ভিলেন অন্তিম পর্ব 86 – বাংলা প্রেমের গল্প | Villain Love Story

ভিলেন পার্টঃ 86 { শেষ পর্ব }
মনা হোসাইন

কন্ঠ শুনে আকাশের বাসার কারোরেই চিনতে দেড়ি হল না এটা নীরব।

মেঘলাসহ বাসার সবাই অবাক হল।

আকাশঃ এসো এসো তোমার জন্যেই অপেক্ষা করছিলাম।রাস্তায় কোন অসুবিধে হয় নি তো..

নীরবঃ না একদম না কিন্তু হটাৎ এত জরুরী তলব ব্যাপার কি?

আকাশঃ আজ আমার মেয়ের আকীকা…

নীরবঃ ওমা তাই নাকি এর মধ্যে বাচ্চাও হয়ে গেল…?? তা আগে বলবে না আমাকে?

আকাশঃ সারপ্রাইজ দিব তাই বলি নি…

নীরবঃ সত্যি বিগ সারপ্রাইজ। অবুঝ মেঘলাও মা হয়ে গেল কিন্তু আমি যে খালি হাতে চলে আসলাম প্রথমবার বাচ্চার মুখ দেখতে গিফট দিতে হয় কিন্তু আমি ত জানতামেই না এখন কি দিয়ে বাচ্চার মুখ দেখি বলোত..? আমাকে আগে জানানো উচিত ছিল।

 

আকাশঃ আরে কিছু লাগবে না তুমি এসেছো এই ত অনেক আশির্বাদ করো। তোমার আশির্বাদ ছাড়া তো ওর চলবেই না। তুমি মেঘলার জন্য যা যা করেছো তার ঋন আমরা কখনো শোধ করতে পারব না।

নীরবঃ কি যে বলো না আসলে মেঘলা এত বোকা যে কখন কি করে নিজেই জানে না তানাহলে এমন অদ্ভুত কাজ কেউ করে বলো..?? আমাকে অনুরোধ করেছিল তাই সত্যিটা তোমাকে জানাতে পারিনি আকাশ তার জন্য দুঃখিত যাই হোক এসবের পরেও যে তুমি আমার সাথে কথা বলবে আমি তো ভাবতেই পারিনি।

আকাশঃ আমি মানুষ চিনতে ভুল করি না। তুমি মেঘলাকে পছন্দ করতে তাই ওর অনুরোধ ফিরাতে পারো নি তাই এমন করেছিলে তাই না?

নীরবঃ থ্যাংকস গড তারমানে মেঘলা সবটা বলেছে। উফফ ঘাড় থেকে একটা বোঝা নেমে গেল মনে হচ্ছে হাফ ছেড়ে বাঁচলাম। মিথ্যে বলব সত্যি বলতে আমি একটা সময় সত্যিই মেঘলাকে পছন্দ করতে শুরু করেছিলাম কিন্তু বিশ্বাস করো আকাশ মেঘলার মন প্রান জুড়ে সবসময় শুধু আকাশেই ছিল।

মেঘলাঃ আমি ত কিছুই বোঝলাম না কি হচ্ছে এখানে আর নীরব তুমি বিদেশে চলে গিয়েছিলে না? দেশে ফিরলে কবে?

আকাশঃ বল্লাম না আজ আমি সত্যিটা সবার সামনে আনবই আমি ত জানতাম না তুই সত্যিটা আদো বলবি কিনা তাই নীরবকে বিশেষভাবে অনুরোধ করেছিলাম আসতে যাতে ওর মুখ থেকে সত্যিটা জানতে পারি।

নীরবঃ আমিও যখন সত্যি টা বলার একটা সুযোগ পেলাম তখন একটুও দেড়ি না করে ছুটে এসেছি।ভেবেছিলাম এখানে এসে মেঘলার অনুমতি নিয়ে আকাশকে সবটা বলে দিব। আফটার অল মেঘলার ছেলেমানুসিকে প্রাধান্য দিতে গিত
য়ে যে ভুল টা করেছিলাম সেই সন্দেহটা দূর করা আমার কর্তব্য।তার আগে মেঘলা সবটা বলে দিয়েছো অনেক ভাল হয়েছে।বাই দ্যা ওয়ে আগামী মাসে আমি বিয়ে করছি তোমরা আসবে তো…??

 

আকাশঃ অবশ্যই যাব

নীরবঃ থ্যাংকস দেখি এবার মামুনিকে আমার কোলে দাও দেখি। কি নাম রেখেছো মামুনির..??

