তোমাতে আমি – ইমোশনাল লাভস্টোরি পর্ব 2 | Tomate Ami

Tomate Ami

Amrin Talokder { Part 2 }


তাসফি: কিরে রাগ করে চলে গেলি আবার আসলি কেন??
আর তোকে না বলেছিলাম আমার সামনে যেন না আশিস।
আমি: তুমি আমার কাছে তখন গেছিলে কেন??

তাসফি: এমনেই,কিন্তু তুই আসচ্ছিস কেন??

আমি: তোমাকে ভালোবাসি বলে।
তাসফি: আবার শুরু করলি,আচ্ছা তোর সমস্যা কোথায় বলতো।

তাসফি তো জানে না আমি নানুর কাছ থেকে সব জেনে এসেছি।তাই আগের মতই কথা বলছে,তাতে আমার কি আমি তো জানি তাসফি নিজের মুখে যাই বলুক না কেন আমাকে ভালোবাসে।

আমি: আচ্ছা সত্যি কি তুমি আমাকে ভালোবাস না??

তাসফি: তোকে কত বার বলবো তোকে ভালোবাসি না।

আমি: আমার চোখের দিকে তাকিয়ে বলতো তুমি আমাকে ভালোবাস না,
তাসফি: চোখের দিকে তাকিয়ে বলতে হবে এমন না।তুই আমার কথা বিশ্বাস করলে কর না করলে করার কিছু নাই।

আমি তাসফির কথা শুনে হাসতেছি আর তাসফির দিকে এগিয়ে যাচ্ছি, আমি তাসফির দিকে এগিয়ে যাওয়া দেখে...

তাসফি: কিরে এভাবে এগুচ্ছিস কেন.

আমি: তোমার আর আমার বিয়ে ঠিক করা আগে বলোনি কেস,আর তুমি নিজেও আমাকে ভালোবেসে আমাকেও আর তুমিও কিভাবে কষ্ট পেলে,আগে থেকে বললে কি সত্যি আমি তোমার সাথে বেশিই দুষ্টুমি করবো নাকি,

তাসফি: দেখো তুমি যদি এখন আমাকে সময় বেশি দাও, তাহলে পরাশুনা ছাদে দৌড়াবে,
আমি: আর কিছু বলতে না দিয়ে জরিয়ে দরলাম,আর বললাম,কিন্তু এখনতো আমি সব জানি এখন থেকে এত দিনের সময় একবারে দিব,
তাসফি : কিভাবে???

আমি: ২৪ ঘন্টার মধ্যে ২০ ঘন্টা তোমাকে নিয়ে রোমাঞ্চ করে করে, 🤣🤣😁😁
তাসফি:🙄🙄😡😏😏

আমি: তাসফির তিন রুপ কিছুই বুঝতে পারলাম না,
আর আমি যেহেতু বুঝি নাই সেহেতু আপনাদেরও বলতে পারবো না।

নিজের রুমে যেয়ে শুয়ে আছি,এমন সময় তাসফি আমার রুমে আসলো,
তাসফি: আমরিন উঠ,কফি খাবে,তোমার জন্য কফি করে নিয়ে আসচ্ছি।
আমি:😶😶😶😶
তাসফি: কি হলো কি বলছি,কানে যায় নাই,কথা বলো না কেন??

আমি: আগে আমাকে আদর করবে তার পর🥰🥰।

তাসফি: কফি খেলে খাঁ না খেলে না খা।আমি কিচ্ছু করতে পারবো না।
আমি কফি খেতে ভালোবাসি,সেটা তাসফি ভালো ভাবে জানে।আর এটাও জানে আর কিছু হয়ে যাক আমি আমার কফি খাবোই,তাই হয়তো তাসফি এরকম ভাবে চলে গেল।

কিন্তু তাসফি এটা জানে না যে কফির চেয়ে তাসফি নিজে কতটা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই আজ কফি খেলাম না ২ ঘন্টা পর এমে বললো...

তাসফি: কিরে কফি খেয়েছিস,
তাকে দেখে না দেখার মত শুয়ে রইলাম,কফির মগের কাছে যেয়ে দেখে আমি কফি খাইনি,তাতে খুব রাগ উঠলো তাসফির।

তাসফি : কিরে কফি খাসনি কন??

আমি: কেন খাইনি তুমি জানো না!!

তাসফি যেয়ে দরজা আটকিয়ে আসলো,আমি ভয়ে শেষ কেননা তাসফির জিদের বশে অনেক কিছুই করে ফেলে,এখন কি করবে আল্লাহ আর তাসফিই জানে,
আমি: দরজা বন্ধ করলে কেন??
তাসফি: যার জন্য কফি খাশনি, সেই ইচ্ছে মিটাতে আসলাম,
এই বলে তাসফি ওড়নাটা টান দিয়ে মাটিতে ফেলে দিল আর বলল শুরু কর,নাকি জামা পায়জামাও খুলে দিব।
তাসফির কথা শুনে যতটা না অবাক হচ্ছি,তার চেয়ে বেশি অবাক হচ্ছি তাসফিকে দেখে,আপনার নেগেটিভ নিয়েন না ভাইয়া আপুরা।

আমি: আমি আজ কোন তাসফিকে দেখছি, এই সেই তাসফ যাকে আমি ভালোবাসি,আর আমি তো শুধু একটা কিচ চেয়েছি আর তাসফি আমাকে এতোটা খারাপ ভাবলো,আমি আর পারছি না,সত্যি তো আমি অনেক খারাপ,আমি তো মাত্র কিচ চেয়েছিলাম তাসফি এমনটা করবে জিবেনও ভাবতে পারি নাই,,একা একাই চোখ বেয়ে পানি বের হচ্ছে,কেননা আমি তো তাসফিকে ভালোবাসি,তার দেহকে তো ভালোবাসি না তার মনকে ভালোবেসে ছিলাম,আর তাসফির কাছে সামান্য একটা কিচের জন্য তাসফি এরকম করবে ভাবতে পারি নাই।

(মনে মনে ভাবতেছিলাম)

তাসফি : কি হলো শুরু কর,আমার আবার কাজ আছে,তোকে খুঁশি করে তোকে খাওয়াতে হবে তার পর কলেজে যাবো তকরাতারি কর।

আমি: আমি আর কিচ্ছু না ভেবে..............

