রাগি মেয়ে যখন গার্লফ্রন্ড – অনুগল্প | Bangla Short Story

Ragi Meye Jokhon Girlfriend

Amrin Talokder { Short Story }


আমি: ও প্রিয়া,ও প্রিয়া আয়না একটু কা....?

আর বলতে পারলাম না,গালে কিছু একটা শব্দে গানটা বলা বন্ধ হয়ে গেছে।কানে হেডফোন দিয়ে গানটা শুনছিলাম আর আস্তে আস্তে রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় গাইতেছিলাম,কিন্তু গাইতে আর পারলাম কই।হানটার শুরুতেই তো গালের বেথায় গান বলা বন্ধ হই গেছে।

মেয়ে: রাস্তার মধ্যে মেয়ে দেখে ইভটিজিং করিস?লুইচ্চা, বদ কোথাকার।

আমি: এই যে আন্টি শুনেন,কাকে কি বলছেন?

মেয়েটি: আরো দুই চারটি লাগবো নাকি?আমাকে কোন দিক থেকে মনে হয় তোর আন্টি লাগি?

আমি: আপনি না জেনে আমাকে থাপ্পড় কেন দিলেন?আমি তো হেডফোনে গান শুনছিলাম আর গাইছিলাম,তাতে কোথায় মেয়েদের ইভটিজিং করলাম?

মেয়েটি: তো আন্টি কেন বললি বল?

আমি:😕

😕😕

মেয়েটি: কি হলো মুখ ওই রাম বাঁকা করিস কেন?

আমি: ওহহহহ চাচী ভুল হই গেছে (বলেই দিলাম এক দৌড়,আমারে আর পায় কে,সাত সকালে ফ্রেশ মনে গান শুনছিলাম আর গাইতে ছিলাম কোথা থেকে কোন ছাকচুন্নী এসে মুডটাই খারাপ করে দিল।)

তাররপর বাসায় গিয়ে ফ্রেশ হয়ে কলেজের উদ্দেশ্য রওনা হই।রাস্তা দিয়ে আনমনে হাঁটছি আর সাথে সাথে কিছু একটার সাথে ধাক্কা খেয়ে পরে পরে গেলাম কিছু একটার উপর,কিন্তু একি এত্ত নরম লাগছে কেন?তাকাতেই দেখি সকালের সেই মেয়েটি।হায় আল্লাহ এবার কি হবে তাহলে?

মেয়েটি: তুই, এবার যাবি কই।তুই নাকি মেয়েদের ইভটিজিং করিস না?একে তো সকালে আমাকে দেখে বাজে গান গাইতে ছিলি, আর এখন কলেজে যাচ্ছি তুই আমাকে রাস্তায় ফেলে দিলি😡😡।(রেগে গিয়ে বললাম)

আমি: আপু আসলে আমি আনমনে হাঁটতে ছিলাম,কখন যে আপনি সামনে এসে পরেন বুঝতেই পারিনি।

মেয়েটি: ঠাসসস,ঠাসসসস,সকালেও কি ভুল করেছিলি??

আমারও রাগ উঠে যায়,হাত কি শুধু তার একার আছে,আমি কি শ্বশুর বাড়ি রেখে আসচ্ছি নাকি বউয়ের কাছে,তাই আমিও লাগিয়েই।এই এই আপনারা আবার ভাইবেন না আমিও থাপ্পড় মারছি,আমি তো তার মাথার পিছনে হাত দিয়ে আমার দিকে এগিয়ে এনে তার মিষ্টি ঠোঁটের স্বাদ নিতে থাকি রাস্তায় বসে বসে।

আহা কি ফিলিংস রাস্তায় বসে বসে অচেনা এক মেয়ের ঠোঁটের স্বাদ নিচ্ছি,আপনারা চাইলে নিতে পারেন,উমমম না, না আপনাদের দিব না,আমি নিচ্ছি তো আমিই নেই।আমার জিনিসে আবার অন্যদের ভাগ দেই না।

দীর্ঘ ৭ মিনিট পর (বি: দ্র: আমার গালফ্রেন্ডের সাথে করা প্রথম কিস করার সময়) ছেরে দেওয়ার পর মেয়েটি জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছে আর আমার দিকে তাকিয়ে আছে।মনে হচ্ছে আমাকে গিলে খেয়ে ফেলবে

আমি: কি গো বউতাহ কি রাগ করছে?

