বাংলা প্রেমের গল্প – রাগী স্যার যখন ডেভিল হাসবেন্ড পর্ব 13

Ragi Sir Jokhon Devil Husband

Sadia Afrin { Part 13 }


আমি : সেদিন তো আমি স্যারকে সবার সামনে অপমান করে ছিলাম। স্যারের গালে থাপ্পড় ও মেরেছিলাম তারপরও স্যার কেনো আমাকে বিয়ে করলো?

ভাবি : রাফি তোকে খুব ভালোবাসে তাই তোকে বিয়ে করেছিলো। প্রথম ভেবেছিলো তোর কাছ থেকে সব অপমানের প্রতিশোধ নিবে কিন্তু ভালোবাসার মানুষের থেকে কি আর প্রতিশোধ নেওয়া যায়? তাই রাফি তোর সাথে নতুন করে জীবন শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো।

আমি : কিন্তু স্যার আমাকে এই সব ঘটনা বলে নাই কেনো তুমিও বা বলো নাই কেনো?
ভাবি : রাফি না করে ছিলো। রাফি নিজেই বলতে চেয়েছিলো। কিন্তু তার আগেই তুই সব শেষ করে দিলি।

আমি : না। আমি রাফি স্যারকে অনেক ভালোবাসি। আমি স্যারের কাছে ক্ষমা চাইবো। আমি রাফি স্যারের কাছে যাবো।

ভাইয়া : ঠিক আছে যাবি কিন্তু এখন না সকালে।
আমি : আমি এখনই যাবো।
ভাবি : পাগলামি করিস না এখন ঘুমা সকালে যাবি। তোর ভাইয়া তোকে দিয়ে আসবে।
ভাইয়া : হে আমি তোকে দিয়ে আসবো এখন ঘুমা।

এইদিকে রাফি বাসায় চলে এসেছে। দরজায় কলিং বেল এর আওয়াজে রাফির আম্মুর ঘুম ভেঙে যায়। দরজা খুলে দিতেই রাফি ভেতরে চলে আসে।

রাফির মা : আফরিন কোথায়?
রাফি : আসে নাই।
রাফির মা : কেনো?
রাফি : সে আর আসবে না।
রাফির মা : আর আসবে না মানে?
রাফি : সে আমার সাথে সংসার করবে না।

রাফির মা : আমি আফরিনের সাথে কথা বলবো।
রাফি : কথা বললেও কিছু হবে না।
রাফির মা : আমি এখন যাবো আফরিনকে নিয়ে আসতে।
রাফি : তুমি রুমে যাও
রাফির মা : আমি আফরিন কে নিয়ে এসে তারপর রুমে যাবো।
রাফি : মা তুমি এখন ঘুমাও আমি সকালে নিয়ে যাবো।
রাফির মা : সত্যি নিয়ে যাবি?
রাফি : হে সত্যি নিয়ে যাবো।

তারপর রাফি তার মাকে রুমে দিয়ে এসে নিজেও নিজের রুমে চলে গেলো। ঘুম আসছে না। আফরিনের জন্য খুব কষ্ট লাগছে।

রাফি : সত্যিই কি আমাদের ডিবোর্স হয়ে যাবে? আফরিন কেনো আমাকে আটকালো না। আসলে আফরিন কখনোই আমাকে ভালোবাসেনি। ঠিক আছে আমি ও তাকে ভুলে যাবো। কখনো বলবো না ভালোবাসি।

কারো চোখে ঘুম নেই দুজনেই না ঘুমিয়ে রাত পার করলো। খুব ভোরে রাফির মা রাফিকে ডাক দিলো।

রাফি : মা ডাকছো?
রাফির মা : রেডি হ
রাফি : কেনো?
রাফির মা : রেডি হতে বলছি।
রাফি : কেনো সেটা তো বলো‌।

রাফির মা : আফরিন কে আনতে যাবো।
রাফি : যেতে হবে না।
রাফির মা : তুই কিন্তু বলেছিলি যাবি আর তুই যদি না যাস তাহলে আমি একাই যাবো।
আমি : আচ্ছা দাঁড়াও আমি আসছি।

তারপর রাফি তার আম্মুকে নিয়ে রওনা দিলো আফরিনদের বাসার দিকে। আফরিন ঘুম থেকে উঠে রেডি হচ্ছে তার ভাইয়ার সাথে রাফির বাসায় যাবে।

এদিকে রাফিরা বাসার সামনে চলে এসেছে। রাফি তার মাকে বাসার সামনে নামিয়ে দিয়ে চলে যায়। তার মা অনেক বুঝিয়ে বলে ভেতরে যাওয়ার জন্য তাও যায় না। বাসার সামনে থেকেই অফিসে চলে যায়।

রাফির মা ভেতরে ডুকেই আফরিন কে ডাকতে শুরু করে,

মা : আফরিন মা, মা কোথায় তুমি?