আকাশঃ মেঘা…

নীরবঃ বাহ সুন্দর নাম…বাই দা ওয়ে যদি কিছু মনে না করো আমি মামুনিকে এটা দিতে চাই, জানি এটা এখন ওর জন্য পারফেক্ট না তাই আপাতত এটা মেঘলা রাখো বাবু বড় হলে দিয়ে দিও বলে নীরব একটা পায়েল দিল মেঘলার হাতে।

মেঘলাঃ নীরব এটা সেই পায়েল টা না যেটা তুমি….??

নীরবঃ হ্যা আসলে এটা আমার কল্পনার রাজকন্যার জন্য অনেক আগেই বানিয়েছিলাম কলেজ লাইফ থেকে সবসময় আমার সাথে রাখতাম তবে এটা যে কোনদিন এভাবে কাজে লাগবে ভাবিনি। তোমার মেয়ের চেয়ে প্রিয় আমার কাছে আর কে হতে পারে বলো…??

আকাশ আস্তে করে মেঘলার হাত থেকে পায়েল টা নিয়ে মেঘলার পায়ে পড়িয়ে দিল।

মেঘলাঃ কি করছিস ভাইয়া..??

আকাশ শান্ত গলায় জবাব দিল,
আকাশঃ এটা নাহয় তোরেই থাক…

মেঘলাঃ মানে…??

আকাশঃ এটা শুধু একটা পায়েল না মেঘলা, একজনের সারাজীবনের জমানো ভালবাসা খুব যত্নে রাখিস দেখিস কখনো যেন অবহেলায় হারিয়ে না যায়।

মেঘলাঃ কিন্তু নীরব ত এটা বাবুকে…

আকাশঃ না এটা তোর নীরব পরে নাহয় বাবুকে আবার কিছু দিবে এটা তোর পায়েই ভাল লাগছে..

নীরব অবাক হয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে…
আকাশঃ এভাবে কি দেখছো…??

নীরব যেন কোথাও হারিয়ে গিয়েছিল আকাশের কথায় ধ্যান ভেঙে বলে উঠল আকাশ তুমি কিন্তু পুরো অন্যরকম একটা মানুষ…

আকাশঃ যে ভালবাসতে জানে সে অন্যের ভালবাসাকে সম্মান দিতেও জানে যেমন তুমি দিলে।

মেঘলা একবার নীরবের মুখের দিকে তাকাচ্ছে আবার আকাশের দিকে…কারন বিষটা তার বোধগম্য হচ্ছে না।

সামিরাঃ এখানে কি হচ্ছে .??

নাবিলঃ ২ জন মিলে একজনকে ভালবাসছে।

সামিরাঃ মানে কি?

নাবিলঃ বেচারা নীরব মেঘলাকে ভালবেসে ফেলেছে… কিন্তু মেঘলা তো আকাশকে ভালবাসে তাই নিজের মনে কথা প্রকাশ করতে পারছে না কিন্তু নীরবের অপ্রকাশিত ভালবাসা আকাশ বুঝতে পারছে তবে এই জিনিস ভাগ তো কাউকে দেয়া যায় না তাই বুঝেও চুপ আছে কিন্তু নীরবের মেঘলার প্রতি ভালবাসাকে সম্মান দেখাচ্ছে।আর যাকে ঘিরে এত কিছু যে কিছুই বুঝতে না পেরে ২ জনের মুখ দেখছে।৪.
ভালোবাসা এমনেই এক দিকে কূল ভাঙে তো অন্যদিকে চর বাঁধে

সামিরাঃ কি সব অদ্ভুত কথা বার্তা।আরে ভাই উনার সামনের মাসে বিয়ে…

নাবিলঃ তুমি কোনদিনি ভালবাসা বুঝ নি আজও বুঝবে না এটাই স্বাভাবিক।বলে নাবিল এগিয়ে গেল

নাবিলঃ চলো নীরব ওদিকে চলো অনেক দূর থেকে এসেছো খাবে চলো…মেঘলা তুই ও বাবুকে নিয়ে ঘরে যা অনেক ধরে খায় না খাওয়া গিয়ে।

 

অনুষ্টান শেষ হতে হতে রাত হয়ে গেল।আকাশ সব গেস্টদের বিদায় জানিয়ে ঘরে আসতেই বাচ্চার কান্না শুনতে পেল তাড়াতাড়ি দৌড়ে ঘরে যেতেই দেখল মেঘা বিছানার এক পাশে কাঁদছে আর মেঘলা তার পাশেই ঘুমাচ্ছে।

