মুখোশ – রহস্যময়, রোমান্টিক প্রেমের গল্প পর্ব ১২ | মোনা হোসাইন

Mukhosh

Mona Hossain { Part 12 } recap


রুহিকে টানতে টানতে রুমে নিয়ে দরজা লক করে দিল রাজ।

রুহিঃ এত অসভ্য কেন আপনি?বেড়াতে এসেছি তাও একটু খেতে দিলেন না।আর আসব না আপনার বাড়িতে।

রাজঃ ও হ্যালো এখানে আপনি আসেন নি আমি নিয়ে আসেছি। আমার আবার যখন ইচ্ছা হবে নিয়ে আসব।এখানে আপনার কোন ভুমিকা নেই।
ফালতু কথা বাদ দিয়ে এখন বলো বাবা মার কাছে কি বলতে চেয়েছিলে? আমি কেমন হুম? (চোখ পাকিয়ে)

রুহিঃ সত্যিটা বল্লে কি আর আমাকে ছাড়বেন?(মনে মনে)

রাজঃ কি বিড়বিড় করছো (ধমক দিয়ে)

রুহিঃ না মানে আপনি কত সুন্দর দেখতে.... আপনাকে আমার খুব ভাল লাগে এটাই বলতে চেয়েছিলাম।

রাজঃ তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে রুহির কাছে এসে বলল তাই বোঝি...?? মা বাবার সাথে তুমি এগুলা বলতে চেয়েছিলে...???

রুহি বোঝল বড়দের সাথে তো এসব বলা যায় না চাপা টা বেশি হয়ে গেছে,

রুহিঃ হি হি হি জ্বি মানে হ্যা.... রাজের গলা জড়িয়ে রুহি আদুরি গলায় বলল আপনি সত্যিই অনেক সুন্দর।

রাজঃ হুম বোঝেছি থাক আর ভয় পেতে হবে না ছেড়ে দিলাম কিছু করব না। কিন্তু মনে রেখো সবাইকে কাবু করার ক্ষেত্রে এসব ফালতু ফরমুলা কাজে নাও লাগতে পাড়ে। আর আমার ক্ষেত্রে তো অবশ্যই না। নিচে কি করতে যাচ্ছিলে ভাল করেই জানি তাও ছেড়ে দিলাম তাই বলে ভেবো না তোমার এই অভিনয়ে গলে গেছি।

রুহিঃ হনুমান কোথাকার....আদর করলাম কই খুশি হবে তা না কি কি বলছে। হুম বয়ে গেছে তোকে আদর করতে মনে মনে।

রাজ আচমকা রুহির গালে চুমু খেয়ে বলল আপনার আদর না করলেও চলবে সেটা করার জন্য আমি আছি।

রুহিঃ কি আজব মনে মনে বলছিলাম তো।

রাজঃ মাথামোটা মেয়ে কি কি ভাবতে পাড়ে মুখ দেখলেই বোঝা যায়।

রুহিঃ দেখুন....

রাজঃ এমা এখন বলা থেকে একদম দেখানো তে চলে গেলেন।কিন্তু আমার পক্ষে বিয়ের আগে কিছু দেখা টা কি ঠিক হবে?

পড়ুন  প্রেম কাহিনী – স্কুল জীবনের প্রেমের গল্প পর্ব 22 |

রুহিঃ অসভ্য লোকের কাছ থেকে এর চেয়ে বেশি কি আশা করা যায়?

রাজঃ অনেক কিছু আশা করা যায় দেখবে নাকি অসভ্যরা কি কি করতে পাড়ে?

রুহিঃ বাসায় যাব....😔

রাজঃ এই তো পথে এসেছো চল চেঞ্জ করে শাড়িটা পড়ে নাও আর যাই হোক আমার টিশার্ট পড়ে তো আর ভার্সিটি যাওয়া যাবে না তাই না?

রুহিঃ এত কেয়ারলেস মানুষ হয় কি করে? আমাকে একেবারে ভিখারি করে দিলেন আমিত একেবারে চলে গিয়েছিলাম সব জামা কাপড় টাকা পয়সা নিয়ে আর আপনি সবকিছু রাস্তায় ফেলে দিলেন এখন আমি কি পড়ব আর চলবই বা কি করে?

রাজঃ ওখানে আমার যে জিনিসটা ছিল আমি সেটাই তুলে এনেছি আপনার জিনিস আমি কুড়াতে যাব কেন?

রুহিঃ আপনার কি ছিল ওখানে?

রাজঃ বারে আমার হবু বউ আমার জিনিস না তো কি আপনার?
ছাড়ো এসব মাকে বলছি তোমাকে শাড়ি পড়িয়ে দিতে আপাদত শাড়ি পড়েই ক্লাসে চলো পড়ে সব কিনে দিব।

রুহিঃ না পড়ব না।

রাজঃ মানে?

রুহিঃ মানেটা তো সহজ সাইকোর কখন যে মন বদলে যাবে কে জানে। ক্লাসে ঢুকে হয়ত বলবেন ক্লাসে কেউ শাড়ি পড়ে আসে? গাইয়া কোথাকার শাড়ি খোল।ওইদিনের ওড়নার মত শাড়ি রেখে বলবেন শাড়ি ছাড়া রুমে যা।

কথাগুলি শুনে রাজের মাথা খারাপ হয়ে গেল।সামনে থাকা ফ্লাউলার ভাস টা স্বজোরে আচাড় মেরে ধমক দিয়ে বলল রুহি.....যা বলেছো, বলেছো আর একটা শব্দ উচ্চারন করলে এখানেই পুতে ফেলব।

