Romantic Love Story Bangla Valobashi Dujone Part 12

 

Valobashi Dujone { EID SPECIAL }

Imtihan Imran ( Part – 12 )

ওয়াচ টাওয়ার থেকে নামতে ফারিন পড়ে যেতে নিলেই সিজান ফারিনকে ঝাঁপটে ধরে ফেলে। ফারিন ভয় পেয়ে সিজানকে জড়িয়ে ধরে।

 

” সবাই দেখছে তুই যে আমাকে জড়িয়ে ধরেছিস।

 

সিজানের কথা শুনে ফারিন, সিজানকে ছেড়ে দেয়। ফারিনের মুখ দেখে মনে হচ্ছে সে লজ্জা পাচ্ছে। ফারিনকে কম্পোটেবল করতে সিজান বলে,

 

” একটু সাবধানে তো নামবি। এতো তাড়াহুড়োর কিছু নেই।

” সর‍্যি।

” ঠিকাছে ঠিকাছে। 

 

সিজান, ফারিন ওয়াচ টাওয়ার থেকে নেমে দাঁড়ায়।

 

আপাতত রাতারগুল ভ্রমণ শেষ। এখন যাওয়ার পালা জাফলং। সব স্টুডেন্টস একত্রিত হয়ে যার যার  জিপ’এ উঠে বসে পড়ে।

Valobashi Dujone Romantic Love Story

 

জাফলং প্রকৃতির কন্যা হিসেবে পরিচিত। সিলেটে যতগুলো দর্শনীয় স্থান আছে, তার মধ্যে জাফলং সবার পছন্দ। সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ভারতের মেঘালয় সীমান্ত ঘেঁষা প্রকৃতির দানে রূপের পসরা সাজিয়ে বসে আছে সিলেটের জাফলং। পাথরের উপর দিয়ে বয়ে চলা পিয়াইন নদীর স্বচ্ছ পানির ধারা, ঝুলন্ত ডাউকি ব্রিজ, উঁচু উঁচু পাহাড়ে মেঘেদের খেলা জাফলং কে করেছে অনন্য। 

 

একেক ঋতুতে জাফলং একেক রূপ ধারণ করে, যা পর্যটকদের সারাবছর ভ্রমনের জন্য আগ্রহী করে তুলে।

 

স্টুডেন্টদের জিপ জাপলং এসে পৌছায়। সবাই জিপ থেকে নেমে আশেপাশে নজর বুলায়। আশেপাশে অনেক দোকান দেখা যাচ্ছে। ফারিন সিজানের কাছে গিয়ে বলে,

 

” সিজান দোকান থেকে আমার জন্য একটা পানির বোতল এনে দাও।

” ওকে দাঁডা তুই।

 

সিজান দোকানে চলে যায় পানির বোতল আনার জন্য। ফিরে এসে ফারিনকে ছাড়া আর কাউকে দেখতে পায় না। সবাই প্রকৃতির সৌন্দয্য, জাফলং এর সৌন্দয্য দেখায় সাড়া দিয়েছে।

 

” কীরে তুই একা দাঁড়িয়ে আছিস কেনো?

” তো কী করবো? তোমাকে তো পানি আনতে পাঠালাম।

” আচ্ছা এই নে তোর পানির বোতল। 

” হুম।

Love Story Bangla

 

সিজান, ফারিন সেখানকার উঁচু ঢালে দাঁড়ায়। সামনে যতদূর চোখ যায়, ভারতের পাহাড়ের উপর বানানো দৃষ্টিনন্দন বাড়ি ও রিসার্ট চোখে পড়ে তাদের। সেই সাথে চোখে পড়ে মেঘ পাহাড় কে ছুঁয়ে দিচ্ছে। 

 

” সিজান,কী সুন্দর বাড়ি ও রিসোর্ট গুলো। আমার তো ওখানেও যেতে ইচ্ছে করছে।

পড়ুন  মুখোশ – রহস্যময়, রোমান্টিক প্রেমের গল্প পর্ব ৮ | মোনা হোসাইন

 

ফারিনের কথা শুনে সিজান না হেসে পারে না। সে ফারিনকে বলল,

 

” ওখানে তো যাওয়া যাবে না ম্যাম। বাড়ি ও রিসোর্ট গুলো ভারতে। ওখানে যেতে হলে আমাদের ভারতে যেতে হবে।

” আফসোস যেতে পারব না।

জাফলং এর মেইন্ট পয়েন্টে যেতে হলে সিড়ি বেয়ে নিচে নামতে হবে। নেমেই পানির ধারা বেয়ে হেটে সামনে এগুতে হবে। কয়েকজন এই কাজটাকে এতো জটিল করে ফেলেছে দেখে, সিজান হাসতে হাসতে লুটিপুটি খায়। সামান্য সিড়ি অতিক্রম করে, পানির ধারা অতিক্রম করতে এদের নাজেহাল অবস্থা দেখেই সিজানের এমন হাসির কারন। কাজটা এতোটাও জটিল না, যতোটা তারা দেখাচ্ছে। সিজান সিড়ি বেয়ে নামতে গেলে, ফারিন ডাক দেয়।

 

” কী হয়েছে?

