রাগী স্যার যখন ডেভিল হাসবেন্ড শেষ পর্ব 21 | ছাএী শিক্ষকের খুনশুটি প্রেমের গল্প

Ragi Sir Jokhon Devil Husband

Sadia Afrin { Part 21}


রাফি : আমাদের ছেলে হলে কি নাম রাখবা?

আফরিনও কিছুক্ষণ ভেবে বলে,

আফরিন : রিজভী।
রাফি : অনেক সুন্দর নাম।

তখনই আফরিনের ফোনে কল আসে,,

আফরিন : হেলো ভাবি
নিলিমা : হুম কেমন আছিস।
আফরিন : এই তো আলহামদুলিল্লাহ। তুমি কেমন আছো?
নিলিমা : আলহামদুলিল্লাহ ভালো।

আফরিন : মা কেমন আছে ভাইয়া কেমন আছে?
নিলিমা : সবাই ভালো। তোর শ্বশুর বাড়ির সবাই কেমন আছে।
আফরিন : আলহামদুলিল্লাহ সবাই খুব ভালো।
নিলিমা : একটা খুশীর খবর আছে।
আফরিন : কি?

নিলিমা : তুই খালামনি হতে যাচ্ছিস।
আফরিন : কিহ্ সত্যি? আমি খালামনি হবো?
নিলিমা : হুম।

আফরিন : আমার বিশ্বাস হচ্ছে না আমি খালামনি হবো।
নিলিমা : হুম। আল্লাহ আমাদের প্রতি এতো দিন পর সহায় হয়েছে। দোয়া করিস।
আফরিন : যাই হোক অনেক দিন পর আমাদের দুই পরিবার পরিপূর্ণ হবে। দোয়া করিস।
নিলিমা : হুম।

কয়েক মাস পর,

রাফি : আফরিন আমি অফিসে যাচ্ছি। কোনো সমস্যা হলে বোয়াকে ডাক দিয়ো নয়তো আমাকে ফোন দিও।

আফরিন : তুমি নিশ্চিন্তে অফিসে যাও। কোনো সমস্যা হলে আমি তোমাকে ফোন দিব আর মা তো বাসাতেই আছে।

রাফি : আচ্ছা ঠিক আছে। আমি আসি।

রাফি আফরিনের কপালে একটা চুমু দিয়ে অফিসের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে যায়।

সারাদিন আফরিন একটু ব্যাথা অনুভব করে তবুও কাউকে কিছু বলে না। কিন্তু বিকালের দিকে তার অসহ্যকর ব্যাথা অনুভব করে।

আফরিনের আওয়াজ পেয়ে বোয়া উপরে আসে। তারপর বোয়া আর রাফির মা মিলে হাসপাতালে নিয়ে যায়। রাফির মা রাফিকে বলে আফরিনকে হসপিটালে নিয়ে এসেছে।

রাফি তখনই সব কাজ ফেলে তাড়াতাড়ি হসপিটালে চলে আসে। রাস্তায় প্রচুর জেম থাকায় অনেক দেরি হয়ে যায়। আসতে আসতে রাত হয়ে যায়। রাফি হসপিটালে এসে চারোদিক থেকে আফরিনকে খুঁজতে থাকে। তারপর একজন নার্সকে জিজ্ঞেস করলে নার্স দেখিয়ে দেয় কোথায় আছে আফরিন।

রাফি দৌড়ে গিয়ে দেখে আফরিন শুয়ে আছে। রাফি খুব নার্ভাস ফিল করছে। মনে খুব ভয় নিয়ে আফরিনের কাছে আসে। আফরিন চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছে।

রাফি আফরিনের কাছে গিয়ে আফরিনের হাত নিজের হাতের মধ্যে রাখে। তখনই আফরিন চোখ খুলে।

আফরিনের চোখ খুলতেই রাফির মুখে হাসি ফোটে। রাফি উত্তেজিত হয়ে বলে,,,

রাফি : আফরিন তুমি ঠিক আছো তো?

আফরিন মাথি নাড়িয়ে হ্যা সম্মত করে।

রাফি : তুমি জানো আমি কতোটা ভয় পেয়েছিলাম। তুমি আগে কেনো আমাকে বলো নাই।
আফরিন : শুধু আমার সাথেই কথা বলবে? আমাদের বাবুর সাথে কথা বলবে না?

