অফিসের পিএ যখন বউ – অনুগল্প | Bangla Short Story Romantic

Office Er P.A Jokhon Bou

Amrin Talokder { Short Story }


আজকে ঘুম থেক পএকটু তারাতারি উঠেছি, কারণ আজকে আমার অফিসের প্রথম দিন,আমি স্বভাবত ১০ আগে ঘুম থেকে উঠি না,তবে আজকে ৭ টায় ঘুম থেকে উঠে রেডি হয়ে নাস্তা করে বস আছি কিছু সময় পর অফিসের সময় হয়ে যায়,তাই আমিও বাসা থেকে বের হই অফিসের উদ্দেশ্য,

তো চলুন অফিসে যেতে যেতে আমি আমার পরিচয়টা দিয়ে নেই।আমি মেঘাতুল জান্নাত মেঘা,সবাই আমাকে মেঘা বলেই ডাকে।অনার্স শেষ করে অনেক ঘুরাঘুরির পর একটা জব পেয়েছি তারই আজকের প্রথম দিন,সেটা তো আপনাদের বললামই। তো যাই হোক আপনাদের সাথে পরিচয় দিতে দিতে আমি অফিসে এসে পরেছি।

অফিসে ডুকা মাত্রই কারো সাথে ধাক্কা লেগে পরে যাই।প্রথম প্রথম অফিসে এসে এরকম অপমান হতে হবে মেজাজটা বিগড়ে যায়।ফ্লোর থেকে উঠে.....

মেঘা: এই কানার বাচ্চা অফিস কি তোর বাপের,এমন ভাবে কোথায় যাচ্ছিস?

আমার কথা শুনে অফিসের সবাই দারিয়ে যায়, যার যার কেবিন থেকে।আমাদের দিকে ইয়া বড় বড় করে সবাই তাতিয়ে রইছে।মনে হচ্ছে আমি কোন ভুল করে ফেলেছি।আর ছেলেটা আমার দিকে তাকিয়ে রাগে কটমট করতে করতে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।

মেঘা: ওই তুই চিনিস আমাকে?কার দিকে এইভাবে তাকিয়ে আছিস হুমমম?আমি এই অফিসের পিএ মনে রাখিস,

বলেই সেখান থেকে চলে আমি পিয়ন চাচার কাছ থেকে আমার কেবিনটা ও বসের কেবিনটা চিনে নেই।পিয়ন চাচা আরো কিছু বলতে চেয়েছিল,কিন্তু আমি ততক্ষণে সেখান থেকে চলে যাই।নিজের কেবিনে বসে আছি হঠাৎ বসের ফোন আসায় বসের রুমের দিকে পা বারাই।

মেঘা: মে আই কামিং স্যার......
বলেই স্তব্ধ হয়ে দারিয়ে যাই,মুখের ভাষা হারিয়ে গেছে,আমি জমে বরফ হয়ে যাচ্ছি কি বলবো ভেবে পাচ্ছি না,আমি এটা কি করছি ভেবেই সেখানে পরে যেতে নেই।

তাহলে শুনুন কি করেছিলাম,আমার সাথে অফিসে ডুকার সময় যেই ছেলেটির সতে ধাক্কা লাগে সেই বসের চেয়ারে বসে আছেন।তাকে দেখেই ভয়ে গলা শুকিয়ে যায়,তার পর তো জ্ঞান হারিয়ে ফেলি,নিচে পরে যাই।
যখন জ্ঞান ফিরে দেখতে পাই আমি চার দেওয়ালের ভিতর শুয়ে আছি।দেখে মনে হচ্ছে কোন জন্তু জানোয়ার থাকে।ভেবেই কান্না করে দেই।আমার কান্না শব্দ শুনে কেও একজন রুমে আসে।আর তাকে দেখে আমি আবার রিতীমত ভয় পেতে থাকি।

রাফসান: এই মেয়ে আমাকে ভয় পাও কেন? আর ভয় পেলে তখন অফিসে এরকম কথা বলতে পারলে কি করে?

