ভার্সিটির রাগি মেয়ে যখন বউ অনুগল্প | Romantic Love Story

Versitir Ragi Meye Jokhon Bou

Amrin Talokder { Short Story }


একটি মেয়ে: এই ছেলে দারা।

আমরিন: জ্বি আপু আমাকে বলছেন?

মেয়েটি: হুমম,তোকেই বলছি,তো কলেজে নতুন নাকি?

আমরিন: হুমম,কিন্তু কেন?

মেয়েটি: তো চল আমাদের সাথে...!

আমরিন: কোথায় যাবো?আর আপনি কে?আপনার সাথেই বা আমি কেন যাবো..?

মেয়েটি: যা বলছি তা করবি এত্ত কথা কেন বলিস হুমমম?

তার পর আর কি, চলুন পরিচয়টা দিয়ে নেই।

আমি আমরিন তালুকদার। দেশের বাড়ি টাঙ্গাইল, গোপালপুর। ইন্টার পাস করে স্বপ্ন ছিল ঢাকা ভার্সিটি।স্বপ্নটাও পূরণ হয়েছে।আজ ছিল আমার ভার্সিটির প্রথম ক্লাস।আই মিন আজ নতুনদের মানে আমাদের নবীন বরণ অনুষ্ঠান ভার্সিটিতে।

ভার্সিটি শুরু হওয়ার কিছুদিন আগে এখানে ভার্সিটির পাশে এক বিল্ডিং উঠেছি। আজ আমার ভার্সিটির প্রথম দিন, তাই সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে নাম্তা করে ভার্সিটির উদ্দেশ্য বের হইছি।ভার্সিটির গেট দিয়ে ডুকতে যাবো তার পর তো আপনারা শুনলেনই।

তাই সেই মেয়েটির পিছন পিছন যাচ্ছি।এখানে নতুন বলে কাওকে সেরকম চিনি না।তাই কোন ঝামেলাও পাকাতে চাচ্ছি না,দেখতেছি মেয়েটি আমাকে কোথায় নিয়ে যেতে চাচ্ছে।

মেয়েটি যেতে যেতে ক্যাম্পাসের শেষ মাথায় নিয়ে যায়।

মেয়েটি: তাসলিমা , এই নে একটা ধরে নিয়ে আসচ্ছি।

তাদের কথা শুনে মনে হচ্ছে তারা শিশু পাচার করে।আমার মতো একটা বাচ্চাকে তারা প্রাচার করে দিবে ভাবতেই ভয় লাগছে।

তাহলে আমার কি হবে,আর আমার মা বাবা,আর আমার ভবিষ্যত বউ,সব শেষ হয়ে যাবে।(মনে মনে ভাবছি)

তাসলিমা : কিরে তোর নাম কি?

আমি : জ্বি, আমি আমরিন তালুকদার। আপনার নাম?

যদিও সেই মেয়েটির মুখে শুনলাম তাকে তাসলিমা বলে ডাক দিয়েছিল,কিন্তু তাও তার মুখ থেকে শুনতে ইচ্ছে করছিল। তাই তাকে পাল্টা প্রশ্ন করলাম।

তাসলিমা : তোর আমার নাম দিয়ে কোন কাজ নেই।তুই এখন এখানে কানে ধরে ১ ঘন্টা দারিয়ে থাকবি.

আমরিন: আমার দোষটা কোথায়, যানতে পারি?আমি কি করেছি যার জন্য এই ছোট্ট নিষ্পাপ বাচ্চাকে কানে ধরে দারিয়ে রাখবেন?