আকাশঃ আগেই বলেছিলাম বাচ্চা নিতে হবে না এই মেয়ে যে কিভাবে বাবুকে বড় করবে কে জানে বলতে বলতে আকাশ বাবুকে কোলে নিয়ে খাওয়াতে শুরু করল।বেশ কিছুক্ষন পর আকাশ মেঘলাকে ডাকল।

পড়ুন  হ্যাকার সিনিয়র বউ – রোমান্টিক গল্প পর্ব 1 | Hacker Senior Bou

আকাশঃ মেঘলা এই মেঘলা তোর কি শরীর খারাপ লাগছে..??
আকাশ মেঘলা কে ডাকতেই চট করে মেঘলা উঠে বসল

আকাশঃ ওমা তুই ঘুমাস নি..?

মেঘলাঃ না তো বাবু কান্না অবস্থায় কোনো মা ঘুমাতে পারে নাকি? আসলে বাবুকে কোনোভাবেই শান্ত করতে পারছিলাম না তাই তুই যখন আসলি তোর কাছে ব্যার্থতা স্বীকার করব না বলে ঘুমের অভিনয় করছিলাম। বলছি তোর কাছে গিয়ে শান্ত হয়ে গেল আমি পারলাম না কেন?

আকাশঃ হা হা হা…

এমন মুহুর্তে নাবিল ঘরে ঢুকল।
মেঘলাঃ ভাইয়া তুই…?? কিছু বলবি..?

নাবিলঃ হ্যা আকাশ বাবুকে দে তো বলে বাবুকে কোলে নিয়ে নাবিল উল্টো দিকে হাঁটা শুরু করল।

আকাশঃ কিরে নাবিল কি যেন বলবি বলছিলি..?

নাবিলঃ তুই যদি তিন দিন রাখতে পারিস আমি একদিন পারব না..?

আকাশঃ মানে..??

নাবিলঃ মেঘা আজ আমার কাছে থাকবে অনেক সাধনার পর তোরা তোদের ভালবাসাকে পেয়েছিস আজ রাত টা শুধু তোদের ২ জনের আমি ওকে নিয়ে যাচ্ছি।

মেঘলাঃ আরে ভাইয়া কি বলছিস…??

নাবিল আর কিছু না বলে বাবুকে নিয়ে বাইরে গিয়ে দরজা লাগিয়ে দিল।

নাবিলঃ চিন্তা করিস না আমার ঘরে দুধ আছে ঠিক মতই খাওয়াব বলে চলে গেল।

মেঘলাঃ তুই কিছু বললি না কেন?

আকাশঃ কি বলব নাবিলের মত বন্ধু পাওয়া ত ভাগ্যের ব্যাপার। ছেলে হয়েও বাচ্চাকে রাখার দায়িত্ব নিল তারপরে ধন্যবাদ ছাড়া আর কি বলব।

মেঘলাঃ তো আমরা এখন কি করব বসে বসে তারা গুনব? বাবু থাকলে কি অসুবিধে হত শুনি?

আকাশঃ আগে লাইট টা অফ করি তারপর বুঝাচ্ছি কি অসুবিধে হত।বলেই আকাশ লাইট অফ করে দিল।

মেঘলাঃ ভাল হচ্ছে না কিন্তু..কাছে আসবি না।

আকাশঃ আজ আর কোনো বাঁধা মানতে পারছি না ম্যাডাম সরি বলে আকাশ মেঘলার মাঝে হারিয়ে গেল মেঘলাও আকাশ কে সাদরে গ্রহন করে নিল।

 

ভোর ৭ টা হলেও মেঘলা আকাশ ২ জনেরেই ঘুম ভেঙে গিয়েছে। ২ জনেই মেঘার জন্য অস্থির হয়ে আছে।

আকাশঃ তুই ফ্রেশ হয়ে আয় আমি মেঘাকে নিয়ে আসছি সারারাত কি করেছে ঠিক মত খেয়েছে কিনা কে জানে..নাবিল ত এসবে অভ্যস্থ না।

মেঘলাঃ হুম যা নিয়ে আয়।

আকাশ বাইরে যাওয়ার পর মেঘলা কাপড় বের করছিল চেঞ্জ করার জন্য এমন সময় আকাশের গলা শুনা গেল সে নাবিল কে ডাকছে। আকাশের গলা শুনে মেঘলা তাড়াতাড়ি বাইরে গেল গিয়ে দেখল নাবিলের রুমে কেউ নেই।

