Sad Premer Golpo Love Never Ended Part 19 | END Part

Love Never Ended { Eid Special }

ইলোরা জাহান ঊর্মি  { P.19 – END }

 

 

সন্ধ্যার আকাশে চাঁদ মামা তার সম্পূর্ণ আলো ছড়িয়ে দিয়েছে। সেই আলো পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে সন্ধ্যার অন্ধকার খানিকটা কাটিয়ে দিয়েছে। ঢাকার রাস্তায় ইলেকট্রিসিটির আলোর তোপে চাঁদের আলোটা খুব একটা প্রভাব ফেলতে পারে না। চারপাশের সব দালানকোঠার ঝকমকে আলো আর রাস্তার পাশের ল্যাম্প পোস্টের আলোতে চাঁদের সুন্দর আলোটা ঠিক চোখে পড়ে না। 

যানবাহনপূর্ণ ব্যস্ত রাস্তা পেরিয়ে কিছুটা নিরিবিলি পরিবেশের দিকে ধীর গতিতে ছুটছে একটা দামি গাড়ি। গাড়ির ভেতরে পিনপতন নীরবতা। সামনের দুটো সিটে বসা দু’জন ব্যক্তির কারো মুখেই কোনো কথা নেই। 

ড্রাইভিং সিটে বসা ব্যক্তিটি মনোযোগ দিয়ে ড্রাইভ করলেও মাঝে মাঝে আড়চোখে পাশের মানুষটির থমথমে মুখের দিকে তাকাচ্ছে। পাশের মানুষটির মাঝে কথা বলার কোনো লক্ষণ না দেখে সে নিজেই গলা ঝেড়ে বলে উঠলো,“কোথাও বসে কথা বলবে? কোনো রেস্টুরে……।

Emotional Sad Love Story Bangla

রাইফের কথা শেষ করতে না দিয়ে আভা থমথমে গলায় উত্তর দিলো,

আভা: না। গাড়ি থামাও। গাড়িতে বসেই কথা বলবো।

রাইফ ভ্রূকুটি করে আভার মুখের দিকে তাকিয়ে একবার পরখ করে নিলো। মনের মাঝে ঝুড়ি ভর্তি প্রশ্ন জমে থাকলেও চুপচাপ রাস্তার একপাশে গাড়ি দাঁড় করালো। তারপর প্রশ্নভরা দৃষ্টিতে আভার দিকে তাকালো। আভা কয়েকটা ভারি নিঃশ্বাস ফেলে নিজেকে সামলে নিয়ে রাইফের দিকে তাকাতেই দু’জনের চোখাচোখি হয়ে গেল। প্রতিবারের মতো এবার আর আভা দৃষ্টি ফিরিয়ে নিলো না। স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে গম্ভীর কণ্ঠে বলল,

আভা: কতোবার ফোন করেছি আমি,ধরলে না কেন?

রাইফ: আজ একটু বেশিই ব্যস্ত ছিলাম। ফোন হাতে নেয়ার সময় হয়ে ওঠে নি। তাছাড়া ফোনটা সাইলেন্ট মুডে ছিল তাই শুনতেও পাই নি। সরি। তোমাকে আপসেট দেখাচ্ছে কেন?

রাইফের প্রশ্ন এড়িয়ে আভা হঠাৎ প্রশ্ন করে বসলো,

আভা: তুমি তো আমাকে এখনো আগের মতোই ভালোবাসো তাই না?

আভার প্রশ্নে রাইফ অবাক হয়ে গেল। আভার মনের মধ্যে কী চলছে কিছুতেই সে বুঝতে পারছে না। রাইফ যথাসম্ভব স্বাভাবিক ভাবেই বলল,

রাইফ: সন্দেহ আছে কোনো?