তাসলিমা : তুই আমার সাথে পাল্টা প্রশ্ন করেছিস আবার তর্ক করছিস তাই।যা বলেছি তাই করবি। আমি ১ ঘন্টা পর আসবো। আর তখন যেন এসে তোকে দেখতে পাই তুই এখানেই দারিয়ে আছিস।

উমম।বললেই হলো, আমি আর ১ ঘন্টা,তাও আবার এই রৌদ্রময় যায়গায় বয়েই গেছে।শুধু তুমি এখান থেকে যাও তার পর দেখবে আমি নাই(মনে মনে ভাবছে আর হাসচ্চে)
তার পর ফারিয়া আর তার বান্ধবী গুলো চলে যায় তাদের ক্লাস করতে।সাথে সাথে আমিও কেটে পরি।

আসুন তাসলিমার সম্পর্কে কিছু বর্ণনা দেই।

তাসলিমা খাতুন নিলা ,দেখতে বড্ড মিষ্টি।আর তার কথা বলার স্টাইল দেখে তো আমরিন পুরোই জেলাস।কিন্তু তার করা ব্যবহারটা আমরিনের একটুও পছন্দ হয়নি।তার বাবা কি করে জানি না,কারণ কেও বলতে পারে না,সেগুলো নাকি সিক্রেট।যাই হোক আপনাদেরও যেন কাজ নেই।তবে তাকে দেখে বুঝা যায়, সে কোন সম্রান্ত পরিবারের সন্তান।

যা বা***ল, আজকে নবীন বরণ অনুষ্ঠানে আসতে লেট হলো শুধু মাত্র কয়েকটা মেয়ের জন্য। তাদের উপর খুব রাগ হচ্ছে এখন।আর কিই বা করার আছে এখন,যা হওয়ার তাই হইছে।তার পর নিজের ডিপার্টমেন্ট খুঁজে বের করে ক্লাস রুমে চলে যাই।

ক্লাসে বসে আছি, একটু পর ম্যাম ক্লাসে ডুকে সবার পরিচয় নিল,যেহেতু সবার পরে আসচ্ছি, সেহেতু সবার পরেই বসেছি,তাই পরিচয়টও সবার পরেই দিলাম।আজ আর কোন ক্লাস হলো না,তার পর চলে আসলাম মেসে।যেহেতু নতুন তাই ভার্সিটির হোস্টেলে উঠতে পারিনি।তাই মেসে থাকতে হচ্ছে।

আর এইদিকে তাসলিমা ক্লাস শেষে এসে দেখে আমরিন সেখানে নাই।তাতে তো তার রাগ চরমে উঠে যায়।কি করে ছেলেটা তার কথা অমান্য করলো,তার জবাব তো ফারিয়া আগামী কাল অবশ্যই নিবে।

আর আজ সেরকম কোন ক্লাস না হওয়ায় মেসে শুয়ে শুয়ে গান শুনছি,আপনারা শুনবেন??
আচ্ছা তাহলে আপনাদের ও বলি গানটা কেমন😇

আমি তোমার সাথেই আমাকে খুঁজে যাই

এখনও যত্ন করে যাই...

যদিও তুমি বহুদূরে..............

আমি আজও পাগল তোমারই ওই প্রেমে

গেছি হারিয়ে রাতের আকাশে

তবে কি কাহিনি শেষ আমাদের.....

আমি ভাবি, যদি আবার, ছুতে পারতাম তোমাকে

সত্যি বা স্বপ্ন হোক এ দুরত্ব শেষ হয়ে যেতো যে।

অনেক বলছি তো চলুন গল্পে ফিরি।

গানটি ভালো করে শুনতেও পারলাম না,কে যেনো ফোন দিয়েছে।তাই ফোন হাতে নিয়ে তার সাথে কথা বলা শেষে তো আমরিন ভয় পেয়ে আছে।তাহলে কে এমন ফোন দিয়েছির, যার জন্য আমরিন ভয় পাচ্ছে?

