মুখোশ – রহস্যময়, রোমান্টিক প্রেমের গল্প পর্ব ১৪ | মোনা হোসাইন

Mukhosh

Mona Hossain { Part 14 } recap


ক্লাসে স্যার এসে বল্লেন প্রেক্টিকেল এসাইমেন্ট করার জন্য সবাইকে একটি দর্শনীয় স্থানে যেতে হবে এবং নিজের মত করে এসাইমেন্ট জমা দিতে হবে। তারা চাইলে নিজেরা একা একা যেতে পাড়ে আবার গ্রুপ করেও যেতে পাড়ে তবে সাথে কোন টিচার যাবে না।
সবাই বেশ খুশি কারন এক চান্সে পিকনিক হয়ে যাবে তাই সবাই বলল আমরা গ্রুপ করে যাব।

স্যারঃতা বেশ,কিন্তু কারোর তো দায়িত্ব নিতে হবে তাই না যেহেতু সাথে টিচার যাবে না।

সবাই বলে উঠল স্যার ক্যাপ্টেন হিসেবে আমরা রাজ কে চাই। আমরা সবাই ওর কাছে টাকা জমা দিয়ে দিব।

স্যারঃ গুড নেত্রিত্ব দেওয়ার ব্যাপারে রাজ একদম পারফেক্ট।রাজ রাজি থাকলে আমার কোন আপত্তি নেই।কিন্তু ক্লাস ফাঁকা করে তো চলে যাওয়া যাবে না।তাই প্রথম ১৫ জন যাবে তারপর শিফট করে বাকি রা যাবে।তো কোন ১৫ জন যাবে তোমরাই ঠিক করে নাও ৫ দিনের ট্রিপ।কালকেই বেরিয়ে পড়ো।
বলে স্যার চলে গেলেন,সবাই তো মহা খুশি।

রাজ মুচকি হেসে রুহির কানে ফিস ফিস করে বলল আমার হানিমুন টাও হয়ে যাবে।

রুহিঃ অসভ্য....

এই ১৫ জনের মধ্যে রুহি,রাজ,স্নেহা,মিনি সবাই আছে।
রুহি প্রথমে খুশি হলেও পরক্ষনে মন খারাপ হয়ে গেল কারন রুহির হাতে কোন টাকা নেই সব গতকাল হারিয়ে এসেছে।আর বাড়িতে যে অবস্থা সে কিছুতেই টাকা চাইতে পাড়বে না তাই রুহি বলল রাজ আমি এবার যাচ্ছি না আমি পরের ট্রিপে যাব।
রাজ ব্যাপারট বোঝতে পেড়ে বলল তোমাকে কেউ জিজ্ঞাস করছে তুমি যাবে কি যাবে না।
তোমার ব্যাপারে আমি যেটা বলব সেটাই হবে বোঝেছো?আর তুমি কাল যাচ্ছ আর এটাই ফাইনাল।
রাজ বলল সো গাইজ সন্ধ্যায় সব প্লেন হবে সকালে আমরা যাচ্ছি।এখন আমি একটু কাজে যাচ্ছি বলে রুহিকে নিয়ে রাজ সোজা শপিংমলে গেল আর রুহিকে বেশ অনেকগুলি ড্রেস কিনে দিল।
রুহি নিতে চায়নি তাও জোর করে দিয়েছে।

রাজ এর কথা আমি যখন হারিয়েছি সব দায়িত্ব আমার তাই কিনে দিলাম বলে এক গাদা ড্রেস দিয়ে দিল রুকিকে।তারপর রুহিকে খায়িয়ে যখন হোস্টেল এ নিয়ে এল তখন সন্ধ্যা হয়ে গেছে।
তাই রাজ সবার সাথে বসে সব প্লেন করে নিল।তারপর রুহিকে বলল বেবি ৫ দিনের জন্য যাচ্ছি তাই কিছুটা গোছগাছ করতে হবে তাছাড়া বাবা মা আমাকে গার্ডস ছাড়া ছাড়তে চাইবে না তাই তাদের বোঝাতে এখন আমার এখন যেতে হবে সকালে রেডি থেকো কেমন, বলে রুহির কপালে চুমু খেল তারপর রাজ চলে গেল।
রুহিও বেশ খুশি।
কিন্তু রাতেই আবার সব উল্টো পাল্টা হয়ে গেল।

