ভিলেন – থ্রিলার প্রেমের গল্প পর্ব 33 | Villain Action Story

ভিলেন পার্টঃ৩3
Mona Hossain

লোকে ইতিমধ্যে ভাইয়াকে পাগল বলা শুরু করেছে..কিন্তু তাতে তার কোন ভ্রুক্ষেপ নেই।
সে আমাকে সাথে নিয়েই গেস্ট এটেন্ট করছে আমি তার সাথে বোকার মত এদিক ওদিক যাচ্ছি।

এবার ভাইয়া তার বন্ধুদের কাছে গেল আমিও গেলাম তখন ভাইয়ার বন্ধু,
রাব্বি ভাইঃ যাক তোদের দেখে ভাল লাগছে সময় বদলালেও তোরা বদলাস নি… আকাশ মেঘলার জুটি আগের মতই আছে…

মেঘলাঃ না না ভাইয়া আপনি ভুল ভাবছেন ও তো আমাকে….

কথাটা আর শেষ করতে পারলাম না তার আগেই আমার মুখ চেপে ধরল ভাইয়া..

রাব্বি ভাইঃ আরে কি করছিস আকাশ ছাড়…

আকাশঃ যানিস ত মেঘলা ২ লাইন বেশি বুঝে আর ৪ লাইন বেশি বলে তাই ধরে রেখেছি যাই হোক তরা এনজয় কর আমি আসছি….

কথাগুলি বলে ভাইয়া যথারীতি আমাকে টানতে টানতে সেখান থেকে নিয়ে আসল …

আকাশঃ কি সমস্যা তোর..??

মেঘলাঃ কিসের সমস্যা..??

আকাশঃ কি বলতে চেয়েছিলি

মেঘলাঃ যা সত্যি তাই তুই তো সারাদিন আমাকে অপমান করিস।

আকাশঃ তাই বুঝি..??

মেঘলাঃ তাই তো

আকাশঃ আজ একবার বাসায় যাই তোর হবে…সবার সামনে কিছু বলতে পারছি না জন্য ভাবিস না যে তোকে ছেড়ে দিব।



কিছুক্ষন পর পার্টির সবাই চলে আসল,এবার কেক কাটার পালা ভাইয়া কেকের কাছে গেল আমি তখনো তার হাতে বন্দি,ভাইয়া কেক কাটল সবাইকে খায়িয়েও দিল কিন্তু আমি যে তার সাথে দাঁড়িয়ে আছি সেটা হয়ত তার চোখে পড়ে নি তাই আমাকে দিল না। যাক তাতে তত টাও মন খারাপ হয় নি কিন্তু কেক কাটার পরে হটাৎই বড় মা কিছু বলতে শুরু করল যা শুনে আমার মন খারাপ হয়ে গেল…

বড় মাঃ উপস্থিত সকলকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে এখন আমি আপনাদের একটা সুখবর দিতে চাই আর সেটা হল আমাদের একমাত্র ছেলে আকাশ এর সাথে আমার বোনের বড় মেয়ে নিলিমার বিয়ে ঠিক করেছি তাই চাচ্ছি আজ এনগেইজমেন্ট টা করে ফেলতে।

কথাটা শুনে সবাই হাত দিলেও কে কতটা খুশি হয়েছে জানি না কারন আকাশ ভাইয়ের কিছু বন্ধুদের রিয়েকশান দেখে মনে হচ্ছে তারা অবাক হওয়ার পাশাপাশি রেগেও গিয়েছে,এদিকে

আর আমার মনে হচ্ছে কেউ যেন আমার বুক পাঁজরে হাতুড়ি পিটা করছে কিন্তু আকাশ ভাইয়ের কোন রিয়েকশান দেখলাম না সে চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে তার ভাব দেখে মনে হচ্ছে যেন এটা হওয়ারেই ছিল,খুব শান্তভাবে ভাইয়া আমার হাত ধরে এগিয়ে যেতে চাইল কিন্তু আমার পা যে নড়ছে না আমি ঠাঁই দাঁড়িয়ে আছি দেখে ভাইয়া একটু জোর করল।

আমি এবার প্রানপন চেষ্টা করছি ওর হাত থেকে ছাড়া পাওয়ার কিন্তু পারছি না আমি যতই হাতটা ছাড়ার চেষ্টা করছি ভাইয়া ততই হাত টা চেপে ধরছে এবার আমার ব্যাথা লাগছে।

মেঘলাঃ কি করছিস ছাড় ব্যাথা লাগছে…

আকাশঃ ব্যাথা লাগার মত কাজ করলে ব্যাথা ত লাগবেই…

মেঘলাঃ ভাইয়া আসলে চায় টা কি আমাকে ধরেও রাখবে আবার নিলিমা আপুকে রিংও পড়াবে এসবের মানে কি? না এটা হতে পারে না।

ভাইয়া এবার আমাকে নিয়েই এগিয়ে গেল আর রিংটা হাতে নিল কেন জানি আর সহ্য হল না আমি সবার সামনেই ভাইয়ার গালে থাপ্পড় বসিয়ে দিলাম।

এমন পরিস্থিতির জন্য কেউই প্রস্তুত ছিল না।
থাপ্পড়ে কতটা ব্যাথা পেয়েছে জানি না কিন্তু
ভাইয়ার অগ্নিমুর্তি দেখে বুঝলাম ভাইয়া খুব রেগে গিয়েছে।

আকাশঃ এত সাহস কবে হল মেঘলা সবার সামনে তুই আমাকে থাপ্পর মারিস?