” আমাকে হাত ধরে নামতে সাহায্য করো।

” তুই বাচ্চা নাকি।

” বাচ্চা হই আর যা হই নামাও আমাকে।

 

সিজানও কথা না বাড়িয়ে রাজি হয়ে যায়। সে ফারিনের হাত ধরে। দুজনে সিড়ি বেয়ে নিচে নেমে যায়। এখন ছোট্ট পানির ধারা টা হেটে অতিক্রম করতে হবে। এবার ফারিন শক্ত করেই সিজানের হাত আকড়ে ধরে।

 

সিজানের হাত ধরেই ফারিন ছোট্ট পানির ধারা টা পায়ে হেটে পার হয়।

 

এখানে জাফলং এর মূল জায়গা টা। ভারতের বিভিন্ন ঝর্ণা পেরিয়ে পানির ধারা এখানে এসে বড় লেকের মতো জলাশয় তৈরি করেছে, ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে কিছু পাথর। মানুষ মূলত এই জলাশয়ে  সাঁতার কাটে কিংবা সীমানার ওপাশের ঝর্ণা থেকে নেম আসা জলধারার স্রোত উপভোগ করে। এই জলাশয়ের অপর পাশে যাওয়ার জন্য রয়েছে বোট। জনপ্রতি ২০ টাকা ভাড়া দিবে।

Valobashar Golpo Bangla

 

সিজান জলাশয়ে নেম পড়ে। কিন্তু ফারিন তো নামবে না, এতো এতো মানুষের ভিতর সে জলাশয়ে নেমে ভিজবে প্রশ্নই আসে না। তাই সে ফটো তোলার দায়িত্ব নিলো, সিজানের ক্যামেরা নিয়ে সে বিভিন্ন দৃশ্য বন্দী করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।

এইদিকে সিজান, আয়ান দুজনে পানিতে নেমে লাফালাফি শুরু করে দিয়েছে। একজন আরেকজনেকে পানিতে ডুবাচ্ছে। ফারিন নীলা দুজনে হাসতে হাসতে মরে যাচ্ছিল। ফারিন তো এদের এমন কান্ড কারখানার ফটো তুলতে মিস করে  নাই।

 

সিজান কাছে এসে ফারিনের দিকে পানি ছুঁড়ে মারে। সিজান দৌড়ে দূরে পালিয়ে যায়। সিজান আয়ান দুজনে জলাশয় থেকে উঠে আসে। এখন তারা জলাশয়ের অপর পাশে যাওয়ার জন্য বোটে উঠে।

পড়ুন  প্রেম কাহিনী – স্কুল জীবনের প্রেমের গল্প পর্ব 18 | Golpo

 

ফারিনের ইচ্ছে করছিল সিজানের দিকে পানি ছুঁড়ে মারতে। কিন্তু মেরে কী লাভ? এই সিজান তো আগে থেকেই জলে ডুবে আছে।

 

বোট থেকে নেমে খানিক টা পথ হাটতেই সংগ্রামপুঞ্জী ঝর্ণা। হাটার সময় পায়ে স্যান্ডেল রাখলে ভালো হয়। বালু গরম হয়ে যায় রোদে, হাটার সময় কষ্ট হয়। সংগ্রামপুঞ্জী ঝর্ণা দেখতে ভালোই, এর পানিও বেশ ঠান্ডা। প্রকৃতপক্ষে পাথুরে  পাহাড় বেয়ে নেমে আসা সকল পানির ধারাই হিমশীতল।

 


Also Read Those Related Love Story

  1. Valobashi Dujone Part – 1

  2. Valobashi Dujone Part – 2

  3. Valobashi dujone Part 9

  4. Valobashi dujone Part 10

  5. Valobashi dujone Part 11


 

বোট থেকে নেমেই তারা সংগ্রামপুঞ্জী ঝর্ণার কাছে যাওয়ার জন্য হাটতে থাকে। ফারিনের জুতা জোড়া হাতেই ছিল, বালিতে পা পড়তেই সে গরম অনুভব করে, সাথে সাথেই পায়ে জুতা পরিধান করে।

 

” বাবারে বাবা! কি গরম!

