বাংলা প্রেমের গল্প – রাগী স্যার যখন ডেভিল হাসবেন্ড পর্ব 16

Ragi Sir Jokhon Devil Husband

Sadia Afrin { Part 16 }


আফরিন তাদের রুমে গিয়ে খাটের উপর শুয়ে বালিশ জড়িয়ে কাঁদতে থাকে তখনই রাফি ও রুমে আসে। এসে দেখে আফরিন কাঁদছে।

রাফি : তুমি যা ভাবছ তা না।

রাফি আফরিনের কাছে গিয়ে বলে,

রাফি : প্লিজ আমার কথাটা শুনো
আফরিন : আমাকে একদম টাচ করবেন না।

আফরিন শুয়া থেকে উঠে বাইরে বের হয়ে যেতে চায় রাফি তার হাত ধরে ফেলে।

রাফি : কোথায় যাচ্ছো তুমি?

আফরিন : যেখানেই যাবো আপনার থেকে অনেক দূরে যাবো। আমার জন্য আপনাকে আর কষ্ট করতে হবে না। ছাড়ুন আমার হাত।

রাফি দরজা লক করে দেয়।

রাফি : আগে তুমি আমার কথা শুন

আফরিন : কি শুনবো আপনার কথা। আর কি বলার বাকি আছে আপনার। আমাকে নিয়ে তো আপনার যতো সমস্যা। আমার জন্য আপনি আপনার প্রেমিকাকে আপনার ঘরে আনতে পারছেন না।

রাফি : আফরিন তুমি যা ভাবছ তা সঠিক নয় আগে আমার কথা শুনো।

আফরিন : আমার আর কিছু শুনার বাকি নেই। কি নেই আমার মাঝে যা ঐ মেয়ের মাঝে আছে। আমি কি দেখতে এতইখারাপ যার কারণে আপনি ঘরে বউ অন্য একটা মেয়ের সাথে সম্পর্ক রাখছেন। ঐ মেয়ে আপনাকে যা দিতে পারবে আমি কি তা দিতে পারবো না। অবশ্য আপনি আমাকে কেনো ভালোবাসবেন আপনি তো ঐ রাস্তার……..

আফরিন আর কিছু বলতে পারলো না তার আগেই রাফি তার গালে একটা থাপ্পড় বসিয়ে দেয়। তাল সামলাতে না পেরে আফরিন ফ্লোরে পড়ে যায়।

রাফির এরকম ভয়ংকর রুপ দেখে আফরিন ভয় পেয়ে যায়। রাফি আফরিনকে নিচ থেকে তুলে খাটে ছুঁড়ে মারে। আফরিন রাফির এরকম আচরণ দেখে খুব বেশি ভয় পেয়ে যায়।

রাফি তার গায়ের শার্ট খুলে ঝাঁপিয়ে পড়ে আফরিনের উপর। আফরিন প্রথমে বাধা দিলেও রাফির সাথে পেরে উঠে না। আফরিন অসহায়ের মতো রাফির দিকে তাকিয়ে থাকে কিন্তু রাফির সেদিকে মন নেই।

রাফি তো তার সমস্ত রাগ আফরিনের উপর ঝাড়ছে। আফরিনের কিছু বলার উপায় নেই সে শুধু নিরবে চোখের জল ফেলছে।

পরদিন সকালে,

শরীরের পচন্ড ব্যাথায় আফরিনের ঘুম ভেঙে যায়। চোখ মেলে দেখে রাফি কাল রাতে তার উপর পশুর মতো নির্যাতন করার ফলে দুর্বল হয়ে তার উপরেই শুয়ে আছে।

আফরিন আবারো কাল রাতের কথা ভেবে নিরবে কাঁদতে থাকে। সে রাফির থেকে স্ত্রীর অধিকার আশা করতো কিন্তু এভাবে না। ভালোবাসার সাথে তার অধিকার পেতে চাইতো। একটা মেয়ের তার স্বামীর থেকে যা পাওয়ার তা আফরিন পেয়েছে কিন্তু সেটা ভালোবাসা না সেটা হলো রাগ।