হ্যাঁ আজ আমরিনের সাথে হওয়া নতুন ফ্রেন্ড তাকে ফোন দিয়েছিল।তাকে নাকি একটা মেয়ে খুঁজছে।আমরিনের আর বুঝতে বাকি ছিল না যে কে খুঁজতে পারে তাকে।কারণ তাসলিমা বলেই গিয়েছিল,১ ঘন্টা পর সে এসে যেন তাকে সেখানে পায়।কিন্তু আমরিন তো সাথে সাথেই হাওয়া হয়ে গেছে সেখান থেকে।

পড়ুন  ভিলেন – থ্রিলার প্রেমের গল্প পর্ব 35 | Villain Action Story

এই তাসলিমা তো পুরোই রেগে আগুন হয়ে যায়।আজ পর্যন্ত তার কথার বিরুদ্ধে কেও যেতে পারেনি আর এই ছেলে তার কথার বিরুদ্ধে গেছে।কি করবে সে ভেবে পাচ্ছে না,তাই রাগে কান্না করে দেয়।

ওহহ আপনাদের তো বলাই হয়নি তাসলিমা রাগি হলেও তার একটা নিক নেইম আছে, যেটা সবাই জানে ভার্সিটির।তাসলিমার ক্লোজ বন্ধু গুলোই যদিও তার সেই নামটা বলে, তবুও সে পুরো ভার্সিটিতে Little cutei নামে পরিচিত।

হাবিবা: কিরে তাসলিমা ছেলেটা তো চলে গেছে।দ,এটা কেমন হলো?

তাসলিমা: কেমন হলো সেটা পরেই জানতে পারবি।

সে একথা বলেই সেখান থেকে চলে যায় তার বাসা,আর আমরিন শুয়া থেকে উঠে তাসলিমার বিষয়ে সকল খোজ নিয়ে জানতে পারে। তাসলিমার দেশের বাড়ি নাটোর জেলার তেবাড়িয়া ইউনিয়ন.আর তার বাবা একজন ঢাকা শহরের টপারদের মধ্যে একজন।তারা বাবার ভয়ে তার এলকার কেও কিচ্ছু বলতে পারে না।তাই তাসলিমা একটু রাগি টাইপের।

যাই হোক তাসলিমার বেপার আমরিন সকল তথ্য বের করে নেয়, অনেক কষ্ট করে।কিন্তু তাসলিমার সকল তথ্য কেন আমরিন বের করলো,সেটা আমরিনের অজানা।
তার পর দিন ভার্সিটিতে যাচ্ছে আমরিন।

গেট দিয়ে ডুকার সময় দেখে তাসলিমা ও তার বান্ধবীগুলো ক্যাম্পাসের এক পাশে বসে হাসাহাসি করছে।

রিতু: কিরে তাসলিমা,কালকে যে ছেলে ভয়ে পালিয়ে গেছে তাতে কি মনে হয় আজ আসবে?

হাবিবা: আসবে না কেন?ভার্সিটিতে যেহেতু এডমিশন নিয়েছে অবশ্যই আসবে।

সাদিয়া: দেখবি আজ জীবনেও আসবে না।

সুমাইয়া: ওই দেখ গেটের দিকে, মহারাজ আসতে চলছে।

সুমাইয়ার কথা শুনে সবাই গেটের দিকে তাকায়,দেখে সেই ছেলেটি গেট দিয়ে ভার্সিটিতে ডুকছে।তাসলিমা সেখানে আর একটুও দেরি না করে এক দৌড়ে আমরিনের কাছে চলে আসে😘।

তাসলিমা: কিরে তুই কাল চলে গিয়েছিলি কেন🤬🤬?

আমরিন: স্যরি কে আপনি?
তাসলিমা: তুই চিনিস না,কাল তোকে না বলেছিলাম ১ ঘন্টা কানে ধরে দারিয়ে থাকতে।
আমরিন: স্যরি আপু,আমি তো আজই প্রথম আসলাম ভার্সিটিতে(দেখছেন আমরিন কত্ত সুন্দর এন্ট্রি মারলো।আসলে আমরিনকে তার বন্ধুরা এইজন্য তাকে রহস্যময়ী বলে)

তাসলিমা আর আমরিনের কথার মাঝে তার বান্ধবীগুলো এসে পরে।

তাসলিমা: ওই হাবিবা, তুই কালকে এই ছেলেকেই ধরে নিয়ে গেছিলি না???

