Bangla Valobashar Golpo Love Never Ended Part 5 | Sad Story

Love Never Ended

ইলোরা জাহান ঊর্মি { Part 05 }

সামিদের সাথে একসঙ্গে অফিসে ঢুকছে আভা। তার খুব ভয় করছে। ভয়ে হাত-পা কাঁপছে। গলা শুকিয়ে আসছে। সে খুব ভালোভাবেই জানে রাইফ ইচ্ছে করে তাকে এই চাকরিটা দিয়েছে। নইলে সে নিশ্চিত ছিল এতো গুলো মানুষের মধ্যে‌ তার চাকরি হবেই না। আজ থেকে তাকে সবসময় রাইফের সাথে থাকতে হবে ভেবেই তার ভয় হচ্ছে। সামিদ তাকে ঠিকই লক্ষ্য করছে।

গাড়ি পার্কিং করে অফিসের মধ্যে ঢুকতে গিয়েই রাইফ থমকে দাঁড়ালো। একটু দূরেই সামিদ আর আভা চিন্তিত মুখে কথা বলছে। দেখে মনে হচ্ছে সামিদ আভাকে কিছু বুঝানোর চেষ্টা করছে। কথা বলতে বলতে সামিদ হাসিমুখে একবার আভার গালও টেনে দিলো। রাইফের হাতের মুঠি শক্ত হয়ে আসছে।

দাঁতে দাঁত চেপে রাইফ দ্রুত নিজের কেবিনের দিকে চলে গেল। ঠিক তখনই রাইফের দিকে আভার চোখ পড়লো। নিমিষেই আভার মুখে একরাশ কালো মেঘ এসে ভর করলো।

Bangla Valobashar Golpo

রাইফের কেবিনের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছে আভা। পিএরা তো এমডির কেবিনে ঢোকার আগে অনুমতি চায়। কিন্তু সে কী করবে ভেবেই পাচ্ছে না। দরজার সামনে দাঁড়িয়ে কেবল হাত কচলাচ্ছে। রাইফ নিজের চেয়ারে বসে ল্যাপটপে কিছু কাজ করছিল। হঠাৎ তার চোখ চলে গেল দরজার কাছে।

আভা দরজাটা হালকা খুলে দাঁড়িয়ে আছে। রাইফ ভাবলো আভা ভেতরে আসার সাহস পাচ্ছে না। সাহস পাবে কীভাবে ? এতোবড় বিশ্বাসঘাতকতা করার পর হয়তো কখনোই ভাবেনি আবার সেই মানুষটির সামনে পড়তে হবে। সামনে যখন পড়েই গেছে বিশ্বাসঘাতকতার শাস্তি তো সে পাবেই।

রাইফ কিছুক্ষণ দরজার দিকে তাকিয়ে থেকে বাঁকা হাসলো। তারপর হঠাৎ জোরে বলে উঠলো,“দরজার কাছে দাঁড়িয়ে না থেকে পারমিশন নিয়ে ভেতরে আসতে হয়।একজন পিএ হিসেবে এই সামান্য জ্ঞানটুকু থাকা উচিত।”

আভা এতোটাই দ্বিধায় ভুগছিল যে হঠাৎ রাইফের এমন জোরে বলা কথায় সে হকচকিয়ে গেল। সেই সাথে রাইফের গলাটাও কেমন অপরিচিত লাগছে। রাইফ আগে কোনোদিনো তার সাথে এভাবে কথা বলেনি। রাইফের কথা শুনে মনে হচ্ছে ও কোনো অপরিচিত পিএর সাথেই কথা বলছে।
ব্যাপারটায় আভার যেমন কষ্ট লাগছে তেমনি কিঞ্চিত ভয়ও করছে। ভেতর থেকে রাইফ উচ্চস্বরে আবার বলে উঠলো,“ভেতরে আসুন।”

এবার আভা সাতপাঁচ না ভেবে তাড়াতাড়ি কেবিনের ভিতরে ঢুকলো। ঢুকেই রাইফের সাথে চোখাচোখি হলো। রাইফ দৃষ্টি নামিয়ে পুনরায় আবার ল্যাপটপে মনোযোগ দিলো। আভা রাইফের টেবিলের সামনে চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে। তার দৃষ্টি রাইফের দিকে। আজ যেন বড্ড অপরিচিত লাগছে এই মানুষটাকে।