মেয়েটি: তোকে তো আমি দেখে নিব।তুই আমার সাথে অসভ্যতা করেছিস,তোর এর প্রতিদান দিতেই হবে।

আচ্ছা আপনারা এমন কেন?আমি এত্তক্ষণ ধরে কথা বলছি মনেই নেই তো আমার পরিচয় দেই নি।আমি রাফসান।বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান। আর এত্তক্ষণ ধরে যে মেয়েটির সাথে কথা বলছি সে হচ্ছে মেঘা।

তার পর সেখান থেকে চলে আসি, উদ্দেশ্য কলেজ তাই কলেজের দিকেই হাঁটা ধরি
কিছু সময় পর কলেজে পৌছে যাই।সেখানে হারামি বন্ধু গুলো আমার জন্য অপেক্ষা করছে।

সিয়াম: কি রে নেহা,আজ কাল ছেলেরাও যে ঠোঁটে লিপস্টিক দেয় জানতাম না তো।তুই কি কখনও দেখেছিস?

নেহা: না রে সিয়াম,আমিও দেখিনি,তবে আজ দেখলাম,

আমি: কি রে কি নিয়ে কথা বলছিস?আর কে লিপস্টিক দিছে আমারেও একটু দেখা?

নেহা আর সিয়াম,আমার কথা শুনে হেসে হেসে ঘাসের উপর গড়াগড়ি দিচ্ছে আমার কথা শুনে।তাদের অবস্থা দেখলে মনে হবে আমি কোন জোকস বলছি।তাই সিয়ামকে একটা পায়ে লাথি মেরে বললাম...

আমি: কি রে উঠবি নাকি আরো একটা দিব যজয়গা মতো।আর কে লিপস্টিক দিছে আমারে কেন বলিস না?

সিয়াম: এই মেকাব সুন্দরী তোর আয়নাটা বের কর তো??
নেহা: সিয়ামের বাচ্চা তোরে তো আমি......

সিয়াম: আরে আরে স্যরি তো আমি ও জাতি জানে আমার নেহা প্রকৃতি সুন্দরী, তা আয়নাটা বের করবেন গো সুন্দরী?

আমি: এই এই দ্বারা...আমার নেহা মানে?নেহা তোর একার মানে সিয়াম বুঝলাম না??উমমমম সামথিং সামথিং নাকি?

নেহা: রাফসাননননন,

আমি: আচ্ছা বাদ দে, দে তো তোর আয়না দেখি সিয়াম কি দেখাবে?

তার পর সিয়াম নেহার থেকে আয়না নিয়ে আমার মুখের সামনে ধরলে আমি নিজেকে দেখে নিজে কি বলবো ভেবে পাচ্ছি না,মেঘার ঠোঁটে যে লিপস্টিক ছিল,সেগুলো সব আমার ঠোঁটে এলোমেলো হয়ে লেগে আছে।আপনারা বুঝেন না কেন??৭ মিনিট কিস, লিপস্টিক যদি না লাগে তো কেমন দেখায়,হাহাহাহা

আমি কিছু না ভেবে দিলাম এক দৌড় কলেজের ওয়াশ রুমের দিকে।আমার দৌড় দেখে সিয়াম ও নেহা দুজনে হাসাতে হাসতে শেষ।ওয়াশ রুম থেকে অনেক কষ্টে লিপস্টিক গুলো তুলে ক্লামে চলে যাই। ক্লাস শেষে বের হতেই দেখি মেঘা। আচ্ছা একটা জিনিস বুঝতেছি না,যেখানেই যাই না কেন এই মেয়ে আমার সাথে এরকম আঠার মতো লেগে কেন আছে😏

