ভিলেন – থ্রিলার প্রেমের গল্প পর্ব 31 | Villain Action Story

ভিলেন পার্টঃ৩১
Mona Hossain

রাত হয়ে গিয়েছে আকাশের সাথে নাবিল অনেকবার কথা বলার চেষ্টা করেছে কিন্তু আকাশ বলে নি সে বাসার গেস্টদের সাথে ব্যস্ত।

নাবিল ঘরে এসে চুপচাপ বসে আছে সে আকাশের উপড় যতটা রাগ করেছে তার চেয়েও বেশি নিজের উপড় রাগ করছে।

নাবিলঃ কি জবাব দিব আমি মেঘলাকে..??আকাশটা কেন এমন করছে আর কেউ না জানুক আমি ত জানি ও মেঘলাকে কতটা ভালবাসে…

মেঘলা এদিক দিয়েই যাচ্ছিল নাবিল কে চিন্তিত দেখে সে নাবিলের ঘরে গেল।

মেঘলাঃ কিরে তোর আবার কি হল? এমন মুখ ভার করে বসে আছিস কেন বাইরে গিয়ে দেখ কত ললনারা এসেছে এবার ত একটা প্রেম টেম কর।

নাবিলঃ আমার ভাল লাগছে নারে মেঘলা যা এখান থেকে।

মেঘলাঃ কেন ভাল লাগছে না? ও বুঝেছি ভাইয়াকে বলেছিলি শাড়িটক এনে দিতে কিন্তু ও রাজি হয় নি তাই না?

নাবিলঃ তুই কি করে জানলি..??

মেঘলাঃ আমি ওকে চিনি তাই বুঝলাম।

নাবিলঃ তুই ত আবার হেরে যাবি.

মেঘলাঃ কে বলল হারব?

নাবিলঃ মানে

মেঘলাঃ আমি চাইলে আকাশকে দিয়ে যেকোন কিছু করাতে পারি তুই কি এটা মানিস?

নাবিলঃ আমি ত সেটাই জানতাম মেঘলা কিন্তু আকাশ এখন কেন যে এমন করছে বুঝতে পারছি না।আজ তোর হার মানে আমারো হার।আমরা হেরে যাব রে মেঘলা।

মেঘলাঃ মোটেও না কথা দিলাম আমরা হারব না।আমি আমার জন্য কিছু করতে চাই না কিন্তু তুই যেহেতু আমার জন্য মন খারাপ করছিস তাহলে চ্যালেঞ্জ নিলাম আমি প্রমান করে ছাড়ব আকাশ আমাকেই ভালবাসে..

নাবিলঃ কিন্তু সেটা কি করে

মেঘলাঃ কোন রোগের কোন ওষুধ সেটা আমি জানি ভাবিস না রিলেক্স জাস্ট চিল ভাইয়া।চল তোকে একটা কেলমা দেখাই

নাবিলঃ মানে?

মেঘলা আরে চল ত বলে নাবিলের হাত ধরে নিচে যেতে লাগল।

নিচে আকাশ সবার সাথে কথা বলছিল মেঘলাকে নাবিল হাত ধরতে দেখেই আকাশ তেলে বেগুনে জ্বলে উঠল।

মেঘলা আকাশকে দেখিয়ে দেখিয়ে নাবিলকে নিয়ে গিয়ে টেবিলে বসিয়ে দিয়ে খাবার নিয়ে এসে বলল
কখন থেকে বলছি খা খা কথাই শুনছিস না..

মেঘলাঃ নে হা কর তো আমি খায়িয়ে দিচ্ছি…

নাবিলঃ বাড়ি ভর্তি লোকজন কি করছিস মেঘলা কি ভাব্বে সবাই?

পড়ুন  Bangla Premer Golpo Mr. Fuska wala Part 3 Love Story

মেঘলাঃ চুপ থাক কেউ কিছু ভাব্বে না তবে এখন একজনের বুকে আগুন জ্বলবে..তুই চুপচাপ দেখ বলেই নাবিলের মুখে খাবার দিয়ে দিল মেঘলা।

নাবিল বোকার মত মেঘলার সাথে তাল মিলাচ্ছে..

মেঘলার কথা মেঘলার মুখে থাকতেই আকাশ এসে মেঘলার হাত ধরে ফেলল..

আকাশঃ লাজ লজ্জার মাথা খেয়ে ফেলেছিস দেখছি।

মেঘলা ইনসেন্ট লুক নিয়ে বলল কেন কি হয়েছে?

আকাশঃ কি হচ্ছে কি এটা..

মেঘলাঃ ভাইয়াকে খায়িয়ে দিচ্ছি আর কি হবে..