মেঘলাঃ আজব ভাইয়া কোথায় এত সকালে ও কোথায় গেল? মেঘাকে নিয়ে ত কোথাও যাওয়ার কথা না।

আকাশঃ নাবিল এটা কোন ধরনের মজা? বাইরে আয় বলছি মেঘাকে নিয়ে প্রেংক করিস না প্লিজ।

আকাশ অনেক্ষন ডাকাডাকি করার পরেও নাবিলের খোঁজ পাওয়া গেল না বাসার সবাই আকাশের চেঁচামেচি তে উঠে গিয়েছে।সবাই মিলে নাবিল কে খুঁজতে লাগল।

মেঘলা খুঁজতে খুঁজতে উপড়ের তলার গেস্ট রুমের কাছে গেল আর সেখানে গিয়ে মেঘলা স্ট্যাচু হয়ে গেল।

আকাশ বাইরে থেকে বলল,
– কিরে কি হল দাঁড়িয়ে আছিস কেন ভিতরে গিয়ে দেখ আছে কিনা।

মেঘলাঃ 😳😳

আকাশ ধুর তোকে দিয়ে যদি একটা কাজ হয় বলে নিজেই ঢুকে গেল আর সে নিজেও অবাক হল।

আকাশঃ আমি যা দেখতে পাচ্ছি তুই ও কি তাই দেখতে পাচ্ছিস?

মেঘলাঃ আমরা কি দেখছি সেটা বাদ দিয়ে দরজা টা লক কর বাসার সবাই আসছে তো।

আকাশঃ আসতে দে এতদিন পর সুযোগ এসেছে।

বাসার সবাই এসে গেস্ট রুমে হাজির হল।
সবাই হা করে বিছানার দিকে তাকিয়ে আছে কারন নাবিল সামিরা একই বিছানায় মেঘাকে নিয়ে ঘুমিয়ে আছে।

নাবিলের মাঃ ছি ছি ছি নাবিল এটা করতে পারল..?? আমাদের বললে কি আমরা বিয়ে দিতাম না..??

আকাশঃ এই হারামী উঠ…

নাবিল চরম বিরক্ত নিয়ে চোখ মেলে তাকাল আর গোষ্ঠী শুদ্ধ সবাইকে সামনে দেখতে পেয়ে তাড়াতাড়ি উঠে বসল।

মেঘলা গিয়ে সামিরাকে ডেকে তুলল।

সবাই মিলে নাবিল কে শূলে চড়ানোর ব্যবস্থা করছে এমন অবস্থায় নাবিল বলে উঠল,
– ত ত তোমরা যা ভাবছো ব্যাপারটা তেমন না।

আকাশঃ কেমন না শুনি..??

নাবিলঃ আরে ভাই রাতে আমার অবস্থা খারাপ হয়ে গিয়েছিল বাবু এমন কান্না শুরু করেছিল কিছুতেই থামছিল না।তাই ভেবেছিলাম আমার রুমে থাকা যাবে না কারন আমার পাশেই আকাশের রুম, বাবুর কান্নার আওয়াজ শুনলে তোরা ছুটে আসবি তাই আমি গেস্ট রুমে থাকতে আসি।

 

মেঘলাঃ হুম তারপর কি হল?

সামিরাঃ উনি ঠিক বলছেন সবাই তো জানই কাল পার্টি শেষ হতে রাত হয়ে গিয়েছিল তাই আমি বাসায় যাই নি।
রাতে উনি এসে বলেন,

নাবিলঃ মেঘা আজ আমার সাথে ঘুমাবে কিন্তু ও একটু পর পর কেঁদে ওঠে আমার রুম তো আকাশের রুমের সাথে তাই আমি চাচ্ছি না বাবুর কান্নার শব্দ ওরা শুনতে পাক তাই তুমি আমার রুমে চলে যাও।

আমিও উনার কথামত চলে যাচ্ছিলাম কিন্তু বাবু এত কাঁদছিল উনি থামাতে পারছিলেন না তাই আমি মেঘাকে কোলে নিয়েছিলাম কিন্তু তাতেও কান্না থামে নি সারারাত ধরে আমরা ২ জন মেঘাকে শান্ত করার চেস্টা করেছি তারপর কখন যে ঘুমিয়ে গিয়েছি জানি না।
আপনারা যেসব ভাবছেন সেসব কিছু হয় নি সত্যি বলছি।