পড়ুন  বাংলা প্রেমের গল্প – রাগী স্যার যখন ডেভিল হাসবেন্ড পর্ব 15

কোন রকমে তার চোখের আড়াল করে চলে আসি বারিতে।আস্তে আস্তে চলে যায় কয়েকটি মাস,এর মাঝে তার সাথে হয়ে গেছে বন্ধুত্ব।এখন তার সাথে রাগ অভিমান সব সময় লেগেই থাকে।

 

মেঘা: এই রাফসান,কই তুমি?

আমি: আমি তো রাস্তায়,কিন্তু কেন?
মেঘা: আমার জন্য ফুসকা নিয়ে আসো।

আমি: কিহহহ,এখন কয়টা বাজে তার খেয়াল আছে?এত্ত রাত্রিতে যাবো তোমার বাসায়?কিন্তু কিভাবে?

মেঘা: তোরে আনতে বলছি তো আনবি,আমি কিছুই জানি না,আর যদি না আনিস তো তোর সাথে সব শেষ।

আমি: আচ্ছা আচ্ছা আনছি,এত্ত রাগ তোমার কোথায় থাকে বুঝি না আমি।

তার পর কি আর করার তার যে পরিমাণ রাগ,তার রাগের কাছে হেরে গিয়ে নিয়ে যাই তার জন্য এক পেকেট ফুসকা।
তার বাসার সামনে গিয়ে ফোন দিলে আমাকে তার রুমে দিয়ে যেতে বলে।কেমনডা লাগে এখন তরজা সব বন্ধ আর তার মধ্য এই রাত্রি বেলাতে।কিভাবে কি সম্ভব।

আমি: শালার এই মেয়েকে যে বিয়ে করবে তার জীবনটা শেষ করে দিবে।(মনে মনে ভাবছি,আর খুঁজতেছি কি করে তার রুমে উঠবো)

 

কিছুক্ষণ খুঁজে একটা চোঙ্গ পেলাম,সেইটা দিয়ে কিছুটা উঠে তার পর দেয়াল বেয়ে বেয়ে অনেক কষ্টে তার বেলকনিতে গিয়ে দরালাম।বেলকনির দরজায় নক করতেই মেঘা দরজা খুলে আমাকে দেখে অবাক হয়ে দারিয়ে আছে

মেঘা: রাফসান,তুমি????

আমি: কেন অন্য কেও আসতো নাকি ফুসকা দিতে,তাহলে চলে যাই বায়।

মেঘা: এই শুনো.

বলেই রাফসানকে টান মেরে আমার দিকে ঘুরিয়ে রাফসানের ঠোঁটের সাথে আমার ঠোঁট ডুবিয়ে দেই।তাতে রাফসান চোখ বড় বড় করে আমার দিকে তাকিয়ে থাকে।রাফসান আমার থেকে ছুটতে চাইলে আমি তার মাথার পিছনে হাত দিয়ে খামচে ধরে নেই।সে আর আমার সাথে না পেরে চুপ হয়ে যায়।তাকে ছেরে দিতেই

আমি: এই মেঘা,তু,তুমি এটা কককি কককররররলে(তুতলিয়ে তুতলিয়ে,কথা বলার শক্তিটাও যেন হারিয়ে ফেলছি)

মেঘা: কেন জানো নন?তুমি যখন করছিলা?

আমি: আমি তো.....

মেঘা: আচ্ছা একটা কথা বলি শুনো।

আমি: হুমম।বলো....

মেঘা: তোমাকে চেয়েছি অনেক করে বুঝাতে।জানি না তুমি বুঝেছো না কেন আমাকে?আমি যে ভালো বাসি তোমাকে.তুমি কি নিবে আপন করে?আমি যে ভালোবাসি তোমাকে..

