fbpx

ভিলেন পর্ব 80 – প্রেমের গল্প | Romantic Premer Golpo

ভিলেন পার্টঃ ৮০
মনা হোসাইন

মেঘলাঃ এখন আমি কি করব এরা কেউ তো আমার কথা শুনবে না। তবে কি সব আশা শেষ হাল ছেড়ে দিতে হবে…??
না আমি হাল ছাড়ব না। শেষ পর্যন্ত লড়ে যাব।যেভাবেই হোক ভাইয়াকে আটকাতে হবে।
তুই এমন কেন ভাইয়া…?? কখন কি করিস কিছুই বুঝতে পারি না।এই মনে হয় তুই আমার সবচেয়ে আপনজন আবার মনে হয় তুই আমার সবচেয়ে বড় শত্রু..(মনে মনে)
আকাশের গলায় মেঘলার ধ্যান ভাংগল।

আকাশঃ ম্যাম সব ব্যবস্থা করা হয়েছে..??

মিসেস আহমেদঃ হ্যা সব ঠিক করা আছে।

মেঘলা চেঁচিয়ে উঠে বলল,
আমি সবাইকে সাবধান করে দিচ্ছি খবরদার আমার গায়ে কেউ হাত দিবেন না। আমার সাথে আপনারা কিছু করার চেষ্টা করলে আমি আপনাদের নামে পুলিশের কাছে কমপ্লিন করব।

ডাক্তারঃ কি হচ্ছে? আকাশ মেঘলা এসব কি বলছে?

আকাশঃ আমি ত আগেই বলেছিলাম ও রাজি হবে না তবে ও রাজি হোক না হোক তাতে আমার কিছু যায় আসে না। আপনি সার্জারীর ব্যবস্থা করুন… আগে সার্জারী হোক তারপর কে কি কমপ্লিন করে আমি দেখে নিব। আপনি চাপ নিবেন না। আই প্রমিস আপনার কোন ক্ষতি হবে না ম্যাম।ওর এত সাহসেই হবে না কমপ্লিন করার…

মেঘলাঃ তুই এমন কেন করছিস ভাইয়া..?? যা ভুল করার আমি করেছি আমার বাচ্চা তোর কি করেছে? শাস্তি দিতে হয় আমাকে দে ওকে মেরে ফেলতে চাইছিস কেন?

আকাশঃ কারন ও বৈধ নয় অবৈধ সন্তান। ওর বাঁচার কোন অধিকার নেই।

মেঘলা অনেক চেষ্টা করেও আকাশকে বুঝাতে পারল না।
মিসেস আহমেদঃ নাও ড্রেস টা পরে নাও সার্জারীর সময় অন্যকোন ড্রেস পরা যায় না।ঝটপট প্রস্তুতি নিয়ে নাও মেঘলা আর আমি বলছি তুমি তোমার স্বামীর কথা শোনো ও তোমার খারাপ চায়বে না নিশ্চুই।

মেঘলাঃও আমার কত ভাল চাইছে সে ত নিজের চোখেই দেখতে পাচ্ছি তবে এটাই সুযোগ আমাকে পালাতে হবে। ড্রেস চেঞ্জের বাহানায় আমি পালাব
মেঘলাঃ ম্যাম আমি ওয়াশ রুম থেকে চেঞ্জ করে আসছি বলে মেঘলা যেই পা বাড়াল আকাশ খপ করে মেঘলার হাত ধরে ফেলল।

আকাশঃ না ওয়াশরুমে নয় এখানেই চেঞ্জ কর আমরা বাইরে ওয়েট করছি।

মেঘলাঃ কেন ওয়াশরুমে গেলে কি হবে?

আকাশঃ তুই পালানোর চেষ্টা করবি আর পালাতে ত পারবিই না একটা বিশ্রি কান্ড ঘটাবি।

আকাশের কথায় মেঘলার শেষ আশাতেও ছাই পড়ে গেল।
আকাশঃ যাস্ট ৩ মিনিট সময় দিলাম নে চেঞ্জ করে নে বলে ডাক্তারকে নিয়ে বাইরে চলে গেল আকাশ।

মেঘলাঃ না না হেরে গেলে চলবে না আমাকে শেষ চেষ্টা করতেই হবে কিন্তু কিভাবে? কি করার আছে আমার বাইরে ত ভাইয়া আছে আমি যেতে চাইলেও পারব না। পারব না। মেঘলা যখন কোন কূল কিনারা পাচ্ছে না তখনী টেবিলের উপড়ে থাকা একটা সেল ফোনের উপড় নজর গেল তার।

 

মেঘলা এক মিনিটও দেরি না করে ফোনটি হাতে তুলে নিল আর নাবিলের নাম্বার ডায়াল করল।
মেঘলা একমাত্র নাবিল ভাই পারে আকাশকে বোঝাতে। ওই আমার শেষ ভরসা।

পড়ুন  Cute Love Story Mamato Boner Bandhobi Jokhon Crush Part 2

মেঘলা কয়েকবার কল দেওয়ার পর অপর পাশ থেকে নাবিল ফোন তুলল।

নাবিলঃ হ্যালো কে বলছেন?