আকাশঃ আমাদের ভাবনা আমাদের কাছেই থাকুক। ছোট মা ছোট বাবা বিয়ের আয়োজন করো আজেই এদের বিয়ে…

নাবিলঃ আরে ভাই আমি কেন ওকে বিয়ে করব কেন? বিশ্বাস কর আমাদের মাঝে কিছু হয় নি।

আকাশঃ চুপ একদম চুপ আর কোনো কথা হবে না।এই বিষয়ে আমার কথাই শেষ কথা তুই বাড়ির সম্মান মাটিতে মিশিয়ে দিতে পারিস না।
মেঘলা সামিরাকে তোর সাথে নিয়ে যা দেখিস যেন পালাতে না পারে আমি বাবুকে খায়িয়ে বাইরে গিয়ে সব আয়োজন করছি।

পড়ুন  ভিলেন পর্ব 59 - থ্রিলার প্রেমের গল্প | Romantic Premer Golpo

মেঘলাঃ সামিরা আপু চলো…

সামিরাঃ মেঘলা তুমি ত অন্তত আমার কথাটা বুঝো প্লিজ আমরা কিছু করেনি আমাদের মাঝে কিছু হলে কি দরজা খোলা থাকত?

মেঘলা সামিরার কথায় কান দিয়ে সামিরাকে নিয়ে ঘরে চলে গেল।

সামিরাঃ মেঘলা আমার এত বড় সর্বনাশ করো না যে আমাকে পছন্দ করে না তার সাথে জোর করে বিয়ে দিয়ে কি লাভ।

মেঘলাঃ দেখো আপু আকাশের কথার বাইরে আমি কিছু বলতে পারব না। আমার কি অবস্থা তাত জানই আমি এখন কোনো বাড়াবাড়ি করলে আমাকে বাসা থেকে বিদায় করে দিবে।আমি বলি কি যা হয় ভালর জন্যই মেনে নাও তাছাড়া ভাইয়াকে ত তুমি ভালোবাসো

সামিরাঃ কিন্তু ও তো বাসে না।

মেঘলাঃ বাসে না তো বাসতে কতক্ষন? বিয়ের পর সব ঠিক হয়ে যাবে আপু।তুমি থাকো আমি একটু বাবুর কাছে যাব মেঘলা সামিরাকে রুমে বন্দি করে চলে গেল।

আকাশ নাবিল কে জোর করে নিজের সাথে নিয়ে বাইরে চলে গেল।

সন্ধার মধ্যে বিয়ের সমস্থ আয়োজন কমপ্লিট সামিরার বাসায়ও খবর দেয়া হয়েছে।

আকাশ সারাদিন ব্যাস্ত ছিল সন্ধ্যার দিকে সে নিজের ঘরে ঢুকল।

মেঘলা বাবুকে নিয়ে খাওয়ানোর চেষ্টা করছে।আকাশ পিছন থেকে গিয়ে মেঘলাকে জড়িয়ে ধরল।

আকাশঃ বাবু তোকে জ্বালায় নি তো..??

মেঘলাঃ না একদমি না আমার মেয়ে কি তোর মত নাকি তাছাড়া সারাদিন তো বড় মা ছোট মা মিলির কাছে ছিল আমার কাছে রাখার সময়েই পাইনি জ্বালাবে কখন।

আকাশঃ এবার আমার কাছে দিয়ে গিয়ে রেডি হয়ে নে…

মেঘলাঃ ধুর রেডি হয়ে কি হবে এমনি ঠিক আছি কজন আর আসবে বিয়েতে?

আকাশঃ অন্যের জন্য অনেক তো বউ সাজলি আজ নাহয় আমার জন্য সাজবি…

মেঘলাঃ পাগল বিয়েটা নাবিল ভাইয়ার হচ্ছে তোর না। যা তো জ্বালাস না আমি এভাবে ঠিক আছি নাহলে বাবুকে কোলে নিব কি করে?

আকাশঃ বাবুর কথা তোর ভাবতে হবে না ওর জন্য আমি আছি। যা না প্লিজ।

বলতে বলতে নেহা ছুটতে ছুটতে রুমে ঢুকল।

মেঘলাঃ আ আ আ…নেহা আপু তুমি কখন আসলে..??

নেহাঃ বাসায় বিয়ে আর আমি আসব না?শুধু আমি না শ্বশুড়বাড়ির গোষ্ঠী শুদ্ধ নিয়ে চলে এসেছি এসব ছাড় অনুষ্টানের সময় হয়ে যাচ্ছে পার্লারে যাবি কখন চল চল তোদের রেডি করে দিয়ে নিজেও ত একটু সাজব তাই না..??

