Sad Love Story Bangla School Jiboner Prem Part 6 | Sad Story

স্কুল জীবনের প্রেম

M.T Minhaz ( Part 06 )

স্কুলে এসে মিম আমার সামনে দিয়ে যেতে লাগলো আমাকে দেখেই মুখ ভেংছি মেরে চলে যাচ্ছে, আমি মনে মনে বললাম কি হলো আজ, কাল বন্ধুত্ব করার জন্য মাথা উঠে পরেছিলো আজ আমাকে দেখেই মুখ ভেংছি মারলো। আমি গিয়ে সোজা মিমের সামনে গেলাম, গিয়ে…….

আমিঃ কালকের কথাটার জন্য সরি! আসলে একটু মজা করেছিলাম তাই, কিন্তু এই কথাটার জন্য আপনে রাগ করবেন ভাবতেই পারিনি। তার জন্য সরি।

মিমঃ ওকে, তাহলে আমি যাই এখন।
আমিঃ বন্ধুত্বের কথাটা ভুলে গেলেন নাকি।
মিমঃ আপনে তো রাজিই হোন না।
আমিঃ ধরেন আমি রাজি।
মিমঃ তাহলে আজ থেকে আমরা বন্ধু।
আমিঃ হুম।

Sad Love Story Bangla

মিমঃ তা আমাকে তুমি করে বলতে হবে, কারন আমি আপনার ছোট।
আমিঃ ওকে, আমাকেও তুমি করে বলতে হবে।
মিমঃ পারবোনা।
আমিঃ তাহলে আমিও পারবোনা আপনার কথা রাখতে।

কিছুক্ষন চুপ থেকে……

মিমঃ ওকে, তাহলে এখন যাই গুরুত্বপূর্ণ ক্লাস আছে, ছুটির পর দেখা করবে ওকে,
আমিঃ ওকে।

তারপর আমি ক্লাসে চলে আসলাম, দেখলাম সবাই এসে পরেছে, আমি গিয়ে সাজিদের সাথে বসে পরলাম তারপর বললাম…….

আমিঃ আজকে একটা ফোন ও দিলি না যে।
সাজিদঃ রাগ করিস না,আসলে আমার মোবাইল একটু সমস্যা হয়ে গেছে তাই ফোন দিতে পারিনি।
আমিঃ ওহ,

সাজিদঃ তা মিমের সাথে কি কথা বলেছিলি।
আমিঃ তাহলে শুন, তারপর সব বললাম।
সাজিদঃ তোর কথা শুনে বুঝলাম তুই তার প্রেমে পরে গিয়েছিস।
আমিঃ সেরকম কিছু না।
সাজিদঃ মিম মেয়েটা ভালো,
আমিঃ সেসব কথা বাদ দে,
সাজিদঃ হুম।

তারপর আড্ডা দিতে দিতে ক্লাসে স্যার উপস্থিত হলো, তারপর সব ক্লাস করে বাহিরে এসে মিমের জন্য ওয়েট করতে লাগলাম আমি আর সাজিদ। কিছুক্ষন পর মিম আসলো, এসেই বললো…..

মিমঃ আপনে এখানে কেন? ( সাজিদকে দেখিয়ে)
আমিঃ কেন কি হয়েছে।
সাজিদঃ দোস্ত আমিই বলছি, আসলে একসময় তাকে খুব বিরক্ত করতাম, তাই আজকে এমন ব্যবহার করছে।
আমিঃ এক সময় করতি এখন তো আর করিস না।
সাজিদঃ হুম।
আমিঃ একটা মেয়েকে শুধু শুধু বিরক্ত করলে কতটা কষ্ট পায় তুই জানিস নাকি।
সাজিদঃ (চুপ)
আমিঃ দোস্ত তুই মিমের কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে নে, প্লিজ।

পড়ুন  ভিলেন – থ্রিলার প্রেমের গল্প পর্ব 27 | Villain Bangla Story

সাজিদঃ আপু আপনাকে বিরক্ত করার জন্য দুঃখিত, বিরক্ত করার কারনে এতটা রেগে যাবেন জানতাম না পারলে মাফ করে দিয়েন।

মিমঃ ওকে, মাফ করে দিলাম।
আমিঃ তাহলে ভালোই হয়েছে।
মিমঃ চলো বাসার উদ্দেশ্যে যাওয়া যাক, আমার বাসাও ওদিকে।
আমিঃ হুম, চল যাই তিনজনে।

তারপর কথা বলতে বলতে একসময় মিমের বাসার সামনে এসে বললো….

