প্রেম কাহিনী – স্কুল জীবনের প্রেমের গল্প পর্ব 9 | Love Story

Prem Kahini 

Raj Choudhuri { Part 9 }


আমিন আনন্দে আটখানা হয়ে বলল, সে ব্যাপারে তুমি যা বলবে তাই হবে। তা হলে আগামীকাল আমি বেরা দশটার দিকে আসব।

গতকাল সামার ভ্যাকেসানের ছুটি পড়েছে। আগামীকাল ঝর্ণা দেশে যাওয়ার মনস্থ করেছিল। আমিনের কথা শুনে বলল, বেশ তাই এস। পরের দিন ঝর্ণা সুপারিন্টেন্টেকে দেশে যাওয়ার কথা বলে হল থেকে বেরিয়ে এল। আমি আগের থেকে গেটের বাইরে অপেক্ষা করছিল। তাকে সঙ্গে করে কোর্টে না গিয়ে কাজী অফিসে গেল।

ঝর্ণা বলল, কোর্টে যাবে না? আমিন বলল, কোর্টে অনেক ঝামেলা। কোর্ট আর কাজী অফিসের মধ্যে পার্থক্য নেই। সেদিন কাজী অফিস থেকে কাবিন করে একদম বিয়ের কাজ সেরে আমিন ঝর্ণাকে নিয়ে বাসায় এল।

আমিন আগেই মাকে বুঝিয়ে বলেছে, ঝর্ণাকে-বিয়ে করলে তার বাবার কাছ থেকে ব্যবসার ব্যাপারে অনেক সাহায্য পাওয়া যাবে। তাই শায়লা বেগম পুত্রবধুকে সাদরে গ্রহণ করে ঘরে তুললেন।

আমিনের বাসায় এসে ঝর্ণার মন খারাপ হয়ে গেল। সে ভেবেছিল, আমিনের বাবা যখন ব্যবসায়ী তখন তাদের বাড়ি ও ঘরের আসবাবপত্র নিশ্চয় খুব উন্নত ধরণের হবে। কিন্তু দোতলা চারকামরা করে আটকামরা বাড়ি ও নিম্নমানের আসবাবপত্র দেখে তার মন খুঁৎ খুঁৎ করতে লাগল । কিন্তু বাইরে তা প্রকাশ করল না। ভাগ্যে যা ছিল তাই হয়েছে মনে করে সব কিছু মেনে নেয়ার চেষ্টা করল।

দিন পনের বেশ আনন্দ ফুর্তিতে কেটে গেল। একদিন আমিন ঝর্ণাকে বলল, তােমার এবার দেশে যাওয়া উচিত। কারণ প্রতি বছর সামার ভ্যাকেসানে তুমি বাড়ি যাও। এবারে না গেলে বাড়ির সবাই চিন্তা করবে।

ঝর্ণা বলল, তুমি ঠিক কথা বলেছ । আমিও তােমাকে কথাটা বলব ভাবছিলাম । তা হলে কালকেই তােমার যাওয়ার ব্যবস্তা করে দিচ্ছি। একটা কথা বলি শােন, তুমি গিয়ে মাকে আমাদের বিয়ের ব্যাপারটা জানিয়ে বাবাকে ম্যানেজ করতে বলবে।

ঝর্ণা আতংকিত হয়ে বলল, না না, তা এখন সম্বব নয়। তােমাকে তাে আগেই বলেছি ফ্যাইন্যাল পরীক্ষার পর জানাব।

সে কথা আমার মনে আছে। তবে কি জান, একটা কন্ট্যাক্ট ধরার জন্যে কিছু টাকার দরকার। কন্ট্যাক্ট ফেল করলে যেমন আমার বহু টাকা লস হবে, সাকসেসফুল।

পড়ুন  তোমার আমার প্রেম – লাভস্টোরি পর্ব 14 | Bangla Premer Golpo

হলে তেমনি প্রচুর লাভ হবে। এর পিছনে আমি বিশ-ত্রিশ হাজার টাকা অলরেডী খরচ করে ফেলেছি। বলছিলাম কি, ওনাদের দোয়া নেয়ার পর তুমি যদি বাবাকে বলে লাখ খানেক টাকা ম্যানেজ করতে পারতে, তা হলে ব্যবসাতে তাড়াতাড়ি উন্নতি করতে পারতাম। তা ছাড়া এটাতে আমার ফার্মের ইজ্জৎও জড়িত আছে।