আকাশঃ হুম নিয়ে যাত ও তো যেতেই চাচ্ছে না

নেহাঃ চল চল অভি নিচে গাড়ি নিয়ে অপেক্ষা করছে।

মেঘলাকে নেহা টানতে টানতে নিয়ে চলে গেল।
পার্লারে গিয়ে মেঘলা অবাক হল তার জন্য গয়না, লেহেঙ্গা সহ ব্রাইডের পুরো কালেকশান রাখা আছে সেখানে।

মেঘলাঃ নেহা আপু এসব…??

নেহাঃ এসব ভাইয়া পাঠিয়েছে তোর জন্য। তুই সাজ আমি সামিরার দিক টা দেখি গিয়ে বলে নেহা চলে গেল।

সাজ কমপ্লিট করার পর মেঘলা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেই অবাক হল,মাথা থেকে পা পর্যন্ত নিঁখুত ভাবে সাজানো হয়েছে তাকে। ভারী মেকাপ
মাথায় টায়রা, নাকে নোলক,গলায় ভারী গয়না হাতে বালা গায়ে লাল লেহেঙ্গায় মেঘলাকে একদম নতুন বউয়ের মত লাগছে ঠিক যেভাবে মেঘলার সাজার ইচ্ছে ছিল ঠিক সেভাবেই যেন সাজানো হয়েছে কিন্তু মেঘলা এর কারন বুঝতে পারল না।

 

পার্লার থেকে বেরিয়ে আকাশের পাঠানো গাড়িতে করে মেঘলা বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হল।
কিছুক্ষন পরেই গাড়ি এসে এক বিরাট পার্টি সেন্টারের সামনে থামল। চারদিক খুব সুন্দর করে সাজানো। আলোয় ঝলমল করছে চারপাশ।

মেঘলা ড্রাইভার কে জিজ্ঞাস করল আমরা এখানে এসেছি কেন?

ড্রাইভার জবাব দেয়ার আগেই আকাশ এসে গাড়ির দরজা খুলে মেঘলার দিকে হাত বাড়াল।

মেঘলা আকাশের হাত ধরে নেমে আসল।

মেঘলাঃ এসব কি ভাইয়া..??

আকাশঃ একটু সাজুগুজু করব, একটু ধুমধাম চারদিকে আলোর পশরা তারপর বাসর…??

মেঘলা সাথে সাথেই কেঁদে ফেলল,

আকাশঃ আরে পাগলি কি হয়েছে কাঁদছিস কেন তোর ইচ্ছা আর আমি পূরন করব না তাই কি হয়…?? নাবিলদের সাথে সাথে আজ আমাদেরো বিয়ে হবে।
কাঁদবি না বলছি তুই কাঁদলে আমার খারাপ লাগে জানিস না।চোখ মুছ তানাহলে সাজ নষ্ট হয়ে যাবে।

 

খুব ধুমধাম করে চারজনের বিয়ে হয়ে গেল।
মিলি সামিরা কে আর নেহা মেঘলা কে বাসর ঘরে পৌঁছে দিল।

সামিরার আনন্দ হচ্ছে নাকি কষ্ট, সে নিজেই বুঝতে পারছে না। কিছুটা লজ্জা,এক পাহাড় সমান ভয় আর অস্বস্তি নিয়ে বাসর ঘরে ঘোমটা টেনে বসে আছে সামিরা তখন নাবিল এসে সামিরার সামনে দাঁড়াল।

নাবিলঃ সরি আমি তোমার জন্য কিছু করতে পারলাম না আমি জানি তুমি আমায় নয় আকাশ কে ভালবাসো কিন্তু আকাশ ছোট বেলা থেকেই মেঘলাকে ভালবাসে।তাই ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও কিছু করতে পারলাম
এটা সত্যি তোমাকে আমার ভাল লাগে কিন্তু যার মনে অন্য কেউ আছে তার সাথে সংসার করার কোনো ইচ্ছে আমার নেই তাই তুমি কালকেই এখান থেকে চলে যাবে।

সামিরা অবাক হয়ে বলল,
– চলে যাব সেটা নাহয় ঠিক আছে কিন্তু আপনি এসব কি বলছেন আমি কবে আকাশ ভাইয়াকে ভালবাসলাম?