আমি : কিন্তু মেঘা,আমি তো তোমাকে ভালো একটা বন্ধু মনে করি।

মেঘা: প্লিজ ফিরিয়ে দিও না,আমি সত্যি অনেক অনেক ভালো বাসি,কখন কিভাবে ভালো যে বেসেছি তোমাকে।তোমার সাথে করা রাগ,কখন যে বাসতে বাধ্য করেছে।

আমি: কিন্তু.....

মেঘা: আমি কিছু শুনতে চাই না,তুই বল ভালোবাসবি কিনা??

আমি: দেখো আমি পারবো না।

মেঘা: তাহলে এই যে দেখছিস ছুরি তোরে এখানে মেরে নদীতে বাসিয়ে দিব।

আমি:মানে কি বলছো।তোমার মাথা ঠিক আছে।

বলেই আমি যেই চলে আসবো,আমাকে মেঘা হাত ধরে এক টান মেরে এক হাত পিছন দিয়ে গলায় ছুরি ধরে বলে তারে যদি না ভালোবাসি তো সে নাকি আমাকে মেরে ফেলবে।এমন পরিস্থিতি শিকার হবো জীবনেও ভাবিনি,আর মেঘা যেই রাগি,সত্যি সত্যি যে মেরে ফেলতে তার হাত একবারও কাঁপবে না,তাই তারে হ্যাঁ বলে দেই।

আমি: প্লিজ মেঘা ছুরি সরাও।না হলে যদি কিছু হয়ে যায়।আমি রাজি।

মেঘা: সত্যি উম্ম্ম্মা, আমি জানতাম পাগলটা আমায় অনেক ভালোবাসে।
আমি: ভালোবাসি না ছাই,এভাবে ব্লাকমেইল করলে কে না রাজি হবে না(বিড় বিড় করে বলছি)

তার পর থেকেই শুরু হলো আমার জীবনটা নরক,কোন দুঃখে যে এই এই মেয়ের সাথে পরিচয় হইছিলাম আল্লাহ ভালো জানে।আস্তে আস্তে যত দিন যায় ততই মেঘার পাগলামো গুলো বেড়ে যায়।

এরই মাঝে চলে যায় ১ টি বছর,এক দিন কলেজে একটু দেরি যাওয়ার দেখি মেঘা একটি ছেলের সাথে হাত ধরে হেসে হেসে কথা বলছে।এমন ভাব দুজন বসে আছে মনে হচ্ছে তাদের ভিতর অনেক গভীর সম্পর্ক।তাদেরকে এই অবস্থায় দেখতে সহ্য করতে না পেরে তাদের কাছে হিয়ে সরামরি মেঘাকে থাপ্পড়েরে দেই।

আমি: ছি, মেঘা ছি,তুমি এতটা নিচু নেমে গেছো ভাবতেই অবাক লাগছে।আচ্ছা তুমি যদিই অন্য ছেলের সাথে মিশবে তো কেন ভালোবাসা শিখিয়েছিলে?

মেঘা: তোর সাহস কি করে হয়, আমার গায়ে হাত তুলার
তোর সাহস কি করে হয়,ছোটলোক কোথাকার(বলেই রাফসানের গালে ঠাসসস করে চার চারটে থাপ্পড় মেরে দেই।)

আমি: মেঘা, তুমি আমাকে মারলে??কে এই ছেলে শুনি??
মেঘা: ও হলো সিয়াম,আমার বর্তমান ও ভবিষ্যত বয়ফ্রেন্ডা,আর তুই যেন কি বলছিলি কেন ভালোবাসা শিখিয়েছে।হিহিহিহিহহিহ,আর মনে আছে তুই আমাকে রাস্তার ভিতর কিস করিস,জানিস তাত৷ আমার কত্ত সমস্যা পোহাতে হইছে তোর জন্য। আর তখনই মনে মনে ভেবে নেই জীবনে একবার হলেও😬ও আমি ওই তোর ফাজলামোর উচিত শিক্ষা দিব।