রাফি আফরিনকে ভালোবেসে কাছে টেনে নেয়নি বরং তার পুরুষত্ব দেখিয়েছে। আফরিনের চোখের জল বাঁধ মানছে না। কারো ফুঁপিয়ে কান্নার আওয়াজে রাফির ঘুম ভাঙে।

রাফি দেখে সে আফরিনের উপর শুয়ে আছে। কাল রাতের কথা মনে পড়তেই তার নিজের উপরই রাগ হয়। রাফি তাড়াতাড়ি আফরিনের উপর থেকে সরে যায়।

রাফি জামা কাপড় পড়ে ওয়াশ রুমে চলে যায় ফ্রেশ হয়ে এসে দেখে আফরিন এখনো কান্না করছে। রাফি কালকের কথা ভেবে নিজের উপর খুব রেগে আছে। আফরিনের চোখের পানি দেখে তার খুব বেশি কষ্ট হচ্ছে।

রাফি আর সহ্য করতে না পেরে বাইরে চলে যায়। রাফি চলে যাওয়ার পর আফরিন শুয়া থেকে উঠে গায়ে একটা চাদর জড়িয়ে ওয়াশ রুমে চলে যায়। আফরিন ঠিক মতো হাঁটতে পারছে না। সারা গায়ে ব্যাথা অনুভব করছে। ওয়াশ রুমে গিয়ে জামা কাপড় পড়ে শাওয়ারের নিচে বসে কান্না করতে থাকে।

প্রায় ২ ঘন্টা পর রাফি তার আর আফরিনের জন্য খাবার নিয়ে রুমে আসে। কিন্তু রুমে কোথাও আফরিন কে দেখতে পায় না। বাথরুমে পানির আওয়াজ পেয়ে ভাবে হয়তো আফরিন শাওয়ার নিচ্ছে। তাই সে খাবার প্লেটে সাজিয়ে আফরিনের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। প্রায় ১ ঘন্টা অপেক্ষা করার পরও আফরিন বাইরে বের না হওয়ায় রাফি বিরক্ত হয়ে আফরিনকে ডাকা শুরু করে। কিন্তু কোনো শারা শব্দ পায় না শুধু পানি পড়ার শব্দই পাওয়া যাচ্ছে।



রাফি অনেকক্ষণ ডাকার পরও দরজা না খুলায় রাফি একটু টেনশনে পড়ে যায়। তাই রিসিপশন থেকে চাবির আরেক কপি নিয়ে আসে। তারপর তাড়াতাড়ি করে দরজা খুলে। দরজা খুলে দেখে আফরিন বাথরুমে অঙ্গান হয়ে পড়ে আছে। রাফি আফরিনকে তাড়াতাড়ি কোলে নিয়ে খাটে শুইয়ে দেয়।

আফরিনের ঙ্গান ফিরতেই দেখে সে খাটে শুয়ে আছে। উঠার চেষ্টা করছিলো কিন্তু ব্যার্থ হয়ে আবার শুয়ে পড়ে। তখনই রাফি রুমে ডুকে। আফরিনের ঙ্গান ফিরেছে দেখে বেস্ত হয়ে আফরিনের কাছে আছে।

রাফি : ঙ্গান ফিরেছে তোমার। এখন কেমন লাগছে? শরীর কি এখনো দুর্বল লাগছে? কিছু খাবে এখন?

