মেডামের মেয়ে যখন বউ – রোমান্টিক ভালোবাসার অনুগল্প

Madamer Meye Jokhon Bou

Amrin Talokder { Short Story }


আজ আমার বিয়ে,তাও আবার ম্যামের মেয়েকে বিয়ে করছি,ভাবতেই অবাক লাগছে।কিন্তু কি থেকে যে কি হয়ে গেলো বুঝতেই পারিনি।

তো চলুন ফ্লাস ব্যাক থেকে।

আম্মু: রাজ,এই রাজ,আজ না তোর কলেজ লাইফের প্রথম দিন,কলেজে যাবি না,?
রাজ: হুমম আম্মু যাবো তো।

তারর পর উঠে ফ্রেশ হয়ে খেয়ে কলেজের উদ্দেশ্য বের হয়ে যাই।কলেজে গিয়ে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছি।

সিয়াম: রাজ,তেখ মেয়েটা কত্ত সুন্দর,

সিয়াম হচ্ছে আমার বন্ধু, সাথে আর একটা বন্ধু রয়েছে, আমরা তিন জন বেষ্টফ্রেন্ড।কেও কাওকে ছারা কিচ্ছু বুঝি না,

আমি পিছন দিকে তাকাতেই দেখি একটা মেয়ে,আচ্ছা একটা মেয়ে এত্তটা সুন্দর কি করে হতে পারে।আমি ভাবছি,হঠাৎ মেযেটা আমার সামনে দিয়ে কলেজের ভিতরে চলে যায়।মেয়েটাকে সত্যি প্রথম দেখায় ভালোবেসে ফেলেছি,

রাজ: সিয়াম, বন্ধু আমি তো ক্রাশ খেয়েছি,প্ণিজ মেয়েটাকে রাজি করিয়ে দে।
সিয়াম: কিহহহ,তুই খেয়েছিস ক্রাশ,তাও আবার সত্যি ভাবা যায়?
রাজ: যা, শালা।আমার কি মন নাই?আমার কি ভালো লাগতে পারে না?
সায়েম: হুমম পারে, তবে সিয়াম দেখালো আর এরকম ভাবে ক্রাশ খাবি বুঝি নি।

ওহহ বলাই তো হয়নি,সিয়াম ও সায়েম আর আমি এই তিন জন আমরা বেষ্টফ্রেন্ড।আমরা কথা বলতে ছিলাম,এর মধ্যে মেয়েটি আমার সামনে চলে এসেছে।

রাজ: প্রিয়তমা তোমার নামটি বলে কি যাবে?তোমায় দেখে পরেছি প্রেমে, আমি যে পাগল তোমার ই ওই চোখের মায়ায়।

বলা মাত্রই ঠাসসস করে একটা থাপ্পড় মেরে দিলে আর বলল...

মুনতাহা: আমি হলাম মুনতাহা,তোদের সিনিয়র। হলো এবার,নাকি আরো দুই একটা দিব।

আরে মাইরি,সিনিয়র নাকি জুনিয়র সেটা সময় হলে বুঝা যাবে।কিন্তু কথা হলো হাত গুলো অনেক নরম।
গালে হাত দিয়ে বসে আছি।আর ভাবছি কি করে এর সাথে রিলেশন করা যাবে।

সিয়াম: ভাই,এটার চিন্তা মাথা থেকে বাদ দে।
রাজ: কিন্তু কেন?

সায়েম: এই হচ্ছে না, আমাদের জীব বিজ্ঞান লেকচারার ম্যামের মেয়ে।খুব রাগি,আর অনেক জেদি।একবার রাগ উঠে গেলে কেও থামাতে পারে না।

রাজ: কিহহহ,ম্যামের মেয়ে,ম্যাম তো আগে বলেনি তার একটা মেয়ে আছে।তাহলে ম্যামকে একটা সারপ্রাইজ দিব ওয়েট।

বলেই সিয়াম ও সায়েমকে রেখে চলে গেলাম ম্যামের কাছে।দেখি ম্যাম ক্লাস নিচ্ছেন,আমাকে তার ক্লাসের সামনে দারিয়ে থাকতে দেখে আমার দিকে এগিয়ে আসলো।

ম্যাম: কি রে রাজ,এখানে কি? আর কার কাছে আসচ্ছো,আই মিন কারো জন্য অপেক্ষা করছো নাকি?
রাজ: না ম্যাম,তেমন কিছু না,তবে আপনার কাছেই আসচ্ছিলকম,আমি পাইভেট পরবো আপনার কাছে আপনার বাসায়।
ম্যাম: কিহহহহহ, বললে সত্যি বলছো তুম?