 

আমি: মেঘা,

পড়ুন  শেষ ঠিকানা তুমি – থ্রিলার প্রেমের গল্প পর্ব 1 | Love Story

মেঘা: তোকে যেন আমি তির সিমানাও না দেখি।

আমি: আচ্ছা চলে যাচছি,তবে একটা কথা মনে রেখো।সত্যি ভালো বেসে ছিলাম,বুঝবে যেদিন ফিরতে চাবে সেদিন, তবে আফসোস হয়তো আমি থাকবো না।

বলেই সেখান থেকে চলে আসি,আজ খুব কান্না পাচ্ছে তবে কেন যেন চোখের কোণে এক ফোঁটা পানিও নেই।সবাই বলে সিগারেট ধোয়ায় নাকি কষ্ট কম হয়।তাই দোকান থেকে এক পেকেট সিগারেট কিনে নিয়ে রুমের দরজা আটকিয়ে একের পর এক সিগারেট খেয়ে গেলাম,কিন্তু কিছু তেই মেঘার করা ব্যবহার ভুলতে পারছি না।

আচ্ছা সত্যি কি মেঘা আমাকে ভালো বাসতো না?কখনও তো এমন ব্যবহার করেনি যে তার দ্বারা বুঝাই যেতো না মেঘার মাঝে আরো একটা রুপ লুকিয়ে আছে সেটা প্রতিশোধের জন্য জ্বলতে ছিল।
আচ্ছা মেঘার যদি প্রতিশোধ নিতেই ইচ্ছে করতো তো কেন আমার মন নিয়ে খেললো।কেন আমার ভালোবাসাকে অবহেলা করলো।মেনর ভিতর হাজারো প্রশ্ন কিন্তু কোনটারই উত্তর আমার কাছে নেই।কখন যে ঘুমিয়ে পরেছি মনেই নেই।

ঘুম ভাঙ্গার পর ফ্রেশ হয়ে নিচে গিয়ে আম্মুর কাছে খাবার চাইলে আম্মু খাবার দিলে।আম্মুকে বলি....

আমি: আচ্ছা আম্মু, আমি কি সত্যি খারাপ?
আম্মু্: না কেন?

আমি: তাহলে কেনই সবাই আমার সাথে বেইমানি করে?কেন আমাকে নিয়েই সবাই মজা করতে চায়।আম্মু আমি এখানে থাকতে চাই না,অন্য এক শহরে চলে যেতে চাই।

আম্মু: আচ্ছা খাবার খেয়ে নে।তাররপর দেখছি।

তারপর চুপচাপ খাবার খেয়ে রুমে এসে শুয়ে শুয়ে মেঘার কথা ভাবছি,আচ্ছা মেঘার কি সত্যি আমার কথা মনে পরবে না?মেঘা কি সত্যি আমার সাথে অভিনয় করে গেছে?মেঘা কি সত্যি আমাতে ভালোবাসতো না?

এরই মাঝে আম্মু এসে বলে গেলো আমার নাকি নতুন কলেজে ট্যান্সফার হওয়ার সব ব্যবস্থা করাহয়ে গেছে।
তাই রাত্রিতে সকল কষ্ট যন্ত্রণাকে বিদায় দিয়ে নিজের মতো করে ঘুমিয়ে গেলাম।

যে আমাকে চায় না,আমি কেন তারে চাইবো।যার আমার কথা মনেই পরে না,তার জন্য কেই কষ্ট পাবো?যে আমাকে ভুলে থাকতে পারে, তাকে আমি কেন ভুলতে পারবো না?সময় কারো জন্য অপেক্ষা করে না,তাই সব কিছু ভুলে নতুন শহরে নতুন করে নিজেকে নতুন রুপে সাজিয়ে এই শহর ছেরে চলে যাই।

