Love Never Ended Part 13 | Come Back Sad Love Story

Love Never Ended

ইলোরা জাহান ঊর্মি ( P. 13 )

অপারেশন শেষে আভাকে কেবিনে শিফট করা হয়েছে। এখনো ওর জ্ঞান ফেরেনি। প্রচুর রক্তক্ষরণ হওয়ার কারণে পরপর দুই ব্যাগ রক্ত লেগেছে। কেবিনের বাইরে সবাই ওর জ্ঞান ফেরার অপেক্ষায় আছে। রাইফ চুপচাপ চোখ বন্ধ করে চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে আছে। অবাক করা ব্যাপার হচ্ছে সামিদ এখনো আসেনি। 

আসিফ অফিসে ফোন করে সামিদের নাম্বার জোগাড় করে কয়েকবার ফোন করেছে। কিন্তু সামিদ একবারের জন্যও ফোন তুলছে না। আভার জ্ঞান ফিরতে দেরি হচ্ছে। এদিকে রাইফের চেহারার নাজেহাল অবস্থা দেখে রুহি রাইফকে বলল বাড়ি গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আসতে। 

রাইফ কিছুতেই রাজি হলো না। আভার জ্ঞান না ফেরা পর্যন্ত সে কোথাও যাবে না বলে জেদ ধরে বসে রইল। রুহি অনেক বুঝালো তাকে। আসিফ বলল যে আভার জ্ঞান ফেরার সাথে সাথে সে রাইফকে খবর দিবে। অবশেষে আসিফ আর রুহির জোরাজুরিতে রাইফ বাড়ি যেতে রাজি হলো।

{ Love Never Ended Heart Touching Love Story Bangla }

রাইফ গাড়ি চালাচ্ছে ঠিকই কিন্তু তার মন পড়ে আছে হাসপাতালের সেই কেবিনে যেখানে তার হৃদয়াক্ষী পড়ে আছে। মাত্র দুই ঘন্টার মধ্যে সে নিজের অবস্থা নাজেহাল করে ফেলেছে। চুলগুলো এলোমেলো,চোখ দুটো অসম্ভব লাল,মুখটা মলিন হয়ে আছে। তার মাথায় শুধু আভার বলা একটা কথাই ঘুরছে,“দশ বছর ধরে যাকে এতো ভালোবাসি তাকে কী করে নিজের চোখের সামনে গুলিবিদ্ধ হতে দেখতাম বলো?” রাইফ আভার কথার কোনো অর্থই খুঁজে পাচ্ছে না।

হঠাৎ করে রাইফ জোরে ব্রেক কষে গাড়ি থামিয়ে ফেললো। অদূরে দাঁড়ানো দুজন ব্যক্তির উপর তার দৃষ্টি আটকে আছে। তার দু’চোখে বিস্ময়। ধীরে ধীরে তার বিস্ময় রাগে রূপ নিলো। হাতের মুঠি আর চোয়াল শক্ত হয়ে গেল। কিছুক্ষণ সেভাবেই বসে থেকে রাইফ হঠাৎ গাড়ি থেকে নেমে পড়লো। তারপর দ্রুত পায়ে হেঁটে অদূরে দাঁড়ানো ব্যক্তিদের কাছে গেল। 

তারা কিছু বুঝে ওঠার আগেই রাইফ পেছন থেকে একজনের কলার চেপে ধরে তার দিকে ঘুরিয়ে এলোপাথাড়ি মারতে শুরু করলো। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটি আর সামিদ রাইফকে থামানোর চেষ্টা করতে লাগলো। সামিদ বার বার জিজ্ঞেস করছে তাকে কেন মারছে কিন্তু রাইফ শুধু রাগে ফুঁসছে। পাশের মেয়েটি উত্তেজিত হয়ে বলল,

{ Bangla Sad Love Story | কষ্টের ভালোবাসার গল্প বাংলা } 

মেয়েটা: আরে ভাইয়া কে আপনি? কী করছেন এটা? মারছেন কেন ওকে? প্লিজ ছাড়ুন।

মেয়েটার মিনতি শুনে রাইফ সামিদের কলার আরো শক্ত করে চেপে ধরে ওর দিকে অগ্নি দৃষ্টিতে তাকিয়ে দাঁতে দাঁত পিষে বলল,

রাইফ: তোর এতো বড় সাহস তুই আভাকে ঠকাস! মেয়েটা আহত অবস্থায় হসপিটালের বেডে পড়ে আছে আর তুই সেটা জেনেও ওর কাছে না গিয়ে আরেকটা মেয়ের সাথে টাইম পাস করছিস? এতো বড় সাহস তোর হলো কীভাবে বল?