মেঘা: উমমম,আমমমমি কককি জানননতাম যে আপপপনি আমমার বসসস।

রাফসান: এই মেয়ে ঠিক ভাবে কথা বলো, তুতলিয়ে কথা বলছো কেন?

মেঘা: জ্বি আচ্ছা।আমাকে একটু পানি খাওয়াবেন?

রাফসান: আচ্ছা আনছি।
বলেই আমি মেয়েটির জন্য পানি আনতে চলে যাই।তো চলুন এবার আমার ছোট্ট করে পরিচয় দিয়ে দেই।আমি রাফসান চৌধুরী, আর এত্তক্ষণে হয়তো বুঝে গেছেন আমার অফিসের আমার পিএ কাজকর্ম।যাই হোক পানি নিয়ে এনে মেয়েটির সামনে হাত বরিযে দেই।মেয়েটি আমার থেকে পানির বতল পেয়েই ডক ডক করে পানি খেয়ে নেয়।তাকে দেখে মনে হচ্ছে তাকে এই জন্মে খাবার দেওয়া হয়নি।
আচ্ছা মেয়েটির নাম এখনোো জানাই হয়নি তাই আমি আপনাদেরকে নামটা বলতে পারছি না,দারান জিজ্ঞেস করি নেই।

রাফসান: আচ্ছা তোমার নামটা তো জানা হলো না?

মেঘা: জ্বি আমি মেঘা,মেঘাতুল জান্নাত মেঘা।আর আপনি?

রাফসান: আমি তোমার বস,আর আমার নামটাই জানো না,তোমাকে চাকরি কে দিয়েছেন?

মেঘা: একটা বুড়ো টাকওয়ালা কাকু দিয়েছে(হিহিহিহিহিহি)

রাফসান: মেঘঘঘঘা, ফাজলামো হচ্ছে আমার সাথে।উনি কে জানো তুমি?না জেনে তাকে তুমি আমার সামনে কি বললে???
(বলেই এক হাতে মেঘার থুতনিটা জাগিয়ে ধরি,মেঘা আমার এই রূপ হয়তো কখনও কল্পনাও করেনি)

মেয়েটি দেখতে বেশ বোকা সোকা।আর একদম মায়াবী পরীর মতো।যাকে একবার৷ দেখলে মন ভরে যাবে,সারাটা জীবন কারই দেখিতে চাবে।তার মাঝে জানি না কি আছে।আমি যে তার রূপের পাগল হয়ে গেলাম এখনই।

মেঘা: স্যাররররর,প্লিজ ছারুন বেথা লাগছে তো।

রাফসান: ওহহহ হ্যাঁ, আচ্ছা শুনো স্যরি আসলে মাথা ঠিক ছিল না,আর তুমি কি একা যেতে পারবে নাকি বাসায় দিয়ে আসবো?

মেঘা: জ্বি পারবো আমি।তবে এখন কি রাত্রি হয়ে গেছে?

রাফসান: জ্বি, তোমার সেন্সলেস হয়ে পরার পর তুমি অনেক সময় ঘুমাও,তাই রাত্রি এখন ৮ টা বেঝে ২৫ মিনিট।

মেঘা: আচ্ছা যদি কিছু না মনে করেন তো একটু ডপ করে দিবেন?

রাফসান: তোমার মাঝে হারিয়েছি আমি।পাগল যে আমি তোমারই মায়ায়।তোমায় আমি না ডপ করে দিলে।দিবেই বা কে তোমাকে ডপ?আমি যে তোমাকে ভালো যে বেসেছি,তোমাকে প্রথম দেখায়।তোমার হরীনির মতো ওই দুচোখে জানি না কি আছে।আমি যে তারই পরেছি মায়াতে।(মনে মনে বলছি আর এক ধ্যানে তাকিয়ে রইছি মেঘার দিকে)

পড়ুন  ভিলেন পর্ব 85 - প্রেমের গল্প | Romantic Premer Golpo

মেঘা: এই যে স্যার???কই হারালেন,আর কি দেখছেন ওমন করে আমার দিকে?