রাতের রাস্তায় হেটে বেড়াচ্ছি, কোথা থেকে যেন একটা মেয়ের চিৎকার ভেসে আসচ্ছে।চিৎকার শব্দ শুনে সেদিকে গিয়ে দেখি তিনটা ছেলে একটি মেয়ের সাথে কিছু করার চেষ্টা করছে।পাশে একটা লাঠি থাকায় সেটা হাতে নিয়ে তাদের একটাতে বাড়ি মারতেই আর গুলো পালিয়ে যায়।

আমি: এই রাত্রিতে রা.....(আর বলতে পারিনি কিছু,আমার চোখের সামনে আমার মেই পাগলিটাহ,যাকে আমি পাগলের মতো ভালো বেসে গেছি, কিন্তু সব শেষে তাও তাকেই হারাতে হয়েছে।তার কাছে আমার প্রতি ভালোবাসার মাঝে যে রাগ লুকিয়ে ছিল, তা বুঝতেই পারিন,)সেখান থেকে চলে আসবো..

মেঘা: দারাও রাফসান,

আমি: জ্বি কিছু বলবেন?

মেঘা: স্যরি, আসলে সত্যি বলতে সেদিন যদিও তোমার উপর প্রতিশোধ নিতেই ভালোবেসেছিলাম,করেছি তোমার মাথে প্রেমের অভিনয়।কিন্তু বিশ্বাস করো তারই কিছু দিন পর সিয়ামের আসল চরিত্র আমার কাছে বের হয়ে আসে।আমি তখন কি করবো কিছুই বুঝতে পারিনি।সত্যি আমি অনেক বড় ভুল করেছি আমাকে ক্ষমা করে দিয়ে নাও না গো আবার তোমার মনের সেই ছোট আয়নায় আমাকে?
আমি যে নিজের ভুল পেরেছি বুঝতে। তুমি কি নিবে না আমাকে ফিরিয়ে?

 

আমি: আমি বিবাহিত, স্যরি।

মেঘা: কিহহহ,যা বলছিস একবারই বলছিস,আর যদি তোর মুখে শুনি তুই বিয়ে করছিস,আর যদি করেও থাতিস তো তারে ডিভোর্স দিবি।

আমি: আমি কারো মতো বেইমান নই,যে কারো ভালোবাসার মর্যদা দিবো না,স্যরি আপনি আসতে পারেন.

বলেই সেখান থেকে চলে আসি,হয়তো মেঘা আজ বুঝতে পারছে আমি তার জীবনে কত্তটা ছিলাম,কিন্তু বুঝলেই বা আর কি?আবার যে কোন ফন্দি আটছে না কেই বা জানে?তার পর সেখান থেকে চলে এসে বাসায় ডুকে ফ্রেশ হয়ে একটা ঘুম দেই,ঘুম ভাঙ্গে সকালে ফোনের রিংটোনে।

অচেনা ব্যক্তি: হ্যালো রাফসান,তুমি বাবা তারাতারি একটু
......হসপিটালে চলে আসবে।

আমি: কিন্তু আপনি কে??আর আমি কেন হসপিটালে যাবো?

অচেনা ব্যক্তি: বাবা,তোমার আর মেঘার বেপারে যা যা হয়েছে তা ভুলে যাও।মেঘা আমাকে সব বলেছে।যানো মেঘাকে কখনও কাঁদতে দেখিনি, সব সময় জিদ আর রাগ নিয়ে চলতো।কিন্তু তোমার জন্য মেঘার চোখে পানি দেখেছি।প্লিজ বাবা একটু তারাতারি আসবা।

