প্রেম কাহিনী – স্কুল জীবনের প্রেমের গল্প পর্ব 25।

প্রেম কাহিনী

Raj { Part 25}


নিজের চেষ্টায় এত বড় হয়েছ, এটা তাে গর্বের কথা।
দেশের ছেলেদের উচিত তােমার আদর্শ অনুসরণ করা। তারপর ঝর্না কদমবুসি করতে তাকে একহাতে জড়িয়ে ধরে মাথায় চুমাে খেয়ে বললেন, তােদেরকে পেয়ে আমার যে কত আনন্দ হচ্ছে তা আল্লাহপাক জানেন। সেদিন রাগের মাথায় তােকে যা তা বলেছিলাম, সে সব মাফ করে দিয়েছিস তাে?।

ঝর্না ছলছল নয়নে তাড়াতাড়ি বলে উঠল, আব্বা, একি কথা বলছ? ছেলেমেয়ে দোষ করলে বাপ-মা তাে রাগারাগি করবেই। আমি বরং সেদিন তােমার কথার অবাধ্য হয়ে অন্যায় করেছি। সেজন্য সকলের কাছে মাফ চাইছি। নাজনীন ওনাকে সালাম। করতে ঝর্না বলল, আমার বড় ননদের মেয়ে। হামিদ সাহেব তার মাথায় হাত বুলিয়ে চুমাে খেয়ে দোয়া করলেন।

তারপর ছেলেদেরকে বললেন, তােমরা দাড়িয়ে রয়েছ কেন? এদেরকে ঘরে নিয়ে। যও। ভিতরে এসে মেয়েকে জিজ্ঞেস করলেন, তাের শ্বশুর-শাশুড়ী কেমন আছে? ঝর্ণা বলল, আমার বিয়ের আগে ওনারা মারা গেছেন।

হামিদ সাহেব ইন্না নিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজেউন’ পড়ে বললেন, আল্লাহ তাদের রুহের মাগফেরাত দান করুক। তাের শ্বশুর খুব সৎ ও ধার্মিক লােক ছিল। গ্রামের লােকজন ওসমানের ছেলের অবস্থা দেখে অবাক হয়ে গেল। নিজেদের মধ্যে বলাবলি করতে লাগল, একেই বলে ভাগ্য। আল্লাহ কার ভাগ্যে কি রেখেছে, তা কেউ বলতে পারে না। পরের দিন গ্রামময় রাষ্ট্র হয়ে গেল, ওসমানের ছেলে খুব বড়লােক হয়ে চেয়ারম্যানের মেয়েকে বিয়ে করে দেশে ফিরেছে। অনেকে সাইফুলকে এক নজর। দেখার জন্য হামিদ সাহেবের বাড়িতে ভীড় করতে লাগল। সাইফুল ছােট-বড়, গরিবধনী সকলের সঙ্গে হাসিমুখে আলাপ করে বিদায় দিল।

| এদিকে ঝর্নার সঙ্গে তার ভাবি এলিসার খুব ভাব হয়ে গেল। এলিসা ঝর্ণাকে জিজ্ঞেস করে তার সব ঘটনা শুনে বলল, তুমি খুব ভাগ্যবতী। কোনাে ছেলে কোনাে মেয়েকে সাইফুল ভাইয়ের মতাে ভালবাসতে কখনাে শুনি নি ও দেখি নি।

সাইফুল ঘুরে ঘুরে গ্রামের সকলের সঙ্গে দেখা করে তাদের খোঁজ-খবর নিতে লাগল। এক সকালে বন্ধু মােরসেদের বাড়িতে গিয়ে সালাম ও কুশলাদি বিনিময় করল । মােরসেদ বলল, আমি গতকাল রংপুরে গিয়েছিলাম। আজ ফিরে তাের কথা শুনেছি। বিকেলে তাের সাথে দেখা করতে যাব ভাবছিলাম। তা তুই একা এলি যে? তাের বৌ কোথায়? সাইফুল বলল, মসজিদ থেকে ফজরের নামায পড়ে হাঁটতে হাঁটতে চলে এলাম। অন্য একদিন নিয়ে আসব।

মােরসেদ ফুপাতাে বােন নাফিজাকে বিয়ে করেছে। সে পুকুরঘাটে হাঁড়ী বাসন মাজতে গিয়েছিল। ফিরে এসে খরব পেয়ে তাদের কাছে এসে সালাম দিয়ে বলল, সাইফুল ভাই, কেমন আছেন? একা কেন? ভাবি কই? নাফিজাকে সাইফুল স্কুলে পড়ার সময় থেকে মােরসেদের ফুপাতাে বােন হিসাবে চেনে। সাইফুল ও মােরসেদ যখন ক্লাস টেনে তখন নাফিজা সেভেনে পড়ত।