রাইফের ধমক শুনে সামিদ একটুও অবাক হলো না। বরং সে আহত চোখে রাইফের দিকে তাকিয়ে রইল। সামিদ কিছু বলার আগেই পাশ থেকে মেয়েটা রাগান্বিত কন্ঠে বলে উঠলো,

মেয়েটা: আপনার কী মাথা খারাপ হয়েছে নাকি? কী বলছেন এসব?

রাইফ মেয়েটার দিকে না তাকিয়ে সামিদের দিকে কঠিন দৃষ্টি স্থির রেখে বলল,

রাইফ: ও কতোবড় চিটার আপনি জানেন? ওর ওয়াইফ গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছে। ওকে অনেক আগে এই খবর দেয়া হয়েছে। তারপর বারবার করে ফোন করা সত্ত্বেও এই ইডিয়েট একবারের জন্যও ফোন তোলেনি। আর এখন অন্য মেয়ের সাথে টাইম পাস করছে। 

পড়ুন  ভিলেন পর্ব 56 - থ্রিলার প্রেমের গল্প | Romantic Premer Golpo

সামিদ বলে উঠলো,

সামিদ: স্যার আপনি ভুল বুঝছেন আমাকে।

রাইফ সামিদের কলার আরো জোরে চেপে ধরে শক্ত মুখে বলল,

রাইফ: কোনটা ভুল? আমার চোখের দেখা ভুল? আভাকে সুখি দেখে এতো দিন আমি ভেবেছিলাম তুই বোধহয় আভাকে খুব ভালোবাসিস। কিন্তু আমার ধারণা সম্পূর্ণ ভুল ছিল। তুই আভাকে ঠাকাচ্ছিস। ওর মাঝে কিসের কমতি আছে যে তুই ওকে ঠকাচ্ছিস? আমি বেঁচে থাকতে আভাকে ঠকিয়ে তুই পার পাবি না। তোকে তো আমি শেষ করে ফেলবো।

{ Emotional Heart Touching Love Story }

কথাগুলো বলেই রাইফ আবার সামিদকে মারতে শুরু করলো। সামিদ বার বার মিনতি করে বলছে তার কিছু কথা শুনতে। কিন্তু কে শোনে কার কথা? রাইফ সামিদকে কিছু বলার সুযোগই দিচ্ছে না। শেষমেশ অসহ্য হয়ে পাশের মেয়েটি সর্বশক্তি দিয়ে ধাক্কা মেরে রাইফকে সামিদের থেকে সরিয়ে দিলো। তারপর রাগী দৃষ্টিতে তাকিয়ে ঝাঁঝালো গলায় বলল,

মেয়েটা: অনেক হয়েছে। থামুন এবার। পাগল হয়েছেন আপনি? তখন থেকে কী সব বাজে বকছেন! আমি সামিদের ওয়াইফ। আর ও কাউকে ঠকায়নি। আমরা দুজন দুজনকে ভালোবেসে বিয়ে করেছি।

রাইফও ঝাঁঝালো গলায় বলল,

রাইফ: তাহলে আভা কে?

মেয়েটা: আভা সামিদের বেস্ট ফ্রেন্ড। সামিদ ওকে নিজের বোন ভাবে।(চেঁচিয়ে উঠলো মেয়েটা)

মেয়েটার কথায় রাইফ থমকে গেল। সে যেন অবাকের চরম পর্যায়ে পৌঁছে গেল। চোখে এক আকাশ বিস্ময় নিয়ে সে একবার মেয়েটার দিকে আরেকবার সামিদের দিকে তাকাচ্ছে। তার মাথায় কিছুই ঢুকছে না। সবকিছু ধোঁয়াশা মনে হচ্ছে এখন। তার মুখ থেকে অস্ফুট স্বরে বের হলো,

রাইফ: হোয়াট!