হাবিবা: হুমমম, এটাই কিন্তু কি হইছে?

তাসলিমা আমরিনের কলার ধরে.

তাসলিমা: কিরে রহস্যময়ী এত্ত মিথ্যে কিভাবে বলিস তুই?

আমরিন: আপনি আমার নিক নেইম জানলেন কি করে?.আমি সত্যি রহস্যময়ী।

তাসলিমা: আজ তোর রহস্যময়ীর গুষ্টি কিলাবো আয় আমার সাথে।

তার পর আমরিনকে একটা ফাঁকা ক্লাস রুমে নিয়ে যাওয়া হয়।আমরিন যেতে না চাইতেও এরকম পাঁচটা মেয়ের সাথে ঝগড়া করে পারবে না তাই তাকে অনিচ্ছা সত্তেও যেতে হচ্ছে।আপনারাই বলেন এরকম কিউট কিউট পাঁচ পাঁচটা মেয়ে যদি এরকম করে নিয়ে যায় কেই বা না যেতে চাবে।আর যদি হয় সেগুলো তাদের ইচছাতে।আমার তো সেই লাগতেছে।যদি কিছু আদর পাই তাদের কাছ থেকে🙈🙈।আই মিন লিপ কিস যদি করে 😍

তাসলিমা: আজ সারাদিন তুই এই রুমে বন্দি থাকবি।
বলেই দরজা আটকিয়ে দিবে।কিন্তু আমরিন তাসলিমার হাত ধরে টান মারে।তাসলিমা এটার জন্য কখনই প্রস্তুত ছিল না।তাই টান সামলাতে না পেরে সেও রুমের ভিতর সে পরে আর আমরিনের উপর পরে যায়😘

আর আমরিন তাকে নিয়ে মাটিতে পরে যায়।এখন তাদের মাঝে নেই কোন দুরত্ব। দুজন দুজনার নিশ্বাসের শব্দ শুনতে পাচ্ছে।এরকম হবে কেও ভাবেনি।তাসলিমার বান্ধবী গুলো হা করে দারিয়ে আছে।এটা কি হলো ভাবছে হয়তো বা।

আমরিনের তো সেই ভালো লাগছে।মনে মনে চেয়েছিল ভার্সিটির কোন এক রাগি দুষ্টৃ মিষ্টি কিউট মেয়ের সাথে রিলেশন করার।তার সেই স্বপ্নের রাণী আজ হয়তো পেয়ে গেছে।এগুলো ভাবতেই আমরিন খুশিতে তাসলিমাকে জরিয়ে ধরে।

তাসলিমা: কুত্তার বাচ্চা, ছার আমাকে।আজ তোকে তো আমি শেষ করেই ফেলবো।

আমরিন: জানি না তোমাকে কেন এত্ত লেগেছে ভালো।তুমি কি হবে আমারই রাত জাগার আলো।
আমি যে তোমায় প্রথম দেখায় হারিয়েছি স্বপ্নে।তুমি কি দেখা দিবে বাস্তবে...!
তোমারই ওই মায়াবী চোখের প্রেমে,হারিয়ে যেতে চাই অদূর নিলীমাতে।তুমি কি হবে আমারই জীবনের সাথী।আমি যে তোমায় অনেক ভালোবাসি😍।
I Love you Taslima....

তাসলিমা সহ তার বান্ধবী গুলো আমার প্রপোজ করার স্টাইল দেখে ফিদা হয়ে গেছে মনে হচ্ছে।কারণ তারা আমার কাব্য রচনা দেখে চোখ বড় বড় করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।

তাসলিমা: কিহ বললি??