প্রশ্নের পিঠে প্রশ্ন শুনে আভা কিছুটা বিরক্ত হয়ে বলল,

আভা: প্রশ্ন করেছি উত্তর দিলেই তো হয়।

রাইফ এবার বিস্মিত কন্ঠে বলে উঠলো,

রাইফ: আশ্চর্য! মাত্র এক সপ্তাহ পর বিয়ে আর তুমি এখন সন্দেহ নিয়ে এই প্রশ্ন করছো আমাকে?

রাইফের কথা শুনে আভা চমকে উঠলো। চোখ বড়ো বড়ো করে রাইফের দিকে তাকালো সে। অবাক হয়ে কাঁপা কাঁপা গলায় প্রশ্ন করলো,

Heart Touching Sad Love Story Bangla

আভা: তুমি কীভাবে জানো?

রাইফ যেন আভার এমন প্রশ্নে আহাম্মক বনে গেল। রাইফের মাথাটা ফাঁকা হয়ে গেল। ডান হাত দিয়ে মাথা চুলকে বোকা বোকা কন্ঠে বলল,

রাইফ: আমি জানবো না তো কে…………..

রাইফের কথা শেষ না হতেই আভা ফুঁপিয়ে উঠলো। রাইফ কথা বন্ধ করে হতভম্ব হয়ে আভার দিকে তাকালো। আভার কান্নার সঠিক কারণ না বুঝতে পেরে কোমল কন্ঠে বলল,

রাইফ: আরে,কাঁদছো কেন তুমি? তখন ফোনের মধ্যে ও কান্নাকাটি করলে,এখন আবার শুরু করেছো। আভা প্লিজ কান্না থামাও আর আমাকে বলো কী হয়েছে। আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না।

আভা কান্নার মাঝেই অবাক হয়ে প্রশ্ন করলো,

আভা: তুমি সত্যিই বুঝতে পারছো না?

রাইফ অসহায় ভাবে মাথা নেড়ে বুঝালো সে কিছু বুঝতে পারছে না। আভা ঠোঁট ফুলিয়ে বলল,

আভা: বিয়ের কথা শুনেও তুমি চুপ করে বসে আছো?

রাইফ: মানে?

রাইফের বোকা বোকা প্রশ্নে আভা আরো ভেঙে পড়লো। সে দু’হাতে মুখ ঢেকে আরো জোরে ফুঁপিয়ে উঠলো। মুখ ঢাকা অবস্থাতেই ফুঁপাতে ফুঁপাতে ধরা গলায় বলল,

আভা: এ বিয়ে আমি করতে পারবো না। কিছুতেই না। আমাকে না জানিয়ে সবাই মিলে বিয়ে ঠিক করে বসে আছে। যে যাই করুক আমি এ বিয়ে করবো না।

রাইফ এবার দ্রুত আভার মুখ থেকে হাত দুটো টেনে সরিয়ে বিস্মিত কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো,

রাইফ: বিয়ে করবে না মানে? কী বলছো তুমি এসব? আমার উপর রাগ করে তুমি বিয়েটা ক্যান্সেল করতে চাইছো?

আভা এবার চটে গেল। এক ঝটকায় রাইফের হাত থেকে নিজের হাত ছাড়িয়ে কটমট চাহনি নিয়ে রাগান্বিত কন্ঠে বলল,

Bangla Valobashar Golpo

আভা: কী বলতে চাইছো? তুমি চাও আমি বিয়েটা করি? দু’দিন আগেও তো আমার রাগ ভাঙানোর জন্য উঠেপড়ে লেগেছিলে। আমার রাগ ভাঙাতে না পেরে তোমার মাথায় এতোটাই জেদ চেপে বসেছে যে এখন আমার বিয়ে হয়ে গেলেও তোমার কোনো আপত্তি নেই? এটাই দশ বছর ধরে ভালোবাসার পরিণাম? নাকি এখন আর আমাকে ভালোই লাগে না?

রাইফ যেন আকাশ থেকে পড়লো। অস্ফুট স্বরে বলল,

রাইফ: এসব কী বলছো আভা? পাগল হলে তুমি?

