ভিলেন – থ্রিলার প্রেমের গল্প পর্ব 40 | Romantic Love Story

ভিলেন পার্টঃ ৪০
Mona Hossain

তারপর আমি আমার মত কাজে লেগে পড়লাম নিঝুম আপুর কাছে গেলাম। আমাকে নাকি খুব সুন্দর দেখাচ্ছে সবার কাছ থেকে এমন কম্পলিমেন্ট পেয়ে খুব ভাল লাগছে।

হলুদের অনুষ্টান চলছে সবাই এক এক করে স্টেইজে এসে নিঝুম আপুকে হলুদ দিচ্ছে আমি তার পাশেই বসে আছি। কারন আমি জানি নিচে গেলেই আমার কপালে দূঃখ আছে। জ্যাকেট খুলে ফেলেছি এটা ভাইয়আ কোনভাবেই মানবে না। তাই স্টেজেই আশ্রয় নিয়েছি।তবে এখন পর্যন্ত আকাশকে স্টেজের ধারে কাছে দেখি নি।

সবার হলুদ দেয়া প্রায় শেষ নাবিল ভাই নিঝুম আপুকে হলুদ দিতে এসেছে।আকাশ এখনো আসল না।

নিঝুমঃ কিরে নাবিল তুই একা আসলি আকাশ কোথায়..??

নাবিলঃ জানি না আপু

নিঝুমঃ ওকি আসে নি

নাবিলঃ এসেছিল আপু কিন্তু অল্প কিছুক্ষন থেকে কোথায় যে চলে গেল আর পেলাম না ফোন করেছি অনেকবার, কিন্তু ফোন সুইচঅফ।

নাবিল ভাইয়ের কথা শুনে খুব অবাক হলাম এত সাজ গোজ করে কিনা নিরুদ্দেশ হয়ে গেল।কিন্তু কেন? পরে ভাবলাম ওর ত এত ভীড় পছন্দ না তাই হয়ত চলে গিয়েছে তবে হলুদ দিল না তাই একটু অবাক হলাম চলে গেলেও হলুদ টা ত অন্তত দিয়ে যাওয়া উচিত ছিল।

হলুদের অনুষ্টান শেষ হয়ে গেল সবাই হল রুমে বসে গল্প করছি আর নিঝুম আপুকে মেহেদী পরানো হচ্ছে তখন শারমিন খালা আসল।

শারমিন খালাঃ মেঘলা আকাশকে দেখেছিস?

মেঘলাঃ না ত খালা আমি দেখি নি

শারমিন খালাঃ কোথায় যে চলে গেল কিছু খেলও না একটু দেখ ত মা কোথায় গেল।

নিঝুম আপুঃ আকাশ লোকজন পছন্দ করে না মা তাই হয়ত রুমে ঘরে চলে গিয়েছে ও এখানে সবার সাথে খাবে না তুমি বরং মেঘলার কাছে খাবার দিয়ে দাও ও গিয়ে দিয়ে আসুক।

শারমিন খালাঃ সেটাই ভাল মেঘলা আয় ত আমার সাথে।
আমি ভদ্র মেয়ের মত খালার পিছন পিছন গেলাম খালা আমার হাতে খাবার ধরিয়ে দিল।

হল রুম থেকে বের হতে অনুভব করলাম আমি কাঁপছি রুমে অনেক লাইট ছিল আর প্রচুর লোকজন থাকায় রুম টা গরম ছিল কিন্তু এখানে অনেক ঠান্ডা তাই তাড়াতাড়ি আকাশ ভাইয়ার রুমে চলে গেলাম।

গিয়ে দেখি ভাইয়া চোখের উপড় হাত রেখে শুয়ে আছে।আমি গিয়ে খাবার টা সাইড টেবিলে রেখে দিয়ে বল্লাম,