ঝর্ণা বলল, ছি-ছি, এ কথা বলতে তােমার মুখে আটকাল না? কোন মুখ নিয়ে বাবার কাছে টাকা চাইব? এমনিতেই যা ঘটে গেল, সেটা জেনে কি করবেন তার ঠিক নেই।

আমিন বেশ গম্ভীর হয়ে বলল, তুমি নিজের সম্মান দেখছ, স্বামীর দিকটা চিন্তা করে দেখবে না? এত লেখাপড়া করলে, বুদ্ধি করে সবদিক ম্যানেজ করার চেষ্টা কর। মেয়েরা স্বামীর জন্য কত অসাধ্য সাধন করে। আর তুমি এই সামান্য কাজটা করতে পারবে না? ঝর্ণার মনের ভিতর থেকে কে যেন বার বার বলছে, ঝর্ণা তুই খুব ভুল করেছিস।

আজকাল মানুষ চেনা খুব কঠিন। এখন আর ভেবে কিছু করতে পারবি না। ভাগ্যকে মেনে নে। চোখে পানি এসে যেতে আঁচলে মুছতে মুছতে বলল, ঠিক আছে, আমি চেষ্টা করব। ঝর্ণা যখন তাদের দেশের বাড়িতে গিয়ে পৌছাল তখন সন্ধ্যে পার হয়ে গেছে। সে বাবা-মাকে কদমবুসি করল।

হামিদ সাহেব জিজ্ঞেস করলেন, তুইতাে চিঠিতে লিখেছিলি আরাে পনের দিন আগে আসবি। দেরি দেখে আমরা দুঃশ্চিন্তা করছিলাম। তাের খোঁজ নেয়ার জন্য আবসারকে দু'একদিনের মধ্যে ঢাকায় পাঠাব ভাবছিলাম।

ঝর্ণা জানত তাকে এ প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে। তাই আগের থেকে উত্তর ভেবে রেখেছে। বলল, পরীক্ষা এগিয়ে আসছে তাই আমরা কয়েকজন বান্ধবী হলে থেকে এজন অধ্যাপকের কাছে টিউটোরিয়াল করছিলাম।
পরের দিন রাত্রে খাওয়ার-দাওয়ার পর ঝর্ণা মাকে তার বিয়ের কথা বলে টাকাটার কথাও জানাল।

মেয়ের কথা শুনে আফসানা বেগম খুব অবাক হয়ে তার মুখের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলেন। তারপর আতঙ্কিত স্বরে বললেন, এ তুই কি বলছিস, আমি যে কিছুই বুঝতে পারছি না?
ঝর্ণা চোখের পানি ফেলতে ফেলতে বলল, হ্যা মা, এটাই তােমাকে বুঝতে হবে এবং বাবাকেও বােঝাতে হবে।

Related Story


পড়ুন  ভিলেন – এ্যাকশন লাভস্টোরি পর্ব 5 | Villain Bangla Story

আফসানা বেগম মেয়েকে কাঁদতে দেখে বললেন, তুই একবারও তাের বাবার ইজ্জতের দিকে তাকালি না। সে কি এ বিয়ে মেনে নিতে পারবে? রংপুরের ম্যাজিস্ট্রেট তাের বাবার বন্ধু । তার ছেলে বিলেত থেকে লেখাপড়া শেষ করে এ বছর ফেরার কথা। তার সঙ্গে তাের বিয়ের কথাবার্তা একদম ফাইন্যাল হয়ে আছে। সব কিছু জেনে কি করে আমি তাকে তাের কথা জানাব?
ঝর্ণা কাঁদতে কাঁদতে বলল, এখন আর সে কথা বলে লাভ কি? তােমরা আমাকে এতদিন সে কথা জানাও নি কেন? আমার ভাগ্যে যা ছিল হয়েছে। তােমরা আমার ভাগ্যকে কি বদলাতে পারবে?
আফসানা বেগম কি করবেন ভেবে ঠিক করতে পারলেন না।

ঘুমাবার সময় স্ত্রীর থমথমে মুখের দিকে তাকিয়ে হামিদ সাহেব জিজ্ঞেস করলেন, কি ব্যাপার? তােমার কি শরীর খারাপ না, আমার কিছু হয় নি।

তােমাকে দেখে তাে তা মনে হচ্ছে না। আফসানা বেগম সাহস সঞ্চয় করে বললেন, তােমার মেয়ের খবর শুনলে তােমারও তাই হবে।

Click Here For Next :চলবে

Writer :- Raj Choudhuri

Leave a Comment

Home
Stories
Status
Account
Search