অথচ চার বছর আগেও এই মানুষটা খুব কাছের একজন ছিল। আভার চোখ ছলছল করছে। কথা বলার সাহসই হচ্ছে না তার। কিছুক্ষণ নিস্তব্ধ থাকার পর রাইফ ল্যাপটপের দিকে দৃষ্টি রেখেই বলে উঠলো,“বসুন।”

আভা এবার রাজ্যের বিস্ময় নিয়ে রাইফের দিকে তাকালো। একটু আগে চিন্তার মাথায় আভা খেয়ালই করেনি যে রাইফ তাকে আপনি বলে সম্বোধন করছে। আভা হুট করে বলে উঠলো,রাইফ,তুমি আমাকে আপনি কেন বলছো!”

পড়ুন  বাংলা প্রেমের গল্প – রাগী স্যার যখন ডেভিল হাসবেন্ড পর্ব 17

আভার কথাটায় রাইফ ল্যাপটপ থেকে চোখ উঠিয়ে আভার দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকালো। যেন সে কিছুই বুঝতে পারছে না।

Sad Love Story Bangla

রাইফ: আপনি‌ বোধ হয় ভুলে গেছেন আপনি কার সাথে কথা বলছেন। ঠিক আছে,নতুন জয়েন করেছেন ভুলে যাওয়াটা স্বাভাবিক। আমি মনে করিয়ে দিচ্ছি। আমি খাঁন ইন্ডাস্ট্রির এমডি রাইফ ইয়াসার। আর আপনি আমার পিএ। আপনার জায়গা আমার থেকে কতোটা নীচে সেটা নিশ্চয়ই আপনাকে বুঝিয়ে বলতে হবে না। তফাৎটা তো বুঝতেই পারছেন।(তাচ্ছিল্যের কন্ঠে বলল রাইফ)

আভা: রাইফ,তুমি আমার সাথে এভাবে কথা বলছো কেন?(অবাক হয়ে প্রশ্ন করলো আভা)

রাইফ: আর হ্যাঁ ভুলে যাবেন না আপনি সামান্য একজন পিএ। তাই আমাকে স্যার বলে সম্বোধন করবেন। আশা করি পরবর্তীতে আর এই একই ভুল করবেন না। রাইফ ইয়াসারের পিএ আপনি। কোনোরকম ভুল আমি ক্ষমা করবো না। শুধুমাত্র কাজের প্রতি ফোকাস করবেন। বাড়তি কোনো কথা বলা আমি পছন্দ করি না। কাজ করতে এসেছেন মন দিয়ে কাজ করুন।(আভার কথা সম্পূর্ণ এড়িয়ে গিয়ে বলল রাইফ)

রাইফের প্রত্যেকটা কথা যেন আভার কলিজায় গিয়ে তীরের মতো বিঁধলো। চোখের বাঁধ সামলাতে পারলো না সে। দুফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে পড়লো। সে ভাবতেও পারেনি রাইফ তাকে এই কথাগুলো বলতে পারে। এতোটা অপরিচিত কীভাবে হয়ে গেল ও? সত্যিই কী ও চার বছর আগের সবকিছু ভুলে গেছে? নাকি এ সবটাই ওর অভিমান?
আভার মাথায় বিভিন্ন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। তার রাইফ এতোটা পাল্টে গেছে এ যেন সে মানতেই পারছে না।

দীর্ঘ চার বছর পর দেখা হয়ে নিজের ভালোবাসার মানুষটার থেকে এমন আচরণ সে আশা করেনি। আভার তো নিজেকে সামলানোই মুশকিল হয়ে পড়ছে। রাইফের এমন অপরিচিত মুখের সামনে ও কীভাবে সারাক্ষণ থাকবে? এই মুহূর্তে রাইফ যে তাকে কোনো কথা বলার সুযোগ দেবে না তা আভা স্পষ্ট বুঝতে পারছে ওর আচরণে। তাই এখন চুপ থাকাটাই ভালো বলে মনে করলো আভা।
.......