পড়ুন  কলেজের ক্রাশ যখন আমার প্রেমে পর্ব 3 | Emotional Love Story

রাজ: হুমম ম্যাম,তাহলে আগামী মাস থেকে আপনার বাসায় পরতে যাবো, আর ম্যাম আপনি আমাকে একটা কথা বলেন নি কেন

ম্যাম: মানে কি বলি নি??
রাজ: কিচ্ছু না,তাহলে আগামী মাস থেকে আসবো।
ম্যাম: এই রাজ শুন।
রাজ: হুমমম,বলো জামাই বানাবে?
ম্যাম: কিহহহ বললি?
রাজ: কিছু না,তুমি কেন ডাকলে সেটা বলো।
ম্যাম: আজ থেকেই চলে আয়। সমস্যা নাই।

এতো মেঘ না চাইতেই জল,আমি আর কিছু না বলে বারিতে চলে আসলাম,কারণ কিছু না বলার কারণ হলো ম্যামকে যেহেতু একবার বলছি যাবো,তো আজ থেক যেহেতু ডাকছে ম্যাম পরতে যেতে তাই, সে জানে আমি যকবো।তার পর সেখান থেকে বারিতে এস ফ্রেশ হয়ে ম্যামের বারির উদ্দেশ্য রওনা হই।

ম্যামের বারিতে গিয়ে বসে আছি,কিন্তু তার মেয়ের কোন নাম গন্ধ সেই, দেখাই মিললো না আজ প্রথম বার,হাল ছারলে চলবে না,তাই প্রতিদিনই আসতে হবে।আমার পাইভিট যদি থাকে ৩ টা থেকে বিকালে তো আমি ২ টা বেজে ৩০ মিনিটেই চলে যেতাম।ম্যাম আমাকে মাঝে মাঝে তাদের বেড রুমে নিয়ে যেতো, তাও মহা রাণীর খরব নেই।

ওহহ,আপনাদের তো বলাই হয়নি,আমি একজন ভালো স্টুডেন্ট, সেই সাথে ম্যামের অনেক দিনের পরিচয়, ম্যামকে এক বিপদ থেকে কোন এক রাত্রিতে বাঁচিয়ে ছিলকম,সেখান থেকেই ম্যাম নিজের ছেলের মতো আদর করে।এবার তো বুঝলেন,ম্যাম আমাকে কেন এত্ত আদর করে?

আজও ম্যামের বেড রুমে বস আছি,আর ম্যাম অন্য ব্যাচের স্টুডেন্টদের বাহিরে পরাচ্ছে।আর আমি বসে বসে ফোন বের করে গান শুনচ্ছে।আজ ১৫ দিন পর ম্যামের সেই মেয়েটাকে দেখতে পেলাম,দেখতে পেয়েই মনের ভিতর এক অজানা শিহরণ বয়ে গেলো।
মনের ভিতর ধুকবুক করছে,এই না হার্টফেল করে বসি।

মুনতাহা: এই তুই আম্মুর রুমে কি করিস??তুই সেই ছেলে না,যাকে সেদিন থাপ্পড় মেরে ছিলাম।বলেই মুনতাহা রুমের ভিতর চিল্লাচিল্লি শুরু করে দেয়।তাতে ম্যাম পরানো রেখে তার রুমের দিক পা বারায়।

মুনতাহা: এই ছোটলোক,লুইচ্চা, পোলাপান,তুই আমাদের বেড রুমে কি করে ডুকলি?