রাফসান: ওহহহ স্যরি আসলে কি যেন হয়ে গিয়েছিল,তুমি কিছু মনে করো না,চলো যাই।

তার পর আমি ও মেঘা গাড়ি বসি।রাত্রি বেলা যদি থাকে প্রথম দেখায় ভালোবাসার মানুষটি,তাহলে নিজ ইচ্ছে করো তার সাথে থাকতে কিছু সময়, তাই আর ড্রাইভার না নিয়ে আমি ড্রাইভিং সিটে বসে ড্রাইভ করি।আর মেঘা আমার পাশের সিটে বসে আছে।মেঘাকে মাঝে মাঝে আড় চোখে দেখছি।হঠাৎ মেঘার সাথে চোখা চোখি হয়ে যায়।লজ্জায় আমি চোখ ফিরিয়ে নেই।আর পারছি না মেঘার দিকে তাকাতে।হয়তো আমাকে অন্য রকম কিছু ভাবছে তাই আর মেঘার দিকে না তাতিয়ে সোজা চলি মেঘার বলা বাসার ঠিকানায়।বাসার ঠিকানা বললাম না,বললে পাগলিটার বাসায় এসে পরতে পারেন।হাহাহাহা

মেঘা: ধন্যবাদ, (বলেই মুচকি একটা হাসি দিয়ে চলে আসি, কিছু দুরে এসে পিছন ফিরে তাকাতেি দেখি রাফসান আই মিন স্যার আমার পথ চেয়ে এক ধ্যানে তাকিয়ে আছে।)

আমি মেঘার পিছন দিকে ঘুর দেখেই গাড়ি স্টার্ট দিয়ে এসে পরি।হায় হায় আজকে আমার কি যে হচ্ছে কি আছে এই মেযের মাঝে।যাকে আমি প্রথম দেখায় ভেসেছি ভালো।যার প্রতি সকালেও ছিল এক রাশ রাগ,আর অভিমান,আর বিকালেই তার প্রতি সব রাগ অভিমান ভেঙ্গে ভালোবাসাতে পরিণত হলো।আচ্ছা মেঘার তো বিয়ে হয়নি।বা কোন বয়ফ্রেন্ড নেই।এই সব ভাবতে ভাবতে চলে আসি বাসায়।বাসায় এসে রুমে শুইতেই মেঘার মায়াবী চাহণী,আর তার মুচকি হাসিটা বেশ চোখে লেগে আসচ্ছে।চোখ বন্ধ করলেই মেঘার মুখটি ভেসে উঠছে।

তাহলে কি আমি সত্যি মেঘাকে ভালোবাসি?নাকি শুধু।মাত্রই মেঘার প্রতি আমার মোহ।আর যদি মোহ হয়।তো এত্ত দিন অন্য কোন মেয়ের প্রতি হয়নি কেন?মনের ভিতর নানান প্রশ্ন ঘুর পাক খাচ্ছে।কিন্তু কোনটারই উত্তর আমার কাছে জানা নেই।কখন যে ঘুমিয়ে গেছি জানা নেই।ঘুম ভায্গে ফোনের আওয়াজে।

রাফসান: জ্বি আসসালামু আলাইকুম, আমি রাফসান বলছি.কে আপনি?

ওপার পাশে:.............................