মেঘলাঃ আ আ আ আমি আমি মেঘলা বলছি ভাইয়া।

নাবিলঃ হ্যাঁ মেঘলা বল কি হয়েছে তোর কন্ঠ এমন শুনাচ্ছে কেন হাঁফচ্ছিস কেন?

মেঘলাঃ ভাইয়া তুই আমাকে বাঁচা প্লিজ।

নাবিলঃ কি হয়েছে তোর..??

মেঘলাঃ আমি এখন আর কিছু বলতে পারব না আমার কাছে সময় নেই তুই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নার্সিং হোমে চলে আয়।

নাবিলঃ তা নাহয় আসছি কিন্তু কি হয়েছে আমাকে বল।

মেঘলা কিছু বলার আগে দরজার ওপাশ থেকে আকাশের গলা ভেসে আসলো।

আকাশঃ কোনরকম চালাকি করার চেষ্টা করিস না এতে কোন লাভ নেই তার চেয়ে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ড্রেসটা চেঞ্জ করে বাইরে আয়। যত ঝামেলা কম করবি তোর জন্য ততই মঙ্গল।

মেঘলা আকাশের কথায় ভয় পেয়ে ফোন কেটে দিল।

মেঘলাঃ খোদা আমার উপড় রহম করো প্লিজ নাবিল ভাইয়া যেন সময়মত আসতে পারে…

এদিকে নাবিল বৌভাতে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিল কিন্তু মেঘলার কথায় তাড়াতাড়ি নার্সিং হোমের উদ্দেশ্যে রওনা হলো।

মেঘলা ড্রেস চেঞ্জ করে বাইরে আসতেই আকাশ মিসেস আহমেদ কে বলল গিয়ে অটি রেডি করতে।

মিসেস আহমেদ চলে গেল।

মেঘলার কান্না কিছুতেই থামছে না।

আকাশঃ আহ এসব পেনিক করে শরীরে পানি শুন্যতা বানিয়ে কি লাভ তোর কোনো ন্যাকামিতে আমার সিধান্ত বদলাবে না।

মেঘলা কেঁদে কেঁদে বলল,
– আজ এই সার্জারীতে যদি আমার কিছু হয়েছে নিজেকে ক্ষমা করতে পারবি ত?

মেঘলার কথা শেষ হওয়ার আগে আকাশ ঠাস করে মেঘলার গালে থাপ্পড় বসিয়ে দিল।

আকাশঃ সবসময় বাজে কথা বলাটা তোর স্বভাব তাই না?কখনো পজিটিভ কিছু চিন্তা করতে পারিস না?

মেঘলা গালে হাত দিয়ে বলল তুই আমায় মারলি…??

আকাশ সাথে সাথে মেঘলাকে বুকে জড়িয়ে নিল মেঘলাও সুযোগ পেয়ে জোরে কেঁদে উঠল।

আকাশ মেঘলার মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বলল
-কেন এমন করছিস মেঘলা এত জেদ না দেখালেই নয়? আমাকে একটু ভরসা করা যায় না?

মেঘলাঃ আমি জেদ দেখাচ্ছি নাকি তুই..?? কেন এমন করছিস চল না বাসায় ফিরে যাই আমি সত্যি বলছি এবার থেকে তুই যা বলবি আমি তাই করব।

আকাশ আর মেঘলা কথা বলছিল তার মধ্যে একজন নার্স এসে বলল ম্যাম চলুন সব রেডি আপনাকে এখন যেতে হবে।

মেঘলা আকাশকে আখঁরে ধরল।
আকাশ চোখ বন্ধ করে দীর্ঘ নিশ্বাস নিয়ে এক ঝটকায় উঠে দাঁড়িয়ে মেঘলাকে ছাড়িয়ে দিয়ে বলল প্লিজ যা মেঘলা।

 

মেঘলাঃ আজ যদি আমার কিছু হয়ে যায় তার জন্য দায়ী থাকবি শুধু তুই কথাটা মনে রাখিস হাত জোর করে বাঁচতে চেয়েছিলাম তুই আমায় বাঁচতে দিলি না।

আকাশঃ মেঘলা প্লিজ অনেক বলেছিস আর না এবার মুখ বন্ধ করে যা তোর কিচ্ছু হবে না দেখিস। আমাকে রেখে তোর যে মরাও বারণ।

