খুনশুটি প্রেমের গল্প – রাগী স্যার যখন ডেভিল হাসবেন্ড পর্ব 7

Ragi Sir Jokhon Devil Husband

Sadia Afrin { Part 7 }


আমি ফ্রেন্ডসদের সাথে কথা বলছি তখন একটা পিচ্চি এসে বললো কেউ একজন আমাকে ক্লাস রুমে ডাকছে। আমি বললাম তুমি যাও আমি আসছি। তারপর ফ্রেন্ডসদের সাথে কথা বলতে বলতে ভুলে যাই কেউ আমাকে ডাকছে।

রাফি : আমি আফরিনকে ভালোবাসি আজ এই কথা ওকে বলবোই। অনেক দিন ধরে বলার চেষ্টা করছি কিন্তু পারছি না। আমি আজি ওকে প্রপোজ করবো। পিচ্চি ছেলেটাকে পাঠালাম ওকে ডাকার জন্য কিন্তু ও এখনো আসছে না কেনো?

হঠাৎ কেউ একজন ক্লাস রুমে ঢুকলো।

রাফি : কে?

; চিনতে পারছো না কে?

রাফি : মিম তুমি?
মিম : হে আমি।
রাফি : তুমি কবে দেশে ফিরলা আর এখানে কেনো?
মিম : পুরোনো সব হিসাব শেষ করতে এসেছি।
রাফি : দেখো আজ ভার্সিটিতে অনেক বড় একটা অনুষ্ঠান হচ্ছে আজ কোনো গন্ডগোল করবা না।

মিম : তুমি আমাকে সবার সামনে অপমান করেছো আজ আমিও তোমাকে সবার সামনে অপমান করবো।

রাফি : মানে?

মিম কিছু না বলে দরজা লক করে দিলো। তারপর রাফি সামনে এসে নিজের জামার হাতা ছিঁড়তে শুরু করলো আর জোরে জোরে চিৎকার করতে শুরু করলো।

মিম : বাঁচাও কেউ আমাকে বাঁচাও।
রাফি : কি করছো তুমি এইসব।

মিম রাফিকে জড়িয়ে ধরে চিৎকার করতে শুরু করলো।

আমি ফ্রেন্ডদের সাথে বসে ছিলাম তখন আমার মনে হলো পিচ্চি ছেলেটা বলছিলো কেউ আমাকে ডাকছে। তাই আমি ক্লাস রুমের দিকে গেলাম। হঠাৎ কারো চিৎকার শুনলাম।

আমি : কে ভেতরে দরজা খুলো

তখনি একটা মেয়ে দরজা খুলে আমাকে জড়িয়ে ধরলো। তার জামা কাপড়ের অবস্থা দেখে আমি আমার ফ্রেন্ডদের ডাকতে শুরু করলাম।

সবাই আমার ডাক শুনে ছুটে আসলো। আমার ফ্রেন্ডের এক্সট্রা একটা ওড়না ছিলো ঐটা দিয়ে মেয়েটার শরীর ডেকে দিলাম।

আমি : তোমার নাম কি আর এই অবস্থা কেনো?
মেয়াটা : আমি মিম। ও আমাকে, (বলেই কান্না করে দিলো)

ইতিমধ্যে সবাই চলে এসেছে। তারপর রাফি স্যার ক্লাস রুম থেকে বেরিয়ে আসলো। তার মানে রাফি স্যার? না না এটা হতে পারে না।

প্রিন্সিপাল : রাফি সাহেব আপনি?
অয়ন স্যার : রাফি সাহেব শেষ পর্যন্ত আপনি এই কাজ করলেন?
রুনা মেম : আপনাদের মতো কিছু শিক্ষকের জন্য আজ সব স্কুল কলেজ ভার্সিটির শিক্ষক শিক্ষিকার উপর গার্ডিয়ানের অভিযোগ।

আমি কিছু বলতে পারছি না। চোখ দিয়ে অঝোরে পানি পড়ছে। আমি যে এই রাগী খরুচ স্যারটাকে ভালোবেসে ফেলেছি। কিন্তু সে কোনো মেয়ের ইজ্জতের উপর হাত দিবে এটা ভাবতে পারিনি।

আমি আস্তে আস্তে স্যারের সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। স্যার আমাকে কিছু বলতে যাবে তখনই আমি সজোরে একটা থাপ্পড় মারলাম স্যারের গালে।

রাফি স্যার : আমাকে মারছো আমি কিছু মনে করবো না। কিন্তু আমার কথা তো শানো।
আমি : চুপ একদম চুপ। তোর মতো একটা খারাপ ছেলের থেকে আমি কিছুই শুনতে চাই না।

আমি নিলিমাকে নিয়ে বাসায় চলে আসলাম।

রাফি স্যার : প্রিন্সিপাল স্যার বিশ্বাস করুন আমি কিছু করিনি।

মিম : স্যার ও আমাকে এখানে ডেকেছিলো বলেছিলো কি একটা প্রয়োজন। আর যখন আমি আসলাম তখন উনি দরজা অফ করে দিয়ে আমাকে…. (আবার কান্না করতে থাকলো)

রাফি : স্যার ও মিথ্যা বলছে।
অয়ন স্যার : চুপ করুন। আপনার লজ্জা করে না এখনো কথা বলছেন?
প্রিন্সিপাল : আপনার থেকে এটা আশা করিনি মিস্টার রাফি।
রাফি : আমার কথা কেউ বিশ্বাস করছেন না কেনো? ওকে আমি নির্দোষ এটা প্রমাণ করে তবেই যাবো এখান থেকে।