রাফসান: কিহহহহ,ওয়েট আমি আসচ্ছি।
তার পর চলে যাই,মেঘাকে নাকি কয়েকটা ছেলে উত্যক্ত করছিলো,সেখান যেতে দই ছেলে গুলোকে চলে যেততে বললে ছেলে গুলো তর্ক শুরু করে দেয়।তাই তাদের সাথে এক পর্যায়ে মারামারি বেঁধে যায়,তাদের সব কয়টাকে ইচ্ছে মারতে ধাকি।কিন্তু পিছন থেকে কেও একজন মাথায় বাড়ি দেওয়াতে আমি মাটিতে লৃটিয়ে পরি।পিছন দিকে তাতিয়ে দেখি তাদের লোকজন,আমাকে মেরে দৌড়ে পালাচ্ছে।আমি মাটিতে পরে যাচ্ছি মেঘা আমাকে ধরে ফেলে।আর কান্না করতে থাকে।তার পর কিছু লোকের সাহায্য মেঘা আমাকে হসপিটালে নিয়ে যায়।

দুই দিন পর জ্ঞান ফিরলে দুচোখ মিলে সবাইকে দেখতে পেলেও মেঘাকে দেখতে পারি না,আচ্ছা তাহলে কি মেঘা আসে নি আজকে.

মনের ভিতর অনেক প্রশ্ন ঘুর পাক খাচ্ছে কিন্তু কোনটার হিসাব মিলাতে পারছি না,কিন্তু না,মেঘা সবার শেষে দারিয়ে আছে চুপচাপ।মুখটা ভারি হয়ে আছে।মনে হচ্ছে কান্না করছে,তার দুচোখ লাল বর্ণ দারণ করে আছে।আমি মেঘাকে ডাক দিয়ে আর সবাইকে বের হয়ে যেতে বলি।

মেঘা: জ্বি স্যার কিছু বলবেন?

রাফসান: যেদিন তোমায় দেখেছি আমি,ভালো যে বেসেছি তখনই আমি।জানি না কি রইছে তোমারই মাঝে।আমি যে পাগল তোমারই রূপে।তুমি কি আমাকে নিবে আপন করে?আমি যে ভালোবাসি তোমাকে😍

,তোমার শূণ্যতা করে এই মনে খাখাকার,তোমারই দিয়ে পূর্ণা আনিবো আমি,তুমি দিবে আমাকে পরিপূর্ণতা?

মেঘা: ককককি বলললছেন স্যার,আমি আপনার অফিসের মাত্র পিএ আর আপনি আমার বস,এটা হয় না।

রাফসান: মেঘা,এই মেঘা,তাকাও আমার দিকে?আমার চোখের দিকে তাকিয়ে বলো তুমি আমাকে ভালো বাসো না।

মেঘা: আমি পারবো না,প্লিজজজজ.

কি করবো, তাকেও তো আমি ভালোবেসে ফেলেছি, সেই প্রথম ধাক্কা খেয়ে না দেখে অনেক গুলো কথা শুনিয়ে দেই।কিন্তু যখন তারে দেখি তখন মনের ভিতর এক অজান শিহরণ বয়ে যায়।কিন্তু নিজের ভুলের জন্য কিছু বলতেও পারি না,আর যখন দেখতে পাই সে আমার বস,তখন তো ভয় ও ভালো লাগা সব এক সাথে কাজ করতে শুরু করে দেয়।তাই তো তখন জ্ঞান হারিয়ে ফেলি।তার পর তো আপনারা জানেনই।কিন্তু ভয় হয় রাফসান আমাকে তো বুঝতে চেষ্টা করছে না,বা আমার সাথে অভিনয় করবে না তো।

রাফসান: কেন আমার চোখের দিকে তাকাবে না.একবার তাতিয়ে দেখো আমার চোখে তোমার জন্য ভালোবাসা?তোমাকে কাছে পাওয়ার তিব্রতা,একবার চেয়েই দেখে আমার এই দু চোখ তোমারই মায়া বরা মুখটাই খুঁজে যায়।