আমরিন: জানু যা বলছি তো শুনেইছো।প্লিজ রাজী হয়ে যাও না,অনেক অনেক আদর দিব তোমায়😘😘।

আগেই বলেছিলাম সেখানে যেখানে আমরিনকে আনা হইছে সেখানে রুমটা অনেক পুরোনো।এই দিকটাই কোন মানুষই আসে না সেরকম।
তাই সেখানে কিছু হাতিয়ার থাকবে স্বাভাবিক। একটু দুরে দেখে একটা বেঞ্চের ভাঙ্গা পা পরে আছে।

সেটা দিয়ে আমরিনকে ইচ্ছে রকম মেরে যায়।আমরিন যাইলে তাকে ফিরাতে পারতো। কিন্তু কেন যেন চাচ্ছে না তাকে ফিরাতে।হয়তো তাকে ভালোবাসে তাই কিছুই বলছে না,কিন্তু তাসলিমা তাকে ইচ্ছে মতো মারতেই থাকে।এক সময় তার বান্ধবী গুলো তাকে থামিয়ে দেয়।আমরিন জীবনেও এরকম মার খায় নি।আর আজকে কিনা একটা মেয়ের কাছে এরকম মার খেলো।

পড়ুন  ভিলেন – থ্রিলার প্রেমের গল্প পর্ব 18 | Villain Action Story

তার সেখান থেকে আমরিন অনেক কষ্টে হসপিটালে চলে যায়।অনেক পর সুস্থ হলে আবার ভার্সিটিতে পা দেয় আমরিন,আর এবার আর আগের রুপে নয়।কিছুটা চেইঞ্জ হয়েই ভার্সিটটিতে আসচ্ছে।

হাবিবা: তাসলিমা সেই ছেলেটি...

তাসলিমা: কিসের সেই ছেলেটি?

হাবিবা : তুই ১৫ দিন আগে যাকে মেরেছিল সে।

হুমম তাসলিমা এত্তটাই মারে যে তাকে ১৫ দিন হসপিটালে থাকতে হয়।খুব খারাপ লাগে তখনই যখন প্রিয় মানুষ গুল কষ্ট দেয়।আমরিনের খুব কান্না পাচ্ছে। তাসলিমার কি একবারো আমার প্রতি তার মায়া হয়নি?

তাসলিমা কখনও সেদিনের মতো রেগে যায় নি।কিন্তু সেদিন কি করে পারলো ওই ভাবে আমরিনকে মারতে।সেটা ভাবেই নিজরে ভিতর কেমন করে যেন উঠছে তার।সে যানে না আমরিন এখন কোথায় আছে।কেমন আছে তাকে দেখতে খুব করে ইচ্ছে করছে,কিন্তু তাসলিমা কি করে তাকে খুঁজে বের করবে??

তাসলিমা তো যানে না আমরিন কোথায় থাকে বা কিই বা তার পরিচয়। তাই প্রতিদিন ভাবতো আজ হয়তো আমরনি ভার্সিটিতে আসবে আর তার কাছে স্যরি বলবো।আচ্ছা তাসলিমার মনে যে অনুতপ্ততা বোধ সৃষ্টি হয়েছে সেটা কি সত্যি শুধুই অনুতপ্ত নাকি তার মনে আমরিনের প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি হচ্ছে আস্তে আস্তে কোনটা?

প্রতিদিন আমরিনের জন্য অপেক্ষা করা ছিল এখন তাসলামার নৃত্য দিনের কাজ।কিন্তু সেটা তো তার বান্ধবীরা জানে না।কিন্তু রিতু একদিন বলেছির তাসলিমাকে সে কাওকে খুঁজছে কিনা।কিন্তু তাসলিমার মুখে কোন ভাষাই সেদিন ছিল না।সে তো নিজেও যানে না সে কাকে খুজ বেরাচ্ছে।

আচ্ছা তাসলিমা নিজে খুঁজে বেরাচ্চে নাকি তার মন কাওকে খুঁজছে?কি হতে পারে?
আজ দীর্ঘ ১৫ দিন পর যখন আমরিন ভার্সিটিতে পা দেয়।তখন হাবিবা তাসলিমাকে বলে আমরিনের কথা।আমরিন কে দেখতে পেয়ে সে ছুটে যায় আমরিনের কাছে।

তাসলিমা: আমরিন স্যরি..😪

আমরিন: কিন্তু কেন?

