মুখোশ সিজন ২ – রহস্যময় প্রেমের গল্প পর্ব ১২ | মোনা হোসাইন

মুখোশ সিজন ২

Mona Hossain { Part 12 }


রাজঃ আমি যদি কোন অন্যায় করে থাকি আমাকে ক্ষমা করে দিও রুহি।কালকের দিনটা আমার জীবনের শ্রেষ্ট দিন ছিল।আর আজকে তোমার চুড়ির শব্দে ঘুম ভাংগাটা আমার সকল স্বপ্ন পুরন করে দিয়েছে।
রাজ বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়াল গাড়ির চাবিটা হাতে নিল।

রুহিঃ কোথায় যাচ্ছ চা টা খাবে না?

রাজঃ না..... খেতে ইচ্ছা করছে না কাজ আছে রুহি আমার যেতে হবে।

রুহিঃ কোথায় যাচ্ছো?

রাজ পিছন ফিড়ে তাকিয়ে রুহি কে একবার দেখলো কিন্তু কিছু না বলে একটু হেসে বাইরে চলে গেল।
ব্যাপারটা রুহির অদ্ভুদ লাগলেও সে ভাবতে পারেনি এমন কিছু হতে চলেছে......!!!
,
,
,
,
,
রাজ চলে যাওয়ার পর রুহি রোজ কে ঘুম থেকে তুলে খায়িয়ে দিল।
রুহি যখন ঘর থেকে বাইরে যাবে তখনি তার চোখ পড়ল রাজের বালিশের কাছে একটা কাগজ এর উপড়,
রুহি সেটা হাতে নিয়ে খুলে পড়তে শুরু করল বেশ সুন্দর করে গুছিয়ে লিখা একটা লাভ লেটার। যা রাজ রুহিকে উদ্দেশ্য করে লিখেছে।
,
,
,
,
কি ভাবছো রুহি....??
জানি উল্টা পাল্টা কিছু ভাবছো....!!
তুমি যে পরিমান মাথা মোটা হয়ত আমার কথাগুলির আগামাথা কিছুই বোঝবে না তবুও বোঝিয়ে বলার চেস্টা করছি।
আর আমি কবি নই তাই ছন্দ মিলিয়ে বলতে পাড়লাম না,সে যাই হোক ঘুরিয়ে পেচিয়ে যেভাবেই বলি না কেন কথাটার মানে একটাই ....
হুম এবার যা ভাবছো সেটা ঠিক।
আমি তোমাকে ভালবাসি খুব ভালবাসি।
দিয়ার সাথে হয়ত আমার রিলেশান ছিল কিন্তু ভালবাসা কি সেটা তোমার কাছ থেকেই শিখেছি রুহি।দিয়ার প্রতি যেটা ছিল সেটা জেদ,দিয়াকে যদি ভালবাসতাম তাহলে হয়ত নিজের হাতে এত সহজে অন্য কারোর কাছে তাকে তুলে দিতে পাড়তাম না।
যেমনটা এখন টা পাড়ছি না তোমার বাচ্চা আছে জেনেও নীলয়কে মেনে নিতে পাড়ছি না।প্রথম দিন থেকেই দিয়ার করা অপরাধের শাস্তি তুমি পাচ্ছ সেদিনও তাই হয়েছিল হোটেলে দিয়া ছিল আমি ভেবেছিলাম তুমি ছিলে তাই তোমার সাথে এমন খারাপ ব্যবহার করেছিলাম।
আচ্ছা তুমি যদি জানতে পাড়তে তোমি যাকে ভালবাসো সে অন্যজনের সাথে হোটেলে আছে তুমি তার সাথে কেমন ব্যবহার করতে রুহি?
যাই হোক ধরে নিলাম ভুল আমরেই ছিল তাই,আবারও জন্য ক্ষমা চাচ্ছি পাড়লে ক্ষমা করে দিও আমাকে।
আমি তোমাকে অনেক ভালবাসি রুহি আমি জানি তুমিও আমাকে ভালবাসো কিন্ত তার সাথে আমি এটাও জানি কোন দুধের বাচ্চার কাছ থেকে তার মাকে কেড়ে নেওয়া যায় না আর সেটা যদি রোজের মত লক্ষি একটা মেয়ের হয় তবে তো আরও সম্ভব না।আমি নীলয়ের কাছেই বা কোন মুখে বলব তোমার বাচ্চার মাকে আমায় দিয়ে দাও।এটা কি সম্ভব?জানি সম্ভব না নিয়তি তোমাকে আমার কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছে।
তাই চলে গেলাম তোমাদের সবার জীবন থেকে সারাজীবনের জন্যই চলে গেলাম।
আর একটা কথা,
আজ থেকে রোজের যতদিন না ১৮ বছর হচ্ছে ততদিন আমার কোম্পানি রুহি অর্গানাইজেশনের মালিক তুমি।
রোজকে বলে দিও তার বাপা নিজের স্বপ্ন টা তাকে উপহার দিয়ে গেছে। আমার কম্পানিটা আমার স্বপ্ন ছিল যা আমি রোজের নামে লিখে দিয়েছি।