অনেকক্ষণ যাবত আভা চুপচাপ রাইফের সামনে একটা চেয়ারে বসে আছে। সময়টা চার বছর আগের মতো হলে এখন ওরা হাতে হাত রেখে কতোই না গল্পে মেতে উঠতো। কিন্তু আজ দুজন একসাথে থেকেও যেন কতো দূরে আছে। আভার এখন সত্যিই খুব অস্বস্তি লাগছে। রাইফ সেই যে ল্যাপটপে মুখ গুঁজেছে এখনো পর্যন্ত উঠায়নি। তার সামনে যে একটা জলজ্যান্ত মানুষ বসে আছে তা যেন সে ভুলেই গেছে।

আভা আর চুপ থাকতে না পেরে গলা ঝাড়া দিলো। তাও রাইফ ফিরেও তাকাচ্ছে না। পরপর তিনবার গলা ঝাড়া দেয়ার পর রাইফ মুখ তুলে ভ্রূ কুঁচকে আভার দিকে তাকালো। যেন তার এতোক্ষণ মনেই ছিল না আভার কথা। টেবিলের একপাশে একগাদা ফাইল রাখা ছিল। রাইফ সেগুলো আভার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল,“ফাইলগুলো কমপ্লিট করুন।”

পড়ুন  বেকার ছেলে পর্ব 4 – Bangla Love Story | Bekar Sela Story

আভা চোখ বড়বড় করে একবার ফাইলের দিকে আরেকবার রাইফের দিকে তাকালো। তার কাছে মনে হলো এই ফাইলগুলো আগে থেকেই এনে রাখা হয়েছে তার জন্য। কিন্তু এতো গুলো ফাইল একদিনে কী করে শেষ করবে তা ভেবেই আভার কপালে ঘাম জমতে শুরু করেছে। রাইফের তো সেদিকে কোনো ভ্রূক্ষেপই নেই। সে নিজের কাজে ব্যস্ত।

Emotional Love Story

দুপুর পর্যন্ত আভা মাত্র চারটা ফাইল কমপ্লিট করতে পেরেছে। তারপর দুপুরের ব্রেকের সময় রাইফ বললো আবার সাড়ে তিনটায় ঠিক সময় যেন আভা অফিসে উপস্থিত থাকে। আভা শুধু মাথাটা একটু নাড়িয়ে কেবিন থেকে বেরিয়ে গেল। কেবিন থেকে বেরিয়েই সামিদকে সামনে পেয়ে গেল।
আভা আর সামিদের কথার মাঝে এক কর্মচারী হামিদ সাহেব সেখানে উপস্থিত হলো। ওদের দেখে তিনি হাসিমুখে কথা বলতে লাগলেন।

হামিদ: ব্রেকের সময় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে গল্প করছো কেন? বাসায় যাবেন না?
আভা: হ্যাঁ। আমাদের বাসা তো খুব বেশি দূরে না। ঠিক সময় চলে আসতে পারবো।(মুচকি হেসে বলল)

ঠিক ঐ সময় কেবিন থেকে বেরিয়ে ওদের পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় ওর কানের কাছে প্রতিধ্বনিত হলো আভার একটা কথা,“আমাদের বাসা।” মুহূর্তে রাইফের মুখ রাগে লাল হয়ে গেল। আভা,সামিদ বা হামিদ কেউই রাইফকে খেয়াল করলো না। রাইফ দ্রুতপদে হেঁটে সেখান থেকে চলে গেল।
.....
ঠিক বিকেল সাড়ে তিনটায় আভা আর সামিদ অফিসে এসে উপস্থিত হলো। সামিদ এসেই নিজের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়লো। আর আভার তো ওই কেবিনে আর যেতেই ইচ্ছে করছে না। অনিচ্ছা সত্ত্বেও চুপচাপ কেবিনের সামনে গিয়ে দরজাটা একটু ফাঁক করে দেখলো রাইফ কারো সাথে ফোনে কথা বলছে। আভা ভাবলো রাইফের কথা বলা শেষ হলে তারপর নক করবে।

Bangla Premer Golpo

কয়েক মিনিট দাঁড়িয়ে থাকার পর রাইফের কথা বলা শেষ হলো। রাইফের কথামতো আভা পারমিশন চেয়ে ভেতরে ঢুকলো। আভা চুপচাপ নিজের কাজে মনোযোগ দিলো। এতো গুলো ফাইল যে সে আজকের মধ্যে শেষ করতে পারবে না তা সে ভালোমতোই জানে। তবু যথাসাধ্য চেষ্টা করছে তাড়াতাড়ি করার।
রাইফ তা লক্ষ্য করে বলল,“তাড়াহুড়ো করে কাজ করলে তাতে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।”

