সিনিয়র আপু যখন বউ -অনুগল্প | Bangla School Life Premer Golpo

Senior Apu Jokhon Bou

Amrin Talokder


একটি মেয়ে: এই পিচ্চি শোন।
আমি : জ্বি আপু আমাকে বলছেন?
একটি মেয়ে: হুমম তোকেই বলছি।তোর নাম কি?আর তোর বাসা কোথায়?

তো চলুন পরিচয়টা দিয়ে নেই।আমি আমরিন তালুকদার। বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান।ওহহ স্যরি একমাত্র বললে ভূল হবে কারণ একটা দুষ্টু মিষ্টি কলিজার বোনও আছে।আর আমার বাবা একজন সরকারি চাকুরীজীবি। আর যার সাথে এতক্ষণ কথা হলো সে হচ্ছে আমাদের এলকায় টপ বিসনেসম্যানের একমাত্র মেয়ে। যার নাম হচ্ছে ফারিয়া জান্নাত।যাই হোক পরিচয় তো অনেক দিয়েছি,এখন চলুন গল্পে ফিরি।

আমরিন: জ্বি আমি আমরিন, আর বাসা এইতো সামনেই।কিন্তু আপনি কে আন্টি 🙂।

ঠাসসস ঠাসস করে দুই গালে দুইটা লাগিয়ে দিল।বুঝেননি তো?তাহলে চলুন সব কিছু খুলে বলি।ফারিয়া আন্টি বলার সাথে সাথে দুই গালে দুইটা লাগাইছে আমাকে।তার হাতের থাপ্পড়ে গাল দুটো লাল টকটকে হয়ে গেছে।বেথায় আমরিনের কান্না চলে আসচ্ছে কিন্তু ফারিয়ার সেদিকে কোন খেয়াল নেই।

আমরিন: আপু মারলে কেন?

ফারিয়া: আমাকে কি তোর আন্টির মতো দেখতে লাগে?আন্টি কেন বললি বল?😡😡

আমরিন: স্যরি দাদীমা বুঝি নি🤣🤣

বলেই দিলাম এক দৌড়।আমাকে আর পায় কে এক দৌড়ে চলে আসচ্ছি স্কুলে।ওহহ আপনাদের তো বলাই হয়নি। আমি এবার এসএসসি পরিক্ষার্থী।(একদম মিথ্যে কথা,আমি কিন্তু মেডিকেল স্টুডেন্ট। শুধু মাত্র গল্পে আমি একটু ছোট😁)

দৌড়াতে দৌড়াতে হাপিয়ে গিয়েছি। তাই ঠাস করে ক্লাস রুমে বসে পরলাম। আমাকে এই ভাবে দৌড়িয়ে আসা দেখে আমার দুইটা কিউট বান্ধবী তাদের কাছে থাকা পানির বলত এগিয়ে দিলো।
দৌড়াতে দৌড়াতে প্রচন্ড পানি পিপাসা লেগেছিল।যারা কখনও দৌড়ানি খাননি তারা একটু দৌড়ানি খেয়ে দেইখেন।কেমন লাগে জীবন বাঁচানো দৌড় প্রতিযোগিতা।

হাবিবা: কিরে তুই ওই রকম পাগলা কুকুরের মতো দৌড়িয়ে স্কুলে আসলি কেন?

বলা মাত্রই তার চুলে ধরে দিলাম টান।আপনারাই বলেন এগুলো কি ফ্রেন্ড নাকি অন্য কিছু, কই একটু আদর করে বাতাস কবরে পাঙ্খা দিয়ে তা না।আসচ্ছে অপমান করতে।তাই চুলে টান মেরে সাথে বোনাস স্বরুপ কিল মেরে সেখান থেকে দৌড়িয়ে চলে আসলাম আমার বাসায়।

তার পর দিন স্কুলে যাচ্ছি সামনে হাবিবা আর তাসফি পরলো।আপনাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেই।হাবিবা হলো আমার কলিজার মধ্যে যে জিনিসটা আছে।আচ্ছা কলিজার ভিতর তো কলিজাই থাকে সেখানে তো অন্য কিছু থাকে না।তো যাই হোক ওই আমার কলিজার বেষ্টু।আর যে তাসফি সেও আমার বেষ্ট ফ্রেন্ড কিন্তু ততটাও ভালো সম্পর্ক নেই।