রুহি চিঠিটা শেষ করার আগেই রাজের বাড়ির লেনলাইনে ফোন আসল রুহি তাড়াতাড়ি গিয়ে ফোন তুলল।
অপর পাশ থেকেঃ এটা কি রাজ চৌধুরীর বাসা...???

রুহিঃ জ্বি হ্যা কিন্তু কেন?

অপর পাশঃ রাজের কার এক্সিডেন্ট হয়েছে হাসপাতালে আছে তাড়াতাড়ি চলে আসুন আপনারা।

রুহি ফোন টা ফেলে দিয়ে দৌড়ে বেরিয়ে পড়ল হাসপাতালের উদ্দেশ্যে। সে রাজের জন্য এতই ব্যস্ত হয়ে পড়ল যে রোজকে নিতেও ভুলে গেল।

রুহি হাসপাতালে গিয়ে দেখল সেখানে রাজের বাবা মা আর স্নেহাও আছে।

রাজের বাবা মা রুহি কে দেখে চমকে উঠল।
তুমি বেঁচে আছো....??? এত দিন কোথায় ছিল?

রুহিঃরাজ কোথায় ওর কি হয়েছে?

স্নেহা উঠে দাঁড়িয়ে বলল ন্যাকামি বন্ধ করো রুহি।

রাজের মাঃ কি বলছিস স্নেহা।

স্নেহাঃ আমি ঠিকি বলছি আন্টি রাজের আজকের এই অবস্থার জন্য রুহিই দায়ি।রাজের এক্সিডেন্ট হয় নি ও নিজেই এক্সিডেন্ট করছে।আর সেটা রুহির জন্যই।

স্নেহা এসে রুহির সামনে দাঁড়িয়ে বলল,
কি করে পারলে রুহি...বেঁচে থেকেও মরার অভিনয় করতে? মরেই যখন গেছিলে ফিড়ে এসেছিলে কেন,আর ফিড়ে যখন আসলে রাজকে এত কষ্ট দিলে কেন?

আমি সেই প্রথম থেকেই রাজের ভালবাসার সাক্ষি যে রাজ তোমাকে এত ভালবাসত তুমি তাকে একবার নয় বারবার কি করে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিলে রুহি?তোমার মরার খবর শুনে তো রাজ এমনেতেই মরে গেছিল তাকে নতুন করে মারার জন্য কেন আবার আসলে ওর জীবন যেখানে তোমি নিজের সংসার নিয়ে ব্যস্ত?
তুমি কি যানো তুমার মরার খবর পেয়ে রাজ একবার নিজেই নিজেকে শুট করতে চেয়েছিল গার্ডস তাকে বাচিয়ে ফেলে, কিন্তু সেদিনেই বাসায় ফিড়ে রাজ আবার মাঝরাতে বাসার ছাদ থেকে লাফ দিয়েছিল,
সেদিন রাজ বেঁচে গেলেও ২ টা বছর রাজ ডিপ্রেশন এ ছিল।
এই ২ বছরে রাজ বাসা থেকে বের হওয়া তো দূর কারো সাথে একটা কথা পর্যন্ত বলে নি ।রাজের অবস্থার অবনতি হতে থাকলে ওকে এখানে পাটিয়ে দেওয়া হয়েছিল আর রাজ যখন একটু সাভাবিক হচ্ছে ঠিক তখনি তুমি এসে আবার সব উলট পালট করে দিলে।এখন ন্যাকা কান্না করতে এসেছো? চলে যাও রুহি। প্লিজ চলে যাও