আভা আবার ফুঁপিয়ে উঠলো। হেঁচকি তুলে বলল,

আভা: এতো গুলো বছর ধরে একটা মানুষকে ভালোবেসে আমি কেন অন্য কাউকে বিয়ে করবো বলতে পারো? এমন হলে তো অনেক আগেই বিয়ে করে ফেলতাম আমি। আচ্ছা,তুমি কী সহ্য করতে পারবে আমি অন্য কারো বউ হলে? আমি জানি তুমি আমার উপর অভিমান করে এখনো চুপ করে আছো। তুমি চেয়েছিলে আমি নিজে তোমার কাছে ছুটে আসি? দেখো,তোমার চাওয়া-ই পূরণ হয়েছে। আমি শুধুমাত্র তোমাকেই ভালবাসি। 

আমার পাশে তুমি ব্যতিত অন্য কাউকে আমি দুঃস্বপ্নেও ভাবতে পারি না। তুমি আজ আমার অপেক্ষায় ছিলে তাই না? সেজন্যই তোমার কাছে ছুটে এসেছি। আমি পারবো না অন্য কাউকে বিয়ে করতে। আম্মু আর সামি কেন এমনটা করলো কিচ্ছু বুঝতে পারছি না। আমি তাদের না করে দিয়েছি। বলেছি আমি কোনোদিন ও এই বিয়ে করবো না। 

তবু যদি তারা বিয়েটা ক্যান্সেল না করে তাহলে আমি নিজেই ক্যান্সেল করে দেবো। নিজের কাছের মানুষদের হঠাৎ পরিবর্তনের কোনো মানেই আমি বুঝতে পারছি না। হঠাৎ করে কী থেকে কী হয়ে গেল এসব? সবাই তো জানে যে আমি দীর্ঘ চার বছর ধরে শুধুমাত্র একজনেরই অপেক্ষায় ছিলাম। আর আজ যখন আমি সেই মানুষটাকে পেয়েছি তখন তারা-ই আমার বিরুদ্ধে চলে গেছে।  আমার মাথা ঘুরছে রাইফ,আমি আর কিছু ভাবতে পারছি না। প্লিজ তুমি কিছু একটা করো প্লিজ।

আভার কথাগুলো শুনে রাইফ হতভম্ব হয়ে গেল। আভার দিকে সন্দিহান দৃষ্টিতে তাকিয়ে প্রশ্ন করলো,

রাইফ: তুমি কী জানো কার সাথে তোমার বিয়ে ঠিক হয়েছে?

আভা: জানার প্রয়োজন বোধ করি না। যেহেতু আমি বিয়েটা-ই করবো না সেহেতু কার সাথে বিয়ে ঠিক হয়েছে এসব জেনেও আমার কাজ নেই।

রাইফ: বিয়ের কথা বলার জন্য পাত্রপক্ষ থেকে কে গিয়েছিল তোমার বাসায়?

আভা: মধ্যবয়স্ক একটা লোক আর আমার বয়সী একটা মেয়ে।

রাইফ: তাদেরকে তুমি চেনো?

আভা এবার বিরক্ত হয়ে বলল,

আভা: আশ্চর্য! কীসব প্রশ্ন করছো তুমি? আমি তাদের চিনবো কীভাবে?

রাইফ পকেট থেকে ফোন বের করে গ্যালারিতে ঢুকে একটা ছবি আভার সামনে ধরে বলল,

রাইফ: দেখো তো এই লোকটা কিনা?

আভা ভ্রূকুটি করে একবার ফোনের দিকে আরেকবার রাইফের দিকে তাকালো। তারপর বিস্মিত কন্ঠে বলে উঠলো,

আভা: হ্যাঁ হ্যাঁ,এই লোকটাই তো। কিন্তু তোমার ফোনে এনার ছবি………

আভার কথা শেষ না হতেই রাইফ হুঁ হা করে হেসে উঠলো। রাইফের হাসি যেন থামতেই চাইছে না। আভা অবাক হয়ে রাইফের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। হঠাৎ এভাবে হাসা হাসির কোনো মানে বুঝতে পারছে না সে। রাইফ হাসতে হাসতেই প্রশ্ন করলো,

রাইফ: তুমি রওশন ভাইয়াকে এতো তাড়াতাড়ি ভুলে গেলে?