নাবিলঃ কেন স্কুল লাইফ থেকেই তো ওর পিছনে ঘুরতে আর আমি এতই বোকা ছিলাম যে আমি ভাবতাম তুমি আমায় পছন্দ করো। যেদিন তোমার বেস্ট ফ্রেন্ড টিয়ার মুখে শুনলাম তুমি আমায় নয় আকাশের জন্য আমার পিছনে ঘুরতে সেদিন কেন জানি মেয়েদের উপড় মন উঠে যায় তাই আর কারো সাথে রিলেশানে জড়াতে পারিনি কে কিন্তু কে জানত সেই তুমিই আমার কপালে জুটবে।

পড়ুন  বাংলা প্রেমের গল্প – রাগী স্যার যখন ডেভিল হাসবেন্ড পর্ব 18

নাবিলের কথা শুনে সামিরা চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে বলল তারমানে আপনিও আমায় পছন্দ করতেন সেদিন টিয়ার কথা শুনে আমায় অপমান করেছিলেন?

নাবিলঃ মিথ্যা বলতে পারি না তাই সেই চেষ্টা করব না সেদিন আমি ভেবেছিলাম তুমি আমায় প্রপোজ করবে কিন্তু তার কিছুক্ষন আগে টিয়া এসে বলেছিল তুমি নাকি আমাকে দিয়ে আকাশকে ফুল পাটাবে তখন আমার কেমন লেগেছিল কেবল আমিই জানি।
হ্যা আমি তোমাকে পছন্দ করতাম হয়ত ভালোও বাসতাম তাই তোমার আকাশকে পছন্দ করাটা মেনে নিতে পারি নি।

সামিরাঃ মুখ ফোটে একটা বার কেন আমাকে জিজ্ঞাস করলেন না?

নাবিলঃ কি জিজ্ঞাসা করব?

সামিরা আমি কখনোই আকাশ ভাইয়াকে পছন্দ করতাম না আমি সারাজীবন আপনাকে ভালবেসে গিয়েছি।
সত্যিটা হল টিয়া আমার বেস্টফ্রেন্ড হলেও ও আপনাকে পছন্দ করত তাই ও চাইত না আমি আপনার পিছনে ঘুরি সবসময় আমাকে বাঁধা দিত। হয়ত ও বুঝেছিল আপনিও আমাকে পছন্দ করেন তাই মিথ্যে বলে আপনাকে রাগিয়ে দিয়েছিল আমি সবসময় আপনাকে পছন্দ করতাম বিশ্বাস না হলে আকাশ ভাইয়াকে জিজ্ঞাসা করতে পারেন।

 

নাবিলঃ কি বলছো তুমি?

সামিরাঃ ঠিকি বলছি আপনাকে এতটাই ভালবাসি যে এত অপমানের পরেও অন্য কাউকে আপন করে নিতে পারি নি।

নাবিল এসে আলতো করে সামিরার চোখের পানি মুছে দিয়ে বলল হয়ত ২ জনের মনের মিল ছিল তাই এভাবে মিলন হল কেঁদো না প্লিজ আমাকে ক্ষমা করে দাও আমার উচিত ছিল তোমাকে জিজ্ঞাস করা…

এদিকে ফুল বিছানো বিছানায় লাল ঘোমটায় মুখ ঢেকে আছে মেঘলা কিছুক্ষন পরেই মেঘাকে কোলে নিয়ে রুমে ঢুকল আকাশ। আকাশ এসে দাঁড়াতে মেঘলা নিচে নেমে এসে আকাশের পায়ে হাত রাখল।

সাথে সাথে আকাশ সরে গিয়ে বলল
– কি করছিস মেঘলা..??

মেঘলাঃ তুই শুধু আমার স্বামী না তুই আমার পৃথিবী। আমি ভাগ্যবতী যে তোর মত কাউকে স্বামী হিসেবে পেয়েছি। আজ আমি তোর সামনে নিজেকে সমর্পন করলাম আজ থেকে এই দেহ প্রাণ আত্মা সবকিছুর মালিক শুধু তুই…

আকাশঃ উঠ মেঘলা তোর জায়গা আমার পায়ে নয় এই বুকে।

মেঘলা আকাশের বুকে মাথা রেখে বলল
না বুঝে অনেক কষ্ট দিয়েছি তোকে তুই আমায় ক্ষমা করে দিয়ে আমাকে মন থেকে মেনে নে ভাইয়া…

আকাশঃ দিলি ত সব শেষ করে? কথা শুনে নিজের মধ্যে বেশ স্বামী স্বামী একটা ফিলিংস এসেছিল ভাইয়া বলে সবটা শেষ করে দিলি।

মেঘলাঃ এহ শখ কত স্বামী হবে? এই শোন আমি তোকে ভাইয়াই ডাকব আর এত গ্যারিন্টি দিতে পারব না এরপরেও কষ্ট দিতে পারি

আকাশঃ আবার কষ্ট..??