আগামী দিনের জন্য অপেক্ষা করবেন😛😛😛🤣??না থাক আজই বলে দেই,আপনারা কি না কি ভেবে বসবেন আবার, এমনেই অনেক খারাপ আমি তাসফির কাছে আপনাদের কাছে হতে চাই না।

আমি: আমি আর কিচ্ছু না ভেবে বিছানা থেকে উঠে তাসফিকে একটা থাপ্পড় মেরে বললাম,তোমার দেহকে নয় তোমার মনকে ভালোবাসি,আর আমি তোমাকে বিয়ে করার আগে তোমার সাথে শারিরিক সম্পর্ক করবো কিভাবে ভাবলে,আমাকে কি এতটাই নিচ মনে হয়,তোমার কাছে একটা মাত্র কিচ চেয়েছিলাম,আর তুমি কিনা ভেবে নিয়েছো আমি তোমার সাথে শারিরিক সম্পর্ক করতে চাই,ছি: তাসফি ছি:। আমি জানতাম না তুমি আমাকে এতটা নিচ ভাবো,যদি জানতাম তাহলে কখনও তোমাকে ভালোবাসতাম না।

এই বলে সেখান থেকে চলে আসলাম। আজ খুব কাঁদতে ইচ্ছে করছে,কে যেন বলেছে সিগারেট খেলে নাকি কষ্টটা কমে তাই একটা সিগারেট দরালাম।সিগারেটের ধোয়ার সাথে উড়িয়ে দিচ্ছি কষ্ট গুলো,

সেদিন আর দিনের বেলা বাসায় যাই নি,রাতের বেলা চুপ চাপ বাসায় ঢুকে আমার রুমে যেয়ে দেখি তাসফি আমার রুমে শুয়ে আছে,আমার জাওয়ার বাজ পেযে উঠে বসলো।

তাসফি: আমরিন প্লিজ আমাকে ক্ষমা করে দাও আমি আসলে বুঝতে পারিনি।
আমি: দেখুন আমি আর আপনার মুখটাও দেখতে চাইছি না,এখান থেকে চলে গেলে আমি খুঁশি হবো।
তাসফি মনে হয় অনেক কষ্ট পেযেছে,তাতে আমার কি??
আমিও কম কষ্ট পাইনি,আমি কি চেয়েছিলাম আর কি ভেবে ছিল😏😏।
আমাকে অনেক কষ্ট দিয়েছো এবার বুঝবে আপন মানুষ হুলো কষ্ট দিলে কেমন লাগে,এই সব ভেবে ঘুমিযে পরলাম,
সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি তাসফি আমাকে জরিয়ে ধরে ঘুমিয়ে আছে,যদিও ভালোই লাগছে কিন্তু তাসফিকে কষ্ট দেওয়ার কথা মনে হতেই ধাক্কা দিয়ে বললাম

আমি: কি সমস্যা হ্যাঁ,আমার উপরে শুয়ে আছো কেন,লজ্জা করে না,তোমার ছোট ভাইয়ের উপরে শুয়ে থাকো।

তাসফি: 😒😒😒🤣🤣🤣🤣
আমি: কি হলো লজ্জা নেই,হাসো কেন দাঁত কেলিয়ে।যতসব আজাইরা মার্কা মেয়ে,কোথা থেকে যে এসব আসে কে জানে,
আমার কথা শুনে তাসফি কিছুটা কষ্ট পেলেও তার পরও হাসি মুখে বললো

তাসফি: আমরিন স্যরি আমার ভুল হয়ে গেছে আমাকে ক্ষমা করে দাও।

আমি আর কিছু না বলে চলে আসলাম। সেখান থেকে সরাসরি বাহিরে চলে আসলাম,তার পর বন্ধুদের সব বললাম,এটাও বললাম যে তাসফি আর আমার বিয়ে ঠিক হযেছে,

শালারা আমার বিয়ে ঠিক হয়েছে শুনে ট্রিট না নিয়ে ছারবে না,কি করবো হারামিদেরকে ৫ টাকা দিলাম😇😇।

আমি: এই নে ৫ টাকা বাদাম কিনে খা তোরা।আমি গেলাম।

জাহিদ: এই শালা দ্বারা। আমরা কি ফকিন্নি নাকি রে,৫ টাকা নিব না যদি নেই তো হয় রেস্টুরেন্টে না হয় ২০০০ টাকা দে।

আমি: আমার কাছে টাকা নেই, তোরা এই টাকা দিয়েই তোদের ট্রিট নে,আর তোরা ফকিন্নি না হলে কি এই অবুঝ ছেলের কাছ থেকে ট্রিট চাস।

জাহিদ: ধর তোর টাকা তুই নে,আর তোর টাকা লাগবো না, যা ভাগ শালা।

কি আর করবো বন্ধুরা চলে যেতে বললো। তাই বাসায় চলে আসলাম,এখন যদি ওদের ওই খানে থাকতাম সত্যি সত্যি আমার ২০০০ টাকা না শুধু আমার বারোটা বাজিয়ে দিত।

Click Here For Next :চলবে

Writer :- Amrin Talokder

Leave a Comment

Home
Stories
Status
Search
Account