আভা আরো অবাক হলো। ভ্রূ কুঁচকে কিছু একটা ভেবে রাইফের হাত থেকে ফোনটা কেড়ে নিয়ে মনোযোগ দিয়ে ছবিটা দেখতে লাগলো। রওশনের চেহারাটা মনে করে ছবির সাথে মিলিয়ে দেখলো। না,তেমন কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। চার বছর আগে রওশন ভাইয়া এতো সুস্বাস্থ্যের অধিকারী ছিলেন না। 

Sad Love Story Bangla

এখনকার রওশন আর চার বছর আগের রওশনের মধ্যে আকাশ পাতাল তফাৎ। আভার স্পষ্ট মনে আছে রওশন ভাইয়ার বাঁ গালে বড়ো একটা তিল আছে। হ্যাঁ,ছবিতেও লোকটার বাঁ গালে ঐ রকমই একটা তিল। রাইফ হাসি থামিয়ে আভার বিস্ময়ভরা মুখের দিকে তাকিয়ে বলল,

রাইফ: আজ সকালে বুবু, রওশন ভাইয়া আর রওশন ভাইয়ার ছোট বোন রিমি তোমাদের বাসায় গিয়েছিল। ইয়া হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় বুবু ওকে নিয়ে বাড়ি চলে গিয়েছিল। রওশন ভাইয়া আর রিমি শুধুমাত্র রিং পড়ানোর জন্য তোমার জন্য অপেক্ষা করছিল। তার তাড়া ছিল তাই বোধ হয় তোমার সাথে তেমন কথা বলার সুযোগ হয় নি।

কিন্তু তুমি যে ভাইয়াকে চেনোই নি এটা কে জানতো? এটা আমাদের প্ল্যান ছিল। সামিদ আর হিয়া ও জানতো। আমরা ভেবেছিলাম তুমি সারপ্রাইজড হয়ে যাবে। আর রওশন ভাইয়াকে দেখলে তো চিনবেই। এখন দেখছি সব উল্টা পাল্টা হয়ে গেল। সারপ্রাইজড হওয়ার বদলে তুমি কেঁদে কেটে একাকার করে বসে আছো। সিরিয়াসলি! এসব শুনলে বাকি সবাই সারপ্রাইজড হয়ে যাবে।

……………………

কথাগুলো বলেই রাইফ আবার হাসতে শুরু করলো। আভা বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেছে। তার মুখ দিয়ে ‘টু’ শব্দটি পর্যন্ত বের হচ্ছে না। নিজেকে চরম বোকা মনে হচ্ছে তার। কতো বড়ো বোকামি সে করেছে ভাবতেই লজ্জায় মিইয়ে গেল। রাইফ কিছুক্ষণ আভার লজ্জা রাঙা মুখের দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। তারপর হঠাৎ আভার বাঁ হাতটা নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে বলল,

রাইফ: থাক আর লজ্জা পেতে হবে না। বাচ্চাদের মতো কান্নার স্বভাবটা এখনো গেল না। বিয়ের পর এসব বাচ্চামো চলবে না। আমি আমার সেই হাসিখুশি চঞ্চল আভাকে দেখতে চাই। কী? পারবে সেই আভাকে ফিরিয়ে দিতে?

আভা একবার রাইফের মুখের দিকে তাকিয়ে আবার দৃষ্টি নামিয়ে মুচকি হেসে মাথা নাড়লো। রাইফ ও মুচকি হাসি মুখে ঝুলিয়ে গাড়ি স্টার্ট দিলো। কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করার পর আভা হঠাৎ মিনমিনে গলায় প্রশ্ন করল,

আভা: আমরা কোথায় যাচ্ছি?

