সিনিয়র গার্লফ্রেন্ড-বাংলা রোমান্টিক গল্প পর্ব 2 | Senior Girlfriend

Senior Girlfriend

Amrin Talokder { Part 2 }


এই বলে ফোন রেখে দেই,তার পর অনেক বার তাসফি ফোন দিয়েছিল কিন্তু আমি ফোন ধরি নাই।

আজ কলেজে আমাদের নবীন বরন অনুষ্টান।
আজ নিল পাঞ্জাবি পরে আসচ্ছি। দেখি রুহিও নিল জামা পরে আসচ্ছে। রুহি কে অনেক সুন্দর লাগছে।

কেমন আছো আমরিন?
এইতো ভালো,তুমি...

হুমমম,ভালো,তা তোমাকে অনেক সুন্দর লাগছে। সত্যি সত্যি ক্রাশ খেয়ে ফেলেছি।
তাই নাকি,যার ক্রাস খাওয়ার সে খেলেই হবে তাহলে।কি বলো তুমি??

হুমম কিন্তু কে সে জানতে পারি কি??

হুমমম অবশ্যই। তাসফি,
কোন তাসফি আমাদের ১ ইয়ার উপরে পরে সেই আপু নাকি??
হুমম...

আমার কথা শুনে রুহি অনেকটা মন খারাপ করল,যা আমি দেখে বুঝতে পারলাম। কিন্তু কি করবো,এক মনে তো দুজনকে স্থান দেওয়া যাবে না, তাসফির আগে যদি রুহি আমার জিবনে আসতো তাহলে রুহিকেই বিয়ে করে নিতাম,রুহিও অনেক সুন্দর, কিন্তু ওই যে বললাম, এক মনে দুজনকে স্থান দেওয়া সম্ভব না। তাই রুহিকে আমি ভালোবাসতে পারবো না।

আজ তাসফিও লিল শাড়ি পরে আসচ্ছে। তাসফিকে অনেক সুন্দর লাগছে,
আমি তাসফিকে দেখতে দেখতে কখন যেন তাসফির সামনে এসে পরেছি।

তাসফি আমি তোমাতে ভালোবাসি।
কি বললে??
আমি তোমাকে ভালোবাসি,তুমি কি হবে আমার জিবনের পথ চালার সাথি হবে,কখনও তোমাকে কষ্ট দিব না।

তাসফি কিছুই বলল না চলে গেল।

কিছুই বুঝতে পারলাম না,রাজি হবে নাকি হবে না।

তার পরের দিনও একই ভাবে প্রোপোজ করলাম।

কিন্তু ফলাফল শূন্য। কি করবো বুঝতেছি না। প্রিয় পাঠক পাঠিকা আপনারা একটু বুদ্ধি দেন তো, সে ভাবে কাজ করি

আজ মন থেকে প্রতিজ্ঞা করে বের হইছি,যদি তাসফি কিছু না বলে তাহলে তার হাত ধরে বলবো কি সমস্যা, কিছু তো একটা বলো।

আজও ভালোবাসার কথা বললাম,
কিন্তু বলার সাথে সাথে যে এরকম করবে তা ভাবতে পারিনি,

আমার গালে চার চারটা থাপ্পড় মেরে দিয়ে বলল,তোর না আমি সিনিয়র, কিভাবে আমাকে প্রোপোজ করতে আসিস। লজ্জা করে না তোর,২ দিন কিছু বলিনি বলে কি মনে করছিস,আজও কিছু বলবো না।

আমার সামনে যেন আর না দেখি তোকে।
আজ অনেক কান্না পাচ্ছে, কিন্তু চোখের পানিও এই কষ্টে শুকিয়ে গেছে।

যাকে এতটা ভালোবাসলাম সেই আমাকে মাত্র সিনিয়র দেখে এভাবে অপমান করলো। থাকবো না আর এই শহরে, সেদিনই চলে যাই নিজ শহরে,কলেজ থেকে সেদিনই টেন্সফার সার্টিফিকেট,আরো প্রয়োজনিয় কাগজ পত্র তুলে নিজ শহরের একটা কলেজে ভর্তি হই। রুহি অনেক অনুরোধ করেছিল না আসার জন্য, কিন্তু যে আমাকে দেখতে চায় না তার সামনে কিভাবে যাই,তাই চলে আসলাম।

এভাবে কেটে যায় অনেক বছর, আমি আর এখন তাসফির কথা মনে করি না।এখন প্রায় ভূলেই গেছি। এভাবেই চলছে জিবন কাল। সিঙ্গেল লাইফ টাই বেষ্ট।

আজ নিজের লেখাপড়া কমপ্লিট। চাকরির জন্য অনেক যায়গায় ট্রায় করেছি,কিন্তু পাইনি,
সব কিছু ভুলে গেলেও রুহির সাথে এখনও যোগাযোগ আছে,তবে সেটা ফ্রেন্ড হিসেবে। আর রুহির এখন বিয়েও হয়ে গেছে,আর তার বাচ্চা কাচ্চা নিয়ে সুখেই আছে,আর তার হাজব্রেন্ডের সাথেও কথা হয়,আমার জিবন কাহিনি শুনে ভাইয়াটাও কষ্ট পায়,

আসলে তাসফিকে অনেক বেশিই ভালোবেসেছিলাম,নিজের জিবনের থেকেও,কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম ইতিহাস,আমার কপালে তাসফি নেই।

নতুন একটা চাকরি হয়,সেখানে ভালোই চলছে জিবন,কিন্তু কথায় আছে না। কপালে থাকলে এমনে এমনেই সব হয়।তাই আমার কপালে এত সুখ টিকলো না।