আকাশঃ ওকে নিয়ে যান।

পড়ুন  ভিলেন–রোমান্টিক প্রেমের গল্প পর্ব 13 | Villain Bangla Golpo

২ জন নার্স এসে মেঘলাকে ধরল

মেঘলাঃ ছাড়ুন বলছি আমার সাথে আপনারা এমন করতে পারেন না।মেয়ে হয়ে একটা মেয়ের এত বড় সর্বনাশ করতে আপনাদের বাঁধছে না।

আকাশঃ ওকে নিয়ে গিয়ে একটা নয় ২ টা ঘুমের স
ইনজেকশন দিন তাহলেই বকবক কমে যাবে।

নার্সরা মেঘলাকে জোর করে নিয়ে যাচ্ছে এর মধ্যে
পিছন থেকে…

-হোয়াট হ্যাপেব হেয়ার.?? হোয়াটস রং আপনারা মেঘলাকে এভাবে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন।

কথাগুলো শুনেই মেঘলা নার্স এর কাছ থেকে নিজের হাত ছাড়িয়ে নিয়ে দৌড়ে গিয়ে নাবিল কে জড়িয়ে ধরল।

নাবিলঃ কি হয়েছে মেঘলা তুই এত ভয় পাচ্ছিস কেন দেখ আমি আছি আকাশ আছে তোর কিছু হবে না শান্ত হ।

মেঘলার কান্নার ঠেলায় কিছু বলে উঠতে পারছে না।

নাবিলঃ দেখি বোস এখানে। পানি খাবি? দেখি কান্না বন্ধ কর সোনা এই তো আমি এসে গিয়েছি আর ভয় নেই আমি থাকতে তোর কোন ক্ষতি হতে দিব না।শান্ত হয়ে বল কি হয়েছে।

মেঘলা নিজের পেটে হাত দিয়ে বলল
আমার বাচ্চাটাকে বাঁচা ভাইয়া ওর কিছু হতে দিস না প্লিজ।

নাবিলঃ তোর বাচ্চার কি হয়েছে?

মেঘলাঃ ভাইয়া আমার বাচ্চাটাকে মেরে ফেলতে চাইছে।

নাবিলঃ কিসব আবল তাবল বলছিস বাচ্চা কি তোর একার..?? আকাশ কেন নিজেই নিজের বাচ্চাকে মেরে ফেলতে চাইবে?

মেঘলা নাবিল কে সবটা খুলে বলল।

নাবিলঃ এসবের মানে কি আকাশ এসব সত্যি..??

আকাশঃ হ্যা অবশ্যই মিথ্যা হবে কেন।

নাবিলঃ তুই এত নিচে কি করে নামছিস?

আকাশঃ নাবিল প্লিজ তুই এই বিষয়ে নাক গলাস না এই আপনারা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কি দেখছেন নিয়ে যান ওকে।

নার্সগুলো যখন মেঘলার দিকে এগিয়ে আসতে লাগল মেঘলা ভয় পেয়ে সেন্সলেস হয়ে গেল।

নাবিলঃ ওকে নিয়ে সাধারন বেডে শুয়িয়ে দিন সার্জারী রুমে নিবেন না আমি আকাশের সাথে একটু কথা বলব তারপর ও যদি বলে তখন এবরশন করবেন অন্যথায় আপনাদের নামে আমি মামলা করব।

নার্সগুলো সম্মতি জানিয়ে মেঘলাকে নিয়ে গেল।

আকাশঃ কি হচ্ছে কি নাবিল.

নাবিলঃ সেটা ত আমি জানতে চাইছি কি করছিস আকাশ কেন করছিস তোদের প্রথম বাচ্চাটাই নষ্ট করে দিতে চাইছিস?

আকাশঃ ভুল করছিস বাচ্চাটা আমার নয় নিরবের।

নাবিলঃ আচ্ছা মেনে নিলাম বাচ্চাটা তোর না কিন্তু মেঘলার তো…?? তুই চাস না একটা ছোট্ট মেঘলা সবসময় তোর পিছনে পাপা পাপা করুক..?? পারবি না মেঘলার জন্য,মেঘলার বাচ্চাটার জন্য নিরবের সন্তানকে নিজের মনে করতে?

আকাশঃ তুই আমাকে ইমোশনালি ব্লেকমেইল করতে চাইছিস?