সালামের জবাব দিয়ে সাইফুল বলল, আল্লাহর রহমতে ভালাে আছি। তারপর তাদের সঙ্গে গল্প করে, নাস্তা খেয়ে সাইফুল ফিরে এল ।। ঝর্ণা স্বামীর অপেক্ষায় এখনাে নাস্তা খাই নি। বেলা দশটার সময় সাইফুল ফিরে এলে বলল, এত বেলা পর্যন্ত না খেয়ে থাকলে অসুখ করবে তাে। তােমার জন্য আমার এখনাে খাওয়া হয় নি।

সাইফুল অনুতপ্ত সুরে বলল, আমার ভুল হয়ে গেছে। তুমি নাস্তা খেয়ে নাও। আমি মােরসেদের বাড়িতে খেয়ে এসেছি। খেয়ে এসে ঝর্ণা বলল, সকলের সঙ্গে যে দেখা করে বেড়াচ্ছ, আসবার সময় বুবু। কি বলে দিয়েছিল মনে নেই বুঝি? আছে, আজ বিকেলে যাব। আমিও তােমার সঙ্গে যাব। শ্বশুর বাড়ি দেখতে খুব ইচ্ছে করছে। বেশ তাে যাবে। আমি কি ভেবেছি জান?

বললে জানব কি করে? ভেবেছি, এবার এখানে একটা বাড়ি কর। পুকুর কাটার। পুকুরের পাড়ে নানা রকম ফলের গাছ লাগাব। আমরা প্রতি বছর আম, কাঁঠাল খেতে আসব । বেড়ানও হবে। আর ফল পাকড় খাওয়াও হবে।।

ঝর্ণা হেসে উঠে বলল, তােমার কথা শুনে একটা প্রবাদ বাক্য মনে পড়ল- বিবি বাড়তে বাড়তে মিয়া খতম। প্ল্যানটা এখনও তােমার মনে। আর বলছ কিনা প্রতি বছর। ফল পাকড় খেতে আসবে।।
মিয়া খতমের ব্যাপারটা আল্লাহর হাতে। বিবি বাড়তে বাড়তে মিয়া বেঁচে। থাকতেও পারে। তবে হয়তাে বুড়াে হয়ে যাবে। আর বুড়ােরা যে কচি জিনিস খেতে। ভালবাসে, সে কথা তুমি বােধ হয় জান না। মানুষ যত বুড়াে হয় তাদের মনটা তত কচি হয়। আমরা যদি মরেও যাই, আমাদের ছেলেমেয়েরা তাে খেতে পারবে। আর । আল্লাহ যদি হায়াতে রাখেন তখন বুড়াে হয়ে গেলেও কচি মনে খেয়ে আনন্দ পাব।

আমি এমনি কথাটা বলেছি। আসলে তােমার প্লানটা খুব ভালাে।
বিকেলে সাইফুল ঝর্ণাকে নিয়ে তাদের বাড়িতে রওয়ানা দিল। নাজনীনেরও। যাওয়ার কথা। দুপুর থেকে তার জ্বর। তাই যেতে পারল না। সে মামাকে বলল, আমাকে নিয়ে অন্য একদিন যেতে হবে কিন্তু।

সাইফুল বলল, তুই ভালাে হয়ে গেলে নিয়ে যাব। | গাড়ির রাস্তা নেই বলে ওরা হেঁটে চলল। হাঁটতে হাঁটতে ঝর্ণার ছেলেবেলার। অনেক কথা মনে পড়তে লাগল। ঐ সময়ে এদিকে এসেছিল কিনা তার মনে নেই। সাইফুলের বাড়ির কাছাকাছি এসে ঝর্ণা দেখতে পেল, টিনের চালের দু’কামরা বেড়ার ঘর। সামনে বেশ অনেকখানি উঠোন। উঠোনের চারদিকে নানারকম ফলের গাছ। একপাশে একটা গাভী ঘাস খাচ্ছে। তার আদলা বাছুরটা বাটে মুখ দিয়ে দুধ খেতে খেতে মাঝে মাঝে গুতাে দিচ্ছে। এক পাশে হাঁস-মুরগী থাকার খোয়াড়। একটা শ্যামলা রঙের তরুণী উঠোন ঝাট দিচ্ছে।