রাইফ: গেলেই দেখতে পাবে।

রাইফের কথার বিপরীতে আর কোনো কথা বলল না আভা। কিছুক্ষণের মধ্যেই রাইফ একটা নির্জন জায়গায় এসে গাড়ি থামালো। রাইফ গাড়ি থেকে নামতেই আভাও নেমে দাঁড়ালো। রাত প্রায় সাড়ে দশটা বেজে গেছে। এখন এমন নিস্তব্ধ জায়গায় আসার কারণ আভার অজানা। রাইফ এগিয়ে এসে আভার এক হাত মুঠোয় ধরে সামনের দিকে পা বাড়িয়ে বলল,

রাইফ: চলো।

Koster Golpo Bangla

আভার চোখে মুখে বিস্ময়। তবু সে বিনা বাক্যে রাইফকে অনুসরণ করলো। কিছুদূর গিয়েই রাইফ থেমে গেল। আভার বিস্ময় এবার আকাশ ছোঁয়ার জোগাড়। সামনেই বড়ো বড়ো দুটো ট্রাকের পাশে পুলিশ ফোর্স। পাশেই আসিফ হাসিমুখে পুলিশ অফিসারের সাথে কথা বলছে। তার থেকে বড়ো বিস্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে কয়েকজন লোককে হাতকড়া পরিয়ে পুলিশের লোক ধরে রেখেছে। তাদের মধ্যে একজনকে দেখেই আভা শুকনো ঢোক গিললো। 

এ তো জোহান চৌধুরী! কিন্তু এসব কী? আভা প্রশ্নভরা দৃষ্টিতে রাইফের দিকে তাকালো। রাইফ মুচকি হেসে সামনে এগিয়ে গিয়ে পুলিশ অফিসারের সাথে হ্যান্ডসেক করতে করতে বলল,

রাইফ: সরি অফিসার অনেক লেট হয়ে গেল।

অফিসার মুচকি হেসে জবাব দিলো,

অফিসার: ইট’স ওকে মি. রাইফ। মি. আসিফ আমাদের হেল্প করেছে। সত্যি,আপনারা পদক্ষেপ না নিলে জোহান চৌধুরীর মুখোশ খোলা সহজ হতো না। থ্যাঙ্কস আ লট।

রাইফ মুচকি হাসলো। কিছুক্ষণ অফিসারের সাথে কথা বলে জোহানের কাছে এগিয়ে গেল। জোহান এতোক্ষণ কটমট করে রাইফ,আসিফ আর আভার দিকে তাকাচ্ছিলো। রাইফকে তার দিকে এগোতে দেখেই হুঙ্কার ছেড়ে তেজি গলায় বলে উঠলো,

জোহান: তোকে আমি ছাড়বো না রাইফ। যেদিন আমি ছাড়া পাবো সেদিনই হবে তোর শেষ দিন।

রাইফ প্রশস্ত হেসে জোহানের শার্টের কলার ঝেড়ে বলল,

রাইফ: আফসোস! তোর সে আশা গুড়েবালি। তুই যে অপরাধ করেছিস তাতে তোর ছাড়া পাওয়ার সম্ভাবনা এক পার্সেন্টে এসে ঠেকেছে। এবার জেলখানায় বসে নিজেকে শোধরানোর চেষ্টা কর যা। ভালো থাকিস।


Also, Read These Emotional Sad Love Story

  1.  Love Never Ended Part 1

  2.   Love Never Ended  Part  2

  3.   Love Never Ended Part  3

  4. Love Never Ended Part 17

  5. Love Never Ended Part 18


জোহান আবার তেতে উঠলো। কিছু বলার জন্য মুখ খুলতেই পুলিশের লোক টেনে হিঁচড়ে ওকে গাড়িতে তুলে নিলো। আসিফ হাসিমুখে এগিয়ে আসতেই রাইফ তার সাথে কোলাকুলি করলো। আসিফ আভার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বলল,