মিমঃ তাহলে যাই, কাল দেখা হচ্ছে।
আমিঃ ভালো থেকো।

তারপর আমি আর সাজিদ চলে আসলাম রাস্তাই, এসে বললাম…..

আমিঃ দোস্ত আমার কথাতে মন খারাপ করিস না।
সাজিদঃ আরে রাগ করবো কেন, তোর জন্য আজকে তার কাছে মাফ চেতে পেরেছি।
আমিঃ আগের কথাটা বাদ দিয়ে ফেল মাথা থেকে।
সাজিদঃ হুম।

তারপর বাসাই চলে আসলাম কেটে গেলো সারাদিন,

পরেরদিন সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পরলাম স্কুলে। মাঝ রাস্তাই সাজিদকে নিয়ে আসলাম, তারপর দুইজন মিলে কথা বলতে বলতে স্কুলে চলে আসলাম, দেখলাম মিম গেইটে দারিয়ে আছে আমি গিয়ে বললাম…..

আমিঃ আজ এখানে দাড়িয়ে আছো কেন?
মিমঃ তোমার জন্য ওয়েট করছিলাম।
আমিঃ তাই নাকি।
মিমঃ হুম, চল ভিতরে।

তারপর আমি, মিম,সাজিদ মিলে স্কুলে মাঠে এসে বসে পরলাম, তারপর আড্ডা শুরু করলাম কিছুক্ষন পর মমিন আর সাকিব আসলো, এসেই…..

মমিনঃ তোরা এখানে বসে আছিস।
আমিঃ হুম, বস আড্ডা দেই।
মমিনঃ আমি মেয়েদের সাথে আড্ডা দেই না।
আমিঃ রুপালির সাথে ভালোই আড্ডা দিতে পারিস।
মমিনঃ আরে এটাকে নিগেটিভ মনে করিস না, ও শুধু ফ্রেন্ড।
মিমঃ তাহলে আমিও ফ্রেন্ড হতে পারি।
মমিনঃ ওকে

তারপর সাকিব মিমের সাথে পরিচয় হয়ে গেলো।

হঠাৎ করে সাজিদ বললো……

সাজিদঃ মিনহাজ, আগের স্কুল বদলানোর কারন টা কি একটু বল প্লিজ।
আমিঃ দোস্ত এসব বলতে পারবোনা।
মিমঃ আমাদের বন্ধু মনে করলা না তাহলে।
আমিঃ আরে এভাবে বলছো কেন?
মিমঃ প্লিজ একটু বলো।

আমিঃ আগের কথাটা গুলো মনে করতেই কষ্ট হচ্ছে, কি আর করবো ওদের জুরাজুরিতে বলতে হবে তাহলে, ( দীপ্তির সাথে কাটানো দিন গুলো বলতে লাগলাম) এসব বলতে বলতে চোখে পানি জমে গেছে, তারপর মিম বললো…..

মিমঃ মন খারাপ করো না, নিয়তি মনে হয় এটাই চেয়েছে।
সাজিদঃ হুম, দোস্ত মন খারাপ করিস না। আসলে সরি তোর আগের স্মৃতি গুলো মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য।
আমিঃ আরে না ঠিক আছি, এবার চল ক্লাসে।
মমিনঃ হুম চল।

পড়ুন  ভিলেন পর্ব 68 - প্রেমের গল্প | Romantic Premer Golpo Villain

মিম চলে গেলো তাদের ক্লাসে আমরা চলে আসলাম আমাদের ক্লাসে। সব ক্লাস শেষ করে বাসাই এসে পরলাম।

এভাবে কেটে গেলো একটি বছর।

মিমের সাথে বন্ধুত্ব সম্পর্ক টা আরো গভীর হয়ে উঠলো। মিমের সাথে থাকতে থাকতে মনের অজান্তে ভালোবেসে ফেলেছি,

এই বছর আমরা ক্লাস টেনে আর মিম ক্লাস সেভেনে।

সকালে মিম ফোন দিয়ে বললো……..

