Sad Story Bangla Mr. Fuska wala Part 5 | Bangla Golpo

মি: ফুচকাওয়ালা

Amrin Talokder { Part - 05 }

এক প্রকার আবোল তাবোল যা মন চাচ্ছে তাই ভেবে ভেবে রাতের ঘুম হারাম করে দিছে। তার মনেই নেই যে রাত্রি শেষ হতে চলছে।

রাত্রি যখন শেষ ফজরের আজান দিবে তার আগ মূহুর্তে ঘুমিয়ে গেছ, ঘুম থেকে দুপুর ১২ টায় উঠে তো তাসফি কি করবে ভেবে পাচ্ছে না।

আমিরন বিমান থেকে নেমে এয়ারপোর্টের সকল কাজ সম্পুর্ণ করে বাহিরে আসে। তার জন্য সকলেই অপেক্ষা করছিল। তার পর সবার সাথে কুশল বিনিময় করে গাড়িতে উঠে পরে।

Sad Story Bangla

গাড়ি চলছে তার আপন গতিতে। গাড়িতে বসে চুপ চাপ কি যেন ভাবছে আমরিন।
এরই মাঝে তার মা বলল....

আম্মু: আমরিন আমি তোর জন্য মেয়ে দেখছি। আমার খুব পছন্দ মেয়েকে। তোর সাথে ভালোই মানাবে। আশা করি তুই আমার পছন্দ করা মেয়েকে বিয়ে করতে দ্বিমত পোষণ করবি না, সেটা আমি ভালো করেই জানি।

আমি: আম্মু, দেখো আমি আজ মাত্র বিদেশ থেকে ফিরলাম। আর আজই তোমার মেয়ে দেখার কথা বলতে হবে, আমি কিছুটা দিন আগে রেষ্ট নেই। তার পর ভাববো বিয়ে করবো কি করবো না।

আম্মু : আমি তাদের কথা দিয়ে ফেলছি, তোর সাথে তাদের মেয়ের বিয়ে দিব।আর আমি যেখানে একবার কথা দিয়ে ফেলছি তোকে সেখানে বিয়ে করতেই হবে। আর হ্যাঁ ১০ দিন সময় দিলাম, এই ১০ দিনের ভিতর সব কিছু ঠিক করে ফেল, তোর যেখানে যেতে ইচ্ছে হয় ঘুর এই ১০ দিন কিন্তু ১০ দিন পরই তোর বিয়ের দিন ধার্য করেছি, আর সেদিনি তোর বিয়ে হবে।

আমি: আম্মু, এখন বিয়ে না করলে হয় না কি। আমি তো এখনও বাচ্চাই তাই না, আর মাত্র লেখাপড়া শেষ করেছি। বিয়ে করে বউকে কি খাওয়াবো।
আম্মু: বউ কি খাওয়াবি সেটা আমরা ভাববো, তোকে সেটা ভাবতে হবে না। আর এখন তুই ছোট নেই। অনেক বড় হয়ে গেছিস।

আমি: আম্মু,, আমি এখন বিয়ে করতে চাই না।

আর কিছু বলতে পারলাম না,বারিতে এসে পরেছি। আর এখন কিছু বলতেও পারবো না। যখন এক বার বলেছে বিয়ে করতে হবে তখন বিয়ে করতেই হবে। কি আর করা যাই নিজেকে বিয়ের জন্য প্রস্তুত করি,।

সবার মাঝে হাসি খুশি থাকলেও ভিতরে একটা অজানা ভয় করছে,কেননা বাংলাদেশের মাটিতে পা দেওয়ার পরই সারাট সময় তাসফির কথা মনে পরেছে।কি করছে তাসফি, তাসফি কি আমার জন্য এখনও অপেক্ষা করছে নাকি বিয়ে করে নিছে, নাহ তাসফি কেন আমার জন্য অপেক্ষা করবে তাসফি আর আমার ভালোবাসা তো তখন পূর্নতা পাই নি।তাসফি তো আমাকে ভালোবাসে নি।

তাসফি তার ফোন নিয়ে প্রিয়াকে ফোন দেয়।

প্রিয়া: হ্যাঁ বলেন, আমরা মাত্র বারিতে পৌছেছি। আর সে এখন খুব ক্লান্ত, পরে দিব কেমন।

তাসফি: (কিছু বলতে পারলো না আর প্রিয়া কেন এরকম ভাবে কথা বললো বুঝতে পারলাম না।)
তাসফি মন খারাপ করে দারিয়ে আছে।

হিয়া: কিরে আপু তোর তো বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে আর কিছু দিন পর বিয়ে, তাহলে এত বছর অপেক্ষা করে কি হলো,
তাসফি: কিহহহ, আমার বিয়ে কে ঠিক করলো???

