বাংলা রোমান্টিক গল্প – রাগী স্যার যখন ডেভিল হাসবেন্ড পর্ব 14

Ragi Sir Jokhon Devil Husband

Sadia Afrin { Part 14}


আফরিন রাফিকে অনেক ডাকাডাকি করে কিন্তু রাফি গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন।

আফরিন আর ডাকাডাকি না করে রাফির পায়ের জুতা মুজা খুলে দেয়। সুন্দর করে বালিশে শুইয়ে দেয়। তারপর নিজেও রাফিকে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে পড়ে।

পরদিন সকালে সবার আগে রাফির ঘুম ভাঙে। ঘুম ভাঙতেই দেখে আফরিন তার বুকে শুয়ে আছে।রাফি কিছুক্ষণ আফরিনের দিকে মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। তারপর কি জানি মনে করে আফরিন কে নিজের থেকে ছাড়িয়ে ওয়াশ রুমে চলে যায়।

কিছুক্ষণ পর আফরিনের ঘুম ভাঙে।রাফি কে না দেখে চারপাশে খুঁজতে থাকে। তখনই রাফি ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে আসে। আফরিন কিছু বলতে যাবে তার আগেই রাফি রুম থেকে বের হয়ে যায়।

তারপর আফরিন হতাশাগ্রস্থ হয়ে ওয়াশ রুমে চলে যায়।
আফরিন এখনো শাড়ি পড়তে পারে না তাই সে শাড়ি পড়ার জন্য শাড়ি নিয়ে দাড়িয়ে আছে। তখনই রাফি রুমে ঢুকলো।আফরিন কে এই অবস্থায় দেখে সরি বলে চলে যাইতে চাইছিলো তখনই আফরিন রাফি কে ডাক দেয়,

আফরিন : প্লিজ দাঁড়ান

রাফি পিছন না ঘুরেই দাঁড়ালো

আফরিন : শাড়ি পড়তে হেল্প করবেন প্লিজ?

রাফি কিছুক্ষণ ভেবে আফরিনের কাছে আসে। আফরিনের কাছে যেতেই রাফির কেমন একটা ফিল হয়। রাফি সেদিকে খেয়াল না করে মন দিয়ে শাড়ি পড়াচ্ছে আর আফরিন মুগ্ধ দৃষ্টিতে রাফির দিকে তাকিয়ে আছে।

শাড়ি পড়ানো শেষে রাফি চলে যেতে চাইছিলো তখন আফরিন রাফির হাত ধরে ফেলে। রাফির কাছে গিয়ে রাফির দুই পায়ের উপর দাঁড়ায় আর রাফির গলা জড়িয়ে ধরে।

রাফি নিজেকে সামলে নিয়ে আফরিনকে ছাড়িয়ে বাইরে চলে যায়। আফরিন এতে অনেকটা কষ্ট পায়। তারপর সে নিচে চলে যায়। গিয়ে দেখে রাফি মন দিয়ে খবরের কাগজ পরছে। প্রথমে ডাকতে চাইছিলো কিন্তু পরে আর ডাক দেয় নাই। আফরিন রাফির জন্য কফি নিয়ে আসে।

রাফি আফরিনের দিকে না তাকিয়েই কফি নেয় তারপর আবার খবর পড়তে শুরু করে।

আফরিন কিছু না বলে রান্না ঘরে চলে যায় রান্না বসায়। সে মন খারাপ করে সবজি কাটছে আর বার বার রাফির দিকে তাকাচ্ছে। হঠাৎ করে ছুঁড়ি দিয়ে তার হাত কেটে যায়। ব্যাথায় আফরিন ওহ্ শব্দ করতেই রাফি দৌড়ে রান্না ঘরে যায়। গিয়ে দেখে আফরিনের হাত কেটে গেছে।

রাফি : একি হাত কাটলো কিভাবে?