রাজ: আমি আপনার আম্মুর কাছে পাইভিট পরি।
মুনতাহা: পাইভিট পরিস তো কি হইছে,মাথা কিনে নিছিস নাকি?যে ম্যামের বাসার বেড রুমে ডুকে বিছানায শুয়ে থাকবি?
রাজ: দেখুন ভদ্র ভাবে কথা বলুন,(মনের ভিতর অনেক ভালো লাগা কাজ করছিলো,কিন্তু তার ব্যবহারে মনটা খারাপ হয়ে গেছে।সত্যি এত্তটা অপমান করবে কখনও ভাবিনি,)

রুমে এসে দেখে আমার সাথে মুনতাহা চিল্লাচ্চে।তাই ম্যাম মুনতাহাকে ধমক দিয়ে চুপ করতে বলে।আর তাতে মুনতাহা রেগে গিয়ে তার হাতে থাকা ফোন আছার দেয়।তাতে ম্যাম রেগে গিয়ে মুনতাহাকে থাপ্পড় মেরে দেয়।

পড়ুন  Love Never Ended Part 12 | Come Back Sad Love Story

মুনতাহা: আম্মু তুমি এই ছেলেটার জন্য আমাকে মারতে পারলে?যাকে তুমি একটা ফুলের টোকাও দেওনি,আর কোথাকার একটা ছেলের জন্য, বলেই আমি দৌড়ে চলে যাই আমার রুম,শেষে কিনা বাহিরের ছেলের জন্য আমাকে আম্মুর হাতে থাপ্পড় খেতে হলো।

ম্যাম: রাজ,কিছু মনে করো না,
রাজ: ম্যাম,তাকে বুঝালেও পারতেন।এভাবে আমার জন্য।

ম্যাম: শোন রাজ,আমার মেয়েকে যতটা না ভালোবাসি,তার থেকে তুই আমার মনে রয়েছিস,সেদিন যদি তুই না থাকতি,আজ আমার.....(বলেই কাঁদতে থাকে)

এরকম পরিস্থিতিতে আমি বাহিরে গিয়ে সবাইকে চলে যেতে বলি,কারণ এখন যে সিচুয়েশনে ম্যাম,কোন ভাবে আজকে আর পরাতে পারবে না,।।
তার পর আমি ম্যামকে বুঝিয়ে আমার বাসায় চলে আসি।

ম্যাম: মনুতাহা,মুনতাহা,??

মুনতাহা: কি হইছে?তোমার সন্তান তো রয়েছে,যার জন্য আমাকে মেরেছো,তো তার কাছে যাও,কেন ডাকছো।

ম্যাম: তুই দরজা খুল, তোকে বলছি।

মুনতাহা দরজা খুলার পর ম্যাম মুনতাহাকে একে একে সব কিছু বলে।ম্যামকে রাত্রির অন্ধকারে কিছু লোক কিডনাপ করে আর সাথে থাকা সব জিনিজ নিজের কাছে নিয়ে ম্যামকে ধর্ষনের চেষ্টা করে, কিন্তু আমি সে সময় এক কাজে বাসায় ফিরছিলাম,কারো চিৎকারের শব্দ শুনে সেখানে গিয়ে দেখি এই অবস্থা। পরে তাদের সামনে হিয়ে লাঠি দিয়ে ইচছা রকম মারতে থাকি।তাররপর তাকে বাসায় পৌছে দেই।সে থেকে ম্যাম আমাকে অনেক ভালোবাসে।নিজের জীবনের থেকেও।সে তার সন্তানের মতো ভালোবাসে।তাই তো মুনতাহাকে থাপ্পড় মেরে দেয়।

আমি আম্মুর মুখে এই সব শুনে স্তব্ধ হয়ে যাই।ছেলেটা এত্ত ভালো আমি তাকে পদে পদে ছোট করে যাচ্ছিলাম।নিজের প্রতি কেমন যেন ঘৃণা চলে আসচ্ছে।

মুনতাহা: আচ্ছা মা,তাহলে এরকম ছেলেকে জামাই করে রেখে দিতে তো পারো।

ম্যাম: কিহ বললি?
লজ্জা করে না, সবে মাত্র এসএসসি পরিক্ষা দিবি।আর বিয়ের কথা ভাবিস।