আমি: আচ্ছা আসচ্ছি,বলেই তারাতারি ফ্রেশ হয়ে চলে যাই হসপিটালে,
হসপিটালে যাওয়ার পর দেখি মেঘাকে ইমারজেন্সিতে নিয়ে যাওয়া হইছে আর বাহিরে দুজন লোক বসে আছেন,এরা হয়তো মেই বি মেঘার আব্বু আম্মু হবে।

তার পর মেঘার আব্বু আম্মুর সাথে কথা বলে, এক সাইডে দারিয়ে আছি,কিছু সময় পর ডাক্তার বের হয়ে বললো রাফসান কে?তারে নাকি ডাকে।তাই আমি ভিতরে গেলাম,ভিতরে যায়ওয়া মাত্রই মেঘা উঠে বসতে চাইলো কিন্তু পারছে না হাতের বেথার জন্য।

পড়ুন  মুখোশ – রহস্যময়, রোমান্টিক প্রেমের গল্প পর্ব ১১ | মোনা হোসাইন

আমি: কেন হাত কাটছেন?

মেঘা: ভালোবাসি কাওকে,যদি তারেই না পাই তো বেঁচে থেক কি করবো?প্লিজ রাফসান আমাকে তুমি ক্ষমা করে দাও,আমি যে তোমাকে ছারা বাঁচবো না,

আমি: শুধু কি নিজের চিন্তাই করলেন, আরো তো দুই জনের চিন্তাও করতে হবে।তাদের কথা ভুলে গিয়ে এই ধরনের ফাজলামো কেন?

অন্য সময় হলে হয়তো কষ্ট দিতাম,কিন্তু এখন যা রাগ অভিমান তার উপর আছে তা সব ভালোবাসা তিয়ে আতায় করে নিব।কি বলেন আপনারা,আর রাগি মেয়ের মনে অনেক অনেক ভালোবাসা লুকিয়ে থাকে।

মেঘা: দুইজন মানে?

আমি: আরে বাবা,তোমাকে বিয়ে করলে তো আমার ও তার পর আমাদের বাচ্চার,তো দুই জনই তো হলো।তাহলে তাদের কি হতো হুমমম?

মেঘা: রাফসান,স্যরি আমাকে ক্ষমা করে দিও?
আমি: কেন কি হইছে?
মেঘা: তোমার সাথে খারাপ ব্যবহারের জন্য। আমি সত্যি তখন সত্যিকারের ভালোবাসাটা বুঝতে পারিনি,পারিনি বুঝতে আমার পাগলটাকে।তখন বুঝেছি শুধু নিজের জিদকে।আমাকে শেষ একটা সুযোগ দাও।

আমি: তুমি আগে সুস্থ হও তার পর সব হবে এখন চুপচাপ শুয়ে থাকো।

তার পর মেঘাকে আরো ২ ঘন্টা হসপিটালে রেখে তার পর বাসায় নেওয়া হয়।মেঘার জিদের কাছে হেরে গিয়ে আমাকেও তাদের বাসায় নিয়ে যায়।মেঘার রুমে বসে আছি, আর মেঘা আমার কোলে মাথা দিয়ে শুয়ে আছে।

ভালোবাসার মানুষটি যদি থাতে পাশে তো ভালো লাগে অনেক সময়, তারই সাথে কাটাতে।পাগলিটার কাছে আজ দীর্ঘ ২ টা বছর পর আবার কাছে পেয়েছি,তাই মেঘাকে শক্ত করে জরিয়ে ধরি।আর বলতে শুরু করি।

আমি: যেদিন তোমার ঠোঁটের মিষ্টি ছোঁয়া খেয়েছি আমি আমার ঠোঁটে, সেদিন থেকেই ভালো যে বসেছি আমি তোমাকেই,তোমায় ছারা যায় না সময়, আমার একটি মুহুর্ত, তোমায় ছারা কাটিয়েছি কিভাবে আজ দুটি বছর,তোমায় আর চাই না দুরে,রাখবো তোমায় আপন করে।অনেক অনেক ভালোবাসি পাগলিটাহ।

মেঘা: আমিও অনেক ভালোবাসি আমার পাগলটাকে।আচ্ছা শুনো না গো,

আমি: হুমম বলো না?