দুই সাইটে দুই বেষ্টু আর আমি মধ্যে। কথায় আছে না যেখানে বাঘের ভয় সেখানেই সন্ধ্যা হয়।আমাকে হাবিবা আর তাসফির মধ্যে দেখে মিস কালনাগিনী আই মিন ফারিয়া আপু তো রেগে গেছে।আচ্ছা আমি বুঝি না ফারিয়া আপু কেন আমার সাথে এরকম করে।

ফারিয়া আপু: আমরিন এখানে আসো তো একটু।

আমরিন: জ্বি আপু বলুন আমার স্কুলের দেরি হয়ে যাচ্ছে।

ফারিয়া আপু: আজকে তোর ক্লাস করতে হবে না,আজ সারাদিন তোকে নিয়ে গুরবো আমি।

আমরিন: আচ্ছা আপু আপনি আমার সাথে কেন এরকম করেন?অন্য ছেলেদের সাথে তো করতে পারেন এরকম।আমি কি দোষ করেছি যার জন্য আপনি আমার সাথে এরকম করেন?

কিছু বুঝে উঠার আগেই যে এরকম একটা কান্ড ঘটবে বুঝে উঠতে পারি নি।এই মাঝ রাস্তায় আপু এরকম আমাকে ঠোঁটে কিস করবে কখনও ভাবিনি।পুরো ৫ মিনিট পর ছেরে দিল।

আমার জীবন যায় অবস্থা, হঠাৎ করেই কিস করে বসে যার জন্য নিজেকে সামলাতে পারিনি।না হলে আমিও একটু রেসপন্স করতে পারতাম🙈🙈।কিন্তু যে ভাবে হামলা করেছে তাতে নিজের দম ঠিক রাখতে সময় চলে গেছে।অনেক কষ্টে তাকে ছারানোর পর....….…………

আমরিন: এটা তুমি কি করলা?তুমি আপু জানো না তুমি আমার থেকে ৪ বছরের বড়।

ফারিয়া: জানি তো কিন্তু কি করবো বল আমি যে তোকে আমার জীবনের থেকেও অনেক ভালো বেসে ফেলছি।

ফারিয়া: আমি অনেকবার চেয়েছি আমার মনকে বুঝাতে কিন্তু কোন ভাবেই মানাতে পারছি না।প্লিজ আমরিন তুমি আমাকে ফিরিয়ে দিও না।আমি যে তোমাকে ছারা বাঁচবো না।অনেক অনেক ভালোবাসি তোমায়।

আপুর কথা শুনে আমি পুরোই থ বনে চলে গিয়েছি।কি বলে এই মেয়ে।সবাই বলতো মেয়েদের বুক ফাটে কিন্তু মুখ ফুটে না।কিন্তু আপু তো সব কিছু পাল্টিয়ে দিয়েছে।যদিও মনে মনে আমিও খুশি। কারণ ছোট বেলার ইচ্ছে ছিল সিনিয়র কারো সাথে ইটিশ পিটিশ করা।আই মিন রিলেশন করা।আপনাররা বুঝেন না কেন নতুন প্রেমে পা দিলে কতটা লজ্জা পাওয়া যায়।আমিও লজ্জায় কিছু বলতে পারবো নাহ।

ফারিয়া: কি হলো আমরিন আমার উত্তর দাও।প্লিজ আমাকে ফিরিয়ে দিও না,জানি আমাদের সম্পর্ক সমাজ মানবে না.......

পড়ুন  খালাতো বোন যখন ক্রাশ – অনুগল্প | Bangla Short Love Story

আমরিন: আপু আমার তো গালফ্রেন্ড আছে। আমি তোমাকে ভালোবাসতে পারবো না।স্যরি আপু

ফারিয়া: আমরিন তুই বিশ্বাস কর আমি কিন্তু এই জীবন রাখবো না। যদি তোকে না পাই।তুই সব কিছু ছেরে দিয়ে আমার কাছে চলে আয়।

আমরিন: না আপু সেটা তো সম্ভব নয়।কারণ সেও আমাকে তো অনেক ভালোবাসে।

ফারিয়া: 😰😰😰তোকেই যদি না পাই তো এই জীবন দিয়ে কি করবো।ভালো থাকিস তুই আর খুব শিগ্রই আমার মৃত্যু খবর মুনতে পারবি দেখে নিস।