মেঘলাঃ এত ভাব নেয়ার কি আছে নিজেকে সবসময় সবার থেকে স্পেশাল করে রাখতে চাস তাই না..??
সবাই কতবার খুঁজল এমনকি নিঝুম আপুও। কিন্তু তোর কোন পাত্তা নেই।সে যাই হোক নে খাবার টা খেয়ে উদ্ধার কর।

আমি কথাগুলো বলার পর এমন কিছু ঘটবে আশা করি নি।
ভাইয়া বিদ্যুৎ বেগে উঠে প্রথমেই খাবার টা ছুড়ে ফেলে দিল।
ভাইয়ার রিয়েকশান দেখে আমি পুরো ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেলাম

আকাশঃ আমি কি কারো কাছে খাবার ভিক্ষা চেয়েছি তাহলে আনলি কেন…(ধমক দিয়ে)

ভাইয়ার চোখ ২ টি লাল টকটকে হয়ে আছে কপালের মাঝখানের রগ ফুলে থাকা প্রমান করল ও প্রচন্ড রেগে আছে ওর ধমকে আমার নিঃশ্বাস বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

ভাইয়া রাগের ছুটে খাবার টা ফেলে দিয়েছে কিন্তু ওর হাত রুমাল দিয়ে বাঁধা দেখলাম তাতে আঘাত পেয়েছে। সেই হাতে খাবার ছুড়ে ফেলায় সেটা থেকে রক্ত পড়ছে রক্তে সাদা রুমাল লাল বর্ণ ধারন করেছে।

আমি দৌড়ে ওর কাছে গিয়ে ওর হাত টা দেখতে চাইলাম কিন্তু আকাশ হাত টা ছাড়িয়ে নিল….

মেঘলাঃ ভ ভ ভা ভাইয়া তোর হাতে কি হয়েছে..!!!

ভাইয়া অন্যহাতে আমার চুলের মুঠি ধরে আমাকে নিজের একবারে কাছে নিয়ে মুখ উঁচু করে আমার চোখের দিকে তাকিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বলল দ্যাটস নান অফ ইউর বিজনেস ইজ ইট ক্লিয়ার…???

ভাইয়ার কথা বলার ধরন একেবারে বদলে গিয়েছে ও এভাবে কথা বলে না যতই রাগ করোক আমাকে হয়ত বকে মারে তবে এভাবে কথা বলে না।দেখে ভয় পেলাম কিন্তু কি হয়েছে বুঝলাম না…
আমি জিজ্ঞাস করতে চাচ্ছিলাম কি হয়েছে তার আগেই ও বলে ফেলল,

আকাশঃ এটা আমার নিজের বাসা নয় মেঘলা তাই আমি কোন রকম সিনক্রিয়েট করতে চাই না তুই এখান থেকে যা…

মেঘলাঃ কিন্তু….

আকাশঃ আমি চাই না তুই মার খা আর তোর ট্যুর টা নষ্ট হয়ে যাক।তাই বলছি যা (ধমক দিয়ে)

বেশি কিছু বললে সত্যি সত্যি মার খেতে হবে জানি তাই বাধ্য হয়ে বেরিয়ে এলাম

পড়ুন  রাগী স্যার যখন ডেভিল হাসবেন্ড পর্ব 6 – Bangla Love Story

কিন্তু চলে আসতে পারলাম না। জানলার ফাঁক দিয়ে তাকিয়ে আছি ভাইয়া রুমাল টা খুলতেই দেখলাম হাতে বেশ ব্যাথা পেয়েছে ভাইয়া হাত বাঁধার জন্য নতুন রুমাল আনতে গেল তখন দেখলাম
শুধু হাতে না ওর পায়েও ছোট লেগেছে… ওর হাঁটতে কষ্ট হচ্ছে।

মেঘলাঃ আমি বুঝতে পারছি না ও এত ব্যাথা কি করে পেল সমীকরন মিলাতে পাচ্ছি না।

আমি দাঁড়িয়ে ভাবছি তখন ভাইয়ার কাউকে ফোন করল।

আকাশঃ আমি সময় মত পৌছে যাব গাড়ি রেডি রাখবেন। এই race টা আমাকে জিততেই হবে ওই রনির সাহস হয় কি করে আমার গার্ল ফ্রেন্ডের দিকে তাকানোর তাও আবার আমাকে চ্যালেঞ্জ করে…!!!