মেঘা: বিয়ে করবো কবে?

আমি: কিসের বিয়ে,আর কার সাথে?

মেঘা: হারামি,কুত্তা, বানর,তুই জানিস নন,কার সাথে।আগে বল কবে করবি,আমার যে আর তর সহ্য হচ্ছে নন,মন চায় শুধু তোমার মাঝে হারাতে।মন চায় শুধু তোমার সাথে পথ চলতে।তুমি বুঝো না কেন?

আমি: আমি বুঝলেই বা কি হবে?আচ্ছা বাদ দাও চলো কালকেই বিয়ে করে ফেলি?

মেঘা: কালকে কেন আজকেই করলে হয় না?

আমি: না হয় না,একটা প্রিপারেশন বলতে কথা আছে।
মেঘা: 😏😏হুমমম(মুখে ভেংচি কেটে অন্য পাশে মুখ ঘুরিয়ে বসে রইলাম)

আমি: এই মেঘা,মেঘা,

মেঘা: নিশ্চুপ..

আমি: ওই কথা বলবে না???আমি জানি আমার পাগলির কিভাবে রাগ কমাতে হয়।

বলেই মেঘার হাত ধরে এক টান মেরে আমার বুকের সাথ মিশে নিয়ে আসি।মেঘার ঠোঁট আমার ঠোঁটের সাথে কাছাকাছি।মেঘার গোলাপি পাপাড়ির মতো ঠোঁট জোড়া কাপছে হয়তো ঠোঁট কথা বলতে চায়,হিহিহ,তার পর আস্তে আস্তে মেঘার ঠোঁটে আমার ঠোঁট মিশিয়ে দেই।দুজনে দুজনার কিস করতে থাকি।৭ মিনিট পর দুজন দুজনকে ছেরে দিয়ে হাপাচ্ছি , আর বললাম....

 আমি: কি হবু বউয়ের রাগ কমেছো তো?নাকি আরো অন্য কিছু করতে হবে?

মেঘা: যা শয়তান,করলে করতে পারো আমার সমস্যা নাই।তবে তোমার মুখে কি কিছুই আটকায় না?

আমি: আটকিয়ে কি করবো?বাসর ঘরে তো বিড়াল দৌড়িয়ে মারতে হবে,হাহাহা।

আমার কথা শুনে মেঘা আমার বুকে কিল ঘুসি মারতে থাকে, তার পর চলে যায় দৌড়ে বাহিরে।কিছু সময় পর আমার জন্য কফি নিয়ে আসে।আমি কফি খাওয়া শেষে মেঘাকে বলে চলে আসি নিজের বাসায়।

আজকে আমাদের বিয়ে,মেঘাদের বাসা থেকে বিয়ের সকল কাজ শেষে নিজের বাসায় মেঘা নিয়ে চলে আসি।বাসর ঘরে বউ রইছে খাটে।আমি রইছি ছাদে।

আপনারা আবার বাইবেন না বউ রুমে ডুকতে দেয়নি।আসলে দুইটা ভাবি আছে তো তারাই ডুকতে দিচ্ছে না,

তাররপর অনেক সময় পর দুই ভাবি এসে বাসর ঘরে রেখে আসে।আমি রুমে ডুকা মাত্রই মেঘা আমার পা ছুয়ে সালাম করতে নেয।কিন্তু তাকে উঠিয়ে জরিয়ে ধরে বুকে টেনে নেই।
তাররপর কি হলো আপনারা নাই বা জানলেন,

ধন্যবাদ এত্তক্ষণ ধরে গল্পটি পরার জন্য, আর তাদের জন্য দোয়া করবেন।

সমাপ্ত

Writer :- আমরিন তালুকদার

Leave a Comment

Home
Stories
Status
Account
Search