রুহি ভয় পেয়ে গেল রুহির গলা শুকিয়ে গেছে কারন রাজের চেহারা মুহূর্তেই বদলে গেছে চোখ গুলি লাল হয়ে গেছে।কপালের মাঝখানের রগ ফুলে গেছে ওকে দেখে আহত বাঘের মত লাগছে।

রাজের চিৎকার আর ভাংগার শব্দে তার মা বাবা রাজ কে ডাকতে ডাকতে উপড়ে আসল।

রাজ কি করছো তুমি দরজা খোলো বাবা। শান্ত হও রাগারাগি কর না। নিজেকে কন্ট্রল করো।কি হয়েছে আগে বোঝ মাথা গরম করে কিছু করোনা দরজা খোলো বাবা এত রাগ ভাল না।
দরজার ওপাশ থেকে রাজের বাবা মা দরজায় জোরে জোরে নক করতে করতে বলছে কথা গুলি।

রাজ দরজা খোলে মাথা নিচু করে বলল অস্থির হইও না কিছু হয় নি। ওকে শাড়িটা পড়িয়ে দাও মা আমি নিচে অপেক্ষা করছি।বলে হন হন করে চলে গেল রাজ।রাজের বাবা রাজের পিছন পিছন যেতে যেতে বলল উফ এত রাগ কেন তোমার।

পড়ুন  রাগী স্যার যখন ডেভিল হাসবেন্ড পর্ব 20 – বাংলা প্রেম কাহিনী

ঘরের এককোণে গুটশুটি হয়ে দাঁড়িয়ে রুহি দেখছে আর ভাবছে এত আদর করে ছেলেকে? একটা মেয়েকে বাসায় এনে রাতে রাখল এখন দরজা লক করে মেয়ের সাথে কথা বলছে তাও কিছু বলছে না কেমন বাবা মা এরা?

রাজের মা ঘরে এসে বলল রাজ আমাদের একমাত্র ছেলে,ছোট থেকেই অনেক আদর করে বড় করেছি মা।তাই একটু জেদি হয়েছে গেছে কিন্তু ও সবার সাথে এমন করে না শুধু তোমার বেলায় করে,তোমার ব্যাপারে একটু বেশিই কনসাল্ট। রাজ তো তুমি ছাড়া অন্য কোনো মেয়ের দিকে ফিরেও তাকায় না।ওর মন জুড়ে শুধু একটা মেয়েই আছে সেটা তুমি রুহি।

ও তোমাকে ছাড়া বাঁচবে না ও সব মানতে রাজি কিন্তু তোমার ব্যাপারে কিছু শুনতে রাজি না।তাই আমরাও ওকে এই ব্যাপারে বাধা দেই না কারন ও সেটা মানবে না তুমাকে ও বিয়ে করেই ছাড়বে পৃথিবীর সবাই বাঁধা দিলেও ও সেটা মানবে না।এমনকি তুমি না চাইলেও করবে।
তাই আমি বলি কি মা, তোমার জন্য এটাই ভাল হবে আগে যা হয়েছে ভুলে ওকে মেনে নেওয়ার চেস্টা করো ।ওর চেয়ে বেশি ভাল তোমায় কেউ বাসতে পাড়বে না ।আমি চাই না তুমি বিপদে পড়ো রাজ তোমার ব্যাপারে এক চুল ও ছাড় দিবে না।তাই তুমি যতই ওর বীপরিতে চলবে ও তোমার সাথে ততই খারাপ ব্যবহার করবে।ওর মায়া দয়া বলতে কিছু নাই যখন রেগে যায় সব ভুলে যায়। আমার যতদুর মনে হয় তুমিও ওকে ভালবাসো তাই নিজের কষ্ট নিজে আর বাড়ায়িও না মা।
লক্ষি মেয়ে এত ভয় পাওয়ার কিছু হয় নি ও তোমার কোন ক্ষতি হতে হবে না তোমাকে শুধু নিজের করে রাখবে এইটুকুই।
অনেক কথা বল্লাম এবার এসো তো শাড়ি পড়িয়ে দেই।
রাজের মা রুহির কপালে চুমু খেয়ে বলল মুখটা একদম চুপসে গেছে বেচারি।কিচ্ছু হয়নি সব ঠিক হয়ে যাবে।

পড়ুন  ভিলেন – রোমান্টিক লাভস্টোরি পর্ব 2 | Villain Bangla Story

রুহিঃ আমি তো কিছুই করি নি উনিই প্রেম করেছেন উনিই ব্রেকাপ করেছেন এত এত অপমানের পরেও আমি কিছু বলতে পাড়ব না? এটা কেমন নিয়ম (মনে মনে) কিন্তু বল্লেই বা কি হবে উনাকে কেও শাস্তি দিবে না উল্টে আমারেই কষ্ট বাড়বে তার চেয়ে চুপচাপ থাকায় ভাল।
কি যে বিপদে পড়লাম.....

আল্লাহ তুমি একটা সুন্দরি মেয়ে পাঠাও যাকে দেখে সাইকো আমাকে ভুলে যাবে.....

আজ থেকে মেয়ে খোঁজব তারপর রাজের সাথে নিজেই প্রেম করিয়ে দিব। এটাই ভাল হবে।বড়লোকের ছেলে আর দেখতেও সুন্দর যেকোনো মেয়েই রাজি হয়ে যাবে এখন শুধু একটা সুন্দরী মেয়ে পাওয়ার অপেক্ষা.....
,
,
(রুহির বুদ্ধি কতটা কাজে লাগবে বলে মনে হয় আপনাদের? আসলেই কি কাজে লাগবে নাকি উল্টে নিজেই আরো বিপদে পড়বে?)

পরবর্তী পর্বের জন্য ক্লিক করুন :>> চলবে

Writer :- মোনা হোসাইন

Leave a Comment

Home
Stories
Status
Account
Search