ফারিয়া আপু কাঁদতে কাঁদতে চলে গেলো আমার কাছ থেকে।সত্যি বলতে আমিও আপুকে ভালোবেসে ফেলেছি তার প্রতিদিনের অত্যাচার গুলোকে।আর ভালো বেসে ফেলছি হবু সিনিয়র গালফ্রেন্ডের দেওয়া লিপ কিস কে।

মনটা বড্ড চাচ্ছিলো ফারিয়াকে পিছন থেকে হাত ধরে বলতে আমিও তোমাকে ভালোবাসি।আমিও শুধু তোমাকেই ভালোবাসি আমার সিনিয়র পাগলিটা।তুমি কেন বুঝো না আমি তোমার সাথে এত্তক্ষণ মজা করেছি।তুমি কেন বুঝতে পারোনি আমার মনের কথা গুলো।

কিন্তু কেন যেন না চাইতেও ডাক দিতে পারলাম না।কেন যেন মনে হলো আপু আমার সাথে মজা করছে।আমি তার থেকে কত্ত ছোট। সে কি আমাকে ভালোবাসবে?হয়তো আমাকে ট্রাই করছে।ফারিয়া আপু চলে যাওয়ার পর সেখান থেকে নিজেও চলে আসি। আর আপুর কথা তো একদমই ভুলে গিয়েছিলাম।

হাবিবা : কিরে আমরিন আপু তোকে কি বললো রে?

আমরিন: কি আর বলবে, ও কিছু না চুপ চাপ ক্লামে মনোযোগ দে, পরে বলবো সব।

তাসফি: আমার মনে হয় আপু তোকে ভালোবাসার কথা বলছে তাই না?দেখলাম তো আপু তোর হাত ধরে অনেক রিকুয়েষ্ট করছিলো।

আমি আর কিচ্ছু না বলে ক্লাসে মনোযোগ দিলাম।ম্যামের ক্লাসে শেষ হলে...............

হাবিবা: কিরে আমরিন এখন তো বল কাহিনিটা কি?

আমরিন: আমাদের ব্রিলিয়েন্টতো বলেই দিয়েছে আর কি কইতাম?

হাবিবা:🙁🙁🙁🙁😕😕😕

তাসফি: কিরে তোর আবার মন খারাপ কেন?

হাবিবা: আচ্ছা আমরিন তোর সাথে আমার কিছু কথা ছিল।

আমরিন: যা বলবি পরে বলিস অনেক টেনশনে আছি বায়।

এই দিকে আমরিন তো তার মতো ক্লাস করছে নিজের মনে।আর ওই দিকে ফারিয়া তার বাসায় যেয়ে তার রুমে ভাংচুর শুরু করে দেয়।কিন্তু তাও কোন ভাবেই ফারিয়া মেনে নিতে পারছে না,যে সে আমরিনকে হারিয়ে ফেলছে।তার বাবা মা তার রুমের বাহির থেকে অনেক বার ডাকা ডাকির পরও সে দরজা খুলেনি এক সময় সব কিছু নিশ্চুপ হওয়ার পর আবার তার আম্মু তার রুমের জানালা দিয়ে তাকায়।কিন্তু সে ভাবেনি তার মেয়ে এরকম কাজ করবে।

ফারিয়ার আম্মু কেঁদে কেঁদে তার আব্বুকে বলে, আর তার আব্বু জানার পর দরজা ভেঙ্গে তার মেয়েকে হসপিটালে নিয়ে যায়।হ্যাঁ ঠিক ধরছেন ফারিয়া আমরিনকে না পাওয়ায় আমরিন তাকে ফিরিয়ে দেওয়ায় সে তার জীবনকে মেষ করতে চলেছে।আচ্ছা ফারিয়া কি সত্যি আমরিনের কাছ থেকে না ফেরার দেশে চলে যাবে?

ফারিয়াকে হসপিটালে নেওয়ার সাথে সাথে তাকে ইমারজেন্সিতে নেওয়া হয়।তার অবস্থা এত্তটাই সচোনীয যে ডাক্তাররা তাকে দেখে ফারিয়ার বাবা মাকে বকলো।কারণ ফারিয়া এত্তটাই তার হাতের শিরা কেটেছে যে তার হাতের সকল রক্ত চলাচলের শিরা উপশিরা গুলো কেটে গেছে,

দীর্ঘ ৬ ঘন্টা পর ফারিয়ার অপারেশন শেষ করে ডাক্তার। কিন্তু ডাক্তারদের মুখে হতাশার ছাপ তাহলে কি সত্যি ফারিয়া আর এই পৃথিবীতে নেই?