উঠোনে এসে সাইফুল তরুণীটিকে বলল, তুই তারানা না?
তারানা আগের থেকে দেখতে পেয়ে ঝট দেয়া বন্ধ করে তাদের দিকে তাকিয়েছিল। সাইফুলকে চিনতে পেরে বলল, সাইফুল ভাই আপনি? তারপর ঝর্ণাকে দেখিয়ে বলল, নিশ্চয় ভাবি? সাইফুল বলল, বুঝতেই যখন পেরেছিস তখন বরণ করে ঘরে তলবি তাে। নতুন বাে শশুর বাড়ি এল, তুই ননদ হয়ে যদি কিছু না করিস, তবে কে করবে? চাচি কোথায়? | তারানা ঝাটাটা একপাশে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে এগিয়ে এসে দু’জনকে কদমবুসি। করল। তারপর ঝর্ণার একটা হাত ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় বলল, আম্মা পাশের বাড়িতে গেছে। সাইফুল বলল, চাচা এখনও মাঠ থেকে ফেরে নি?

আজ শরীর খারাপ বলে মাঠে যাই নি। একটু আগে পাগারের জমিটা দেখতে গেল। ঘরে এনে চৌকির উপর তাদের বসতে বলে বলল, তােমরা বস, আমি আম্মাকে ডেকে আনি। তারানা চলে যেতে ঝর্ণা ঘরের চারপাশে চোখ বুলিয়ে নিয়ে বলল, এরা কারা? সাইফুল বলল, তারানার আব্বা জহুর আমার চাচা আব্বার দূর সম্পর্কের ভাই। উপর ঘর দুয়ার দেখার দায়িত্ব এবং জমি-জায়গা ভাগ ঢাকায় যাওয়ার সময় এদের উপর ঘর দুয়ার দেখার দায়িত্ব এবং জ চাষে দিয়ে যায়। তখন তারানা আরাে ছােট ছিল। তারানার মা সেতারা বানু স্বামীর মুখে সাইফুল ও ঝর্নার কথা জেনেছে। এখন মেয়ের মুখে তাদের আসার কথা শুনে তাড়াতাড়ি করে এসে তাদের ভালাে-মন্দ জিজ্ঞেস করল। তারপর ঝর্ণার গায়ে-মাথায় হাত বুলিয়ে চুমাে খেয়ে বলল, বেচে থাক মা, সুখী হও। তােমরা গল্প কর, আমি তােমাদের জন্য নাস্তা করি।

| সাইফুল বলল, আমরা নাস্তা খেয়ে বেরিয়েছি, ওসব কিছু লাগবে না, তারানা। কোথায় গেল? সিতারা বানু বলল, সে তােমার চাচাকে ডাকতে গেছে।

একটু পরে তারানা আব্বার সঙ্গে ফিরে ঝর্ণাকে পাশের রুমে নিয়ে এসে গল্প করতে লাগল। জহুরকে দেখে সাইফুল সালাম দিয়ে জিজ্ঞেস করল, চাচা কেমন আছেন? জহুর সালামের উত্তর দিয়ে বলল, আল্লাহ এক রকম রেখেছে বাবা। তা তােমাদের সব খবর ভালাে? তােমার বাপ-মা সেই যে ঢাকায় গেল আর ফিরল না। আল্লাহ তাদেরকে তুলে নিল। কান্নায় তার গলা বুজে এল। জামার হাতায় চোখ মুছে বলল, মনিরা, নাজনীন কেমন আছে? ওরা এল না কেন?

বুবু পরে আসবে। নাজনীন এসেছে। আজ দুপুর থেকে জ্বর; তাই আসতে পারল । আসার সময় বুবু বলে দিয়েছিল দু’তিন বছরের আমাদের কত কি পাওনা হিসাব। করে নিয়ে যেতে। কিভাবে তা দেবেন বলুন?

| জহুর বলল, তুমি যেভাবে নিতে চাইবে, সেইভাবে দেব। তবে এখন হয়তাে। পুরােটা দিতে পারব না। অভাবের সংসারে কিছু খেয়ে ফেলেছি। তােমরা যদি প্রতি বছর আসতে তা হলে এরকম হত না।
সাইফুল বলল, যেটা খেয়ে ফেলেছেন সেটা আর দিতে হবে না। তবে এবার। থেকে সব ঠিকঠাক রাখবেন। কিছুদিন পর আমি বুবুকে নিয়ে আসব, তখন নেব।।

পড়ুন  ভিলেন–রোমান্টিক প্রেমের গল্প পর্ব 13 | Villain Bangla Golpo


Click Here For Next :চলবে

Writer :- Raj

Leave a Comment

Home
Stories
Status
Account
Search