তখন রাত ১২ টা.....
মিনি ক্লাবে গিয়েছে হঠাৎ মিনি বড়সড় একটা ধাক্কা খেল যখন দেখল রুহি শর্টস পড়ে ছেলেদের সাথে ডেন্স করছে আর ড্রিংক্স করছে।

মিনিঃএটা কি করে সম্ভব যে মেয়ে ভয়ে কথাই বলতে পাড়ে না সে ক্লাবের মধ্যমনি? মাথায় তো কিছুই ঢুকছে না।রাজ কি জানে এসব?তারমানে কি রাজ রুহির সাথে নয়, রাজের সাথে রুহি গেম খেলছে?হতে পাড়ে কারন রাজ কে অনেকেই কাবু করতে চায় সোজা পথে পাড়ে নি তাই বাঁকা পথে করতে চাচ্ছে।হতে পাড়ে এটা কোন রাজনীতিক চাল যার গুঁটি রুহি।
কিন্তু আমি রাজের ক্ষতি হতে দিতে পাড়ি না ওকে এখুনি সব বলে দিব।মিনি রাজকে ফোন দিল।

রাজঃ কিরে মিনি সকালে বের হতে হবে জানিস না এক্ষুনো ঘুমাস নি কেন?

মিনিঃ রাখ তোর ঘুম তুই তাড়াতাড়ি ক্লাবে আয়।

রাজঃ কেন কি হয়েছে কোন বিপদে পড়েছিস নাকি?

মিনিঃ হুম তবে বিপদটা আমার নয় তোর।

রাজঃ মানে?

মিনিঃ তোর কলিজার টুকরা রুহি এখানে ছেলেদের হাত ধরে নাচছে।

রাজঃ তুই ঠিক দেখেছিস?

মিনিঃ এখুনো দেখেই চলেছি।

রাজ ফোন টা কেটেই ক্লাবের উদ্দেশ্যে রওনা হলো।
কিন্তু রুহি মিনি কে দেখেই সেখান থেকে চলে গেল।
কিছুক্ষন পর রাজ এসে মিনিকে বলল কোথায় রুহি?
মিনি বলল এতক্ষন তো এখানেই ছিল।কিন্তু আমাকে দেখেই চলে গেল।

রাজঃ বাজে কথা বলিস না তো মিনি কাকে দেখতে কাকে দেখেছিস।
রুহিকে ফাঁসিয়ে তোর কি লাভ?

পড়ুন  শেষ ঠিকানা তুমি – থ্রিলার প্রেমের গল্প পর্ব 5 | Love Story

মিনিঃ ছি রাজ তুই আমাকে এত নিচ ভাবলি কি করে ঠিক আছে চল রিসিপশনের ছেলেটাকে রুহির পিক দেখিয়ে জিজ্ঞাস কর।

রাজ মনে মনে ভাবল রুহির যে আরো একটা রুপ আছে সেটা আমি আর স্নেহা ছাড়া কেউ জানে না তাই মিনি কিভাবে এত মিথ্যা বানিয়ে বলবে?
আচ্ছা রিসিপশনেই জিজ্ঞাস করি।
রুহির ছবি দেখিয়ে জিজ্ঞাস করতেই ছেলেটা বলল এটাতো রুহি ম্যাম উনাকে কে না চিনে একটু আগেই তো এখানে ছিল।she is so hot.ক্লাবের সব ছেলেই তার উপড় ক্রাসড।

কথাটা শুনেই রাজের পায়ের রক্ত মাথায় উঠে গেল।
রাজঃ আবারো সেই একি খেলায় মেতে উঠেছো রুহি? কিন্তু এবার আর আমি তোমায় জিততে দিব না বলেই রাজ হোস্টেলে গেল।

গেইট বন্ধ ছিল।দেয়াল টপকে বেশ কাঠখর পুড়িয়ে পাইপ বেঁয়ে জানলা দিয়ে রুহির রুমে ঢুকল রাজ কিন্তু সেখানে রুহি নেই।
রাজের মেজাজ ক্রমেই খারাপ হচ্ছে। রাজ বের হয়ে যাবে ঠিক তখনি রুহি চুল মুছতে মুছতে ওয়াশরুম থেকে বের হল।সে এইমাত্র শাওয়ার নিয়েছে।ভিজা চুলে রুহিকে দেখতে অপিরুপ লাগলেও রাজ আপাদত সেই মুডে নেই।