তাসলিমা: আসলে আমি বুঝতে পারিনি।তোমাকে সেদিন ওই ভাবে মারার পর আমি আজ পর্যন্ত ঠিক করে ঘুমাতে পারিনি।আমি তোমাকে অনেক খুঁজেছি ভার্সিটির প্রতিটা অলিতে গলিতে।কিন্তু আমি পাইনি।কারণ তুমি তো ভার্সিটিতে আসো নি।আর আমি তোমার বাসাও চিনি না,তাই প্রতিদিন গেটের সামনে অনেক সময় দারিয়ে থাকতাম তোমার আশায়।জানি না এটাকে কি বলে।তবে আমার মনে তোমার জন্য কিছু একটা হয় সেটা বুঝতে পারি।প্লিজ আমাকে ক্ষমা করে দেও।

কি হলো আজ ভার্সিটির রাগি মেয়েটা এরকম নরম হয়ে গেছে।কাহিনি বুঝতে পারছে না,তাহলে কি তাসলিমা আমরিনকে ভালোবাসে?এগুলো ভাবছে।আর আগের চেয়ে কত্তটা ভদ্র হয়ে কথা বলছে।
(মনে মনে ভাবছে আমরিন)

তাসলিমা: ওই কি হলো,উত্তর দাও??

আমরিন: আচ্ছা আপু আমার দেরি হয়ে যাচ্ছে।

তাসলিমা: ওই তুই দারা।আজ আবার তোকে মারবো।

আমরিন: মানে একটু আগে ক্ষমা চাইলেন আবার মারতে চান আপনার সমস্যাটা কি?

তাসলিমা: আমি তোর কোন কালের বোন লাগি
আর তোর আজ কোন ক্লাস করতে হবে না।আজ তুই আমার সাথে ঘুরবি।

আমরিন: স্যরি আমার ক্লাস আছে, আমি পারবো না

তাসলিমা: তুই পারবি না, তো তোর বাপ পারবে।

আমরিন: আচ্ছা তো নিয়ে আসি আমি আমকর বাপরে,তাকে নিয়ে ঘুরতে যান।

তাসলিমা: 🤬🤬🤬🤬আমরিন🤬🤬🤬🤬

তাসলিমা: তোকে বলছি তো চল,আর কোন কথা বলবি না।

আচ্ছা আজ এরকম কেন করছে তাসলিমা, তাহলে কি আমরিনের প্রতি তার সেই ভালোবাসা তৈরি হয়েছে।আপনারা একটু কমেন্ট বক্সে জানায়েন।

তাসলিমা আমরিনকে নিয়ে নদীর পাড়ে গিয়ে দারায়।যেখানে নেই কোন কোলাহল,নেই কোন শব্দ। তাসলিমার আজ অনেক ভালো লাগছে এইরকম এক মুহুর্তে তার পাশে কাওকে পেয়ে।

তাসলিমা: আমরিন, হয়তো আমি রাগি টাইপের,কিন্তু জানো আমারো তো মন আছে।আমারও কাওকে ভালোবাসতে ইচ্ছে করে।আমি চাই আমাকে কেও বুঝা চেষ্টা করুক।কিন্তু জানো আমরিন আমি সব সময় এক একা থেকেছি। একা একা বড় হয়েছি।তাই ওই রকম রাগ হয় মাঝে মাঝে।কিন্তু সেদিন তোমাকে ওই ভাবে মারতে চাইনি।কিন্তু কি করে যে ওই সব হয়ে গেলো নিজেও জানি না,তার পর থেকে প্রতিদিনই তোমার করা প্রোপোজ আর তোমাকে মারার কথা মনে পরতো।আমার মনে হতো তুমি সত্যি আমাকে ভালোবাসো।তোমার কথা মনে হলেই আমি কান্না করতাম।কি করে আমি তোমাকে ওই রকম ভাবে মেরেছি নিজেও বলতে পারবো না(এই বলছে আর মাঝে মাঝে কান্না করছে তাসলিমা)