আর ওই দিকে আমরিন স্কুল থেকে বাড়িতে যেয়ে শুনে তাদের এলকার টপ বিজনেসম্যানের একমাত্র মেয়ে আত্নহত্যা করেছে।সেটা শুনে আমরিনের পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে গিয়েছে।মন চাচ্ছে তার কলিজাটা বের করে ফেলতে।আমরিন সত্যি বুঝতে পারেনি তখনকার করা ফাজলামোটাই হবে তার জীবনের কাল হয়ে দারাবে।

আমরিন কোন ভাবে তার ব্যাগটি তার বিছানায় ফেলে কাঁদতে কাঁদতে 😭😭😭 দৌড়াতে থাকে ।আজ আর কোন জীবন বাঁচাতে দৌড়াচ্ছে না আমরিন।আজ দৌড়াচ্ছে তার ভালোবাসা মানুষটিকে দেখতে।তার জন্য আজ এরকম হয়েছে।তার নিজেকে বড্ড অপরাধী মনে হচ্ছে।আজ যেন রাস্তাও ফুরাচ্ছে না।হসপিটাল বেশি দূর না হওয়ায় দৌড়িয়ে যাচ্ছে কিন্তু আজ কেন জানি মনে হচ্ছে আজ অনেক রাস্তা আমরিনকে দৌড়াতে হবে।

কিছু সময় পর আমরিন হসপিটালে এসে পৌছায় কিন্তু সে আজ হাপিয়ে যায়নি।বরং আজ তার শ্বাস প্রশ্বাস ক্রমেই কমে যাচ্ছে।খুব কষ্ট হচ্ছে তার প্রিয় মানুষটির জন্য।

আমরিন: ডাক্তার ফারিয়া নামের পেশেন্ট কত নাম্বারে??

ডাক্তার রুম নাম্বার বলার পর আবার দৌড়াতে শুরু করে কারণ তাতে দুই তলায় উঠতে হবে।তার জীবনটা যে দুই তালায় রয়েছে।সেখানে যেয়ে দেখে ফারিয়ার আম্মু ও আব্বু দুইজনেই বসে বসে কাঁদছে।

দীর্ঘ ৬ ঘন্টা পর যখন ডাক্তার বের হয় ফারিয়ার আব্বু আম্মুর আগে আমরিন ডাক্তারের সাথে কথা বলে।

পড়ুন  ভিলেন – রোমান্টিক লাভস্টোরি পর্ব ১ | Villain Bangla Story

আমরিন: ডাক্তার আমার ফারিয়া কেমন আছে? ওর কিছু হয়নি তো?প্লিজ ডাক্তার আমার ফারিয়াকে সুস্থ করে তুলন।আমার জন্য আজ আমার পাগলিটার এই অবস্থা।
পাশে যে ফারিয়ার আব্বু আম্মু রয়েছে সেদিকে তার কোন খেয়ালি নেই।কথায় আছে না অল্প শোকে কাতর আর অধিক শোকে পাথর।আমরিনেরও হয়েছে সেই অবস্থা।

আর ওই দিকে আমরিনের কথা শুনে ফারিয়ার আম্মু আব্বু তো অবাক।কি বলে এই ছেলে?কিন্তু তখনই কিছু না বলে তারা চুপ থাকে কারণ ফারিয়া সুস্থ হলে সব কিছুই জানা যাবে।

ডাক্তার : এখন চিন্তা মুক্ত,কিন্তু ২৪ ঘন্টার আগে কিচ্ছু বলা যাচ্ছে না কি হয়।আমরা আমাদের যত টুকু সম্ভব কাজ সেটা করেছি।এখন বাঁচানোর মালিক শুধু আল্লাহ তায়ালা স্বয়ং। আল্লাহ যা ভালো বুঝেন তাই করবেন। এখন আমাদের হাতে কোন কিছুই নেই।আপনারা আল্লাহকে ডাকুন।