রাফি আফরিনের কথা শুনে আফরিনের বেডের পাশের দুলনার দিকে তাকায়। রাফি দেখে সেখানে পিচ্চি পুতুলের মতো একটা বাচ্চাকে খুব যত্ন করে শুইয়ে রেখেছে। বাচ্চাটা খুব সুন্দর করে ঘুমাচ্ছে।

রাফি বাচ্চাটার কাছে যায়। হাঁটু গেড়ে বসে কিছুক্ষণ বাচ্চার দিকে তাকিয়ে থাকে। তারপর কুলে নেয়।

রাফি : আমাদের সন্তান।
আফরিন : হুম
রাফি : আমাদের সন্তান আমার সন্তান।(বলেই ইমোশনাল হয়ে পড়ে।)

রাফি বাবুকে আফরিনের পাশে শুইয়ে দেয়। আফরিন রাফির চোখের পানি মুছে দেয়।

আফরিন : একদম কাঁদবে না। আমার কিউট হাসবেন্ডের চোখে জল মানায় না।

রাফি আফরিনকে আর বাবুকে জড়িয়ে ধরে। তখনই ডাক্তার আসে। রাফি একটু সরে দাড়ায়।

ডাক্তার : মিষ্টি কোথায়? মিষ্টি ছাড়া বাবুকে দেবো না। মিষ্টি নিয়ে আসেন।(মজা করে বলে)

রাফি : আজ আমি অনেক খুশি ডাক্তার। আমি বাবা হয়েছি। আজ আমি হসপিটালের সবাইকে মিষ্টি খাওয়াবো।

রাফি চলে যায় মিষ্টি কিনতে। তারপর রাফি মা আর আফরিনের মা ভাইয়া ভাবি সবাই আসে। সবাই অনেক খুশি হয়েছে।

দুদিন পর আফরিন আর তাদের বাবুকে বাসায় নিয়ে আসে। তাদের ছেলে সন্তান হয়েছে। আর ছেলের নাম রিজভী।

রাফি তার ছেলের আর আফরিনের সম্পূর্ণ খেয়াল রাখে। তাদের এখন সুখের পরিবার।

তার কয়েক মাস পর নিলিমার মেয়ে হয়। মেয়ের নাম আরোহী।

৬ বছর পর

রিজভী : মা মা ও মা(ডাকতে ডাকতে বাসায় ঢুকে)
আফরিন : কি হলো বাবাটা স্কুল থেকে চলে এসেছে?
রিজভী : মা জানো আজকে আরোহী অন্য একটা ছেলের সাথে বসে ছিলো। আমার সাথে বসেনি।

(আপনাদের বলা হয়নি। নিলিমারা ৪ বছর আগে আফরিনদের পাশের ফ্ল্যাট নিয়েছে। তাই রিজভী আর আরোহী এক সাথে খেলাধুলা করে অনেক মারামারি করে আর একই স্কুলে ভর্তি হয়েছে। আরোহী মানে নিলিমার মেয়ে আফরিনকে মামনি বলে ডাকে। আর আফরিনের ছেলে রিজভী নিলিমাকে মামনি বলে ডাকে।)

আরোহী : মামনি জানো ও না একটা মেয়ের সাথে অনেক কথা বলেছে।
রিজভী : তার জন্য তুই অন্য ছেলের সাথে বসবি?
আরোহী : তুই অন্য মেয়ের সাথে কথা বলতে পারলে আমি অন্য ছেলের সাথে বসতে পারবো না কেনো?

রিজভী : তুই আমার সাথে ছাড়া অন্য কোনো ছেলের সাথে বসবি না।
আরোহী : তুই অন্য মেয়ের সাথে কথা বলস কেনো?