রাইফের কথাটা আভার কর্ণগোচড় হতেই সে আবার ধীরে সুস্থে কাজ করতে লাগলো। একটানা দুঘন্টা কাজ করার পর আভার মাথা ধরে গেল। রাইফ আভার মুখোভাব লক্ষ্য করে টেবিলে থাকা কলিংবেল চাপলো। সঙ্গে সঙ্গে হামিদ সাহেব এসে দরজায় নক করে অনুমতি নিয়ে ভেতরে ঢুকলেন। রাইফ তাকে বলল একটা চা আর একটা কফি নিয়ে আসতে।

পড়ুন  বেপরোয়া ভালোবাসা – পর্ব ১২ রোমান্টিক গল্প | মোনা হোসাইন

হামিদ সাহেব মাথা ঝাঁকিয়ে ছুটলেন চা কফি আনতে। রাইফের কথায় আভা ফাইলের থেকে মুখ উঠিয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছে। আভা সবসময় চা খেতে পছন্দ করে। রাইফ তা মনে রেখেছে ভাবতেই আভার চোখে মুখে একরাশ খুশির ঝলক দেখা দিলো। তাহলে রাইফ তাকে ভুলে যায়নি। ভুলে গেলে তার পছন্দের কথাটা মনে রাখতো না। আভার ভাবনার মধ্যে রাইফের সাথে তার দৃষ্টি বিনিময় হয়।‌ সাথে সাথে আভা চোখ নামিয়ে নেয়।

কাজ করতে করতে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নেমে এলো। এর মধ্যে রাইফ কোথায় যেন বেরিয়েছিল। হয়তো কোনো কাজেই বেরিয়েছে। তবে সন্ধ্যা হওয়ার সাথে সাথে আবার অফিসে ফিরে এসেছে। এসেই আবার ল্যাপটপ নিয়ে বসলো। আভা ভাবে একটানা এভাবে ল্যাপটপ নিয়ে কী কাজ করে রাইফ? কিন্তু এসব প্রশ্ন জিজ্ঞেস করার অধিকার নেই তার।

রাইফ তাকে স্পষ্ট করে বলে দিয়েছে সে সামান্য একজন পিএ। আভা একটা দীর্ঘশ্বাস চেপে নিজের কাজে মনোযোগ দিলো। রাইফ খেয়াল করলো আভা বারবার ফোনের দিকে তাকিয়ে সময় দেখছে। সে ভালোভাবেই বুঝতে পারলো আভা বাসায় যাওয়ার জন্য ছটফট করছে।

ওদিকে সামিদের কাজ শেষ হয়েছে আরো একঘন্টা আগে। এরইমধ্যে সামিদ এসে দুবার রাইফকে সম্মানের সহিত জিজ্ঞেস করে গেছে আভার কাজ কখন শেষ হবে। রাইফ বলেছে হাতের কাজটা শেষ হলে তখনই ছুটি। সামিদ আর কী,আভার জন্য অপেক্ষা করতে লাগলো। কিন্তু এখনো কয়েকটা ফাইল বাকি পড়ে আছে। আভা বেচারি না পারছে কিছু বলতে আর না পারছে মন দিয়ে কাজ করতে।

তার মন কেবল বাসায় ফেরার জন্য ছটফট করছে। বেশ কিছু সময় পর রাইফ কিছু একটা ভেবে আভাকে বলল বাকিগুলো আগামীকাল এসে করতে। আভা যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলো। রাইফের প্রতি রাগও হচ্ছে আবার মনে মনে খুশিও লাগছে বাসায় ফিরতে পারবে বলে। আভা আর এক মুহূর্ত দেরি না করে ফাইলগুলো গুছিয়ে জায়গামতো রেখে কিছুটা তাড়াহুড়ো করে কেবিন থেকে বেরিয়ে গেল।

রাইফও ওর পেছন পেছন বেরিয়ে এসে দেখলো আভা সামিদের সাথে অফিস থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে। রাইফ ওদের চলে যাওয়া পথের দিকে আনমনে তাকিয়ে রইল।

Click Here For Next :চলবে

Writer :- Elora Jahan Urmi

Leave a Comment

Home
Stories
Status
Account
Search