ডাক্তারের কথা শুনে সেখানে ফারিয়ার আম্মু জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।ডাক্তারের কথা শুনে সে স্টোক করে।তার আদরের একটি মাত্র মেয়েকে হারোনোর কথা শুনে নিজেকে আর ঠিক রাখতে পারেনি।তাইসে স্টোক করে।সাথ সাথে তাকেও হসপিটালে ভর্তি করানো হয়।কিছু সময় পর ফারিয়ার আম্মুর জ্ঞান ফিরলে শুধু ফারিয়ার কথা বলে কান্না করে😭😭।

ওই দিকে শত কষ্ট যন্ত্রনা সহ্য করে আমরিন নামাজে বসে পরে।নামাজ শেষে আমরিন তার প্রিয় মানুষটির জন্য দোয়া করে।

হে পরম করুনাময়।তুমি তো সর্ব শ্রোতা,তুমি তো মহান। আমি তোমার কাছে এই পর্যন্ত কিচ্ছু চাইনি।কিন্তু আজ চাচ্ছি।কেন চাচ্ছি সেটা তো তুমি ভালো করেই জানো।আজ যদি ফারিয়ার কিছু হয়ে যায় আমি যে নিজেকেও শেষ করে দিব।তুমি আল্লাহ আমার জীবনের বিনিময়ে হোক আর আমার করা কোন সওয়াবে হোক আমার কলিজাটাকে সুস্থ করে তুলো 😭😭😭।

কখন যে সেখানেই ঘুমিয়ে যায় বুঝতে পারেনি।ঘুম ভাঙ্গে মাগরিবের আজানের শব্দে।আজান শুনে আমরিন ওজৃ করে এসে জামাতের সাথে মাহরিবের নামাজ আদায় করে আবার সেই একি ভাবে আল্লাহর কাছে দোয়া করে।নামাজ শেষে আমরিন ফারিয়ার কবিনের সামনে যায়।সেখানে ফারিয়ার আব্বু আম্মুর সামনে গিয়ে তাদের কাছে ক্ষমা চায়।আজ তার জন্য ফারিয়া এই অবস্থা। কিন্তু ফারিয়ার আম্মু আব্বু আমরিনের কোন কথার উত্তর দেয়নি।

আমরিন তাদের থেকে কোন উত্তর না পেয়ে চুপচাপ তাদের থেকে একটু দুরে যেয়ে দারায়।আর নিরবে কান্না করে।২৪ ঘন্টার মধ্যে ২২ ঘন্টা হয়ে আসচ্ছে কিন্তু তাও ফারিয়ার জ্ঞান ফিরেনি।আমরিন সারা রাত্রি আর ঘুমায়নি।তার চোখ লাল হয়ে আছে।যে ছেলে ঘুম পাগল সে কিনা আজ সারা রাত্রি জাগরনের পরও তার চোখের পাতা একটুও বন্ধ হচ্ছে না।আজ আমরিনের চোখে নেই কোন ঘুম শুধু রয়েছে ভয়।সময়ের মতো সময় পরিয়ে যাচ্ছে। আর মাত্র ৩০ মিনিট সময় আছে ২৪ ঘন্টার কিন্তু এখনও ফারিয়ার কঁন জ্ঞান ফিরার কোন নাম গন্ধ নেই।( আচ্ছা তাহলে কি সত্যি ফারিয়া আমরিনের থেকে না ফেরার দেশে চলে গেলো?যেটা আমরিনকে বলেছিল, ফারিয়া যদি আমরিনকে না পায় তো নিজের জীবন শেষ করে দিবে।তাহলে কি ফারিয়ার কথাই সত্যি প্রমাণিত হলো?)

আর মাত্র ১০ মিনিট কিন্তু কোন প্বার্শ প্রতিক্রিয়া হচ্ছে না ফারিয়ার প্রতি।এইদিকে পারিয়ার আব্বু কাকে যেন ফোন করে হসপিটালে আসতে বললেন।আর বললেন তাকে শেষ করে দিতে।আচ্ছা যার জন্য তার মেয়ে আজকে মৃত্যু মুখে তাতেই কি মেরে ফেলতে ফারিয়ার আব্বু কাওকে পোন দিয়েছিল??