রাফির আম্মুর আওয়াজ পেয়ে প্রথম আফরিন একটু অবাক হলেও দৌড়ে রাফির মায়ের সামনে আসে। এসে সালাম করে। পিছনে ওকিঝুকি মারতে দেখে মা জিজ্ঞেস করে,

মা : কি দেখছো?
আফরিন : না কিছু না।
মা : রাফি আসছিলো কিন্তু ভেতরে আসে নাই। বাসার সামনে থেকে চলে গেছে।

এই কথা শুনে আফরিনের মন খারাপ হয়ে যায়।

মা : তুমি রেডি হও আমি তোমাকে নিতে এসেছি।
আফরিন : আগে চলুন খাওয়া দাওয়া করবেন। খাওয়া-দাওয়া সেরে পরে যাবো।

তারপর সবাই একসাথে খাওয়া দাওয়া করে। খাওয়া-দাওয়া শেষে আফরিন রেডি হয়।‌ আফরিনের ভাই তাদের বাসায় ছেড়ে আসে। যেতে যেতে রাত হয়ে যায়।

আফরিন : মা আপনার ছেলেকে বলবেন না যে আমি চলে এসেছি।
মা : আচ্ছা ঠিক আছে মা।

তারপর আফরিন নিজের রুমে যায় ফ্রেশ হয়ে খুব সুন্দর করে সাজে। একটা কালো রঙের শাড়িও পড়েছে। আফরিন কে আজ খুব সুন্দর লাগছে।

রাত প্রায় ১০ টা বাজে তখন কলিং বেলের আওয়াজ আসে। দরজাটা তার মা-ই খুলে দেয়।

রাফি : মা কেউ আসে নাই?
মা : কে আসবে?
রাফি : না মানে
মা : আর মানে মানে মানে করতে হবে না খেতে আয়
রাফি : বাইরে থেকে খেয়ে আসছি। তুমি ঘুমাতে যাও।

রাফি আর কিছু না বলে সোজা উপরে নিজের রুমে চলে যায়। রুমে গিয়ে দেখে রুমে লাইট নেই কিন্তু পুরো রুম ছোট ছোট মোমবাতি দিয়ে খুব সুন্দর করে সাজানো হয়েছে।

রাফি আসতে আসতে রুমে ডুকে। হঠাৎ দরজা অফ হয়ে যায়। রাফি পিছন ফিরে দেখে কেউ নেই। সামনে ফিরতেই দেখে কেউ একজন কালো শাড়ি পরে একটা মোমবাতি নিয়ে মুখের সামনে ধরে রেখেছে।

রাফি : এই কে আপনি?

তখনই মোমবাতিটি সরিয়ে ফেলে। আফরিন কে দেখে রাফি রিতিমতো অবাক।

রাফি : তুমি?

আফরিন আস্তে আস্তে রাফির দিকে এগিয়ে আসে। হাতে থাকা মোমবাতিটা নিভিয়ে ফেলে। তারপর রাফির কলারে ধরে নিজের কাছে নিয়ে আছে। রাফি আর আফরিনের নিশ্বাস একে অপরের মুখে পড়ছে।

আফরিন যেই রাফিকে কিস করতে যাবে তখনি রাফি আফরিনের থেকে দূরে সরে যায়। আফরিন রাফিকে জড়িয়ে ধরে। রাফি আফরিন কে ছাড়িয়ে খাটের উপর কোট রেখেই ঘুমিয়ে পড়ে।

ওহ হে একটা কথা বলা হয়নি। রাফি বাসায় আসার আগে ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে ছিলো। নরমাল ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে ছিলো। তেমন কোনো ক্ষতি হবে না। রাফি ঘুমের ট্যাবলেটের প্রভাবে শুয়ে পড়তেই ঘুমিয়ে পড়ে।

আফরিন রাফিকে অনেক ডাকাডাকি করে কিন্তু রাফি গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন।

আফরিন আর ডাকাডাকি না করে রাফির পায়ের জুতা মুজা খুলে দেয়। সুন্দর করে বালিশে শুইয়ে দেয়। তারপর নিজেও রাফিকে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে পড়ে…….

Click Here For Next :চলবে

Writer :- Sadia Afrin

Leave a Comment

Home
Stories
Status
Search
Account