আমরিনঃ 🙄🙄😶😶😶

তাসলিমা: আমি তোমার মতো হয়তো কাব্য রচনা করতে জানি না,কিন্তু আমি যে তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছি সেটা খুব করে বলতে পারছি।প্লিজ আমরিন আমাকে ক্ষমা করে দিও আপন করে নাও।

পড়ুন  রাগী স্যার যখন ডেভিল হাসবেন্ড পর্ব 3 | Bangla Premer Golpo

আমরিন: 😶😶😶(তাও নিশ্চুপ)

তাসলিমা আমরিনকে জরিয়ে ধরে, আমরিন কোন কথা না বলায় তাসলিমা আমরিনকে জরিয়ে ধরে কেঁদে দেয়।যেটা আমরিনকে আর চুপ থাকতে দেয়নি।আমরিনও তাসলিমাকে জরিয়ে ধরে অনেক কাছে টেনে নেয়।

আজ নদীটাও অনেক হাসছে,আর বাতাস গুলোও তাদের মন মতো উড়ঁছে।আজ প্রকৃতিও তাদের এই রোমান্টিক মুহূর্তে এক শিতল আবহাওয়া উপহার দিচ্ছে।

কিছু সময় পর তারা সেখান থেকে চলে আসে।আজ আমরিন ও তাসলিমা সরাটা দিন এই শহরটা ঘুরেছে।তাদের রিলেশনের প্রথম দিনটি স্বরণীয় করতে আজ তারা সারাটা দিন এক সাথে ছিল,

🤗.......২ বছর পর.....🤗

তাসলিমা: আমরিন কই তুমি?

আমরিন: এইতো বাহিরে বসে আছি তুমি?

তাসলিমা : তুই বাহিরে কি করছিস,এখন বাসায় যা বলছি।

আমরিন: আরে বেবি রাগ করছো কেন।একটু দরকার ছিল..

তাসলিমা : আচ্ছা যা দরকার নিয়ে তুই থাক,বিয়ে কেন্সেল..

বুঝতে পারছেন না তো?তাহলে শুনুন।এই ২ বছরে আমরিন ও তাসলিমা প্রেম আরো বেড়ে গেছে।যতই দিন যায় ততই তাদের একে অপরের ভালোবাসা বৃদ্ধি পায়।আর তাদের বাবা মাও তাদের রিলেশন মেনে নেয়।

আর ২ মাস পর তাদের বিয়ে,কিন্তু শুনলেনই তো তাসলিমা বিয়ে কেন্সেল করে দিল।তাসলিমা আমরিনকে সব সময় করা শাসনের উপর রাখে।আমরিনের আম্মু নাকি তার হবু বউ মাকে বলেছে তার ছেলেকে শাসন করতে।আই মিন মানুষ করতে।আচ্ছা আপনারাই বলেন তো আমি কি মানুষ না?

আমাকে আর কিসের মানুষ করবে?মাঝে মাঝে প্রচুর রাগ হয় এরকম শাসনে।পরে মনে হয় নিজরে ভালোবাসার মানুষটিই তো তাকে বকছে।তাই আর কিছু মনে হয় না।

দেখতে দেখতে ২ টা মাসও কেটে যায়।আজ তাসলিমা আর আমরিনের বিয়ে।আজ অনেক দিন পর তারা যেই দিনটির অপেক্ষা করেছিল,সেই দিনটি আজ তাদের এসেছে।

বিয়ের সকল কাজ শেষে তাসলিমাকে আমরিনের রুমে নিয়ে যাও হয়।কিন্তু দরজা পর্যন্ত না যেতেই তাসলিমার বান্ধবী গুলো পথ আটকে দারায়।

তাসলিমা: কিরে তোরা এরকম ভাবে পথ আটকালি কেন?