আসিফ: আসসালামুয়ালাইকুম ভাবি। এখন তো আমার বন্ধুর বউ হয়ে যাচ্ছেন তাই আর নাম ধরে ডাকা যাবে না। যাইহোক সারপ্রাইজ গুলো কেমন দিলাম বলুন? প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সবটাই কিন্তু আমার প্ল্যান ছিল।

রাইফ: হ্যাঁ,তোর প্ল্যান মতো সারপ্রাইজ দিতে গিয়ে আমি নিজেই সারপ্রাইজড হয়ে বসে আছি। ইনি রওশন ভাইয়াকে চিনতেই পারেন নি। অন্য কারো সাথে বিয়ে ঠিক হয়েছে ভেবে কেঁদে কেটে দুনিয়া ভাসিয়ে দিচ্ছিলো।

আসিফ আর রাইফ মিলে এবার হাসাহাসি শুরু করলো। আভা কিছুক্ষণ গাল ফুলিয়ে ওদের দিকে তাকিয়ে থেকে নিজেও মুচকি হাসলো। পরক্ষণেই আসিফের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করলো,

আভা: জোহান চৌধুরীকে গ্রেপ্তারের ব্যাপারটা বুঝতে পারলাম না।

আসিফ: ওর ওপর আমাদের নজর ছিল তুমি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকেই। সেদিন জোহান-ই ওর লোক দিয়ে রাইফকে গুলি করে মারার চেষ্টা করেছিল। এটা জানার পর জোহানের কিছু লোককে টাকা দিয়ে হাত করে ওর ব্যাপারে সব তথ্য জোগাড় করেছি। আজ ওর দুই ট্রাক ড্রাগ দেশের বাইরে পাচার করার তথ্য ও জানতে পারি। সঙ্গে সঙ্গে আমরা পুলিশ অফিসারের সাথে এই ব্যাপারে যোগাযোগ করি। 


Also, Visit Those Bangla Love Story 


রাইফ জোহানকে ফোন করেছিল। ওর সাথে যা যা কথা হয়েছে তা রেকর্ড করে পুলিশের হাতে দিয়েছি। জোহান এসব কিছুই জানতো না। দশটায় ট্রাক ছাড়বে বলে ও নিজেও এখানে উপস্থিত ছিল। কিন্তু ওদের আগেই পুলিশ ফোর্স এখানে এসে আত্মগোপন করে ছিল। সুযোগ বুঝে তারা বেরিয়ে এসে ওদের হাতেনাতে ধরেছে। আমিও তাদের সাথেই ছিলাম। শান্তি লাগছে এখন। অবশেষে সব আপদ বিদায়।

বলেই আসিফ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো। রাইফ আসিফকে বুকে জড়িয়ে বলল,

রাইফ: অনেক বড়ো উপকার করেছিস ভাই। কৃতজ্ঞ থাকবো তোর কাছে।

আসিফ রাইফকে ঠেলে সরিয়ে দিয়ে চোখ ছোট ছোট করে তাকিয়ে বলল,

আসিফ: এতো কিছু বুঝি না। এবার আমার ডবল ট্রিট চাই।

রাইফ আসিফের পেটে হালকা ঘুষি মেরে বলল,

আভা: সুযোগের সদ্ব্যবহার। আচ্ছা যা ডবল ট্রিট-ই দেবো।

আসিফ: না দিয়ে যাবি কই? আচ্ছা আমার এখন বাড়ি ফিরতে হবে। এতো ব্যস্ততার মধ্যে বাসায় যাওয়ার সুযোগ হয় নি। কাল দেখা হবে। আসছি ভাবি।