কি বলব বুঝতে পারছি না চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছি…

আকাশঃ সিনক্রিয়েট কেন করলি জবাব দে…

মেঘলাঃ আ আ আমি মানে…আর কিছু বলতে পারলাম না কারন আমার খুব ভয় করছে…

তখনী ভাইয়ার বন্ধুগুলি এগিয়ে আসল,
আর রাব্বী ভাই বলে বসল।

রাব্বী ভাইঃ এটাত হওয়ারেই ছিল আকাশ সারাজীবন মেঘলার সাথে মজা নিয়ে আজ অন্যজনকে বিয়ে করবি এটা কেমন কথা?

আকাশঃ আমি মজা নিয়েছি?

রাব্বি ভাইঃ একজনের হাত ধরে দাঁড়িয়ে আছিস আর বিয়ে করবি অন্যজনকে বাহ আকাশ বাহ এই না হলে চরিত্র। আজ মেঘলা বড়লোক নয় বলে ছেড়ে দিলি? ছি ছি ছি…

আকাশঃ আমি কি করতে চেয়েছিলাম সেটা তোদের কেন বলব…??

রাব্বি ভাইঃ কি করতে চেয়েছিলি আমরা সবাই দেখেছি…সার্থপর বেইমান মেয়েদের সাথে খেলা করা ছাড় এখনো সময় আছে।
শুধু রাব্বি ভাই না আরও অনেকে ভাইয়াকে কথা শুনাতে শুরু করল…

আকাশঃ কাকে তোরা কি বলছিস বুঝতে পারছিস কি যে আমি কোন দিন কোম মেয়ের দিকে ভাল করে তাকায় নি সেই আমি মজা নেই..??

মেঘলাঃ হ্যা নিস তুই আমার সাথে…. তুই একটা বেইমান স্বার্থপর লোভি ছেলে i just hate you..

আকাশঃ মেঘলা চুপ কর ধমক দিয়ে বলে আমাকে থাপ্পড় মারতে চাইল…

নাবিল ভাই এসে আকাশের হাত ধরল।
নাবিলঃ আকাশ শান্ত হ…

তখন বড় মা এগিয়ে আসলেন…

রুবিনা বেগমঃ এই তোমরা কাকে কি বলছো কোন ধারনা আছে আমার ছেলে হাজারে একটা ওর চরিত্র নিয়ে কথা বলার সাহস হয় কি করে তোমাদের? আর ও কেন মেঘলাকে বিয়ে করবে?
আর মেঘলা তুই যে আকাশ কে থাপ্পড় মারলি তোর সাহস কি করে হল,মুর্খ,ফকিন্নি,জেদি বদমেজাজি দেখতেও তেমন ভাল না তোকে কে বিয়ে করবে বল তো? গ্যারিন্টি দিয়ে বলতে পারি তোকে কেউ বিয়ে করবে না… শেষ মেষ বুড়ো কারোর গলায় ঝুলতে হবে।

আকাশঃ কোন কাজ করার আগে ভালভাবে ভাবতে হয় কি করছিস কোথায় করছিস কেন করছিস… এমন কেন করলি জবাব দে…আজ পর্যন্ত কোনদিন আমি তোকে বলেছি যে তোকে আমি ভালবাসি? তাহলে আমার বিয়েতে তর এত সমস্যা কেন..??সবসময় এত জেদ কেন দেখাস নিজে জায়গা টা কি করে ভুলে যাস? তুই আমার নখের ও যোগ্য না বুঝেছিস?

মেঘলাঃ ভাইয়া…??

আকাশঃ যা চোখের সামনে থেকে দূর হ…

-এবার নাবিলের মা শায়রা বেগম এগিয়ে আসলেন,

শায়রা বেগমঃ মা ছেলে মিলে এত মানুষের সামনে কি শুরু করেছো..?? মেঘলার বিয়ে কার সাথে হবে কার সাথে হবে না সেটা নিয়ে তুমাদের এত চিন্তা কিসের?

রুবিনা বেগমঃ চিন্তা না করে উপায় আছে কি? সেই ত আমার ছেলের ঘাড়ের উপরেই পড়ে থাকবে। নিজের বাবা তো বাসা থেকে বের করে দিয়েছে এতই যদি ভাল হত নিজের বাবা কি বাসা থেকে বের করে দিত? অপয়া মেয়ে মাকে খেয়ে শান্তি হয় নি এখন আমার ছেলেটার উপড় নজর দিয়েছে।আকাশ এত এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে তাও পারে না?