রাইফের শান্ত ভাব দেখে সামিদ এবার সাহস জুগিয়ে এগিয়ে এসে বলল,

সামিদ: হ্যাঁ স্যার। হিয়া ঠিকই বলছে। আভা আর আমি দুজন বেস্ট ফ্রেন্ড। আর হিয়া আমার ওয়াইফ।

রাইফ অবাক দৃষ্টিতে সামিদের দিকে তাকিয়ে আছে। সে এবার কিছুটা সিরিয়াস হলো। তাকে সবকিছু জানতে হবে। সে প্রশ্ন করলো,

রাইফ: কী বলছো এসব তোমরা? তাহলে আমি এতদিন যা জানতাম সেগুলো…..?

সামিদ: সব মিথ্যে ছিল স্যার।(মাথা নীচু করে)

রাইফ: হোয়াট! তোমাদের কথা আমার মাথায় ঢুকছে না। ক্লিয়ারলি বলো কোনটা সত্যি আর কোনটা মিথ্যা। ধাঁধার মধ্যে পড়ে গেছি আমি।(কিছুটা জোরে বলে উঠলো রাইফ)

সামিদ ভাবলো স্যার যেহেতু জেনেই গেছে সেহেতু সব বলে দেয়াই ভালো। সব সত্য মিথ্যার পর্দা সরে যাক আজ। সামিদ গলা ঝাড়া দিয়ে বলতে শুরু করলো,

সামিদ: স্যার আপনার অগোচরে অনেক সত্য লুকিয়ে আছে যা আপনি কখনো শুনতেই চাননি। চার বছর আগে যেদিন আভার বাবা তার বন্ধুর ব্যবসায়ের সব টাকা আত্মসাৎ করে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পালিয়ে গিয়েছিল সেদিন উনি আভার ফোন থেকে সিম কার্ড ফেলে দিয়েছিলেন। আপনার বা কোনো ফ্রেন্ডের নাম্বার ওর মুখস্থ ছিল না। যার দরুন সেদিন থেকে ও কারো সাথে যোগাযোগ করতে পারেনি। 

আভা খুব কষ্টের মধ্যে ছিল তখন। বাবা মায়ের অগোচরে অনেক চোখের পানি ফেলেছে। কিন্তু ওর কিছুই করার ছিল না। চট্টগ্রামের কলেজে ভর্তি হওয়ার পর আমার সাথে ওর পরিচয় হয়। তারপর আস্তে আস্তে আমরা বেস্ট ফ্রেন্ড হয়ে উঠি। আমার সাথে ও সব কথা শেয়ার করতো। তখনই আমি বুঝেছিলাম যে ও আপনাকে ঠিক কতোটা ভালোবাসে। ওর কাঁদো কাঁদো মুখটা দেখে খুব মায়া লাগতো কিন্তু আমার কিছু করার ছিল না। 

ওকে কখনো আমি কোনো রকম আনন্দ করতে দেখিনি। বেস্ট ফ্রেন্ড হিসেবে সবসময় অনেক চেষ্টা করেছি ওকে হাসিখুশি রাখার। কিন্তু তবু ও কৃত্রিম হাসির পেছনে কষ্টটাকে চেপে রাখতো। চট্টগ্রাম যাওয়ার দুই বছর পর হঠাৎ একদিন ওর বাবা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছিলাম কোনো একজন পূর্ব পরিচিত ব্যক্তি পুলিশের কাছে ইনফর্ম করেছিল যে তিনি একজন পলাতক আসামি। আভার বাবা লজ্জায় পড়ে জেলখানার মধ্যেই সুইসাইড করেছিলেন। 

পড়ুন  প্রেম কাহিনী – স্কুল জীবনের প্রেমের গল্প পর্ব 11 | Golpo

{ bangla love story , Bangla Valobashar Golpo }

তারপর থেকে আভা আর ওর মা একদম একা হয়ে যায়। সংসারের টানাপোড়েনে পড়ে আভা আমাকে বলল চাকরি জোগাড় করে দিতে। আমি মোটামুটি ভালো একটা চাকরি জোগাড় করে দিয়েছিলাম। তার কয়েকদিন পরেই আমি ঢাকায় চলে আসি আর আপনাদের কোম্পানীতে চাকরি পাই। মাঝে মাঝে ছুটিতে চট্টগ্রাম গিয়ে ওদের সাথে দেখা করে আসতাম। 