কম্পানির বস মারা যাওয়ার পর ম্যানেজর তাদের কম্পানির হাল ধরে। কিন্তু ম্যানেজরের জন্য কম্পানিটার অনেক ক্ষতি হয়,তাই চাকরি টাও চলে যায়।

তাই আবার চাকরির জন্য ঘুরতেছি, কিন্তু কোথাও হচ্ছে না,শেষ মেষ একটা চাকরি পেয়েছি,
রুহি তার হাজব্রেন্ডের কাছে যেতে বলেছিল,কিন্তু কেমন দেখায় তাই,যাইনি।

এখন ছোট একটা জব করতেছি। আর অন্য একটা চাকরি খুঁজতেছি।

এর মাঝে চলে গেছে ৫ বছর, এই ৫ বছরে অনেক কিছুই বদলে গেছে, বদলে গেছে সময়ের সাথে সাথে সব কিছু।

তাসফিকে প্রায় ভুলেই গেছি। কিন্তু তাসফির সাথে এভাবে দেখা হবে বুঝতে পারিনি।

তাকে দেখেও না দেখার মত চলে যাচ্ছিলাম,কিন্তু তাসফি আমাকে ডাক দিল, এই আমরিন আমরিন!!!

জ্বি আমাকে ডাকছেন,(না চিনার ভান করে)
হুমম,আর কিসের আপনি,তুমি করে বলো না কেন।
আচ্ছা আপনাকে আমি চিনি না জানি না কিভাবে আমি আপনাকে তুমি করে বলবো।
আমরিন আমার বিশ্বাস তুমি আমাকে ভুলোনি,আমার উপর এত বছর পরও রেগে আছো,প্লিজ আমাকে ক্ষমা করে দাও।

স্যরি সত্যি আপনাকে চিনতে পারিনি,,, বলার সাথে সাথে আমাকে জরিয়ে ধরে বলতে শুরু করলো প্লিজ আমার উপর আর ররগে থেকো না।।

আপনি একাজন বিবাহিতা মেয়ে হয়ে পরপুরুষকে জরিয়ে ধরতে লজ্জা করে না। তাসফিকে আর কিছু না বলে চলে আসলাম। কেননা আর কিছুক্ষণ থাকলে নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারতাম না। এখনও আগের মতই ভালোবাসি পাগলিটাকে।

এখন হয়তো তার বিয়ে হয়ে গেছে তাই,আর তার মায়ায় জরাতে চাই না। সে থাকুক না তার মত সুখি,আর আমি থাকি আমার মত।

আজ অনেক মাথা বেথা করছে,পুরানো কথা গুলো আজ অনেক ভাবাচ্ছে। আপনারাতো জানেন ৫ বছর আগে কি হয়েছিল। তাই এখন আর বলতে চাই না।

জানি আজ ঘুমটা ভালো হবে না তাই চলে গেলাম দোকানে, দোকান থেকে ঘুমের ওষুধ কিনে বাসায় এসে কয়েকটা খেয়ে শুয়ে পরলাম।ঘুমের দেশে হারিয়ে গেলাম।

তার পর দিন ঘুম থেকে উঠতে দেরি হইছে। তাই আর অফিসে যেতে ইচ্ছে করলো না। তাই সারাটা দিন ঘুমিয়ে কাটালাম।।আর অন্য দিকে তাসফি.........

আজকে আমরিন অফিসে আসলো না কেন, নাকি কালকে কারো সাথে দেখা করতে আসছিল। না আমাকে জানতে হবে সব কিছু আমাকে জানতে হবে,ওর জন্য এতটা বছর অপেক্ষা করেছি,এখন পেয়েছি আর হারাতে চাই না,যেভাবেই হোক আমি আমরিনকে চাই।(মনে মনে ভাবছিল)

তার পরের দিন যথা সময়ে অফিসে চলে আসলাম দেখি আজও তাসফি অফিসে,আমার মনে তখন সন্দেহ জাগলো,কেন তাসফি এই অফিসে,এটা তাদের অফিস নাকি সে এখানে চাকরি করে, সব জানতে হবে,আস্তে আস্তে আমি চলে গেলাম আমার ডেস্কে।আমি আমার কাজ করতে ছিলাম,এমন সময় আমার পাশে একটা ডেস্ক তৈরি করল দারয়ান।দারোয়ানকে বললা চাচা এখানে কে জয়েন করবে। আর আমার জানা মতে ১০ জন সিলেক্ট হয়েছিল তাদের ১০ জনের সাথে আমি পরিচিত। নতুন কাওকে আবার নিছে নাকি,

হুমম বাবা। একটা মেম জয়েন করেছে,
ওও,তা আমার পাশে কেন,অন্য কোথাও দিতেন,
বসের হুকুম,তাই এখানেই দিতে হবে।

আমি আর কিছু না বলে আমার কাজ করতে ছিলাম,কাজ শেষে চলে যাই বাসায়। আর আগের মত খেয়ে ঘুম।। তার পরের দিন আবার সেই আগের মত অফিসে চলে গেলাম।আমার ডেস্কে কাজ করতে ছিলাম,এমন সময় একটা মেয়ে এসে আমার পাশের ডেস্কে বসলো,কালকে আপনাদের বলেছিলাম,সেই মেয়েটি হয়তো।

বোরকা পরে ছিল,আর শুধু চোখ দুটি বের করে ছিল।তাই বুঝতে পারছি না কে সে।তবে আমার মনে হচ্ছে আমার কাছের কেও,।

Click Here For Next :চলবে

Writer :- Amrin Talokder

1 thought on “সিনিয়র গার্লফ্রেন্ড-বাংলা রোমান্টিক গল্প পর্ব 2 | Senior Girlfriend”

Leave a Comment

Home
Stories
Status
Search
Account