মেঘলাঃ ভাইয়া ফোন রেখে দিল কি বলল কিসের রেচ কিছু না বুঝলেও এটা বুঝেছি ও আমার জন্য কারো সাথে মারামারি করেছে তাই এতক্ষন নিরুদ্দেশ ছিল।এখন আবার নতুন করে ঝামেলা করতে চাচ্ছে।
আমার জ্যাকেট খুলে ফেলা টা উচিত হয় নি সেটা বুঝলাম কিন্তু এখন ওকে আটকাব কি করে? এটা ত ওর নিজের এলাকা নয় নিজের দেশ ও না কোন বন্ধু বান্ধব ও নেই একাএকা কার সাথে মারামারি করার প্লেন করছে..??

সারারাত ভাইয়ার চিন্তায় ঘুমাতে পারি নি।সকালে আপুর বিয়ে নিয়ে সবাই ব্যাস্ত আমি আকাশ ভাইয়ার উপড় নজর রাখতে ব্যাস্ত।
কিন্তু আজব ব্যাপার ও সকালেই সুন্দর করে সেজে গুজে নিঝুম আপুর কাছে গিয়ে হাজির। আমিও গেলাম

আকাশঃ আপু সবাই মেহেদী পরল আমাকে ত দিলে না।

নিঝুমঃ তুই মেহেদী পরবি এটাও সম্ভব..?

আকাশঃ আমার বুঝি ইচ্ছে হয় না?

নিঝুমঃ এই কে আছিস মেহেদী নিয়ে আয় আমার ভাই মেহেদী পরতে চেয়েছে আমি নিজে পরিয়ে দিব।

আকাশঃ এই না হলে আমার বোন নিজের বিয়ের দিন আমাকে মেহেদী পরিয়ে দিবে কি মজা বলে নিঝুম আপুকে জড়িয়ে ধরল।

নিঝুম আপু ভাইয়াকে মেহেদী পরিয়ে দিচ্ছে।

আকাশঃ কাল ছিলাম না তার জন্যে কি আমাকে ক্ষমা করা যাবে ম্যাডাম?

নিঝুমঃ তুই এমন একটা ছেলে তোর সাথে রাগ করে থাকা অসম্ভব।আকাশ ভাইয়া আপুর সাথে খুনশুঁটি
করছে আর সব মেয়েরা ভাইয়ার দিকে হা করে তাকিয়ে আছে।

মেঘলাঃ ভাইয়া কি তাহলে রাতের সব কথা ভুলে গিয়েছে? যাক বাবা বেঁচে গেছি আর মনে হয় বাইরে যাবে না।
তবুও ওকে বিশ্বাস নেই তাই ওর পিছনেই দাঁড়িয়ে আছি।

ভাইয়া মেহেদী পরা শেষ করে হাঁটতে লাগল আমি পিছন পিছন যাচ্ছিলাম।

আমাকে পিছনে দেখে ভাইয়া দাঁড়িয়ে পড়ল
আকাশঃসমস্যা কি? বিড়ালের বাচ্চার মত আমার পিছন পিছন ঘুরছিস কেন?

মেঘলাঃ আমি কিন্তু জ্যাকেট পরেছি…

আকাশঃ দেখেছি লক্ষি মেয়ের মত লাগছে।এবার এখান থেকে যা সকাল থেকে লক্ষ্য করছি তুই আমাকে ফলো করছিস এভাবে সারাক্ষন আমার পিছন পিছন ঘুরলে লোকে খারাপ বলবে

মেঘলাঃ না না আমি কোথাও যাব না যার যা মন চায় বলুক।

আকাশঃ বেশ থাক তবে…

আমি সারাক্ষন ভাইয়াকে পাহারা দিচ্ছি ও বাইরে যাওয়ার নাম ও নিচ্ছে না দেখে স্বস্তি পেলাম।