আফরিন : আরে আরে কি হচ্ছে এইসব? তোমরা নিজেরা নিজেদের মধ্যে ঝগড়া করছো কেনো? ভালো ছেলে মেয়েরা এইভাবে ঝগড়া করে না।

রিজভী : সরি আম্মু
আরোহী : সরি মামনি
আফরিন : হয়েছে এইবার তোমরা দুজন যাও ফ্রেশ হয়ে আসো আমি খাবার দিচ্ছি।

রিজভী আর আরোহী নিজেদের রুমে চলে যায়। তখনই নিলিমা আসে।

আফরিন : ভাবি আসো আসো।
নিলিমা : কি করছিস।
আফরিন : কি আর করবো রিজভী আর আরোহীর ঝগড়া থামাইলাম।

নিলিমা : এই দুই ছেলে মেয়েটা হয়েছে এক রকম। সব সময় নিজেদের মধ্যে ঝগড়া করবে কিন্তু কেউ কাউকে ছাড়া থাকতে পারবে না।

আফরিন : হুম। ঠিক বলছো।

নিলিমা : আজকে রিজভী আমাদের বাসায় থাকবে। ওর মামা ওর আর আরোহীর জন্য একটা গিফট এনেছে।

আফরিন : ভাইয়া এখন কোথায়।
নিলিমা : ওদের স্কুল থেকে এনে ফ্রেশ হয়ে খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে।
আফরিন : ভাইয়া আজকে অফিসে যায়নি?
নিলিমা : দুই ছেলে মেয়ের সাথে সময় কাটাবে এই জন্য আর অফিসে যায়নি।
আফরিন : ওওও
নিলিমা : হুম

রিজভী : মামনি
আরোহী : মা
নিলিমা : আব্বু আম্মু তোমরা ফ্রেশ হয়েছো।
আরোহী : জ্বী আম্মু

আফরিন : এইবার দুজন চট করে খেয়ে নাও তারপর ভাইয়া তোমাদের ঘুরতে নিয়ে যাবে।
রিজভী : সত্যি
নিলিমা : হুম সাথে একটা গিফটও আছে।

রিজভী আরোহী খাওয়া দাওয়া করে নিলিমার সাথে চলে যায়। রাতের বেলা রাফি বাসায় ফিরে।

রাফি : আফরিন
আফরিন : হে বলো
রাফি : বাসা এতো খালি খালি লাগছে কেনো? মা কোথায় রিজভী আরোহী কোথায়?

আফরিন : মা তো ঘুমিয়ে পড়েছে। আর রিজভী আরোহী ভাইয়ার বাসায়। আজকে থাকবে। ভাইয়া ওদের সাথে একটু সময় কাটাবে।

রাফি : ওওওও
আফরিন : হুম। তুমি ফ্রেশ হয়ে আসো আমি খাবার দিচ্ছি।
রাফি : ঠিক আছে

রাফি ফ্রেশ হয়ে আসে রাফি আফরিন দুজন খাবার শেষে সব কাজ শেষ করে উপড়ে যায়। আফরিন ফ্রেশ হয়ে এসে বিছিনা গুছিয়ে রাখে।

রাফি : বউ
আফরিন : কি আজকে এতো সুন্দর করে ডাকা হচ্ছে কেনো কি মতলব?

রাফি আফরিনকে একটানে নিজের কাছে নিয়ে আসে।

রাফি : কেনো তুমি বুঝ না?
আফরিন : না বুঝি না একটু বুঝিয়ে বলবেন স্যার?
রাফি : আমার মনে হচ্ছে রিজভী আর আরোহীর ছোট একটা বোন চাই ওদের সাথে খেলাধুলা করার জন্য।

আফরিন : মাত্র বুঝলাম তোমার মতলব কি।
রাফি : বুঝছো যখন এইবার কাছে আসো।

রাফি আফরিনকে খাটে শুইয়ে দেয় আর সে আফরিনের দিকে এগিয়ে যায়। আর আফরিনের উপর ঝাপিয়ে পড়ে।

আফরিন : এই এই কি করছো?

রাফি আফরিনের ঠোঁটে ঠোঁট মিলিয়ে দেয় আফরিনকে আর কিছু বলার সুযোগ দেয় না। দুজন দুজনাতে হারিয়ে যায়। হারিয়ে যায় ভালোবাসার এক অতল সাগরে।

সমাপ্ত

Writter :- Sadia Afrin


Also Read Our New Story

ভিলেন এ্যাকশন লাভস্টোরি
Writer- Monna Hossain


আকাশের এন্ট্রি দেখে যে কারোরেই ভয় পাওয়ার কথা আকাশ একা নয় সাথে আরো অনেকগুলি ছেলে আছে। সবার হাতে বন্দুক আছে।

আকাশকে আসতে দেখেই আরোহীর বাবা এগিয়ে গেলেন...