রাফি কম্পিউটার রুমে গেলো সেখানে ঐ সময়ের সিসি টিভি ফুটেজ বের করে সবাইকে দেখালো আসলে কি হয়েছিলো ঐ সময়।

রুনা মেম : সরি স্যার আপনাকে আমরা ভুল বুঝেছিলাম।
অয়ন স্যার : না জেনে আপনাকে এভাবে অপমান করা ঠিক হয়নি আই আম ভেরি সরি স্যার।
প্রিন্সিপাল : না জেনে অনেক কথা বলে ফেলেছি। প্লিজ কিছু মনে করবেন না।সরি।

রাফি : না স্যার সরি কেনো বলছেন আপনি? প্রিয়ো জনেরাই যদি অবিশ্বাস করে তাহলে অপর জনেরা আর কি করবে।

প্রিন্সিপাল : সবার পক্ষ থেকে আমি সরি বলছি।
রাফি : স্যার আমি আর এই স্কুলে শিক্ষকতা করতে পারবো না। আমি আমার বাবার নিজ কোম্পানীতে জয়েন করবো।
প্রিন্সিপাল : কিন্তু,
রাফি : কোনো ভুল করে থাকলে মাফ করবেন। আল্লাহ হাফেজ।

এইদিকে আমি বাসায় এসে দরজা বন্ধ করে কাঁদছি। কখনো প্রিয়ো মানুষটাকে এভাবে দেখবো ভাবতে পারিনি। আজ এই হাত দিয়ে আমার প্রিয়ো মানুষটাকে থাপ্পড় মারলাম। নিজের প্রতি খুব রাগ হচ্ছে।

রাফি স্যার বাসায় না গিয়ে বারে চলে যায়। অনেক মদ্দ্যপান করে বাসায় ফিরার মাঝ পথে গাড়ি রেখে বাইরে এসে গাড়ির উপর এসে বসে। তখনই বৃষ্টি পড়তে শুরু করে।

রাফি : কিরে আকাশ তরো কি আমার মতো মন খারাপ? তোর মনেও কি আমার মতো কষ্ট। আমার মতো তোর প্রিয়ো মানুষটাও কি তোকে ভুল বুঝেছে। সবাই আমাকে ভুল বুঝেছিলো তাতে আমার কোনো আক্ষেপ ছিলো না। কিন্তু আমার প্রিয়ো মানুষটা আমাকে কেনো ভুল বুঝেছে। ঐ আকাশ উত্তর দে না আমাকে। ( কান্না করতে করতে রাস্তায় বসে পড়লো।)

কিছুক্ষণ পর রাফি নিজেকে স্বাভাবিক করে উঠে দাড়ালো।

রাফি : আমি আর কাঁদবো না। যতোটা কষ্ট আমি পেয়েছি তার চেয়ে বেশি কষ্ট আমি তোমাকে দিবো মিস আফরিন। আমার গালে থাপ্পড় দেওয়ার প্রতিশোধ আমি নেবো।

তখনই কেউ একজন রাফির কাদে হাত রাখলো,

রাফি : কে?
মিম : আমি?
রাফি : তুমি এখানে কেনো এসেছো? আর কি চাও তুমি? আমাকে আরো অপমান করাতে চাও তুমি?

মিম : সরি রাফি আমি অনেক বড় ভুল করেছি। প্লিজ আমাকে মাফ করে দাও। আমি কালকেই কানাডায় চলে যাবো আর কখনো বাংলাদেশে আসবো না। এতো বড় একটা পাপের বোঝা নিয়ে আমি দেশ ছাড়তে পাড়রো না। প্লিজ আমাকে তুমি মাফ করে দাও।( রাফির পা জড়িয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলল)

রাফি : তুমি আমার লাইফটাকে শেষ করে দিয়েছো। তার পরেও তোমাকে আমি মাফ করে দিচ্ছি কারণ তুমি তোমার ভুল বুঝেছো। এখন বাসায় ফিরে যাও অনেক রাত হয়েছে।

মিম : Thank you Rafi
রাফি : যাও।

তারপর মিম চলে গেলো। রাফিও গাড়ি নিয়ে বাসায় চলে গেলো। সে শপথ করলো নিজেকে অনেকটা পরিবর্তন করে ফেলবে। আবার ফিরে আসবে আফরিনকে কষ্ট দেওয়ার জন্য।

এই দিকে আমি পুরো ভেঙে পড়েছি। অনেক দিন হয়েগেছে ভার্সিটিতে যাই না। আমি স্থির করেছি আমি আর ঐ ভার্সিটিতে যাবো না। নিলিমাও বাসার কাজে মনোযোগ দেয়। আর পড়াশোনা করবে না। আমি অন্য একটা ভার্সিটিতে ভর্তি হই।

এভাবেই অনেক দিন চলে যায়। অনার্স শেষ আমার। ভাইয়া আর মা সিদ্ধান্ত নেয় আমার বিয়ে দিবে। অনেক ছেলে পক্ষ দেখতে আসে আমি বিভিন্ন বাহানায় বিয়ে ভেঙে দেই।

সকাল বেলা ঘুমিয়ে ছিলাম। তখন আম্মু এসে বললো আজ আমার বিয়ে তাড়াতাড়ি রেডি হতে।

Click Here For Next :চলবে

Writer :- Sadia Afrin

Leave a Comment

Home
Stories
Status
Search
Account