————-

ঘড়িতে ১১.০০ টা আমি ব্রেকফাস্ট করছিলাম ভাইয়াও আমার পাশেই টেবিলে বসে ছিল কিন্তু হঠাৎ খেয়াল করলাম ভাইয়া আমার পাশে নেই।দৌড়ে বাইরে গিয়ে দেখালাম ও হেঁটে হেঁটে কোথায় যেন যাচ্ছে আমি পিছনে ছুটলাম।

মেঘলাঃ ভাইয়া….. ভাইয়া দাঁড়া..

ভাইয়া ফিরে তাকাল না ও কি শুনছেনা, নাকি শুনেও না শুনার ভান করছে বুঝলাম না তাই ওর ফোনে ফোন দিলাম ও ফোন টা ধরল।

মেঘলাঃ কোথায় যাচ্ছিস

আকাশঃ তুই আমাকে ফলো করছিস কেন..??

মেঘলাঃ তারমানে তুই জানিস আমি তোর পিছনে?

আকাশঃ আমি কি কালা নাকি যে তোর ডাক শুনব না

মেঘলাঃ তাহলে দাঁড়াচ্ছিস না কেন?তুই কোথায় যাচ্ছিস?

আকাশঃ সেটা তোর না জানলেও চলবে আমার আমাকে ফলো করা বন্ধ কর পিছন পিছন আসিস না।

মেঘলাঃ না তুই কোথাও যেতে পারবি না

আকাশঃ আমাকে আটকানো তোর ক্ষমতার বাইরে

মেঘলাঃ জানি তাই তুই গেলে আমিও যাব।

আকাশঃ হা হা হা অপশন নেই,
বলে পকেট থেকে কি যেন বের করল…
তারপর আমার দিকে ঘুরে তাকাল,আমার দিকে কাগজ টা ধরে বলল,

আকাশঃ আমার পাসপোর্ট… যেটা ছাড়া আমি দেশে ফিরতে পারব না এমনকি জেলেও যেতে হতে পারে।

মেঘলাঃ মানে…??

ভাইয়া আর কিছু না বলে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ময়লার গাড়িতে পাসপোর্ট টা ফেলে দিল

পড়ুন  মুখোশ – রহস্যময়, রোমান্টিক প্রেমের গল্প পর্ব ৮ | মোনা হোসাইন

মেঘলাঃ এই…. কি করলি এটা…??

ভাইয়া উত্তর না দিয়ে একটা হাসি দিয়ে ফোন টাও ফেলে দিল।

আমি তাড়াতাড়ি গিয়ে পাসপোর্ট টা নিলাম সাথে ফোন টাও কিন্তু তাকিয়ে দেখি ভাইয়া কোথাও নেই।তারমানে ও আমাকে ফাঁকি দেয়ার জন্য এটা করল।ফোন টাও রেখে গেছে যেন আমি আর ফোন না দিতে পারি।

রাস্তায় বসে কান্না করা ছাড়া আমার আর কিছু করার নেই….ভাইয়ার বুদ্ধির সাথে আমি কোনদিন পারি নি আজ কি করে পারব?কেন যে বিদেশে এসেছিলাম কে জানে আমি এখন কি করব..??

এদিক ওদিক যতটা সম্ভব ওকে খুঁজার ব্যার্থ চেস্টা করলাম।তারপর বাসায় ফিরলাম কিসের বিয়ে কিসের অনুষ্টান আমার পাগল পাগল অবস্থা কোন কিছুতেই মন বসছে না অস্থিরিতা কাজ করছে।বাসায় সবাই আকাশের খোঁজ করছিল কিন্তু পায় নি।আমি বাধ্য হয়ে নাবিল ভাইকে race এর কথা বললাম।

সারাদিন এভাবেই কাটল আপুর বিদায় হয়ে গিয়েছে।এখনো আকাশের কোন খোঁজ নেই বাসার সবাই দুশ্চিন্তায় পড়ে গেল।

কিছুক্ষন পর নাবিল ভাইয়া আকাশ কে নিয়ে ফিরল।না ও সুস্থই আছে কিছু হয়নি দেখে শান্তি পেলাম

আকাশের বাবাঃ আকাশ সারাদিন কোথায় ছিলি..??