মেঘা: নিশ্চুপ
আমি কি বলবো আমি যে পারছি না,তার চোখের দিকে তাকাতে।তার দুচোখের ভাষা আমি যে হারিয়ে যাই, তার মাঝে চাই যে হারাতে, আমি তাই তো পারবো না তার চোখের দিকে তাকাতে।তাই সেখান থেকে চলে আসতে নেই কিন্তু রাফসান পিছন দিক থেকে আমার হাতটি ধরে নেয়।

রাফসান: মেঘা,তুমি সত্যি কি ভালোবাসো না আমায়?এইবারই শেষ বারের মতো বলে যাও

পড়ুন  ভিলেন - থ্রিলার প্রেমের গল্প পর্ব 38 | Romantic Love Story

জানি না,বলেই জরিয়ে ধরে কিস করতে থাকি, আর বলতে থাকি.মেঘা:আমিও যে ভালোবাসি তোমাকে।তোমারই দুচোখে পাগলি করে নেয় আমাকে।তোমারই দুচোখের মায়ায় হারিয়ে যাই যে আমি।আমি যে পাগলি তোমারই ভালোবাসায়।কিন্তু ভয় যে হয় তোমাকে নিয়ে,জীবনের প্রতিটা মুহুর্তে তুমি কি রইবে আমারই পাশে?

রাফসান: হুমম পাগলিটা, অনেক অনেক ভালোবামি তোমায়।আমার জীবনের প্রতিটা মুহুর্তে তুমি রইয়ে আছো৷ আর তুমি রইয়ে যাবে যত দিন বাঁচবে এই দেহে প্রাণ,

তাররপর মেঘাকে জরিয়ে ধরি,আস্তে আস্তে মেঘার পাগলামো গুলো ক্রমেই বেরে চলছে।কেও বলবে বুঝতেই পারবে না আমারা বয়ফ্রেন্ড গালফ্রেন্ড।আমাদের দুজনকে এক সাথে দেখে সবাই বলে নাকি আমরা হাজবেন্ড ওয়াইফ,যাই হোক আস্তে আস্তে মেঘার পাগলামো গুলোকে অনক ভালোবেসে ফেলেছি। আর মেঘাও আমাকে প্রচুর ভালোবাসে

মেঘা: রাফসান, কই তুমি?

রাফসান: মিস. মেঘা বসের কেবিনে কিভাবে আসতে হয় জানেন না বুঝি?

মেঘা: কে বস?আর কার বস?আমি তো দেখছি না কোথায় বস?
রাফসান: মিসসস মেঘা(রেগে বলি,কিন্তু পাগলিটার কোন পরিবর্তন নেই।আমাকে কোন সম্মানই দেয় না,আপনারাই বলেন তো কেমন লাগে)

মেঘা: মি. রাফসাননন,কার উপর রাগ ঝারছেন?কে আপনি শুনি?

রাফসান: আমি কে তাই না,?
বলেই চেয়ার ছেরে উঠে মেঘার দিকে এগুতে থাকি।আর মেঘা আমার এগুনো দেখে হাসতে থাকে।আমি মাঝে মাঝে ডিপ্রেশনে চলে যাই,এই মেযে এত্তটা ফাজিল কি করে হতে পারে।প্রথম দেখায় ভালোবাসা এরকম হবে বুঝতেই পারিনি।এই জন্যই তো বড়রা বলে প্রথম দেখায় ভালোবাসা হয় না,যা হয় মোহ আবেগ।কিন্তু আমার যে ভালোবাসা হই গেছে।তাই তো এখন সামলাতে হচ্ছে প্যারার উপর প্যারা।

তাররপর আমি মেঘার একদম কাছে গিয়ে এক হাত মেঘার গলায় আর এক হাত মেঘার পেটে রাখি।কিন্তু মেঘার কোন সারাই পাচ্ছি না,দিব্বি মেয়েটা হাসতেই চলছে।তাই মেঘার থেকে দুরে সরে গিয়ে মেঘাকে বলতে শুরু করলাম