মেঘলাঃ হ্যা আমার মাথায় এত বুদ্ধি নেই তাই কখন কি করব জানি না।

আকাশঃ আম্মু শুনেছো তোমার মাম্মাক একটা মাথামোটা তুমি কিন্তু আমার সাক্ষি…

মেঘলাঃ ভাল হচ্ছে না..?

আকাশ হেসে মেঘলাকে টেনে নিয়ে বলল,
আমার এই বোকা বোকা মেঘলাকেই পছন্দ যে সবার সামনে দাঁড়িয়ে আমাকে চুমো খেতে পারে, যে অধিকার নিয়ে গলা উঁচু করে বলতে পারে আকাশ শুধু আমার ওকে মারি কাটি যাই করি শুধু আমি করব অন্য কেউ না। আমি কখনো চাই না তুই দায়িত্বশীল বউ হ…
ভাগ্যবতী তুই নারে তোর মত সহজ সরল বউ পেয়েছি এটা আমার ভাগ্য।

মেঘলাঃ মেঘা কি ঘুমিয়ে গিয়েছে।

আকাশঃ না যা তুই ফ্রেশ হয়ে এসে ওকে নিয়ে শুয়ে পর বেচারী জন্মের পর থেকে তোর সাথে ঘুমাতে পারে নি।

মেঘলাঃ ঠিকি বলেছিস।

মেঘলা ফ্রেশ হয়ে আসতে আসতে আকাশ মেঘাকে বিছানার মাঝখানে শুয়িয়ে দিয়েছে মেঘলা এসে আকাশ কে ডাকতে লাগল।

আকাশঃ কি হয়েছে?

মেঘলাঃ পায়েল টা খুলতে পারছি না একটু খোলে দে তো।

আকাশঃ ওটা খুলবে না আমি ইচ্ছে করেই লক টা ভেঙে ফেলেছি যাতে কখনো না খুলে। এটা কখনো খুলিশ না।

মেঘলাঃ মানে…??

আকাশঃ সব মানের উত্তর হয় না আয় শুবি আয়।

মেঘলা কথা না বাড়িয়ে এসে একপাশে শুতেই আকাশ মেঘাকে বিছানার মাঝখান থেকে নিজের পাশে নিয়ে সে মেঘা আর মেঘলার মাঝখানে শুয়ে পড়ল

মেঘলাঃ কি হল এটা? এই ত একটু আগে বলছিলি বাবু কখনো আমার সাথে ঘুমায় নি আজ ঘুমাবে।

আকাশঃ তোর কোন ভরসা নেই কখন হাত পা ছুড়বি বাবুকে ব্যাথা দিয়ে ফেলবি।

মেঘলাঃ তুই আজীবন ভিলেনেই থাকবি কোন কথা সহজভাবে বলতে পারবি না। ফালতু কথা না বলে এটা বল যে তুই মা মেয়ে ২ জনের আদরেই একসাথে নিবি।

আকাশঃ তুই এত চালাক কিভাবে হলি ভেবেই পাচ্ছি না।

মেঘলাঃ হারামী তবে রে…এদিকে আন মেঘা কে

আকাশঃ আনব না এটা আমার মেয়ে,তোর ইচ্ছা হলে আমার গায়েরর উপড় দিয়ে গিয়ে ওকে আদর করতে হবে😉

মেঘলাঃ কি লুচ্চা তুই..

আকাশঃ কি ভাগ্য আমার বউয়ের স্পর্শ পেতে লুচ্চার খেতাব পেতে হয়।

মেঘলাঃ মার যে খাস নি এই ত অনেক😋



সমাপ্ত

(অনেক দিন ধরে গল্প টা চলছিল বেশি দিন হয়ে যাওয়ায় আর মাঝখানে অনেক দিন গ্যাপ দেওয়ায় কাহীনি ঠিকমত মিলাতে পারিনি। তাই ভুল ত্রুটি ক্ষমার চোখে দেখুন এতদিন সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ)

 

Leave a Comment

Home
Stories
Status
Account
Search