ভাইয়া মাথা নিচু করে আছে।

বড় মাঃ কিরে কথা বলছিস না কেন

নাবিলঃ কি বলবে? ও ত জেলে ছিল।

আজাস সাহেবঃ জেলে মানে…??

ছোট মাঃ মানে কি? কিসব বলছিস

নাবিলঃ জেলে ছিল জন্যেই এখনো বেঁচে আছে ওর এউ বাজে অভ্যাস টা এখনো যায় নি রাগ হলেই স্পীডে গাড়ি চালায়।এবার তো বাজি ধরে…

আকাশঃ আহ নাবিল…

নাবিলঃ একটু কাশির ভান করে কথা ঘুরিয়ে নিল.. ও car race এ নাম দিয়েছিল হাই স্পীডে গাড়ি চালিয়ে ট্রাফিক রুলস ভাংগায় পুলিশে ধরেছিল।
পুলিশ না ধরলে এতক্ষনে ওর হাড় গুলিও পেতে না….

আজাদ সাহেবঃ কিসব শুনছি আকাশ তুমি কোন বুদ্ধিতে রেচে নাম দিয়েছিলে

নাবিলঃ রাগে দিয়েছিল যা হবার হয়ে গিয়েছে ওকে আর প্রেসার দিও না যা বলার আমি বলেছি।

আকাশঃ থাংক্স নাবিল আজ তুই না থাকলে…

নাবিলঃ ভালবাসা আর রাগ কোনটাই বেশি ভাল না আকাশ।

আকাশঃ হুম…

পরদিন বউভাত হয়ে গেল ভাইয়া আর কোন ঝামেলা করে নি সবার সাথে মিলেমিশে দিন টা কাটিয়েছে তবে আমার সাথে একটাও কথা বলে নি।

আকাশের বাবাঃ শারমিন এবার আমাদের ফিরতে হবে

শারমিন খালাঃ আরে ভাইজান কি বলো বাচ্চারা সুইজারল্যান্ড এসেও পাহাড় না দেখে চলে যাবে তা কি করে হয়।

নেহা আপুঃ তাই তো আমরা আর কিছুদিন থাকি বড় বাবা..

আজাদ সাহেবঃ কিন্তু আমাকে তো ফিরে যেতে হবে

নাবিলে মাঃ এক কাজ করেন আমরা বড় রা নাহয় ফিরে যাই ছোট রা ঘুরে আসুক।

আজাদ সাহেবঃ কিন্তু..

নাবিলের মাঃ আকাশ আর নাবিল ত আছে ওরা মেয়েদের দেখে রাখবে…

মিলি আপুঃ আমরা থাকি প্লিজ প্লিজ…

আজাদ সাহেবঃ ঠিক আছে…আমরা তাহলে রাতে ফিরে যাচ্ছি তোমরাও তাড়াতাড়ি চলে এসো।

সব ঠিক ঠাক ছিল কিন্তু হঠাৎ করেই আকাশ ভাইয়ার কথায় আমার মন খারাপ হয়ে গেল।

আকাশঃ নেহা মিলি নিলিমা সবাই থাকছে তাতে কোন সমস্যা নেই কিন্তু মেঘলা থাকবে না।

নাবিলঃ মানে কি..??

আকাশঃ মানে হল ও ফিরে যাবে ওকে আমি রাখব না পাহাড়েও নিয়ে যাব না।

মেঘলাঃ কেন..??

আকাশঃ জবাবদিহী করতে বাধ্য নই তুই ফিরে যাচ্ছিস এটাই ফাইনাল…

মেঘলাঃ ও বুঝেছি কেন রাখবি না তুই এখানে….

