রিনিকে ডেকে কী বলেছে?

রিনি বেচারি তো পড়লো মহাবিপদে। রাইফ যে এদের সবার ক্রাশ তা সে ভালোমতোই জানে। কিন্তু রিনির ভাই মিহাদের বন্ধু হওয়ায় রিনি রাইফকে ভাইয়ের মতোই মনে করে। বান্ধবীদের প্রশ্নের সামনে সে বেশিক্ষন চুপ থাকতে পারলো না। শেষে মুখ ফসকে বলেই ফেললো।

পড়ুন  বেপরোয়া ভালোবাসা – পর্ব ১৭ রোমান্টিক গল্প | মোনা হোসাইন

রিনি: রাইফ ভাইয়া আমার কাছে আভার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেছে। হয়েছে? এবার চুপ করবি তোরা?(ক্ষুব্ধ দৃষ্টি নিক্ষেপ করে বলল রিনি)

Bangla Sad Story

সবাই যেন আকাশ থেকে পড়লো। আভা ওদের রিয়েকশন দেখে হা করে তাকিয়ে রইলো আর ব্যাপারটা বুঝার চেষ্টা করতে লাগলো। সবার দিকে চোখ বুলিয়ে রিনিকে প্রশ্ন করলো,

আভা: কী ব্যাপার রিনি? ওরা সবাই এমন রিয়েকশন কেন দেখাচ্ছে?
শশী: আরে তুই জানিস না রাইফ ভাইয়া সব মেয়েদের ক্রাশ। যে সবার ক্রাশ সে কিনা তোর ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেছে,ভাবা যায়!
রিনি: আরে তেমন কিছু না। ওর গান খুব ভালো লেগেছে ভাইয়ার কাছে। আমাদের সবার মধ্যে আভাকে উনি চেনেন না তাই আমার কাছে জিজ্ঞেস করলো।(নিজের সন্দেহ ধামাচাপা দিয়ে বলল রিনি)

সবাই সন্দিহান দৃষ্টিতে অদূরে দাঁড়িয়ে থাকা রাইফের দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে রইল। রাইফ এখনো দূর থেকে আভার দিকেই তাকিয়ে আছে।

আভা: আচ্ছা এই রাইফটা কে?
রিনি: ঐ যে দেখছিস ব্লাক শার্ট পড়ে দাঁড়িয়ে আছে,উনিই রাইফ ভাইয়া।

আভা অদূরে দাঁড়ানো রাইফের দিকে তাকালো। রাইফকে তার দিকে মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে দেখে আভা ভ্রূকুটি করে ফেলল। পাশে তাকিয়ে দেখলো ওর বান্ধবীরা সবাই সন্দিহান দৃষ্টিতে একবার ওকে দেখছে তো আরেকবার রাইফকে দেখছে। অথচ রাইফের যেন তাতে কিছুই যায় আসে না। তার ঠোঁটের কোণে মৃদু হাসি লেগে আছে। কিছুক্ষণ রাইফের দিকে তাকিয়ে থেকে আভা চোখ সরিয়ে নিল।

আভা: এভাবে হা করে তাকিয়ে আছে কেন? মনে হচ্ছে চোখ দিয়ে গিলে খাচ্ছে আমাকে।(আভা সঙ্কোচ নিয়ে বলল)
জিনিয়া: মনে হয় তোকে মনে ধরেছে।
আভা: অ্যাঁ।
জিনিয়া: হ্যাঁ।
হেনা: রাইফ ভাইয়া আজ পর্যন্ত কোনো মেয়ের দিকে ফিরেও তাকায়নি। আর তোকে এভাবে দেখছে মানে নিশ্চিত তোর প্রেমে পড়েছে।(হেসে বলল হেনা)
আভা: কী আবোলতাবোল বকছিস? থাম তো।(বিরক্তির সুরে)

বান্ধবীরা সবাই মিলে এবার আভা আর রাইফকে নিয়ে আকাশকুসুম ভেবে বকবক করতে শুরু করলো। সবাই মিলে হাসাহাসি করছে দেখে আভা গেল রেগে। রাগী দৃষ্টিতে দূরে তাকাতেই দেখলো রাইফ সেখানে নেই। পরক্ষণেই আভা এসব মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে দিয়ে অনুষ্ঠানে মনোযোগ দিল।

Click Here For Next :চলবে

Writer :- Elora Jahan Urmi

About The Author

3 thoughts on “লাভ নেভার এন্ডেড পর্ব ১ । ইলোরা জাহান উর্মি”

  1. This is the perfect blog for anybody who really wants to understand this topic. You know so much its almost hard to argue with you (not that I actually would want to…HaHa). You certainly put a brand new spin on a subject that has been written about for decades. Great stuff, just excellent!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Home
Stories
Status
Account
Search
Scroll to Top