ঢাকায় থেকেও সবসময় আমি ওদের খোঁজ নিয়েছি। বাকি দুই বছর কোনোমতে কাটানোর পর গত মাসেই আমরা জানতে পারি আভার মায়ের হার্ট ব্লক হয়ে গেছে। এটা শুনে আভা অনেক ভেঙে পড়েছিল। তারপর আমি ওকে অনেক বুঝিয়ে শুনিয়ে ঢাকায় নিয়ে আসি। ওদেরকে আমার ভাড়া বাসাতেই থাকতে অনুরোধ করেছি। কারণ আমার আপন বলতে কেউ নেই। 

চাকরি পাওয়া অনেক দুঃসাধ্য হয়ে পড়ায় আমি ভাবলাম আপনাদের যখন পিএ লাগবে তখন আভা এই কাজটা করতেই পারে। ইন্টারভিউ দিতে গিয়ে আভা আপনাকে দেখে যতোটা অবাক হয়েছিল তার থেকে বেশি খুশি হয়েছিল। সেদিন আমি ওর চোখেমুখে খুশি দেখেছিলাম। কিন্তু সেই খুশিটাও ওর কপালে স্থায়ী হয়নি।

কথাগুলো বলে সামিদ একটু থেমে কিছুক্ষণ জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিলো। তার মুখটা মলিন হয়ে গেছে। হিয়া পাশে দাঁড়িয়ে চুপচাপ কথা শুনে যাচ্ছে। আর রাইফ তো থম মেরে একদৃষ্টিতে সামিদের দিকে তাকিয়ে আছে। সামিদ আবার বলতে শুরু করলো,

সামিদ: আপনি যে ইচ্ছে করেই ওকে চাকরিটা দিয়েছিলেন সেটা আমরা বুঝতে পেরেছি। আভা যখন আমাকে বলে যে আপনিই সেই মানুষ যাকে ও এতো বছর ধরে ভালোবাসে তখন আমিও খুব খুশি হয়েছিলাম। ভেবেছিলাম এবার হয়তো মেয়েটা সুখের মুখ দেখবে। কিন্তু জয়েন হওয়ার পর থেকেই আপনি ওর সাথে শুধু রাগারাগী করেছেন আর অনেক কথাও শুনেয়েছেন। 

ও যতোবার আপনাকে এই সত্যি কথাগুলো বলতে গেছে ততোবারই আপনি ওকে বিভিন্ন কথা শুনিয়েছেন। আমাকে ওর হাসবেন্ড ভেবে বসেছেন আপনি। কখনো ওকে কিছু বলার সুযোগটাই দেননি। তবু ও কতো চেষ্টা করে গেছে। কিন্তু সেদিন হঠাৎ ও অফিস থেকে বাসায় ফিরে রুমে ঢুকে অনেক কান্নাকাটি করে। 

অনেক জোরাজুরির পর ও আমাকে বলে যে আপনি ওকে সম্পূর্ণ ভুলে গেছেন। কারণ অন্য কাউকে বিয়ে করে আপনি খুব সুখে দিন কাটাচ্ছেন। আর ও সেটা নিজের চোখে দেখেছে।

Also, Read Those Heart- Touching Come Back Sad Love Story

  1.  Love Never Ended Part – 1

  2.   Love Never Ended  Part – 2

  3.   Love Never Ended  Sad Love  Story P – 3

  4.  Love Never Ended  Part  – 10

  5.  Love Never Ended Part – 11

  6. Love Never Ended Part – 12

রাইফ যেন আকাশ থেকে পড়লো। এসব কী বলছে সামিদ? আভা এসব উল্টা পাল্টা ভাবনা কেন ভেবেছে? রাইফ বলে উঠলো,

রাইফ: হোয়াট ননসেন্স! কিসের বিয়ে? আই মিন আমি কবে কাকে বিয়ে করেছি?