রিতু: উমমম আমাদের গিফট দিয়ে যাও

তাসলিমা: কিসের গিফট দিব🙄🙄?

হাবিবা: আমরা যে এত্ত কষ্ট করে বাসর ঘর সাজালাম তার টাকা কে দিবে শুনি??

তাসলিমা: কেন তোদের দুলাভাই দিবে🙈।

সুমাইয়া: উমমম দুলাভাইয়ের কাছ থেকে নিব কিনা সেটা পরে।আগে তোরটা দে।

তাসলিমা: আগে জানতাম বর বাসর ঘরে ডুকতে টাকা দিতে হয়,আর আজ তোরা তার উন্টো করে দিল,আমাকেও টাকা দিতে হবে।আমি দেখে নিব তোদের ফকিন্নি😜।

তার পর তাসলিমা ফকিন্নিদের ২হাজার করে ৪ টা ফকিন্নিকে ৮ হাজার টাকা দেয়।অন্য সময় হলে ৪ ফকিন্নিকে থাপ্পড় দিয়ে সরিয়ে দিত।কিন্তু আজ তার বিয়ে তাই আর ফকিন্নিদের ভিক্ষা দিয়ে দিল😅😅।

সাদিয়া: ধন্যবাদ Little cutei 😘😘😘

তাসলিমা:🙃🙃💥💥

তার পর ঠিক একই রকম করে আমরিনের থেকেও তারা টাকা নেয়।কিন্তু আমরিনের কাছ থেকে যা নেয় সেটার পরিমাণ অনেকটাই বেশি।কিন্তু বেচারা আমরিন তালুকদার কি বা করবে বিয়ে বাড়ি বলে কথা, আর নিজের বিয়ে,তাই জোড় করে তো আর বাসর ঘরে ডুকাও যাবে না,যারা বিয়ে করছেন তারা বুঝে বাসর ঘরে ডুকার আগের মুহুর্ত গুলো কত্ত বাজে।তাদের উপর দিয়ে কতটা ঝড় বয়ে যায়।

সব শেষে আমরিন বাসর ঘরে পা রাখে।
তার জন্য বসে আছে তারই ভার্সিটির রাগি মেয়েটি আজ তার বউ।
ভাবতেই আমরিনের ভালো লাগে যে ভার্সিটির রাগি মেয়েটি তার বউ।বাসর ঘরের কাজ গুলো কি আপনারা দেখতে চান😜😜।

আমরিন: জান চলো বিড়ালটা মেরে আসি?

তাসলিমা: বিড়াল কই পাবা?

আমরিন: তোমার ফকিন্নি বান্ধবী গুলো না বলে দিল তোমার কাছে নাকি একটা বিড়াল আব😛🙈🙈।
সেটা মারতে বললো।
তাসলিমা: 😃😛😜 তো বসে আছো কেন শুরু করে দেও🙈🙈

বলেই আমরিনের বুকে তাসলিমা মুখ লুকালো।আরে ভাই দরান আপনারা।আপনারা আমরিনের বাসর ঘরেও যে ডুকে পরছেন লজ্জা তো করার কথা।অন্যর বাসর ঘরের কথা যে শুনা লাগে না জানেন না বুঝি?

আপনারা আমরিন আর তাসলিমার জন্য দোয়া করবেন। তাদের বাসরটা সম্পূর্ণ হোক।

আর যেন খুব তারাতারি তাদের মাঝে কেও একজন আসতে পারে।

তাদের জন্য দোয়া করবেন।

ধন্যবাদ এত্তক্ষণ ধরে গল্পটি পরার জন্য।

সমাপ্ত

Writer :- Amrin Talokder

Leave a Comment

Home
Stories
Status
Account
Search