মিমঃ কিরে আজ স্কুলে আসবি না।
আমিঃ হুম একটু পর আসবো,
মিমঃ আচ্ছা

তারপর ফোন কেটে দিলাম, আপনারা ভাবছেন মিমকে তুই করে বলছি কেন, আসলে একদিন সে বলেছিলো তাকে তুই করে বলতে তারপর আমিও বলেছিলাম তাকে আমিও তুই করে বলবো, এরপর থেকে দুইজন দুজনকে তুই করে বলি।

ব্রেকফাস্ট করে স্কুলের জন্য রেডি হলাম। সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পরলাম স্কুলে। সাজিদকে মাঝরাস্তাই থেকে নিয়ে আমি আর সাজিদ কথা বলতে বলতে স্কুলে চলে গেলাম, গেটে দেখলাম আজকেও মিম আমার জন্য ওয়েট করছে, এটা শুধু আজকের রুটিন না প্রত্যেকদিনের রুটিন তার।

তারপর আমি, সাজিদ, মিম স্কুলে মাঠে আড্ডা দিয়ে ক্লাসে চলে আসলাম,

এভাবে দিন কাটতে লাগলো, কিন্তু মিমের প্রতি ভালোবাসাটা আস্তে আস্তে বাড়তে লাগলো। এই কথাটা না বলায় ভালো হবে কারন কিছুদিন পর এই স্কুল ছেরে চলে যেতে হবে। তাকে কষ্ট দিতে চাই না।

একমাস ক্লাস করার পর শুনলাম স্কুল বন্ধ হয়ে যাবে করোনার কারনে, দেশের অবস্থা ভালো না প্রতিদিন করোনায় ৩০-৪০% মানুষ মরছে ৷

পরেরদিন স্কুলে চলে আসলাম, আজ থেকে বাংলাদেশের সব স্কুল বন্ধ হয়ে যাবে।
ক্লাসে এসে সাজিদকে বললাম….

আমিঃ আজ থেকে তাহলে স্কুল বন্ধ।
সাজিদঃ হুম, কি করবো শালার করোনা আসার সময় পেলো না। শেষ বছর টা আনন্দে কাটাতে পারলাম না।
আমিঃ ঠিক বলেছিস।
সাজিদঃ মনে হয় দুই মাস স্কুল বন্ধ থাকবে।
আমিঃ কিহহ দুই মাস।
সাজিদঃ হুম

কিছুক্ষন পর মমিন, সাকিব আরো কয়েকজন বন্ধু আসলো ৷ তারপর আড্ডাই মেতে উঠলাম। আজ আর ক্লাস হবে না। মিম তাদের বান্ধবীদের সাথে আড্ডাদ দিচ্ছে। আড্ডা আড্ডা দিতে দিতে দুপুর ২ টা বেজে উঠলো, তারপর যার যার বাসাই চলে গেলো, স্কুলে রয়ে গেলাম আমি, মিম, সাজিদ,মমিন,সাকিব।

পড়ুন  কলেজের ক্রাশ যখন আমার প্রেমে পর্ব 3 | Emotional Love Story

মমিন আর সাকিবের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে রাস্তাই চলে আসলাম। তারপর মিম বললো…..

মিমঃ এখন তো তাহলে দেখা হবে না ( মন খারাপ করে)
আমিঃ চিন্তা করিস না কয়েকদিন পর পর তোর সাথে দেখা করে যাবো।
মিমঃ দেখি এই কথা কয়দিন রাখতে পারিস।
আমিঃ তুই তাহলে দেখতে থাক, মন খারাপ করিস না ফোন নাম্বার তো আছেই সমস্যা নাই।
মিমঃ হুম
সাজিদঃ মিম ভালো থাকিস তাহলে।
মিমঃ তুই ভালো থাকিস। মিনহাজ বাসাই এসে পরেছি, তাহলে বাই ভালো থাকিস।
আমিঃ হুম বাই

তারপর মিমকে বিদায় জানিয়ে চলে আসলাম, কিছুদুর যেতেই সাজিদের কাছ থেকে বিদায় জানিয়ে বাসাই চলে আসলাম।

মনটা খারাপ হয়ে গেছে কারন মিমের সাথে দেখা হবে না, বন্ধুদের সাথেও দেখাও হবে না। সারাদিন বাসাই বসে বসে কাটাতে হবে কারন বাহিরে বের হলে পুলিশের পিটুনি খেতে হবে।

আজ ২ মাস পর,

এই দুইমাসে মিমের সাথে কয়েকবার দেখা করতে গিয়েছিলাম সাথে সাজিদ ও, আমার বন্ধুদের সাথে সারাদিন গ্রুপে কথা হয়।

বাসাই বসে আছি হঠাৎ করে ফোন টা বেজে উঠলো……..

Click Here For Next Part – চলবে

Writer – M.T Minhaz

Leave a Comment

Home
Stories
Status
Account
Search