হুমম তাই, আমরিনকে মারতেই ফারিয়ার আব্বু ফোন করেছিলেন,কারণ ফারিয়ার আব্বু হলো এলকায় টপারদের মধ্যে একজন, তার কথা এলাকার সকলেই শুনে।৫ মিনিটের ভিতর লোক গুলো হসপিটালে এসে আমরিনকে হসপিটালে ভিতরই ইচ্ছে রকম মেরে চলে যায়।আমরিনকে এরকম ভাবে তারা মারছে আমরিন না পারছে কিছু বলতে না পারছে কিছু করতে।গতকাল থেকে না খাওয়া অবস্থায় থাকা কোন ব্যক্তিকে যদি কিছু সময় পিটানো হয় তো তার কি অবস্থা হতে পারে?

আমরিনের মুখ দিয়ে লালা পরছে, এরকম ভাবে আমরিনকে মারায় আমরিনের সকল চোখ বন্ধ হয়ে আসে।তাহলে কি আমরিনও ফারিয়ার সাথে না ফেরার দেশে চলে যাবে?

ওইদিকে আমরিনের অপারেশন শুরু হয়।কিন্তু আমরিনের মা বাবা কেও কিচ্ছু জানে না।এই দিকে আর মাত্র ২ মিনিট সময় আছে এমন সময় ফারিয়া জোরে আমরিন বলে চিৎকার দিয়ে উঠে।ফারিয়ার চিৎকারে তার বাবা মা ডাক্তার ডেকে নিয়ে আসে আর তারাও ভিতরে চলে যায় তাদের মেয়েকে দেখতে।

তার পর ডাক্তারের সাথে কথা বলে ফারিয়ার কাছে আমরিনের সকল কিছুই শুনে তো তাদের মুখ কালো হয়ে গেছে,তারা যে অন্যায়টা করলো কি করে ফারিয়াকে সেটা বলবে ভেবে পাচ্ছে না।কিন্তু ফারিয়া নাছোড়বান্দা সে কোন ভাবেই বুঝতে চাইছে না।তার কেন যেন মনে হচ্ছে আমরিনের কিছু হয়েছে।তাই সে উঠে আমরিনের নাম্বারে ফোন দেয়।কিন্তু ফোন ধরে একটু মেয়ে সে আমরিনের অপারেশন রুমে কাজ করছিলো।আমরিনের ফোন ফোন আসায় প্রথমে না ধরলেও বারে বারে দেওয়ায় সে ফোনটা রিসিভড করে।

পড়ুন  Bangla Premer Golpo Tomar Amar Prem Part 5 Love Story

তার পর ফারিয়া যা শুনলো তা শুনে ফারিয়ার হাত থেকে তার ফোনটি পরে যায়।আর কাঁদতে থাকে 😭😭।
কিন্তু আল্লাহ যদি রাখে নসিবে ঘুরি ফিরে আসবি, সেরকম ভাবেই আমরিনও কিছু দিনের ভিতর সুস্থ হয়ে উঠে।আর আমরিন যতদিন অসুস্থ ছিল প্রতিদিন একবার করে আমরিনকে দেখে যেতে।

আজ অনেক দিন পর আমরিন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে।যদিও এত্তদিনে আমরিনকে আমরিনের বাবা মা অনেক যায়গায় খুজে বেরিয়েছে কিন্তু কোথাও পায়নি।আজ অনেক দিন পর বাড়িতে যাচ্ছে আমরিন।কিন্তু বাড়িতে যেয়ে তো আমরিন অবাক, সেখানে বসে আছে ফারিয়ার আব্বু আম্মু সাথে ফারিয়াও রয়েছে।ফারিয়াকে দেখে আমরিনের ভাল লাগা কাজ করছে।মনে হচ্ছে এখনই যেয়ে জরিয়ে দিরি।কিন্তু সবার সামনে তা তো আর করা যাবে না।

আচ্ছা তারা এখানে কেন আসচ্ছে?তাদের মেয়ে আমার জন্য আত্নহত্যা করেছিল সেটার বিচার দিতে নাকি?(আমরিন মনে মনে ভাবছে)সব ভানার অবসান দিয়ে আমরিনের আব্বু আমরিনকে ডেকে নিয়ে বলে তারা নাকি ফারিয়ার সাথে তার বিয়ে ঠিক করেছে, আর আজই নাকি বিয়ে।কিন্তু কেওই বললো না সে এত্তদিন কোথায় ছিল,এটা কেমন কথা হলো??? 😕😕 (সেসব কথা অন্য আর একদিন বলবো)