রাফি আর কিছু না বলে রুমাল দিয়ে আফরিনের হাত বেঁধে দিলো।

রাফি : হালিমা,,,,, হালিমা,,,,,(বাসার কাজের মেয়ে)
হালিমা : জ্বী স্যার
রাফি : তুমি একটু রান্না ঘরের কাজটা সামলাও ওর হাত কেটে গেছে।

তারপর রাফি আফরিন কে উপরে নিয়ে যায়।

রাফি : বসো।(চেয়ারে বসিয়ে দেয়)
রাফি : সবজি কাটতে গিয়ে কি কেউ হাত কেটে ফেলে? আর সবজি কাটার সময় মন কোথায় থাকে?
আফরিন : আপনার কাছে

রাফি আর কিছু না বলে First aid kit নিয়ে আসে।আফরিনের হাত সুন্দর করে ডেসিন করে বেন্ডেজ করে দেয়।

আফরিন এক দৃষ্টিতে রাফির দিকে তাকিয়ে আছে। মুখে মুচকি হাঁসি।

রাফি আফরিন কে অনেক বকাঝকা করে। আর আফরিন রাফির এরকম শাসন করা দেখে মুচকি হাসছে।

আফরিন : একদিকে ভালোই হয়েছে হাত কাটার অযুহাতে আপনি আমার সাথে কথা তো বলেছেন।

রাফি আফরিনের হাত ধরে ছিলো। হাত ছেড়ে সে বাইরে চলে যায়। আফরিন এখনো মুচকি মুচকি হাসছে।

রাফি কিছুক্ষণ পর আফরিনের জন্য সুপ করে নিয়ে আসে। আফরিন চেয়ারেই বসে ছিলো। রাফি আফরিনকে বললো,

রাফি : এখানে এসে বসো।

আফরিন গিয়ে রাফির গলা জড়িয়ে ওর কুলে বসে পড়লো।

রাফি : আমি এখানে বসতে বলছি?
আফরিন : তাহলে কোথায় বসবো আমি?
রাফি : এতো বড় খাট থাকতে তুমি বসার জায়গা পাও না?
আফরিন : না

রাফি : আফরিন কে নিজের কুল থেকে নামিয়ে খাটে বসিয়ে দেয়। তারপর আফরিন কে সুপ খাইয়ে দেয়।

রাতের বেলা,,,,

আফরিন সুন্দর করে সেজেছে। আয়নায় নিজেকে দেখছে আর নিজেই লজ্জা পাচ্ছে। তখনই রাফি রুমে ডুকে।

রাফি : মা খেয়েছে?
আফরিন : হুম। মায়ের রাত জাগা বারন তাই মাকে ঔষধ খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে রেখে আসছি।

রাফি এখানো আফরিনের দিকে তাকিয়নি। রাফি ওয়াশ রুমে চলে যায় তারপর শাওয়ার নেয়। রাফি খালি গায়ে বাইরে বের হয়ে আসে শুধু টাওয়েল পড়া। আফরিন তো রাফির বডি দেখে ফিদা।

রাফির শরীর দিয়ে টুপ টুপ করে পানি ঝড়ছে। আফরিন যেনো কোনো নেশায় আটকে গেছে। আস্তে আস্তে সে রাফির দিকে এগিয়ে আসে। রাফি নিজের মতো চুল মুছছে।

আফরিন সোজা রাফির সামনে চলে যায়। সে রাফির বুকে হাত রাখে। হঠাৎ রাফির বুকে কেউ হাত রাখায় রাফি ভয় পেয়ে যায়। একটু দূরে সরে গিয়ে অন্য টাওয়েল দিয়ে শরীর ডেকে ফেলে।

আফরিনের হুম ফিরলে লজ্জা পেয়ে অন্য দিকে ঘুরে যায়। আর জিব্বায় কামড় দিয়ে মনে মনে নিজেকে বকতে শুরু করে।

রাফি : এই কি করলা তুমি?
আফরিন : কককই কি করলাম
রাফি : আর একটুর জন্য তো আমি হার্ট অ্যাটাক করতাম।

আফরিন : দোষটা আপনার আপনি খালি গায়ে বাইরে বের হয়েছেন কেনো? যে কোনো মেয়ে আপনাকে এভাবে দেখলে হুশ হারিয়ে ফেলবে।(লাস্টের কথা বলে লজ্জা পেয়ে গেলো)

রাফি আর কিছু না বলে শার্ট প্যান্ট নিয়ে ওয়াশ রুমে চলে গেলো তার পর এগুলো পড়ে বাইরে বের হয়ে আসলো।

রাফি লক্ষ করে আজ আফরিন খুব সুন্দর করে সেজেছে। সে সেদিকে পাত্তা না দিয়ে শুয়ে পড়ে। আফরিন পিছনে ফিরে দেখে রাফি শুয়ে পড়েছে।

আফরিন : রাতের খাবার খাবেন না?
রাফি : আমি রাতে খাই না।
আফরিন : ওহ
রাফি : লাইট অফ করে শুইবা নাকি এভাবেই খাম্বার মতো দাঁড়িয়ে থাকবা?