রুহিকে শাওয়ার নিতে দেখে রাজের আর বোঝার বাকা রইল না যে রুহি এতক্ষন কি কি করছিল।
এদিকে রুহি রাজ কে এখন এখানে দেখার জন্য প্রস্তুত ছিল না।তাই রুহি অবাক হয়ে বলল,

রুহিঃআ আ আপনি এত রাতে এখানে কি করে আসলেন....
রাজ রুহির প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে সোজা গিয়ে রুহিকে ঠাস করে থাপ্পড় বসিয়ে দিল।তারপর চুলের মুটি ধরে বলল এত রাতে শাওয়ার নিয়েছিস কেন?
রুহিঃএত রাতে পারমিশন ছাড়া একটা মেয়ের ঘরে ঢুকে তাকে থাপ্পড় মারাটা যতটা অপরাধ রাতে শাওয়ার নেওয়াটা নিশ্চুই ততটা অপরাধ না।

রাজঃ রুহি চুপ একদম চুপ আমি তোমার এই কথা গুলি নিতে পাড়ব না।তাই এমন কিছু বলো না যাতে আমি তোমার গাঁয়ে হাত তুলতে বাধ্য হই।

রুহিঃ তুলার বাকি রেখেছেন বোঝি?

রাজ রুহির চুল আরো জোরে টেনে বলল তোকে কে পাঠিয়েছি জানি না তবে এবার আমার কাছে আসাটা তোর জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল ছিল এক খেলায় ২ বার তুই জিততে পাড়িস না।বলে রুহিকে বিছানায় ছুড়ে ফেলে দিয়ে চলে গেল।

রুহিঃ রাতে শাওয়ার নিছি বলে তুমি যে আমায় খারাপ ইংগিত করলে সেটা বোঝি কিছু না সব দোষ শুধু রুহির বাকি সবাই ভাল তাই না? বলেই রুহি কাঁদতে লাগল।

রাজ বাসায় ফিরে ড্রিংকস করতে শুরু করেছে একের পর এক গ্লাস খেয়েই যাচ্ছে রাজের মা গিয়ে বলল এসব কি করছো রাজ?
রাজ তার মাকে জড়িয়ে ধরে বলল,
মা আমি কি অন্যায় করেছি রুহি কেন বার বার আমায় কষ্ট দেয়?ও যদি টাকার জন্য প্রেম করে থাকে আমাকে বল্লেই ত আমার সব ওকে দিয়ে দেই তবু ও আমায় ভালবাসুক।আমার টাকা পয়সা বাড়ি গাড়ি কিচ্ছু চাই না আমায় শুধু রুহিকে এনে দাও মা।তুমি ওকে বলে দিও মা ওকে অন্যছেলের পাশে দেখলে আমার খুব কষ্ট হয় বাচ্চাদের মত কান্না করতে করতে কথাগুলি বলছে রাজ।

রাজের মায়ের চোখেও জল।এই মেয়েটা চায় কি?রাজের সাথে ওর কিসের শত্রুতা এত ভালবাসে ছেলেটা ওকে। আর ও কি সেসব কিছই বোঝেনা?

রাজের বাবা পাশ থেকে বলল আমার মনে হচ্ছে এটা মেয়েটার কাজ না। রাজ এই এলাকার উঠতি স্টার তাই মেয়েটাকে দিয়ে কেউ এসব করাচ্ছে কারন তারা জেনে গেছে রাজের উইক পয়েন্ট একমাত্র ওই মেয়াটা।রাজ যাতে ভেংগে পড়ে সে জন্যই এসব করাচ্ছে।তা নাহলে বারবার এমন করার কথা না কিন্তু কে আছে এর পিছনে নাকি মেয়েটা নিজেই কোনকিছুর প্রতিশোধ নিচ্ছে? কার কি উদ্দেশ্য আমাদের জানতে হবে।অনেক কষ্টে রাজকে সাভাবিক করেছি।আমি আর ওকে সেই অন্ধকারে ঠেলে দিতে পারব না।
,
,
,
চলবে....!!!#মুখোশ
#পার্টঃ১৪
#মনা_হোসাইন