সামিদ: সে তো আমি জানি না স্যার। সেদিন আমি ওকে বলেছিলাম যে করেই হোক আপনাকে সত্যিটা খুলে বলতে। কিন্তু ও বলল যে আপনি যেহেতু ওকে ভুলে সুখেই আছেন সেহেতু ও আর আপনার লাইফে ইন্টারফেয়ার করতে চায় না। তাছাড়া আপনার এখন সংসার আছে। তাই ও চাইলেই আর আপনার কাছে ফিরতে পারবে না। 

পড়ুন  প্রেম কাহিনী – স্কুল জীবনের প্রেমের গল্প পর্ব 16 | Golpo

সেজন্যই ও সিদ্ধান্ত নিয়েছিল আপনি যেমন ওকে ভুলে সুখে আছেন ও আপনাকে বুঝাবে যে ও ও আপনাকে ভুলে আমার সাথে সুখে আছে। আপনি আপনার প্রতিজ্ঞা ভুলে গেছেন তাই ওর ধারণা সত্যিটা জানার আর কোনো অধিকার আপনার নেই। আমাকে বারণ করে দিয়েছে যাতে কখনো আপনাকে এই ব্যাপারে কিছু না বলি। তাই আমিও আর কিছু বলিনি। 

আমি অনেক চেষ্টা করছি ওর জন্য অন্য কোনো চাকরি জোগাড় করার কিন্তু পাচ্ছি না। হিয়াকে আমি আরো ছয়মাস আগে বিয়ে করেছি। আমরা দুজন দুজনকে ভালোবাসি। ওর বাবা অনেক ধনী মানুষ তাই আমার মতো একটা সাধারন ছেলের কাছে কখনোই তিনি একমাত্র মেয়েকে বিয়ে দেবেন না এটাই স্বাভাবিক। তাই আমরা কাউকে না জানিয়েই বিয়ে করেছিলাম। এসব কথা শুধুমাত্র আভা জানে। 

কয়েকদিন ধরে ওর বাবা ওকে বিয়ে দেয়ার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। বাধ্য হয়ে আজ ও বলে দিয়েছে যে আমরা আরো ছয়মাস আগে বিয়ে করে ফেলেছি। আমি যখন আভা হসপিটালে ভর্তি শুনে হসপিটালে রওনা দিয়েছি তখনই হিয়ার বাবার ফোন আসে। উনি আমাকে আর্জেন্টলি দেখা করতে বলেন। আমার কিছু করার ছিল না। ভেবেছি আপনারা যখন আছেন আভার কাছে তখন আর ওকে নিয়ে চিন্তা নেই। 

তাই আমি হিয়ার বাড়ি যাই। সেখানে যাওয়ার পর ওর বাবা অনেক রাগারাগী করে আর বলে ওকে ডিভোর্স দিয়ে দিতে। কিন্তু আমরা কেউই এতে রাজি হইনি। এজন্য উনি আমার সাথে হিয়াকেও বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন। বলেছেন আর কোনোদিনও ওনার সামনে না যেতে। হিয়া খুব ভেঙে পড়েছে এতে। আমরা এক্ষুনি হসপিটালে যেতাম কিন্তু তার আগেই আপনি কোথা থেকে চলে এলেন বুঝতে পারছি না।

Also Visit Those  Romantic Love Story Article

সামিদের চোখের কোণে পানি জমে আছে। গলা কাঁপছে তার। পাশে দাঁড়িয়ে হিয়া নীরবে চোখের পানি ফেলছে। রাইফের চোখের পাতাগুলোও শুকনো নেই। সে যেন প্রচন্ড শক হয়ে গেছে। এই কথাগুলো শোনার জন্য সে মোটেও প্রস্তুত ছিল না। আজ যে আড়ালের সত্য গুলো এভাবে এমন একটা মুহূর্তে শুনতে হবে এটা তার কল্পনার বাইরে ছিল। 

কতোবড় ভুল সে করেছে এটা ভেবেই রাইফের ডুকরে কান্না চলে আসছে। মাথাটা কেমন চক্কর দিয়ে উঠলো। পাশের একটা পুরনো বেঞ্চে কোনোমতে বসে দুহাতে নিজের চুল টেনে ধরলো রাইফ। তার চোখ দুটো আর কোনো বাঁধই মানতে চাইলো না। চোখ ফেটে জল বেরিয়ে এসে গাল বেয়ে টপটপ করে গড়িয়ে পড়তে লাগলো।

Click Here For Next Part  চলবে

Writer- ইলোরা জাহান ঊর্মি

Love Never Ended Part 13 Love Story
Love Never Ended Part 13 Love Story

1 thought on “Love Never Ended Part 13 | Come Back Sad Love Story”

Leave a Comment

Home
Stories
Status
Account
Search