মুনতাহা: এসএসসি দিলে কি হবে,আমার মাঝে তো সেরকম ছোট দেখায় না,যে কেও বলবে ইন্টারে পরি,প্লিজ আম্মু,আমার জীবনে এমন কাওকেই চাই।যে তার সবটা দিয়ে আমাকে ভালোবাসবে।তুমি আম্মু প্লিজ না করো না,আমি রাজকে আমার জীবনে চাই।

ম্যাম আর কোন কথা না বলে চুপ চাপ চলে যায়,মুনতাহা জানে তার আম্মু তার চাওয়াট পূরণ করবেই। তাই সুখি মনে ঘুমিয়ে যায় সকালে উঠে রাজ কলেজে যাচ্ছে।

পড়ুন  ভিলেন – থ্রিলার প্রেমের গল্প পর্ব 32 | Villain Action Story

ম্যাম: রাজ,তোর সাথে কিছু কথা আছে।
রাজ: জ্বি ম্যাম,বলুন।
ম্যাম: বলো আমি যা বলবো তুমি তা রাখবে।

রাজ: আচ্ছা ম্যাম,রাখবো।
ম্যাম: আমার মেয়েকে বিয়ে করকে পারবে??

রাজ: ম্যাম,আমি সেটা কেমনে বলবো,আমার পরিবারের সাথে কথা বলে দেখুন।

তার পর ম্যাম চলে যায়,আর আমি ভাবছি হঠাৎ ম্যামের কি হলো,আর যে মেয়ে আমাকে দেখতে পারে নন,তার সাথ আমাকে বিয়ে কেন দিতে চাচ্ছে বুঝতে পারছি না,তাই আর বুঝে লাভ নাই,গল্পের সাথে থাকুন সব জানতে পারবেন।

বাসায় গিয়ে শুনি আগামী কাল আমার বিয়ে,আমি বুঝলাম না এত্ত তারাতারি ম্যামের আবার কব হলো,আমাকে কি বলির পাঠা মনে করছে ম্যাম??আর কেনই বা ম্যাম তার মেয়েকে আমার ঘাড়ে জুলাচ্ছে।

বাসর ঘরে বসে আছি।এখনও রাজের আসার নামও নেই।রাজরে নামে যখন শুনলাম স আমার আম্মুকে বাঁচিয়েছে সাথে সাথে তার প্রতি এক ভালো লাগা সৃষ্টি হয়,তাইতো তাকে কাছে পেতে খুব তারাতারি বিয়ে করে নিলাম।কিন্তু রাজের বাচ্চা এখনও আসচ্চে না কেন,রাগ উঠছে মনে মনে।

সব অপেক্ষার প্রহর গুনে রাজ রাত্রি ১১ টার দিকে রুমে আসে।আমি হিয়ে তার পা ছুয়ে সালাম করর বলি।চলো দুই রাকাত নফল নামাজ পরে আমাদের দাম্পত্য জীবনের পথ চলা শুরু করি।

তার পর আমি ও রাজ দুজনই নামাজ পরে শেষ করে আমি বিছানার উপর বসে আছি।আর রাজ গিয়ে ড্রেস চেইঞ্জ করে এসে বিছানায় উঠলো.

রাজ: হ্যালো মিস.তা কি মনে করে এই লুইচ্চা,ছোটলোককে বিয়ে করলেন?
মুনতাহা: স্যরি রাজ,আমার ভুল হয়ে গেছে,ক্ষমা করে দাও।

কি আর করবো আমিও তো অনেক ভালোবাসি তাকে তাই তাকে ক্ষমা করে দিয়ে বুকে টেনে নিলাম।
তার পর আপনাদের নাই বা বলি,আমার বাসর ঘরের কথাটা নাই বা শুনলেন,আপনারা বিয়ে করেন তাহলে বুঝতে পারবেন, তার পর কি হয়েছিল,।

ধন্যবাদ এত্তক্ষণ ধরে গল্পটি পরার জন্য।

সমাপ্ত

Writer :- Amrin Talokder

Leave a Comment

Home
Stories
Status
Account
Search