আকাশঃ কেন নাবিল কি প্রতিবন্ধী নাকি নিজের হাতে খেতে পারে না কোনটা?

মেঘলাঃ দেখ না ভাইয়া আমার সাথে রাগ করে না খেয়ে বসে আছে আমি কি সেটা হতে দিতে পারি? নে নে ভাইয়া খা তোই না খেলে আমি শান্তিতে ঘুমাতেই পারব না।

নাবিলঃ বাহ এই মেঘলার মাথায় ত অনেক বুদ্ধি..
নাবিল হুম হুম তোর হাতে খেতে যে এত মজা আগে জানতামেই না দে খায়িয়ে দে।

আকাশ রাগে ফুঁসফুঁস করছে। কিন্তু নাবিল বা মেঘলা কেউ এই তার দিকে নজর দিল না।

মেঘলাঃ ভাইয়া জানিস আজ না আমাকে ড্রয়িং রুমে ঘুমাতে হবে..

নাবিলঃ ওমা কেন

মেঘলাঃ এত আত্মীয়রা এসেছে না তাই নিলিমা আপু আমার রুম দখল করে নিয়েছে..

আকাশঃ বেশ হয়েছে উচিত কাজ হয়েছে।ঘুমা এই গরমে ফ্যান ছাড়া ঘুমা।

নাবিলঃ আরে না আমি থাকতে মেঘলাকে এমন খোলামেলা জায়গায় ঘুমাতে দিব নাকি ১০ টা না ৫ টা না একটাই এঞ্জেল আমার।তুই আমার ঘরে ঘুমাবি।

আকাশঃ বাহ বাহ হাতে খাচ্ছিস এখন বেড ও শেয়ার করবি..??

নাবিলঃ তুই না এত দুষ্ট আকাশ সব আগেই বুঝে যাস।

মেঘলা লজ্জা পাওয়ার ভাব নিয়ে চলে গেল।
নাবিল আকাশের দিকে তাকিয়ে চোখ মেরে দিল।

আকাশঃ মানে টা কি? এসব হচ্ছে টা কি?মেঘলা এত সাহস কোথায় পেল।




রাত ১ টা আকাশ নিজের ঘরে সোফায় বসে আছে তার হাতে একটা দড়ি তার একপাশে মেঘলার পা বাঁধা।

মেঘলাঃ কি হচ্ছে টা কি?

আকাশঃ আমার মন চেয়েছে তাই বেঁধে রেখেছি চুপচাপ বসে থাক।তানাহলে তোর একদিন কি আমার একদিন।

মেঘলাঃ আজব তো লোকে কি ভাব্বে রাত ১ টা বাজে আমি আর তুই এক ঘরে তাও দরজা লক।

পড়ুন  মুখোশ সিজন ২ – রহস্যময় প্রেমের গল্প পর্ব ৪ | মোনা হোসাইন

আকাশঃ লোকের ভাবনার গোষ্ঠী কিলাই।

মেঘলাঃ আমি চেঁচাব

আকাশঃ মুখ দিয়ে একটা শব্দ উচ্চারণ করে দেখ শুধু।

মেঘলাঃ আচ্ছা তাহলে পা টা খুলে দে আমি এখানে ঘুমাই।

আকাশঃ না তুই পালিয়ে যাবি তোকে আমি চিনি তুই জেগে সারারাত আমার সাথে গল্প করবি।

মেঘলাঃ আচ্ছা বেশ গল্প শুরু করি

আকাশঃ কর…

মেঘলাঃ আমার না একটা ছেলেকে খুব ভাল লাগে উফফ ঠোঁট গুলা না ছেলেটার, দেখলেই ইচ্ছা করে খেয়ে ফেলি..

আকাশঃ কি…🤨

মেঘলাঃ আরো শুনবি গল্প? বলি..

আকাশঃ না থাক তোর গল্প তোর কাছে রাখ।

মেঘলাঃ হি হি হি আমি ঘুমাচ্ছি তুই জেগে জেগে আমাকে পাহারা দে এমনিতেও আজ আমি একা ঘুমালে আমার খবর হয়ে যেত।

আকাশঃ কিসের খবর

মেঘলাঃ আরে খায়িয়ে দিলাম না তার শাস্তি ওই যে ২ অপশান মার অথবা আদর..?? ও তুই ত এসব বুঝবি না।মুখোশ পরা কেও আসলে আমাকে ডেকে দিস ত

আকাশঃ তোর মাথার তার সবগুলি কবে ছিড়ল আগে ত ২,১ টা ঠিক ছিল।

মেঘলাঃ যেদিন থেকে তার ঠোঁটের স্বাদ পেলাম..