রুহি ফেলফেল করে স্নেহার দিকে তাকিয়ে আছে....

তখন নীলয় রোজকে নিয়ে হাসপাতালে আসল।নীলয়কে বাড়িতে আসতে রাজেই বলেছিল। নিলয় বাসায় গিয়ে দেখে রোজ একা তখন কাজের লোকের কাছে সব শুনে নীলয় হাসপাতালে এসেছে।

স্নেহাঃ কি হল দাঁড়িয়ে আছো কেন যাও বিদায় হও প্লিজ.... আরে অই দেখো তোমার স্বামি সন্তান ও চলে এসেছে। ওদের নিয়ে বাসায় যাও আর সুখের সংসার করো রাজ বাঁচল নাকি মরল তাতে তোমার কি যায় আসে?

এবার রুহি চিৎকার করে বলে উঠল আমার যায় আসে স্নেহা, হ্যা আমারি সবচেয়ে বেশি যায় আসে।
আর কে কার বাচ্চা? রোজ আমার বাচ্চা নয় আর নাত নীলয় আমার স্বামি। আমি সারাজীবন ধরে একজনকেই ভালবেসেছি আর সেটা শুধুই রাজ আর কেউ কখনো আমার জীবনে ছিল না। কাঁদতে কাঁদতে কথা গুলি বলছে রুহি।
সেদিন কোথায় ছিলে তুমি আর কোথায় বা ছিল রাজ যেদিন আমি পাহাড় থেকে লাফ দিয়েছিলাম....তোমরা কেউ ছিলে না স্নেহা। আমাকে বাঁচাতে কেউ আসোনি তোমরা।
মিহিরিমা এসেছিল।

স্নেহাঃ কি বলছো এসব?

রুহিঃ হ্যা ঠিকি বলছি,আমিও ছিলাম ৩ মাস কোমায়।সেদিন তোমরা কেউ খোজ নাও নি আমার। কেউ ছিলেনা আমার পাশে সেদিন মিহিরিমা আমায় বাচিয়েছিল,প্রায় ৬ মাস পর যখন সুস্থ হলাম বাবা মার কাছে ও সরি পালিত বাবা মার কাছে ফিরে গেছিলাম কিন্তু সেখানে গিয়ে শুনতে পাই আমি নাকি মরে গেছি। পুলিশ নাকি কোন লাশ দিয়ে এসেছে বাড়িতে।যার ট্রেন এক্সিডেন্ট হয়েছিল মুখ টা চেনা যায় নি কিন্তু আমার গলার চেন টা নাকি তার গলায় ছিল। এই চেনটা এতটাই আনলাকি ছিল যে আমার জীবনটা শেষ করার পর আমি ফেলে দিয়েছিলাম।সেটা আবারও অন্য কারোর জীবন কেড়ে নিল।

বাবা মা এমনেতেই আমার জন্য নিজেদের সব কিছু বাধা রেখেছিল তাই তারা যখন আমার মরে যাওয়াটা মেনে নিয়েছিল তাদের উপড় আর বোঝা বাড়াতে চাইনি তাই ফিরে এসেছিলাম মিহিরিমার কাছে। ওকে সব খোলে বলার পর মিহিরিমা আমার সব কিছু এফিটেপিট করে আমাকে রুহি থেকে পিউ বানিয়ে দিল। আমাকে লন্ডনে নিয়ে গেল পড়াশুনার সুযোগ দিল।সব ভালই চলছিল কিন্তু আমার কপালের সুযোগ বেশিদিন স্থায়ি হয় না জানই তো এবারো এই সুখ পুড়া কপালে সহ্য হল না। রোজ এর জন্মের সময় মিহিরিমা মারা গেল।মারা যাওয়ার আগে রোজ এর দায়িত্ব আমায় দিয়ে গেল সাথে নীলয়ের দায়িত্বও কারন নীলয় মিহিরিমার স্বামি।