আফরিন লাইট অফ করে রাফির পাশে শুয়ে পড়ে। দুজনেই জেগে আছে। আফরিন ঘুমের ভান ধরে রাফির কাছে যায়।রাফি একটু সরে যায় আফরিন আবার কাছে যায়।এক পর্যায়ে রাফি বুঝতে পারে আফরিন জেগে আছে।

রাফি আফরিনের দু হাত শক্ত করে ধরে ওর উপরে চলে আসে।

রাফি : আমার সাথে ফাজলামি করছো?
আফরিন : নাননা
রাফি : না তাহলে বার বার আমার দিকে গেছিলে কেনো?

আফরিন কিছু বলতে পারছে না কারণ রাফি তার উপর শুয়ে আছে। রাফির খেয়ালই নাই ও কোথায় আছে।

রাফি : কি হলো বলো

আফরিন অনেক ভয় পাচ্ছে কারণ রাফি প্রথম বার নিজের ইচ্ছায় তার অনেক কাছে এসেছে।

রাফি কিছুক্ষণ পর বুঝতে পারে সে আফরিনের উপর শুয়ে আছে। রাফি তাড়াতাড়ি ওর উপর থেকে নেমে যায়। রাফি নেমে যেতেই আফরিন উঠে বসে। আফরিন লাইট জ্বালিয়ে ঢক ঢক করে গ্লাসের সব টুকু পানি শেষ করে ফেলে।

রাফি : I'm sorry আমি বুঝতে পারিনি।

আফরিন কিছু না বলে ভয় পেয়ে খাটের কর্নারে এসে শুয়ে পড়ে।

পরদিন সকালে আফরিন তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠে। ফ্রেশ হয়ে নিচে যায় সবার জন্য নাস্তা তৈরি করে। রাফির আম্মু আফরিন কে সব কাজ শিখিয়ে দিয়েছে। আফরিন তার শ্বাশুড়ি মায়ের জন্য চা নিয়ে যায়।

আফরিন : মা এই নিন আপনার স্পেশাল চা।
মা : আসো মা বসো।
আফরিন : কিছু বলবেন মা

মা : তোমাদের বিয়ের তো প্রায় সপ্তাহ খানেক হলো। আমি ভাবছি তোমরা দূরে কোথাও থেকে ঘুরে আসো।

আফরিন : তোমরা কি মা? যদি কোথাও ঘুরতে যাই তাহলে আমরা সবাই যাবো আপনাকেও যেতে হবে।

মা : আমার পাগলি মেয়ে এখন কি আর আমার ঘুরার বয়স এখন তো তোমাদের ঘুরাঘুরি করার বয়স।

আফরিন : না মা আপনাকে যেতে হবে।

মা : বাচ্চামি করে না আমি যেটা বলছি সেটাই। আমি তোমার আর রাফির জন্য টিকিট কেটে রাখছি।

আফরিন : কিন্তু,
মা : কোনো কিন্তু না। রাফির সাথে আমি কথা বলবো।
আফরিন : আচ্ছা ঠিক আছে মা।

আফরিন রাফির জন্য কফি নিয়ে যায়। গিয়ে দেখে রাফি কার সাথে জানি হেসে হেসে কথা বলছে।

আফরিন : কফি এনেছি কারো যদি হাসাহাসি শেষ হয় তাহলে সে যেনো কফিটা খেয়ে নেয়।

রাফি ফোনে কথা বলা শেষ করে কফি নিয়ে বেলকুনিতে চলে যায়।

আফরিন নিচে নামছে আর ভাবছে,

আফরিন : রাফি কার সাথে এভাবে হেসে হেসে কথা বলছে। কই আমার সাথে তো একবারও হেসে কথা বলে না। আচ্ছা ও কি কোনো মেয়ের সাথে কথা বলছে? যদি মেয়ের সাথেই কথা বলে তাহলে মেয়েটি কে? মেয়েটির সাথে রাফির সম্পর্ক কি? এটা আবার রাফির কোনো গার্লফ্রেন্ড নয় তো?

আফরিন তুই পাগল হয়ে যাবি।

Click Here For Next :চলবে

Writer :- Sadia Afrin

Leave a Comment

Home
Stories
Status
Search
Account