” হুদাই আসলাম আমরা এক জায়গায়ও ভিজতে পারব না।

 

নীলার বিরক্তি মাখা কথা শুনে আয়ান হেসে উঠে।

 

” কিছু করার নাই মেরি দোস্ত। এখানে আপনাদের জন্য কোনো আলাদা ব্যবস্থা নাই, যে আপনারা সেখানে গিয়ে ভিজবেন। আপাতত আমাদের ব্যাগ পত্র পাহাড়া দেন। আমি, সিজান ঝর্ণায় গোছল করে আসি।

 

” সেটাই তো তখনও করছি এখনও করব।

 

সিজান আয়ান চলে যায় ঝর্ণায় গোছল করার জন্য। দুজনের ঠান্ডা ঝর্ণার পানি বেয়ে অনেকটা উপরে উঠে যায়। ফারিন জোরে সিজানকে ডাক দিয়ে হুশিয়ার করে দেয়, আর যেনো উপরে না উঠে।

 

সেখানে থাকা গার্ড রাও তাদের উপরে উঠতে নিষেধ করে। যার কারনে সিজান আয়ান বেশি উপরে উঠে না। প্রায় আধাঘণ্টার মতো কাটিয়ে তারা ফিরতি পথ ধরল।

 

সংগ্রামপুঞ্জী ঝর্ণা যে এলাকায় সেখানে বর্ডার মার্কেটের মতো বসে। কিছু ইন্ডিয়ান কসমেটিকস ও অন্যান্য দ্রব্য পাওয়া যায়।

 

ফারিন নিজের জন্য একটা ঝিনুকের মালা পছন্দ করে। নিজে টাকা দিতে চাইলে সিজান দিতে না করে। সে বলে,

 

” টাকা লাগবে, এটা আমার পক্ষ থেকে তোর জন্য গিফট।

 

ফারিনও এতে খুশি হয়। সিজান ঝিনুকের মালার সাথে একটা ক্যাপ ও ফারিনকে কিনে দেয়।

পড়ুন  রাগী স্যার যখন ডেভিল হাসবেন্ড পর্ব 8 – বাংলা প্রেমের গল্প

 

সংগ্রামপুঞ্জী এলাকার পাশেই রয়েছে খাসিয়া পল্লী। সিজান চেয়েছিল ফারিনকে নিয়ে দেখিয়ে আনতে। কিন্তু সময় স্বল্পতার কারনে সেখানে আর যাওয়া হয়নি। তারা বোটে করে আবার এপারে ফিরে আসে। সিড়ি বেয়ে উপরে উঠে আসে। এখানে একটা পাঁচ ভাই রেস্টুরেন্টে ঢুকে তারা হালকা কিছু খেয়ে ফিরে আসার জন্য জিপে উঠে।। এবং সন্ধ্যার সময় তারা সিলেট শহরে ফিরে আসে।

 


Also, Read These Another Love Story


 

ফ্রেশ হয়ে বিছানায় বসতে না বসতে হোটেল কতৃপক্ষ জানায়, সামনে একটা গানের কন্সার্ট হচ্ছে। প্রতিবছর এই দিনে একটা উৎসবকে ঘিরে এই কন্সার্টের আয়জন করা হয়। অবশ্য কী উৎসব তা জিজ্ঞেস করা হয়নি। জনপ্রিয় শিল্পী ইমরান আসবে এবারের কন্সার্টে।

 

সবার সাথে সাথে সিজান ফারিনও যায় কন্সার্টে গান শুনতে। একের ভিতর দশ পাচ্ছে।মন্দ না ব্যাপারটা।

 

সিজান ফারিন পাশাপাশি সিটে বসে পড়ে। নতুন, ছোট ছোট শিল্পীরা গান গেয়ে যাচ্ছে। কিন্তু শিল্পী ইমরান এখনো আসছে না কেনো? ফারিন তো বিরক্তি নিয়ে সিজানকে জিজ্ঞেস করে,

 

” এখনো ইমরান আসছে না কেনো?

” আমিও তো তোর সাথে এখানে বসে আছি ৷ আমি কীভাবে জানবো?

 

কিছুক্ষণ পর কতৃপক্ষ মাইকে এনাউন্সমেন্ট করে বলে, 

 

” আপনাদেরকে দুঃখের সাথে জানানো যাচ্ছে যে, কণ্ঠশিল্পী ইমরান হঠাৎ অসুস্থ হয়ে যাওয়ায় তিনি আসতে পারবেন না।     {  EID SPECIAL }

Click Here For Next Part-    চলবে…

 

Writer- ইমতিহান ইমরান

 

Join Our { FB PAGE } and { FB GROUP } For Every Single Minutes Update Of  { Golper Jogot- Largest Story Platform }. Also Please Share Our Story On Your Social Media Platform and with Your Friends. 

Leave a Comment

Home
Stories
Status
Account
Search