যে আমায় বাঁচিয়েছিল তার বাচ্চার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে চলে আসতে আমি পারিনি স্নেহা।

আর নীলয় তো রোজকেই মিহিরিমার মৃত্যুর জন্য দায়ি করে বসল।যার কারনে কোনদিন মেয়েটার দিকে তাকিয়েও দেখে নি ভালবাসা তো দুরের কথা।
এবার তুমিই বলো কোথায় রেখে আসতাম আমি এই অসহায় মেয়েটা কে? আর আমি তো জানতাম রাজ দিয়াকে ভালবাসে তাহলে কার কাছে ফিরব?
রোজকে নিয়েই বাকি টা জীবন কাটিয়ে দিব ভেবেছিলাম কিন্তু এখানে এসে যখন রাজকে দেখলাম।নিজেকে আর আটকাতে পাড়লাম না আবারো পিউ হয়ে ফিরে এলাম রাজের কাছে? যদি ভাল নাই বাসতাম,কেন এসেছিলাম বলতে পাড়ো? আমার তো টাকার অভাব ছিল না।

স্নেহাঃতুমি রাজকে সব খোলে বল্লে না কেন?

রুহিঃ কেন বলব....?? রাজ কি আমায় বিশ্বাস করে না? ও কি করে ভাবতে পাড়ল আমি রাজকে ছেড়ে অন্য কাউকে বিয়ে করেছি?আমি তো দেখতে চেয়েছিলাম আমার বিয়ে হয়েছে জেনেও ও আমায় ভালবাসে কিনা?ও এমন করবে আমি কি জানতাম?

রুহি আর স্নেহা কথা বলছিল তখন নার্স বেরিয়ে আসল।

নার্সঃ আপনারা ভিতরে যেতে পাড়েন....

সবাই মিলে ভিতরে গেল।নিলয় ও রোজ কে নিয়ে ভিতরে গেল।
রুহীঃ ডাক্তার রাজ সুস্থ্য হয়ে যাবে তো.....
,
,
,
,
ডাক্তারঃ we are sorry.... he is no more.....

কথাগুলি শুনামাত্র রুহির মাথা ভারি হয়ে গেল কেউ যেন তার মাথায় জোরে আঘাত করেছে চিৎকার দেওয়ার ক্ষমতা সে হারিয়ে ফেলেছে..... ক্রমোশো তার চোখ ঝাপসা হয়ে আসছে রুহি অজানায় তলিয়ে যাচ্ছে রুহি বোঝতে পারছে সে জ্ঞান হারাচ্ছে.....
রাজের মা বাবা কাঁদছে,স্নেহার চোখেও পানি।
,
,
,
রোজ নিলয়ের কোল থেকে নেমে বলল,
পাপার কি হয়েছে? পাপা এভাবে শুয়ে আছে কেন?
রোজ রাজের কাছে গিয়ে রাজের হাত ধরে টানতে টানতে বলল,

পাপা..... উঠো পাপা.....চল বাসায় যাই।

নির্বাক দৃষ্টিতে সবাই রোজের দিকে তাকিয়ে আছে।


( গল্পে হাসি কান্না সুখ দুঃখ সবি থাকে কেউ সিরিয়াসলি নিবেন না প্লিজ)

পড়ুন  খুনশুটি প্রেমের গল্প – রাগী স্যার যখন ডেভিল হাসবেন্ড পর্ব 19
পরবর্তী পর্বের জন্য ক্লিক করুন :>> চলবে

Writer :- মোনা হোসাইন

Leave a Comment

Home
Stories
Status
Account
Search