ক্লাসে স্যার এসে বল্লেন প্রেক্টিকেল এসাইমেন্ট করার জন্য সবাইকে একটি দর্শনীয় স্থানে যেতে হবে এবং নিজের মত করে এসাইমেন্ট জমা দিতে হবে। তারা চাইলে নিজেরা একা একা যেতে পাড়ে আবার গ্রুপ করেও যেতে পাড়ে তবে সাথে কোন টিচার যাবে না।
সবাই বেশ খুশি কারন এক চান্সে পিকনিক হয়ে যাবে তাই সবাই বলল আমরা গ্রুপ করে যাব।

পড়ুন  Romantic Bangla Valobashar Golpo Tomar Amar Prem Part 3

স্যারঃতা বেশ,কিন্তু কারোর তো দায়িত্ব নিতে হবে তাই না যেহেতু সাথে টিচার যাবে না।

সবাই বলে উঠল স্যার ক্যাপ্টেন হিসেবে আমরা রাজ কে চাই। আমরা সবাই ওর কাছে টাকা জমা দিয়ে দিব।

স্যারঃ গুড নেত্রিত্ব দেওয়ার ব্যাপারে রাজ একদম পারফেক্ট।রাজ রাজি থাকলে আমার কোন আপত্তি নেই।কিন্তু ক্লাস ফাঁকা করে তো চলে যাওয়া যাবে না।তাই প্রথম ১৫ জন যাবে তারপর শিফট করে বাকি রা যাবে।তো কোন ১৫ জন যাবে তোমরাই ঠিক করে নাও ৫ দিনের ট্রিপ।কালকেই বেরিয়ে পড়ো।
বলে স্যার চলে গেলেন,সবাই তো মহা খুশি।

রাজ মুচকি হেসে রুহির কানে ফিস ফিস করে বলল আমার হানিমুন টাও হয়ে যাবে।

রুহিঃ অসভ্য....

এই ১৫ জনের মধ্যে রুহি,রাজ,স্নেহা,মিনি সবাই আছে।
রুহি প্রথমে খুশি হলেও পরক্ষনে মন খারাপ হয়ে গেল কারন রুহির হাতে কোন টাকা নেই সব গতকাল হারিয়ে এসেছে।আর বাড়িতে যে অবস্থা সে কিছুতেই টাকা চাইতে পাড়বে না তাই রুহি বলল রাজ আমি এবার যাচ্ছি না আমি পরের ট্রিপে যাব।
রাজ ব্যাপারট বোঝতে পেড়ে বলল তোমাকে কেউ জিজ্ঞাস করছে তুমি যাবে কি যাবে না।
তোমার ব্যাপারে আমি যেটা বলব সেটাই হবে বোঝেছো?আর তুমি কাল যাচ্ছ আর এটাই ফাইনাল।
রাজ বলল সো গাইজ সন্ধ্যায় সব প্লেন হবে সকালে আমরা যাচ্ছি।এখন আমি একটু কাজে যাচ্ছি বলে রুহিকে নিয়ে রাজ সোজা শপিংমলে গেল আর রুহিকে বেশ অনেকগুলি ড্রেস কিনে দিল।
রুহি নিতে চায়নি তাও জোর করে দিয়েছে।

রাজ এর কথা আমি যখন হারিয়েছি সব দায়িত্ব আমার তাই কিনে দিলাম বলে এক গাদা ড্রেস দিয়ে দিল রুকিকে।তারপর রুহিকে খায়িয়ে যখন হোস্টেল এ নিয়ে এল তখন সন্ধ্যা হয়ে গেছে।
তাই রাজ সবার সাথে বসে সব প্লেন করে নিল।তারপর রুহিকে বলল বেবি ৫ দিনের জন্য যাচ্ছি তাই কিছুটা গোছগাছ করতে হবে তাছাড়া বাবা মা আমাকে গার্ডস ছাড়া ছাড়তে চাইবে না তাই তাদের বোঝাতে এখন আমার এখন যেতে হবে সকালে রেডি থেকো কেমন, বলে রুহির কপালে চুমু খেল তারপর রাজ চলে গেল।
রুহিও বেশ খুশি।
কিন্তু রাতেই আবার সব উল্টো পাল্টা হয়ে গেল।