রাফসান: আচ্ছা মেঘা,আমি যে এই মাত্র তোমার গলায় ও পেটে হাত রাখলাম তোমার কি কোন অনুভুতি তৈরি হয়নি
তুমি কি করে স্বাভাবিক থাকছো বুঝতে পারলাম না,

মেঘা: এই পাগল কে বলছে অনুভূতি হয়নি।মন চায় তো তোমার সাথ মিশে দুর অজানায় চলে যাই।কিন্তু আমাদের তো বিয়ে হয়নি।তাই নিজেকে একটু কন্ট্রোল করি।তুমি যখনই আমাকে স্পর্শ করো নিজের ভিতর এক অন্য রকম ভালো লাগা কাজ করে।কিন্তু সেটা মনের ভিতর চেপে রাখি।যেটা বাহিরে প্রকাশ করতে পারি না,যদি বাহিরে প্রকাশ করি তুমি সেটার দুর্বলতার সুযোগ নিবা হিহিহহিহিহ(মনে মনে ভাবছি,আপনার্ আবার কইয়া দিয়েন না আমিও যে রাফসানের স্পর্শে পাগল হয়ে যাই হিহিহিহি)

রাফসান: ওই কি হলো উত্তর দাও।আমার স্পর্শে কি তোমার কোন অনুভূতি হয় না?

মেঘা: বিয়ে করো আগে তাররপর দেখবা অনুভুতি হয় না হয় না,আগেই কেন জানতে হবে হুমমম?লুইচ্চামি করতে ইচ্ছে করে বুজি?

রাফসান: কিহহহ,আমি লুইচ্চা?তুমি এটা বলতে পারলে?

মেঘা: ওললললে লেললরলে বাবুটাহ উম্ম্মাহ রাগ করে না। বাবু কাঁদে না,হিহিহিহিহি

রাফসান: যাও তো এখান থেকে তোমার ফাজলামো দেখার সময় নাই।

মেঘা: কি বললি তুই আমার ফাজলামো দেখার সময় নেই।আজকে তোর অফিসের সকল স্টাফকে ছুটি দিয়ে দিলকম,ওয়েট কর আসতেছি।

রাফসান: এই এই মেঘা, তুমি বুঝছো না কেন, এটা করো না।

চলে গেলো আমার কোন কথা না শুনেই,কি করবো,কিছুই বলতেও পারি না,মেঘাকে কাজ করে না এমন না,তবে আমার সাথে সব সময় ফাজলামো করেই যাবে সেটা যেরকম মুডই হোক না কেন।কিছু সময় পর মেঘা আবার আমার কেবিনে চলে আসে।

মেঘা: দিয়ে আসচ্ছি।আজকে এই রুমে আমরা বাসর করবো।

রাফসান: কিহহহ,তোমার মাথা খারাপ হইছে নাকি?

মেঘা: উমমম না, না মাথা খারাপ হয়নি।তবে কিছুক্ষণ পর হবে।

রাফসান: এবার কিন্তু বেশি বেশি হয়ে যাচ্ছে।আর একটা কথা বললে কিন্তু খরব আছে?

মেঘা: তাহলে চলো বিয়ে করবো আজকে।

রাফসান: আজকে আচ্চআ চলো,বিয়ে না হয় করে নিলকম তার পর কি করবে?

মেঘা: 🤔🤔🤔🤔🤔🤔

তার পর কি আর করবো অফিসের পিএ বলছে না রেখে কি আর থাকতে পারি।তাই চলে যাই বাসায়,বাসায় আব্বু আম্মুকে মেঘার কথা বলি।মেঘাকে দেখেও আম্মু আব্বু রাজি হয়ে যায়,তার পর মেঘার আব্বু আম্মুকে ফোন করে এখানে আমাদের বাসায় আনা হয়।তার পর বিয়ের তারিখ আগামী মাসে দিলে মেঘা আমার দিকে রাগি লুকে তাতিয়ে থাকে।তাই কি করবো আব্বু আম্মুকে বলি এই মামেই বিয়ের তারিখ ফেলানোর জন্য। কিন্তু আব্বু বলে আমার একমাত্র ছেলের বিয়ে সময় তো লাগবেই।