হিয়া: আব্বু ঠিক করেছে। ছেলে বিদেশ থেকে নাকি লেখাপড়া শেষ করেছে। এখন কিছু করে না, তবে টাকা আছে তাদের কিছু একটা করবে।

তাসফিঃ না, আমি এতো বছর অপেক্ষা করে, আজ আমরিন দেশে আসার পর আমি এই বিয়ে করতে পরবো না।
হিয়া: কি করবি তাহলে???

তাসফি : নিশ্চুপ.....

হিয়া: আমি যতদুর জানি প্রিয়া বললো আমরিন ভাইয়ারো নাকি বিয়ে ঠিক করেছে, তার পরিবার। আর আমরিন ভাইয়া তার মায়ের দেখা মেয়েকেই বিয়ে করতে দ্বিমত পোষণ করেনি। আমরিন ভাইয়া যদি তোকে না মনে রাখে তাহলে তুই কেন তার জন্য কাঁদবি?

Bangla Love Story

তাসফি হিয়াকে তার রুম থেকে চলে যেতে বলে।আর হিয়া তাসফির রুম থেকে চলে গেলে, তাসফি বিছানায় শুয়ে বালিশে মুখ গুজে কাঁদে।

যার জন্য ৪ টা বছর অপেক্ষা করেছিলাম, আর সেই অপেক্ষার প্রহর শেষ করে আজ দেশে এসে অন্য মেয়েকে বিয়ে করতে যাচ্ছে। তাহলে কেন আমাকে ভালোবাসার কথা বলতি তখন, বিদেশ গিয়ে আমাকে ভুলে গেছিস। কেন তাহলে আমাকে তোর ভালোবাসায় মায়ায় ফেলে এখন দুরে চলে যাচ্ছিস।

এগুলো বলতে ছিল আর কাঁদতে ছিল, আর এক সময় কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে পরে, যখন ঘুম থেকে উঠে দেখে চার দিক অন্ধকার, কি ব্যপার আমি কোথায়।আর এত অন্ধকার কোথা থেকে আসলো। তার পর তাসফি যখন নিজেকে তার রুমেই আবিস্কার করে তখন তার ঘুমানো আগের ঘটনা মনে পরে যায়। আর সেই ঘটনা মনে পরতেই আবার ডুকরে কেঁদে উঠে।)

আপনাদের একটা কথা বলে দেই, আসলে আমরিনের আম্মু তাসফির সাথেই বিয়ে ঠিক করে।আমরিনের আম্মু জানতো তার ছেলে তাসফিকে অনেক ভালবাসে, তাই তার ছেলের ভালোবাসাকে পূর্ণতা দিতে তার ছেলের ভালোবাসার মানুষটির সাথেই বিয়ে দিয়ে দিচ্ছে।

এখন আপনারা বলতে পারেন আমরিনের আম্মু কিভাবে জানলো। সেসব পরে জানতে পারবেন, আর আমি যে আপনাদের বললাম আমরিন আর তাসফির বিয়ে হবে, সেটা আমরিন আর তাসফিকে কেও বইলেন না কেমন।যদি বলে দেন তো আপনাদের সাথে ব্রেকাপ।

আস্তে আস্তে তাসফি আর আমরিনের বিয়ের দিন এসে পরেছে, আর এই ১০ দিনে আমিরন বুঝতে পারছে তাসফিকে প্রচুর মিচ করছে, কিন্তু আজও এই ১০ দিনে তাসফিকে একবারও আমরিন দেখতে পায় নি।কেন দেখতে পায় নি সেটা আমরিনের অজানা। হয়তো তাসফির বিয়ে হয়ে গেছে তাই হয়তো বা দেখতে পায় নি।