আকাশঃ ও গড কি শুরু করেছিস..?? আমাকে পাগল করে ছাড়বি মনে হচ্ছে…

মেঘলা মিটমিট করে হাসতে হাসতে ঘুমিয়ে গেল।





পরদিন সকালে সবাই রেডি হচ্ছে পার্টি সেন্টারে যাওয়ার জন্য।

আকাশ আজ কাল ব্লেজারের সাথে সাদা শার্ট পড়েছে জেল দিয়ে চুল সেট করেছে হাতে কাল ঘড়ি ম্যাচিং শো দেখতে অসাধারন লাগছে।

বাড়ির সবার চোখ আকাশের উপড়েই ঠিক তখনি মেঘলা উপড় থেকে হেঁটে আসছে মেঘলার দিক থেকে চোখ সরানো জাস্ট অসম্ভব হয়ে পড়েছে মেঘলা কাল শাড়ি পড়েছে, হাই হিল চুল স্ট্রেট করে ছেড়ে রেখেছে সাথে ম্যাচিং কানের দুল নেকলেস হাতে গোল্ডেন কালার ঘড়ি সব মিলে একজন পারফেক্ট আধুনিকা।

তবে তাতে অনেক ঝামেলা আছে মেঘলা যে শাড়িটা পড়েছে তা এতই পাতলা যে মেঘলার পেট পিট সব দেখা যাচ্ছে সাথে রেড লিপস্টিক ঠোঁটের দিকে তাকালে যেকোন ছেলে ক্রাশ খাবে আর হাইলাইটের ছোয়ায় গাল ২ টি আরও আকর্ষনীয় হয়ে উঠেছে…

আকাশ আর নাবিল ২ জনেই একসাথে দাঁড়িয়ে ছিল।
আকাশ মেঘলার দিকে হা করে তাকিয়ে আছে শুধু আকাশ নয় সবাই তাকিয়ে আছে।

পড়ুন  ভিলেন - থ্রিলার প্রেমের গল্প পর্ব 51 | Romance Love Story

নাবিল তখন আকাশকে শুনিয়ে শুনিয়ে বলতে শুরু করল।

নাবিলঃ মেঘলা এত বড় হয়ে গিয়েছে খেয়ালেই ত করি নি উফফস কি লাগছে মাইরি…ঠোঁট ২ টি যেন রসে ডুবানো গোলাপজামন এখনী খেয়ে নিতে ইচ্ছা করছে..

আকাশঃ কিসব বলছিস?

নাবিলঃ আকাশ মেঘলার পেটে বেলি চেইন টা দেখেছিস? ওহ গড আমি ত জাস্ট ফিদা হয়ে গেলাম।

আকাশ আর এক সেকেন্ড ও না দাঁড়িয়ে মেঘলাকে টানতে টানতে নিয়ে চলে গেল।

নাবিলঃ মেঘলার ওষুধ ত দেখি আকাশের উপড় ম্যাজিকের মত কাজ করেছে…

আকাশঃ কি পড়েছিস এটা?

মেঘলাঃ কেন শাড়ি…

আকাশঃ এর চেয়ে ত না পরাই ভাল ছিল নাভি পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে।এটা পরলি কেন?

মেঘলাঃ আমার এছাড়া শাড়ি নেই।

আকাশঃ এছাড়া কোন শাড়ি নেই?

মেঘলাঃ না নেই তাই জন্যেই ত কাল কিনতে চেয়েছিলাম তুই দিলি না।

আকাশঃ আমাকে বললেই পারতি আচ্ছা যা হওয়ার হয়েছে তুই দাঁড়া আমি ছোট মার কাছ থেকে শাড়ি এনে দিচ্ছি।

মেঘলাঃ দাঁড়া আমি কারোর শাড়ি পড়ব না।

আকাশঃ মার খাস না মেঘলা

মেঘলাঃ মেঘলাকে তুই চিনিস ভাইয়া আজ তুই আমাকে মারতে মারতে মেরে ফেললেও অন্য কোন শাড়ি পড়াতে পারবি না।তবে হ্যা ওই শাড়িটাই যদি এনে দিতে পারিস তাহলে চেঞ্জ করব।

আকাশ আর কোন কথা না বলে নিলিমার ঘরে গেল।

আকাশঃ নিলিমা কালকের শাড়িটা দাও…

নিলিমাঃ এ কেমন কথা দিয়ে আবার নিয়ে নিচ্ছো?

আকাশঃ বেশি কথা ভাল লাগে না বলেই একটানে শাড়টা নিয়ে মেঘলার রুমে চলে গেল।

আকাশঃ এবার হয়েছো তো নে পর…

মেঘলাঃ আমি শাড়ি পড়তে পারি না তুই পরিয়ে দে..

চলবে..!!

Leave a Comment

Home
Stories
Status
Account
Search