আকাশঃ যা বুঝেছিস ঠিকি বুঝেছিস আমি এখানে মেয়ে নিয়ে ফুর্তি করব তোর কোন সমস্যা..??

আজাদ সাহেবঃ আকাশ কি যাতা বলছো তুমি দিন দিন বেয়াদবের চরম সীমায় পোঁছে যাচ্ছো ধমক দিয়ে।মেঘলা একা চলে যাবে কেন ও তোমাদের সাথেই থাকবে এ নিয়ে আর কোন কথা যেন না হয়।

রাতে সবাই চলে গেল আমরাও রাতে পাহাড়ে যাব এখান থেকে পাহাড় অনেক দূর অন্য শহরে।

ট্যুরের গাড়ি এসেছে আমাদের নিতে সব গোছগাছ করে গেলাম…

কিন্তু গিয়ে দেখলাম ভাইয়া আর নিলিমা আপু পাশা পাশি বসেছে গাড়ির সামনে সিরিয়ালে সবাই বসেছে আমার সীট সবার পিছনের সিরিয়ালে একদম একা। কি আর করব, মন খারাপ হলেও কিছু করার নেই আমি একাই গিয়ে বসলাম রাতে জার্নি তাই ঘুমিয়ে এসেছি।
হোটেলে গিয়ে সবাই ফ্রেশ হয়ে নিয়েছি।হোটেল থেকে পাহাড় দেখা যায় হোটেলের খুব কাছেই পাহাড় সাদা বরফে ঢাকা পাহাড় কখন যে যাব আমার আর তর সইছে না আমার খুব খুশি লাগছে।আমার মত অন্যরাও সবাই খুশি
তবে আমি এসেছি বলে আকাসব ভাইয়া খুব রাগ করেছে মনে হয় তাই আমার সাথে কোন কথায় বলছে না।

পড়ুন  Sad Premer Golpo Love Never Ended Part 19 | END Part

সে যাই হোক ও রাগ করে বেশিক্ষন থাকতে পারবে না জানি তাই আমার খারাপ লাগছে না সবাই মিলে পাহাড়ে গেলাম আজ আমরা ওখানে পিকনিক করব।গাড়ি থেকে নেমে সবাই পাহাড়ের দিকে এগিয়ে গেলাম।

নাবিল,ঈষান আগেই পাহাড়ে উঠে গিয়েছে ঝামেলা হল আমি নেহা আপু মিলি আপু নীলিমা আপু আমরা অনেকটাই উঠেছি তবে এখানে একটা ফাটল আছে যা আমরা কেউ এই পার হতে পারছি না আসলে আগে উঠে অভ্যস্ত নই তাই একটুতেই ঘাবড়ে গেছি

আকাশ ভাইয়া পার হয়ে গিয়েছিল কিন্তু আবার ফিরে এসে আমাদের থেকে একটু উপড়ে দাঁড়িয়ে বলল উফফ তোদের নিয়ে আর পারা গেল না আয় হাত ধরে ধরে উঠ বলে মিলি আপু কে তুলে দিল নেহা আর নিলিমা আপুকেও এবার আমার পালা আমিও হাত বাড়িয়ে ভাইয়ার হাত ধরলাম।

কিন্তু আমি হাত ধরতেই ভাইয়া যেন তেলেবেগুনে জ্বলে উঠল বেশ বুঝতে পারছি ও আমার হাত টা ছাড়িয়ে নিতে চাচ্ছে।

আমি বেশ অবাক হলাম কারন আমি শুধু ওর উপড় ভরসা করেই দাড়িয়ে আছি ও হাতটা ছেড়ে দিলে আমি নিশ্চিত পড়ে যাব ভাইয়া হয়ত সেটা বুঝতে পারছে না তাই বল্লাম কি করছিস ভাইয়া পড়ে যাব তো..

আকাশঃ তো আমার কি করার আছে..?? হাত ধরার আগে তুই কি পারমিশন নিয়েছিস?

মেঘলাঃ মজা করিস না আমি সত্যি পরে যাব..