বিয়ের সকল কাজ শেষে রাত্রি বেলা আমরিন তার রুমে না যেয়ে ছাদে গিয়ে ভাবছে কি থেকে কি হয়ে গেলো।যাই হোক যাকে ভালোবেসেছিলাম তাকে তো পেলাম। যেই পিছন দিকে ঘুরতে যাবো বাসর ঘরে যাওয়ার জন্য। ওমনি হারামি দুই বান্ধবী এসে হাজির।

হাবিবা : কিরে বিয়ে করে এখানে কি করছিস?বউ বাসর ঘরে একা একা ভোর হচ্ছে আর মহারাজ এখানে একাকি দারিয়া আছে।চলে তোর রুমে।

তাসফি: এই দ্বারা কই যাবে আগে আমাদের পাওনা দিয়ে যাবি তার পর।

আমরিন: আপনাদের কিসের পাওনা?
তাসফি: কিসের পাওনা মানে এত্ত কষ্ট করে বাসর ঘর সাজিয়েছি আর তুই বলিস কিসের পাওনা?

আমরিন: এই নে ৫০০ টাকা দুইজন ২৫০ টাকা করে ভাগ করে নিস😅😅।

হাবিবা: যা ফকিন্নী তোর টাকা লাগতো না,আর তোর বাসরও করা লাগতো না তঁর বউয়ের সাথে।আজ সারা রাত্রি এখানেই থাকবি।

কি আর করার তাদের অনেক বুঝিয়ে ৪০০০ টাকা ধরিয়ে দিয়ে বললাম প্লিজ ভাই ক্ষমা কর এই অধমকে।আমার কাছে আর নেই।কালকে দিব নি তাও যেতে দে।

তাসফি: এই এই দ্বারা দ্বারা, শুনে তো যাবি।

আমরিন: হুমম বল।

তাসফি : আমি না হাবিবা তুই বল🙈🙈।

হাবিবা: যা বাসর ঘরে বিড়ালটা ভালো করে মারিস।বিড়াল না মারতে পারলে কিন্তু আগামী দিন মুখ দেখাতে পারবি না কাওকে।

আমরিন: আচ্ছা বাসর ঘরে বিড়াল ডুকছে তোরা না ছিলি তো কি করছিস??🙄🙄

তাসফি: হাদারাম এত্ত বড় হইছিস।কাল বাদে পরশু বাচ্চার বাপ হবি আর বিড়াল কি জানিস না।যা তোর বউ বলে দিবে।

আমি আর কিছু না বলে সেখান থেকে চলে আসি বাসর ঘরে।৪০০০ টাকা জরিমানা দিয়ে আসলাম শুধু শুধু।

বাসর ঘরে ডুকতে কেন যেন ভয় করছে তবুও সাহস নিয়ে দরজা ঠেলে রুমে ডুকে দরজা আটকিয়ে পিছন দিকে গুরে দেখি ফারিয়া আপু স্যরি এখন তো বউ তাও সিনিয়র বউ আমার সামনে দারিয়ে আছে।আর আমি গুরার পর আমাতে সালাম করলো।আমি তাতে উঠিয়ে..……………

আমরিন: আপু বান্ধবী গুলো বলে দিলো বিড়াল নাকি ডুকছে ঘরে, বিড়াল মারতে বললো তো তুমি বিড়াল দেখেছো?

ফারিয়া: ঠাসসসস ঠাসসস।

করে চার চারটি থাপ্পড় দুই গালে পরলো।

আমরিন: কি হলো মারলে কেন?

ফারিয়া : আমি তোর বিয়ে করা বউ তুই আমাকে আপু কেন বললি।আর সেদিন মিথ্যে কথা বলে আমাকে কেন কাদিয়েছিস?আর তুই এখনও বুঝিস না কিছু তাই।আয় তোকে বিড়াল মারা শিখাই।

বলেই লাইট বন্ধ করে দিল,আর লাইট বন্ধ করার পর ফারিয়া আমাকে জরিয়ে ধরে.............

কি লুইচ্চা আপনারা, যান বিয়ে করে নিজের বাসর করুন। অন্যের বাসর করার কথা শুনতে লজ্জা করে না।ধন্যবাদ এত্তক্ষণ ধরে গল্পটি পরার জন্য

সমাপ্ত

Writer :- Amrin Talokder

Leave a Comment

Home
Stories
Status
Account
Search