আভা মুচকি হেসে মাথা নাড়লো। রাইফ ও হাসিমুখে বিদায় জানালো। আসিফ হাসিমুখে গাড়িতে উঠে অন্ধকারে মিলিয়ে গেল। আসিফ যেতেই রাইফ আভার হাত ধরে আবার নিজের গাড়ির কাছে ফিরে এলো। গাড়ির সামনে দু’জন মুখোমুখি দাঁড়িয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো। রাইফ দুষ্টু হেসে টিপ্পনী কেটে বলল,

রাইফ: তো মিসেস রাইফ। আপনার রাগ কী কমেছে? এবার কী এই অধমকে ক্ষমা করা যায়? নাকি সারাজীবন আমাকে প্রিয়ার বিরহে কাতর হয়ে থাকতে হবে?

Sad Story

আভা খিলখিল করে হেসে উঠলো। রাইফ মুগ্ধ চোখে প্রেয়সীর হাস্যোজ্জ্বল মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। যেন বহু বছর ধরে এই মুখটা দেখার অপেক্ষাতেই সে বেঁচে ছিল। আজ সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটেছে। আভা হাসিমাখা মুখেই জবাব দিলো,

আভা: মি. রাইফ। আমি আপনাকে ক্ষমা করতে পারি, তবে তার আগে আপনাকে আমার হাতটা ধরতে হবে। কয়েক সেকেন্ড বা মিনিটের জন্য না। আজীবনের জন্য। পারবেন কী?

রাইফ: আপনার কোমল হাতখানি ধরার জন্য এই অধম চারটি বছর ধরে অপেক্ষায় আছে। আমার হাতখানি বাড়িয়ে দিলাম মহারানী। দয়া করে আমার হাতে হাত রেখে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আমাকে ধন্য করুন।

রাইফের বাড়িয়ে রাখা হাতের দিকে তাকিয়ে আভা মুচকি হাসলো। পরক্ষণেই নিজের ডান হাতটা রাইফের বাড়িয়ে রাখা হাতের উপর রাখলো। রাইফ হঠাৎ নিজের পকেট হাতড়ে একটা রিং বের করে আভার আঙুলে পড়িয়ে দিলো। আভার বিস্মিত চোখজোড়া ছলছল করে উঠলো। তার চোখ থেকে দুফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে পড়লো। তবে আজ দুঃখের নয় বরং সুখের অশ্রুজল গড়িয়ে পড়ছে। ভেজা চোখ জোড়া মেলে রাইফের দিকে তাকাতেই রাইফ তৃপ্তির হাসি দিয়ে বলল,

রাইফ: ভালোবাসি মিসেস রাইফ।

আভা: ভালোবাসি।

শব্দটা উচ্চারণ করতে গিয়ে আভার গলাটা হালকা কেঁপে উঠলো। পরক্ষণেই তার মনে হলো বুকের ভেতর থেকে অনেক বড়ো এক পাথর সরে গিয়েছে যা এতো বছর ধরে চাপা পড়ে ছিল। রাইফের হাসিমাখা মুখের দিকে তাকিয়ে সে ও তৃপ্তিপূর্ণ অকৃত্রিম হাসলো। দু’জনের ভেতর থেকেই তাদের মন শুধু চিৎকার করে বলে উঠলো,“লাভ নেভার এন্ডেড।” { EID SPECIAL }

সমাপ্ত

লাভ নেভার এন্ডেড এর এটাই শেষ পার্ট । আপনারা যারা এখনো এই গল্পের বাকি পার্টগুলো দেখেননি তারা নিচের ক্লিক করলে  লাভ নেভার এন্ডেড এর সব পার্টের লিঙ্ক পেয়ে যাবেন । 

Click Here For All Part Link

Writer- ইলোরা জাহান ঊর্মি

Join Our { FB PAGE } and { FB GROUP } For Every Single Minutes Update Of  { Golper Jogot- Largest Story Platform }. Also Please Share Our Story On Your Social Media Platform and with Your Friends. 


Love Never Ended Emotional Sad Love Story Part 19
Love Never Ended Emotional Sad Love Story Part 19

Leave a Comment