আকাশঃ হাত ছাড় মেঘলা (ধমক দিয়ে)
ভাইয়ার বলার ধরন দেখেই বুঝলাম ও আমাকে ছেড়ে দিবে ভয় করছে আমি অনেকটাই উপরে নিচের দিকে তাকিয়ে হাত পা কাঁপছে।

আকাশঃ হাত ছাড় মেঘলা…

নিজেকে আটকে রাখার আপ্রান প্রচেষ্টায় কাঁপা কাঁপা গলায় বল্লাম একটু ধর আমি জাস্ট ওই পাথর টায় ধরতে পারলেই তোকে ছেড়ে দিব।

আমি আমার কথা শেষ করতে পারি নি তার আগেই অনুভব করলাম আমি হাওয়ায় ভাসছি।
হ্যা ঠিক ধরেছেন ভাইয়া আমার হাত ছেড়ে দিয়েছে।যদিও আমি ওকে আঁখরে ধরে রেখেছিলাম ও জোর করে আমার হাত টা ছাড়িয়ে দিয়েছে।

এখন আমার কি করা উচিত?নিশ্চুই চিৎকার করা উচিত কিন্তু বিশ্বাস করুন আমার চিৎকার করতে ইচ্ছা করছে না আমি জানি কিছুক্ষনের মধ্যেই আমি নিচে আঁছড়ে পড়ব হয়ত খুব ব্যাথাও পাব তবে সে ব্যাথার পরিমান এখনের চেয়ে কম হবে বলেই আশা করছি কেননা আপনজন হারানোর কষ্ট যে কতটা যন্ত্রনাদায়ক সেটা কেবল সেই জানে যে হারিয়েছে।

এতদিন ধারনা ছিল ভাইয়া কোন কারনে আমার সাথে রাগ করেছিল কিন্তু আজ বুঝলাম ও সত্যিই বদলে গিয়েছে যে ইচ্ছা করে আমাকে পাহাড় থেকে ফেলে দিতে পারে সে আর যাই হোক আমাকে ভালবাসতে পারে না।

আমি ওর জীবনে শুধুই একটা পরগাছা যা আজ নিজের হাতে উপরে ফেলে দিল।তারমানে ও সেদিন আমার জন মারামারি করে নি ওর কোন গার্লফ্রেন্ড আছে যাত ব্যাপারে আমরা জানি না হলুদে কেউ ওর গার্লফ্রেন্ডের দিকে তাকিয়ে ছিল তাই মারামারি করেছিল আর আমি বোকার মত ভেবেছিলাম সেই গার্ল ফ্রেন্ড টা আমি…নিজের অজান্তে চোখ ভিজে গেল।আমি অপলক দৃষ্টিতে ভাইয়ার দিকে তাকিয়ে আছি তবে আমি পড়ে যাচ্ছি দেখেও ভাইয়া বিন্দুমাত্র বিচলিত হল না দেখে বেঁচে থাকার ইচ্ছা টা মরে গেল যে আমি এতক্ষন পড়ে যাব বলে ভয় পাচ্ছিলাম সেই আমারেই এখন মনে হচ্ছে কেন সময় যাচ্ছে না কয়েক সেকেন্ড ও অনেক বেশি মনে হচ্ছে খুব কষ্ট হচ্ছে মনে হচ্ছে যত তাড়াতাড়ি পড়ে যাব তত তাড়াতাড়ি এই যন্ত্রনা থেকে মুক্তি পাব। বড্ড বেশি ভালবাসতাম যে ওকে তাই হয়ত এতটা কষ্ট হচ্ছে।
যদি দেহ আর আত্মার আলাদা আলাদা ভাবে মৃত্যু হওয়ার নিয়ম থাকত তবে নিঃসন্দেহে বলতে পারি এই মুহুর্তে আমার আত্মার মৃত্যু ঘটেছে এবার শুধু শরীরের পালা।

চলবে…!!!

Leave a Comment

Home
Stories
Status
Account
Search