নাবিলঃ না তোকে বাস্তব টা বুঝাতে চাইছি তবে আমি ত মেঘলা নই তাই তোর ব্যাপার টা বুঝি।

আকাশঃ মানে…

নাবিলঃ মানে টা নাহয় আমার কাছেই থাক তবে তোকে কয়েকটা কথা বলি একটা বাচ্চা উপড়ওয়ালার দান। উনি যাকে যেভাবে পৃথীবিতে পাঠাতে চেয়েছেন সেভাবেই তার স্থান নির্ধারন করে দিয়েছেন।কোন বাচ্চা কার পেটে থাকবে কোন অবস্থায় থাকবে সেটা উনি বুঝেই দিয়েছেন।
দেখ আকাশ তুই আমি বা ডাক্তার আমরা সবাই সারাজীবন চেষ্টা করেও একটা বাচ্চার জন্ম দিতে পারব না তাহলে তাকে মেরে ফেলার অধিকার আমাদের কোথা থেকে আসল? তাছাড়া আমি বিশ্বাস করি বাচ্চা উপওয়ালার নিয়ামত সে কারোর মৃত্যুর কারন হতে পারেনা। মেঘলার যদি মৃত্যু লিখা থাকে সেটা যেভাবাবেই হোক হবে…তুই ফিরাতে পারবি না।
তুই কি গ্যারান্টি দিতে পারিস আজকের সার্জারী টা একদম সাকসেস হবে? হতেই পারে ডাক্তার বাচ্চা নষ্ট করতে গিয়ে ভুলে কোন নার্ভ কেটে দিল আর অতিরিক্ত রক্তক্ষরনে মেঘলার মৃত্যু হল।

পড়ুন  Heart Touching Bangla Love Story Tomar Amar Prem Part 1

 

নাবিলের কথায় আকাশ চেঁচিয়ে উঠল।
আকাশঃ ন ন ন না…. মেঘলার কিছু হবে না আমি থাকতে ওর কিছু হতে পারে না..

নাবিলঃ গুড যদি সার্জারীর ব্যাপারে রিস্ক নিতে পারিস তাহলে বাচ্চাটা বাঁচাতে রিস্ক নিতে কেন পারছিস না?
আমি জানি তুই মেঘলাকে সেইফ করতেই এমন একটা জঘন্য কাজ করতে চাচ্ছিস কিন্তু তুই ভুলে যাচ্ছিস ভাগ্য নির্ধারন উপড় থেকেই সেট করা থাকে। মেঘলার মিত্যু লিখা থাকলে হবে আর মৃত্যু লিখা না থাকলে বাচ্চা নিয়ে সারাজীবন সুখে থাকবে

আকাশঃ ভুল ভাবছিস আমি এমন কিছুই করছি না আমি যাস্ট মেঘলাকে কষ্ট দিতে চাই আর কিছু না।

নাবিলঃ আবারো ভুল করছিস আকাশ আমি নাবিল মেঘলা নই। তাই মেঘলা কে বোকা বানাতে পারল্ব আমাকে পারবি না আচ্ছা যাই হোক এসব ছাড় তুই যেহেতু স্বিকার করতে চাচ্ছিস না আমিও জোর করব না। এবার তাহলে ২য় দিক মানে তোর দিকে আসি যদি সত্যিই ওকে কষ্ট দিতে চাস বাচ্চাটা বাঁচিয়ে রেখেও ত দিতে পারিস বাচ্চা হওয়ার পর ওদের ২ জন মানে মা মেয়েকে আলাদা করে দিস তাতে ত মেঘলা আরো বেশি কষ্ট পাবে

আকাশঃ তুই সিওর মেয়ে হবে..??

নাবিলঃ এর মাথা ত দেখছি সত্যি সত্যি খারাপ হয়ে গিয়েছে কিন্তু এখন তর্ক নয় ওকে শান্ত করা দরকার (মনে মনে)
হ্যা ১০০% মেয়েই হবে একদম জুনিয়র মেঘলা হবে সারাদিন তোর নাক,গাল আর চুল ধরে টানবে।

আকাশঃ ওকে যা এবরশান করাব না কিন্ত জন্মের পর ওরা আলাদা থাকবে….

নাবিলঃ আচ্ছা বাবা আলাদাই থাকবে?

আকাশঃ ঠিক আছে তাহলে ওকে নিয়ে বাসায় যা আজ থেকে আমরা পুরোনো বাসাতেই থাকব।কিন্তু যদি মেয়ে বাচ্চা না হয় আর কোন দুর্ঘটনা ঘটে আমি তোকে নিজের হাতে খুন করব।

নাবিলঃ আচ্ছা করিস। এবার চল ডাক্তারের কাছে চল।

আকাশঃ হুম চল

নাবিলঃ যাক অবশেষে পাগল বুঝেছে তাহলে..এবার আল্লাহ আল্লাহ করে কোন ঝামেলা ছাড়া একটা মেয়ে হলেই হয়।

চলবে…!!!

 

Leave a Comment

Home
Stories
Status
Account
Search