তখন রাত ১২ টা.....
মিনি ক্লাবে গিয়েছে হঠাৎ মিনি বড়সড় একটা ধাক্কা খেল যখন দেখল রুহি শর্টস পড়ে ছেলেদের সাথে ডেন্স করছে আর ড্রিংক্স করছে।

মিনিঃএটা কি করে সম্ভব যে মেয়ে ভয়ে কথাই বলতে পাড়ে না সে ক্লাবের মধ্যমনি? মাথায় তো কিছুই ঢুকছে না।রাজ কি জানে এসব?তারমানে কি রাজ রুহির সাথে নয়, রাজের সাথে রুহি গেম খেলছে?হতে পাড়ে কারন রাজ কে অনেকেই কাবু করতে চায় সোজা পথে পাড়ে নি তাই বাঁকা পথে করতে চাচ্ছে।হতে পাড়ে এটা কোন রাজনীতিক চাল যার গুঁটি রুহি।
কিন্তু আমি রাজের ক্ষতি হতে দিতে পাড়ি না ওকে এখুনি সব বলে দিব।মিনি রাজকে ফোন দিল।

রাজঃ কিরে মিনি সকালে বের হতে হবে জানিস না এক্ষুনো ঘুমাস নি কেন?

মিনিঃ রাখ তোর ঘুম তুই তাড়াতাড়ি ক্লাবে আয়।

রাজঃ কেন কি হয়েছে কোন বিপদে পড়েছিস নাকি?

মিনিঃ হুম তবে বিপদটা আমার নয় তোর।

রাজঃ মানে?

মিনিঃ তোর কলিজার টুকরা রুহি এখানে ছেলেদের হাত ধরে নাচছে।

রাজঃ তুই ঠিক দেখেছিস?

মিনিঃ এখুনো দেখেই চলেছি।

রাজ ফোন টা কেটেই ক্লাবের উদ্দেশ্যে রওনা হলো।
কিন্তু রুহি মিনি কে দেখেই সেখান থেকে চলে গেল।
কিছুক্ষন পর রাজ এসে মিনিকে বলল কোথায় রুহি?
মিনি বলল এতক্ষন তো এখানেই ছিল।কিন্তু আমাকে দেখেই চলে গেল।

রাজঃ বাজে কথা বলিস না তো মিনি কাকে দেখতে কাকে দেখেছিস।
রুহিকে ফাঁসিয়ে তোর কি লাভ?

মিনিঃ ছি রাজ তুই আমাকে এত নিচ ভাবলি কি করে ঠিক আছে চল রিসিপশনের ছেলেটাকে রুহির পিক দেখিয়ে জিজ্ঞাস কর।

রাজ মনে মনে ভাবল রুহির যে আরো একটা রুপ আছে সেটা আমি আর স্নেহা ছাড়া কেউ জানে না তাই মিনি কিভাবে এত মিথ্যা বানিয়ে বলবে?
আচ্ছা রিসিপশনেই জিজ্ঞাস করি।
রুহির ছবি দেখিয়ে জিজ্ঞাস করতেই ছেলেটা বলল এটাতো রুহি ম্যাম উনাকে কে না চিনে একটু আগেই তো এখানে ছিল।she is so hot.ক্লাবের সব ছেলেই তার উপড় ক্রাসড।

পড়ুন  মেঘলা আকাশের প্রেমজুড়ি – বাংলা রোমাঞ্চকর লাভস্টোরি পর্ব 3

কথাটা শুনেই রাজের পায়ের রক্ত মাথায় উঠে গেল।
রাজঃ আবারো সেই একি খেলায় মেতে উঠেছো রুহি? কিন্তু এবার আর আমি তোমায় জিততে দিব না বলেই রাজ হোস্টেলে গেল।

গেইট বন্ধ ছিল।দেয়াল টপকে বেশ কাঠখর পুড়িয়ে পাইপ বেঁয়ে জানলা দিয়ে রুহির রুমে ঢুকল রাজ কিন্তু সেখানে রুহি নেই।
রাজের মেজাজ ক্রমেই খারাপ হচ্ছে। রাজ বের হয়ে যাবে ঠিক তখনি রুহি চুল মুছতে মুছতে ওয়াশরুম থেকে বের হল।সে এইমাত্র শাওয়ার নিয়েছে।ভিজা চুলে রুহিকে দেখতে অপিরুপ লাগলেও রাজ আপাদত সেই মুডে নেই।