আফরিন কিছু বলছে না রাফির দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। পরক্ষনেই রাফির কাল রাতে তার উপর করা অত্যাচারের কথা মনে পড়তেই অন্য দিকে মুখ ঘুরিয়ে নেয়।

রাফি আফরিনের জন্য খাবার নিয়ে আসে। আফরিনকে বসানোর জন্য ওকে ধরতে যেতেই আফরিন একটু ভয় পেয়ে যায়।

রাফি : বসো। আমি তোমাকে উঠে বসতে সাহায্য করছি।

আফরিন অনেক মানা করে কিন্তু সে নিজেও দূর্বলতার কারণে উঠে বসতে পারছিলো না তাই রাফি তাকে ধরে উঠিয়ে বসিয়ে দেয়।

রাফি : তোমার ফেভারিট বিরিয়ানি এনেছি। নাও খাও।(মুখের সামনে খাবার নিয়ে বলে)
আফরিন : আমি খাবো না।
রাফি : খেয়ে নাও তারপর ঔষধ খেতে হবে।
আফরিন : খাবো না বললাম তো।

আফরিন লক্ষ করলো তার গায়ের শাড়ি নেই অন্য একটা জামা পড়ানো।

আফরিন : আমার গায়ের শাড়ি কোথায়?
রাফি : ঐটা ভিজে গেছিলো তাই ঐটা চেঞ্জ করে অন্য জামা পড়িয়েছি।
আফরিন : তার মানে আপনি,,,,
রাফি : আগে খাও তারপর কথা হবে। (মুখের সামনে খাবার নিয়ে)
আফরিন : আমি খাবো না।(খাবার ফেলে দেয়।)

খাবার ফেলে দিতে দেখে রাফি খুব রেগে যায় আর সজোরে আফরিনকে একটা চড় মারে।

আফরিন সেখানে বসে বসে বাচ্চাদের মতো কান্না করতে শুরু করে। রাফি নিজের রাগ সামলে নিয়ে আফরিনকে সরি বলে।

রাফি : I'm sorry আমি বুঝতে পারিনি। খাবারটা খেয়ে নাও নয়তো আবার শরীর খারাপ হয়ে যাবে।

আফরিন ভয়ে আর কিছু বলতে পারে না। রাফি তাকে খাইয়ে দেয় সেও লক্ষী মেয়ের মতো খেয়ে নেয়।

তারপর রাফি আফরিনকে ঔষধ খাইয়ে সব পরিষ্কার করে। বাইরে অনেক ঝড় বইছে। এতোক্ষণ শুধু হাওয়ায় হচ্ছিলো কিন্তু হঠাৎ অনেক জোরে জোরে বিদ্যুৎ চমকাতে শুরু করে।

আফরিন ভয়ে কান্না করে দেয়। আফরিনের কান্নার আওয়াজ পেয়ে রাফি তাড়াতাড়ি ওর কাছে ছুটে যায়। আফরিন ভয়ে রাফি কে জড়িয়ে ধরে। রাফি ও ব্যাপারটা বুঝতে পেরে আফরিনকে বুকে আগলে নেয় আর তার ভয় দূর করার চেষ্টা করে।

আফরিন কাঁদতে কাঁদতে রাফি কে জড়িয়ে ধরেই ঘুমিয়ে পড়ে।

পরদিন সকালে রাফি তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠে। তারপর রেডি হয়ে কোথাও একটা চলে যায়। আফরিন কিছুক্ষণ পর ঘুম থেকে উঠে। ওঠে দেখে সকাল হয়ে গেছে। পাশের টেবিলে দেখে একটা চিরকুট।

চিরকুটে লেখা: Good morning. ঘুমটা নিশ্চই ভালো হয়েছে। তোমার খাবার আমি আনিয়ে রেখে আসছি। তুমি খেয়ে নিয়ো। আমার বাসায় ফিরতে একটু দেরি হবে।

আফরিন শুয়া থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে খাবার না খেয়েই রুম থেকে বের হয়ে যায়। পুরো হোটেলটা ঘুরে ঘুরে দেখে।হোটেলটা সত্যিই খুব সুন্দর।

আফরিন আনমনে হাঁটছে হঠাৎ সে কারো সাথে ধাক্কা লেগে পড়ে যেতে নিতেই কেউ একজন তাকে ধরে ফেলে।

Click Here For Next :চলবে

Writer :- Sadia Afrin

Leave a Comment

Home
Stories
Status
Search
Account