আকাশঃ সামনে থেকে সরুন আংকেল বুঝতেই পারছেন আজ আমি কারোর কোন কথাই শুনব না আরোহীকে আমি নিতে এসেছি পৃথিবীর কোন শক্তিই আজ ওকে আমার কাছে থেকে সরাতে পারবে না তাই অযথা ঝামেলা বাড়িয়ে কি লাভ? সরুন প্লিজ।

কয়েকটা ছেলে আরোহীর বাবাকে সরিয়ে দিল।আকাশ এবার আরোহীর কাছে গেল।

আজ আরোহীর বিয়ে বাড়ি ভর্তি আত্মীয় স্বজন পাত্র পক্ষও চলে এসেছে কিন্তু বিয়ে পড়ানোর আগ মুহুর্তে আকাশ নামের এই মসীবত এসে হাজির হয়েছে। 

আকাশ এবার আরোহীর সামনে গিয়ে দাঁড়াল। 

তারপর আরোহীর থুতনিতে হাত দিয়ে বলল……

বাহ কি সুন্দর সেজেছিস রে আরোহী...দেখি দেখি বাপরে লিপষ্টিক পরেছেও তাও লাল রং এর।

আকাশ এবার আরোহীর হাত টেনে বলল মেহেদীও পড়েছিস নাকি দেখি বাহ সাহস তো ভালই হয়েছে দেখতে পাচ্ছি...

তবে এটা বুঝলাম না সেজেগুঁজে ঢং করার অধিকার তোকে কে দিল..??একবারো বুক কাঁপলো না?

আকাশের কথা বলার ধরন দেখেই আরোহীর পরাণ পাখি উড়ে গেল কারন আকাশ সাধারনত এভাবে কথা বলে না...আর মেয়েদের গায়ে হাত তো একেবারেই দেয় না। তাও এত লোকের সামনে....

আরোহী ভয়ে ভয়ে বলল ভ ভ ভ ভাইয়া বস না...

আকাশঃ হ্যা বসতে তো পারতামেই কিন্তু হাতে যে একদম সময় নেই বোন অনেক কাজ বাকি। চল তোকে এখন আমার সাথে যেতে হবে।

আরোহীঃ আ আ আমার তো আজ বিয়ে ভাইয়া আমি কি করে যাব..... 

কথা শেষ হওয়ার আগেই আকাশ স্বজোরে আরোহীর গালে থাপ্পড় বসিয়ে দিল। আরোহী ছিটকে গিয়ে নিচে পড়ল। আকাশ গিয়ে আরোহীর চুলের মুটি ধরে টেনে তুলল..

আকাশঃ আজ তোর কি যানি আবার বল..? শুনতে পাই নি। আকাশ দাঁতে দাঁত চেপে বলল আমাকে না জানিয়ে তুই বিয়ের পীড়িতে বসিস এত সাহস কই পেলি? আচ্ছা চল তোর বিয়ে করার শখ আমি মিটিয়ে দিচ্ছি।বলেই আরোহীকে টানতে লাগল আকাশ।

আরোহীঃ তুই আমার কাজিন হয়ে এমন ভিলেনের মত আচারন কি করে করছিস ভাইয়া?

আকাশঃ মুখ দিয়ে আর একটা শব্দ বের হলে এখানেই মেরে পুঁতে রেখে দিব বলে বরপক্ষের সামনেই আরোহী কে নিয়ে আকাশ বেরিয়ে গেল।

আকাশের সাথের ছেলেদের প্রত্যেকের হাতে গান ছিল তাই কেউ কিছু বলার সাহস পেল না।

আকাশ আরোহীকে গাড়ীতে করে নিয়ে যাচ্ছে...

চলুন এবার দেখে আসি এই আরোহী আর আকাশ কে...........................

পুরো গল্প পড়ুন

Leave a Comment

Home
Stories
Status
Search
Account