রুহিকে শাওয়ার নিতে দেখে রাজের আর বোঝার বাকা রইল না যে রুহি এতক্ষন কি কি করছিল।
এদিকে রুহি রাজ কে এখন এখানে দেখার জন্য প্রস্তুত ছিল না।তাই রুহি অবাক হয়ে বলল,

রুহিঃআ আ আপনি এত রাতে এখানে কি করে আসলেন....
রাজ রুহির প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে সোজা গিয়ে রুহিকে ঠাস করে থাপ্পড় বসিয়ে দিল।তারপর চুলের মুটি ধরে বলল এত রাতে শাওয়ার নিয়েছিস কেন?
রুহিঃএত রাতে পারমিশন ছাড়া একটা মেয়ের ঘরে ঢুকে তাকে থাপ্পড় মারাটা যতটা অপরাধ রাতে শাওয়ার নেওয়াটা নিশ্চুই ততটা অপরাধ না।

রাজঃ রুহি চুপ একদম চুপ আমি তোমার এই কথা গুলি নিতে পাড়ব না।তাই এমন কিছু বলো না যাতে আমি তোমার গাঁয়ে হাত তুলতে বাধ্য হই।

রুহিঃ তুলার বাকি রেখেছেন বোঝি?

রাজ রুহির চুল আরো জোরে টেনে বলল তোকে কে পাঠিয়েছি জানি না তবে এবার আমার কাছে আসাটা তোর জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল ছিল এক খেলায় ২ বার তুই জিততে পাড়িস না।বলে রুহিকে বিছানায় ছুড়ে ফেলে দিয়ে চলে গেল।

রুহিঃ রাতে শাওয়ার নিছি বলে তুমি যে আমায় খারাপ ইংগিত করলে সেটা বোঝি কিছু না সব দোষ শুধু রুহির বাকি সবাই ভাল তাই না? বলেই রুহি কাঁদতে লাগল।

রাজ বাসায় ফিরে ড্রিংকস করতে শুরু করেছে একের পর এক গ্লাস খেয়েই যাচ্ছে রাজের মা গিয়ে বলল এসব কি করছো রাজ?
রাজ তার মাকে জড়িয়ে ধরে বলল,
মা আমি কি অন্যায় করেছি রুহি কেন বার বার আমায় কষ্ট দেয়?ও যদি টাকার জন্য প্রেম করে থাকে আমাকে বল্লেই ত আমার সব ওকে দিয়ে দেই তবু ও আমায় ভালবাসুক।আমার টাকা পয়সা বাড়ি গাড়ি কিচ্ছু চাই না আমায় শুধু রুহিকে এনে দাও মা।তুমি ওকে বলে দিও মা ওকে অন্যছেলের পাশে দেখলে আমার খুব কষ্ট হয় বাচ্চাদের মত কান্না করতে করতে কথাগুলি বলছে রাজ।

রাজের মায়ের চোখেও জল।এই মেয়েটা চায় কি?রাজের সাথে ওর কিসের শত্রুতা এত ভালবাসে ছেলেটা ওকে। আর ও কি সেসব কিছই বোঝেনা?

রাজের বাবা পাশ থেকে বলল আমার মনে হচ্ছে এটা মেয়েটার কাজ না। রাজ এই এলাকার উঠতি স্টার তাই মেয়েটাকে দিয়ে কেউ এসব করাচ্ছে কারন তারা জেনে গেছে রাজের উইক পয়েন্ট একমাত্র ওই মেয়াটা।রাজ যাতে ভেংগে পড়ে সে জন্যই এসব করাচ্ছে।তা নাহলে বারবার এমন করার কথা না কিন্তু কে আছে এর পিছনে নাকি মেয়েটা নিজেই কোনকিছুর প্রতিশোধ নিচ্ছে? কার কি উদ্দেশ্য আমাদের জানতে হবে।অনেক কষ্টে রাজকে সাভাবিক করেছি।আমি আর ওকে সেই অন্ধকারে ঠেলে দিতে পারব না।

পরবর্তী পর্বের জন্য ক্লিক করুন :>> চলবে

Writer :- মোনা হোসাইন

Leave a Comment

Home
Stories
Status
Account
Search