মেঘা: আব্বু আমি।ইসলামি শরিয়ত মোতাবেক বিয়ে করতে চাই।আর আমি বোরকা পরেই বিয়ের আসরে বসতে চাই।

ওহহহ স্যরি স্যরি আপনাদের তো বলাই হয়নি, মেঘার সাথে যখন ধাক্কা লাগে সেদিন মেঘাকে আমি বোরকা পরা অবস্থায় দেখেছিলাম,তবে মুখটা খোলাই ছিল,তার পর আস্তে আস্তে যখন আমাদের রিলেশন চলতে শুরু করে,তার পর মেঘাকে পর্দার ভিতর নিয়ে আসি।আর মেঘা এখন সব সময় পর্দা করে। শুধু আমার সামনে ছারা,আমি তার হবু বর আমার সামনে যদিও এখনও পর্দা করা ফরজ,কিন্তু জোর করে দেখি পাগলিটাহকে।

পড়ুন  মুখোশ – রহস্যময়, রোমান্টিক প্রেমের গল্প পর্ব ১৭ | মোনা হোসাইন

তার পর আর কি মেঘার কথার কাছেই সবার মতামত তুলে ধরার পর সবাই মেনে নেয়।তার পর আমাদের বিয়ে দুই দিন পরই। তাই আজকে বিয়ের সব কেনা কাটা করতে যাই মার্কেটে।

রাফসান: মেঘা,এই দেখো এই শাড়িতে তোমায় দারুন লাগবে।

মেঘা: তাই নাকি।কিন্তু আমার তো এই শাড়ি ভালো লাগে না।
রাফসান: ওহহহ আচ্ছা তাহলে কোনটা ভালো লাগে।
বলেই শাড়িটা দোকানে রেখে পুছন তাকাতেই দেখি মেঘা কিছুটা দুরে চলে গিয়েছে,আর সাথে একটা ছেলেও আছে।যার সাথে হেসে হেসে কথা বলছে।যার জন্য এত্ত কিছু আর সেই এরকম করলো।মনের ভিতর সন্দেহ হতে চললো।তাই চলে যাই লুকোচুরি করে তাদের পিছনে।তাদের কথা বার্তা গুলো শুনতে।

ছেলেটি: তাহলে শেষ মুহুর্তে বলদটাকে বিয়ে কররছো?

মেঘা: হহিহিহিহিহ,হুমমম করছি তো,বিয়েটা হয়ে নিক,তার পর আমার এই লক্ষি বরের সাথে টাকা নিয়ে ভেগে যাবো, আমার পাগলটাকি আমাকে বিয়ের পরও ভালোবাসবে?

ছেলেটি: হুমমম বেইবিটাহ,আমি যে তোমাকে অনেক অনেক ভালোবাসি।তোমাকে আমি কি করে ভুলবো।আচ্ছা আমি যাই কেমন।

ওই ছেলে আর মেঘার কথা শুনে নিজের পায়ের নিচ থেকে মাটি গুলো সরে যাচ্ছে।তাহলে মেঘা এত্ত দিন আমার সাথে অভিনয় করে গেছে শুধু কিছু টাকার জন্য, নাহহ ভাবতেই পারছি না,মনে হচ্ছে স্বপ্ন দেখছি।কিন্তু এটা কি সত্যি স্বপ্ন নাকি বাস্তব, বুঝতে পারছি না,এক ভাবে স্তব্ধ হয়ে দারিয়ে আছি।

তার পর সেখান থেকে কোন কিছু না কিনে চলে আসি বাসায়।বাসায় এসে দেখি মেঘা আব্বু আম্মুর সাথে কথা বলছে।আমি মেঘাকে টেনে আমার রুমে নিয়ে যাই।

রাফসান: বল তোর কত্ত টাকা লাগবে?