নির্লজ্জ মেয়ে পারলে তো জামা কাপড় খুলে দেয় নেহাৎ আমার ছেলের চরিত্র ভাল জন্যে…তানাহলে এতদিনে বাচ্চা পর্যন্ত হয়ে যেত।
কি করে আকাশকে ফাঁসানো যায়।সারাদিন এই চিন্তাতেই থাকে

শায়রা বেগমঃ মুখ সামলে কথা বলো ভাবি কি সব বলছো…??

রুবিনা বেগমঃ কি ভুল বলেছি? তুই বল মেঘলা সারাদিন আকাশের পিছনে লেগে থাকে না?
আকাশ যতই নিষেধ করোক সেই তো আকাশের সাথেই লেগে থাক।
তবে তুই ও শুনে রাখ আকাশ কখনোই ওকে বিয়ে করবে না। যতই হোক আমি এই মেয়েকে ঘরের বউ করব না।

শায়রা বেগমঃ থামো থামো আর ভাল লাগছে না।
মা মরা মেয়েটাকে এভাবে বলতে তুমাদের কি একটুও খারাপ লাগছে না…??আর ভাবি একটা কথা বলি মেঘলার বিয়ে নিয়ে তোমাদের কারোর চিন্তা করতে হবে না মনে হচ্ছে যেন ছেলে শুধু তুমি একাই পেটে ধরছো?

রুবিনা বেগমঃ তো কে বিয়ে করবে ওকে?হলফ করে বলতে পারি এমন উশৃংখল মেয়েকে কেউ বিয়ে করবে কারোর ঘরের বউ হওয়ার যোগ্যতা ওর নেই

শায়রা বেগমঃ তুমি ভুলে যাচ্ছো খোদা আমার পেটেও একটা ছেলে দিয়েছে…

আকাশঃ ছোট মা কি বলছো?

নাবিলঃ ঠিকি বলেছে এই প্রথম মা সঠিক সময়ে একটা ঠিক কথাটা বলতে পেরেছে…

আকাশঃ নাবিল (চেঁচিয়ে)

নাবিলঃ থাম আকাশ আজ আর কোন এক্সিউজ দিস না। বড় মা মেঘলাকে এত অপমান করছে তাও তুই কিছু বললি ও আচ্ছা বুঝতে পেরেছি
আসলে মেঘলা আকাশ মোসুমী হয় বর্ষাকাল চলে গেলেই হারিয়ে যায় বাকি সারাবছর নীল আকাশ থাকে..
তাই তোর হয়ত এখন নীলিমার নীল রং এই সাজতে ইচ্ছে করছে,মেঘকে আর ভাল লাগছে না … তবে তুই হয়ত জানিস না আকাশের মেঘ পছন্দ না হলেও ছাতক পাখি কিন্তু ওই একটু খানি মেঘের আশায় সারাটা বছর অপেক্ষায় থাকে….

আকাশঃ নাবিল আমার কথাটা শুন…

নাবিলঃ শুনেছি দেখেছি বুঝেছিও সব বুঝেই বলছি আজ তুই শুধু মেঘলাকে নয় নাবিল কেও হারালি।

সবার কথা শুনে আমি হতবাক হয়ে চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছি কি বলব বা বলা উচিত বুঝতে পারছি না।একবার আকাশ ভাই কে আবার নাবিল ভাইয়ের দিকে তাকাচ্ছি তখন নাবিল ভাইয়া আকাশ ভাইয়ার হাত থেকে আমাকে ছাড়িয়ে নিল।

নাবিলঃ চল মেঘলা এখানে আর এক মুহূর্তও না।

মেঘলা নাবিলের সাথে চলে গেল।

এদিকে
আকাশঃ বাহ মেঘলা বাহ আজ সবাই তোর আপন শুধু আকাশেই পর, তুই আমাকে এইটুকু ভরসা করতে পারলি না…??
অথচ একটা দিন ছিল যখন তুই শুধু আকাশকেই ভরসা করতি…আজ আর ভরসা করতে পারিস না একটা বার বুঝার চেষ্টাও করলি না কেন আকাশ এনগেইজমেন্ট করতে তোর হাত ধরে স্টেইজে উঠল।
আমি তোর হাত ধরে রেখে অন্যকাউকে রিং পরাব এটা তুই কি করে ভাবলি?
ভেবেছিলাম আজ তোকে সারপ্রাইজ দিয়ে সবার সামনে সব বলে দিয়ে ভুল বুঝাবুঝি মিটিয়ে দিয়ে বলব আমি তোকে ভালবাসি সবার সামনে রিং পরিয়ে সারাজীবনের জন্য তোকে আমার করে নিব কিন্তু তুই আমার হাত ছেড়ে নাবিলের হাত ধরে চলে গেলি।
কেন রে মেঘলা তুই কেন আমায় বুঝ লি না… আচ্ছা থাপ্পড় টাই বা মারলি কেন তুই নিজেও তো নীরবের হাতে রিং পরেছিলি কই আমি ত সেটা নিয়ে কথা বলি নি…

চলবে….!!!

Leave a Comment

Home
Stories
Status
Search
Account