আর অন্য দিকে তাসফি এই ১০ টা রাত্রি ঘুমাতে পারেনি। না ঘুমিয়েই কাটিয়ে দিছে রাত, নির্ঘুমে কাটিছে রাতের বেলা আর চুপিসারে কেঁদেছে। যার জন্য ৪ টা বছর অপেক্ষা করলাম, আর সে দেশে আসার পরই হারিয়ে ফেললাম, আচ্ছা আমরিন কি আমাকে একটা বারও দেখতে আসবে না। নাকি ভুলে গেছে আমাকে। ভুলে গেছে আমার সাথে বলা কথা গুলো। ভুলে গেছে সেই আমি যাকে একটা বার না দেখলে পাগল হয়ে যেত।

এভাবেই প্রতিটা রাত না ঘুমিয়ে তাসফির অবস্থা কিছুটা খারাপের দিকে যাচ্ছে, এই দিকে তাসফির বাবা মার বকুনি খেতে হয়, তাসফির এরকম অবস্থা দেখে তাসফির বাবা মা তাসফিকে খাবারের সাথে ঘুমের ওষুধ মিষে দিয়ে খাবর দেয়।আর তাসফি ৩ দিন ধরে কিছুটা ঘুমায়।তাসফির বাবা মা জানে না কিসের জন্য আজ তাদের মেয়ের এই অবস্থা। তারা ভাবে হয়তো বিয়ে দিযে দিচ্ছি তাই হয়তো এরকম করছে।

তাসফির সাথে যে আমরিনের বিয়ে হচ্ছে তাসফির ছোট বোন সব জানে কিন্তু তাসফিকে সারপ্রাইজ দিবে বলে বলেনি।

আর এদের দুজনের মধ্যে কেও একজন তাদের বিয়ে তার দুই চোে দেখতে পারছে না।

কে হতে পারে সেই তৃতীয় ব্যক্তিটা। সে কি তাদের মাঝে এসে তাদের জিবনটা নরগে পরিণত করবে নাকি, কোন কিছুর ঢেউয়ে সে কিছু সময় পর চলে যাবে, কি তার পরিচয় যে সে তাসফি আর আমরিনের বিয়েটা দেখতে পারছে না। এই রহস্য টা না হয় অন্য এক পর্বে বলবো।

সব শেষে তাসফি আর আমরিনের বিয়ে হয়ে যায়।আর তাসফি এতোটা শুকিয়ে গেছে যে আমরিনের আম্মু....

Bangla Premer Golpo

আম্মু: বিয়াই সাহেব আপনার মেয়ে এটা কোনটা। এটাতো আমার পছন্দ করা আমার পুত্র বধু মনে হচ্ছে না। (আম্মু জানে তাসফি আমার আম্মুকে চিনে না। আর আম্মু খুব ভালো করেই জানে তাসফি কতটা আমাকে ভালোবাসে। কিন্তু তাসফিতো জানে না তাসফির সাথে আমরিনের বিয়ে হচ্ছে।

আর জানলে কি আর এতো কষ্ট করতো নাকি। তাই এরকম পরিস্থিতি যে হবে তাসফির তা ভালো করেই জানে। তাই তো তাসফির আব্বু আম্মুকে একটু গোলক ধাধায় ফেলে দিল, এখন কি বলবে তারা)

তাসফির আব্বু: আসলে বিয়ের কথা শুনার পর থেকে কিছুটা মনমরা হয়ে যায়। ঠিক মত না খাওয়ার কারণে এরকম হইছে।

আম্মু: আমি জানি এরকম হবে, কারণ তারা তো জানে কেও তাদের ভালবাসা আজ পূর্নতা পাবে। আর কিছু মনে করবেন না। ওদের দুজনের সামনে জাস্ট অভিনয় করলাম মাত্র। (আম্মু তাদের কাছে যেয়ে বলল,যা আমরা শুনতে পারিনি ঠিকি।কিন্তু আপনারা শুনেছেন।)

বিয়ের সব কিছু কাজ সম্পূর্ণ করে নিজের বাসর ঘরের যাওয়ার সময় হয়ে এসেছে। কিন্তু কেন যেন বাসর ঘরে যেতে ইচ্ছে করছে না। খুব করে তাসফিকে মনে পরছে। সত্যি কি তাসফি নিজের সংসার নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পরেছে, একবারও কি আমার ভালবাসা বুঝতে পারলো না। আমি কি তার কাছে এতটাই অমুল্য ছিলাম,চোখ দিয়ে দু ফোটা পানি গরিয়ে পরলো।

Click Here For Next :চলবে

Writer :- Amrin Talokder

Leave a Comment