মেঘা: মানে?কিসের টাকা,আর কি বলছো তুমি?

রাফসান: শুন প্রতারক মিথ্যে বাদি,তোর আসল রূপ আমি আজকে দেখেছি।ওই ছেলেটা কে ছিল যাকে বলতে ছিলি আমাকে বিয়ে করে টাকা নিয়ে তার সাথে পালিয়ে যাবি।এগুলো কি??

মেঘা: দেখো রাফসান,প্লিজ ভুল বুঝো না আমাকে?

রাফসান: ঠাসসম,চুপপপ তোর টাকা লাগবে সেটা বলতি,আমার মন নিয়ে কেন খেলা করছিস?

মেঘা: চুপপপপ করো, আমার কথা তো শুনবে?

রাফসান: 🤬🤬🤬🤬🤬🤬

মেঘা: ওরা আমাকে ভাড়া করে তোমার সাথে প্রেমের অভিনয় করতে।আমিও রাজি হয়ে যাই কথা ছিল তোমার কাছ থেকে টাকা নিয়ে ওদেরকে দেওয়া,কিন্তু তোমার সাথে অভিনয় করতে করতে কখন যে তোমাকে সত্যি কারের ভালো বেসে ফেলেছি বুঝতেই পারিনি।আর যখন বুঝতে পারি তোমাকে সত্যি মন থেকে ভালো বেসে ফেলেছি তখন ওরা আমার আব্বু আম্মু মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে
আমি কি করবো এখন আমি যে নিরুপায়।(বলেই কাঁদতে থাকি)

মেঘার কথা শুনে মাথা গরম হয়ে গেছে,আমার ভালোবাসার মানুষটির সাথে এরকম করা,তার পর ২০ মিনিটের মধ্যে তাদেরকে বের করে একেকটাকে ইচ্ছে মতো মেরে হসপিটালে ভর্তি করে দেই।

রাফসান: এই পাগলি স্যরি, এবার তো আর কোন সমস্যা নেই।তাও কি শুধু টাকার জন্য বিয়ে করবে?

মেঘা: চুপপপপ,এটা বলো না প্লিজ,তোমায় যে আমি অনেক অনেক ভালোবাসি, তোমায় ছারা আমি থাকতে পারবো না।
বলেই জরিয়ে ধরি।তার পর দিন আমাদের বিয়ে হয়ে যায়,বিয়ের রাত্রিতে বাসর ঘরে বউ বসে আছে আর আমি ছাদে।কিছুটা ভয় আর কিছুটা চিন্তা সব কিছু নিয়ে বাসর ঘরের উদ্দেশ্য নিচে নামতে থাকি।

বাসর ঘরে যেতেই বউ আমায় পা ধরে সালাম করতে নিলে।আমি তুলে বুকে জরিয়ে নেই।
রাফসান: চলো দু রাকাত নফল নামাজ পরে নেই।

মেঘা: হুমমম,আর শুনে আমার না......

রাফসান: আগে তো নামাজ পরো তার পর
তাররপর দুজনে মিলে নামাজ পরে বিছানায় বসে আছি।

মেঘা: ওই স্যরি, আমাকে বিশ্বাস করো।

রাফসান: হুমম করি তো পাগলিটাহ,আচ্ছা চলো শুভ কাজটা সেরে ফেলি।

মেঘা: যাহহ,কি বলো আমি ঘুমাবো

রাফসান: উমমম তা তো হচ্ছে না।

বলেই মেঘাকে বুকে জরিয়ে দরি।এই যে আপনারা আরো কি কিছু জানতে চান?এবার আপনারা আসতে পারেন।

ধন্যবাদ এত্তক্ষণ ধরে গল্পটি পরার জন্য

সমাপ্ত

সমাপ্ত

Writer :- আমরিন তালুকদার

Leave a Comment

Home
Stories
Status
Account
Search